গাছের পাতার উপর জমা এক টুকরো মেঘ
টুপ করেই ঝরে পড়ল পান্ডুলিপির পাতায়-
ঘুমিয়ে পড়া সূর্যের এখনো ভাঙ্গেনি ঘুম,
চারিদিকে তাই সাদা চাদরে কুয়াশার মাখামাখি;
সকালের চোখে ভেজা ভেজা ভাব, উড়ে যায়
চড়ুয়ের ধূসর ডানায় এলোমেলো।
ঐ দিকে হিজলের বন আর বেত ঝার-ঝোপ
পেড়লেই পানা ভরা পুকুর নতুন পাতায়,
সেখানে হিম জলে হংসের জলকেলি, শুনি
গাং শালিকের ডাক।
কোন কিশোরীর সদ্য ছোয়া জল,
যার কাব্যে ভেঙ্গেছে জলের মান-
কাখে ভরা কলস- উপচে পড়ে পানি;
কালোচুলে এখনো জড়োসড়ো ঘুম, ভাঙ্গেনি অনেকদিন।

কড়া রোদে পাতায় পাতায় লুকোচুরি, শব্দরা ছল করে
রোদ পোহাবার, বুড়োদের ভীর তপ্ত উঠোনে,
খেজুরের রসে সাজানো হাড়ি
জিভে লোভ, কোন বিচ্ছু দলের
আজ ঘরে ঘরে সিঁদ কাটা অভিযান।
গোধুলীর বেলায় লাল রঙ্গা আসমানে
কি গভীর আকাঁবুকি চলে সীমানা পেড়িয়ে,
রাখালির পুবে ক্লান্ত ছায়া হামাগুড়ি দেয়
ঐ দেখি ফিরতি পথ ধরেছে ছন্ন ছাড়ার দল,
সাঝেঁর সুরে কাস্তে হাতে কৃষকের বাড়ি ফেরা ধ্বনি
মাঠে মাঠে মটর আর কলাইয়ের ক্ষেতে;
নীড়ে বেদনার ভিড়-
পান্ডুলিপির আসমানে যে কমলা-গোলাপী রোদ ছিল
পথে পথে সময় ভাঙ্গার গুঞ্জন ছিল,
তবু সুর করে সাঝের আধার পড়ালো চাদর।

রাত পোহাতেই আবার সবুজ ঘাসে পা দোলাই
হাতে তুলে নেই পান্ডুলিপি খেয়ালের খোশে, আমি অবাক হই-
আমার লাঙ্গল চেরা খাতায় মিশেছে ইলিশের ঝোল
সাথে ও পাড়ার সেই দুষ্ট বালিকার বিদায়ের সুর,
রঙ্গনে রাঙ্গা কোন এক বধুর স্বামীর সোহাগ
আর কৃষকের পোড়া চামড়ায় চিকচিকে রোদ,
পান্ডুলিপির পাতায় পড়েছে শিশিরের ফোঁটা, আদরের জল
খেলেছে আমার কিশোরী, তার উপচে পড়া কলস
ডেকেছে ভাঙ্গা ডানার শালিক, আমার লাল রঙ্গা আসমান
আর আমার মাঠে মাঠে মটর আর কলাইয়ের ক্ষেত।

রাত্রির কোলে জোনাক কিংবা সকালের রোদ
নীল হাওয়ায় রৌদ্রের ঘ্রাণ, নিবির ঘাস
নদীর উঁচু বক্ষে পাল ছেড়া সন্ধ্যা, বা কোনদিন
হলুদ তৃণ, মরা ফসলের ক্ষেত-
দিনরাত সব শুয়ে থাকে মায়ার বিছানা পেতে
কত পরিচিত- বুকের ভিতর, ছেঁড়া পল্লবের ফাঁকে
আমার সোনা রঙ্গা পান্ডুলিপির।