সাহিত্য ব্লগে এটা আমার প্রথম লেখা। আমার এই লেখাটি দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য স্রেফ আলোচনা/সমালোচনার জন্য, লেখা নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত এক্সপেরিমেন্ট করছেন বা করে যাচ্ছেন তারা আমার সাথে হয়তো একমত হবেন যে শুধুমাত্র এই আলোচনা/সমালোচনাই এক্সপেরিমেন্টাল লেখাগুলোর জন্য অনেক কার্যকরী একটা ভূমিকা পালন করে। একটি কবিতাটিকে আমি দৃশ্য কাব্য হিসেবে চিন্তা করি।

 

------------------------------------------------------------------------------

আমি এই পাড়ারই ছেলে। মোড়ের ওই বড় দোকানটার মালিক আমাকে চিনে। গলি দিয়ে বের হয়ে হাতের বামে চা-পান-সিগারেট বিক্রি করে যে চাচা উনিও আমাকে চেনেন। আরও একটু সামনে একটা মুচি সন্ধ্যায় কুপ্পি জ্বালিয়ে বসে উনি চেনে। একটা ছেলে বেশকিছুদিন হোল সেদ্ধ ডিম বিক্রি করছে সেই ছেলেটাও আমাকে চেনে। আমাদের আলী পাগলা গত বছরের শেষের দিকে মারা গেলো ওর পোষা 'জ্যাক্সন' নামের কুকুরটা আমাকে চিনে। একটা অন্ধ চাচা রোজ সন্ধ্যায় বড় রাস্তার ধার ঘেঁষে ভিক্ষা করেন উনিও আমাকে চেনেন। একটা ঝালমুড়িওয়ালা আসতো এই পাড়ায় এখন আর দেখি না একসময় সেও চিনত।

 

এ পাড়ার নতুন পুরাতন সবগুলো পোস্টার আমাকে চিনে। বোকা তার-খাম্বা, ল্যাম্পপোস্ট তারাও চিনেন। একটা ময়লা ফেলার খোলা ডাস্টবিন আমাকে চিনে। "এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ" এই লেখাটা আমাকে চিনে। রাস্তার পাশে শিহাব ভাইদের যে বিল্ডিঙের দেয়ালে রিক্সার ঘষায় একটা সমান্তরাল ক্ষত তৈরি হইছে সেই দেয়ালটা আমাকে চিনে। গত ঘুড়ি উড়ানোর মৌসুমে একটা ঘুড়ি মিলি আপুদের নারিকেল গাছে আটকে গেছিল সেই ঘুরিটা ছিঁড়ে এখন যে কাঠীগুলো হাড্ডির মত বের হয়ে আছে সেগুলোও আমাকে চিনে। মাঝে মধ্যে বাতাস এসে ছাদে শুকতে দেওয়া কাপড়গুলো যখন পাশের বাড়ির কার্নিশ অথবা কারেন্টের তারে আটকে যেত তখনও ওরা আমাকে চিনত।

 

গফুর মঞ্জিলের তিন তলার বারান্দায় মাঝে মাঝে বিকেলের দিকে একটা অফ-হোয়াইট কালারের ব্রা ঝুলে থাকে সেটা আমাকে চিনে। তরুদের মেইন গেটের কলিংবেল, লামিয়াদের ফুলের টব, ছাদে রোদে দেওয়া রিনা ভাবির আচারের বয়েম এরাও আমাকে চিনে। ছাদের উপর থেকে দেখা শেফাদের বিশাল বারান্দা আমাকে চিনে। এ পাড়ার বালুর মাঠ, তরুন সংঘ ক্লাব, জুম্মাবারের মসজিদ, শবে-বরাতের শিরনি, ভোরবেলায় মাঠাওয়ালার ডাক, দুপুরবেলায় খোলা ভাঙ্গারি দোকানটাও আমাকে চিনে। এতো এতো পরিচিত মুখের সামনে কি আর খারাপ হওয়া যায় ? নষ্ট হওয়া যায় ? আমি না এই পাড়ার ছেলে!!!