মোহাম্মদ নাজিরুল ইসলাম
মোহাম্মদ নাজিরুল ইসলাম
বাবা দিবস, জুলাই ২০১৪
কবিতা

একটু লোভ

নির্মাণাধীন এক বিল্ডিং এর পাঁচ তলায় বসে সবুজ, সৈকত, রাসেল, সজিব, সুলতান, জসিমসহ এলাকার আরো অপরিচিতি অনেক ছেলে আড্ডা দিচ্ছিল আর হাসছিল। যে হাসির ঝংকার প্রবাহিত বাতাসের সাথে মিশে শব্দ দূষণের মিছিলে মহড়া দিচ্ছিল। উঠতি বয়সের সে হাসি মাখা মুখ গুলো দেখলে মন থেকে মুছা যায় না। তাঁরা সবাই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়ার পর এখন বেকার সময় কাটাচ্ছে।
বিল্ডিংয়ের পাশে ছিল আম গাছ। প্রচুর আম ধরছিল সেবার গাছটায়। যেন লিচুর থোকা। আশ পাশের দু'চার গ্রামে এমনটা দেখা যায় না। হাস্যোজ্জ্বল সদ্য উঠতি বয়সী ছেলেদের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপল- পাশের আম গাছ থেকে আম চুরি করে ভর্তা খাবে এই ভর দুপুরে। বৈশাখের ভর দুপুরে আম ভর্তার কথা শুনলেই জিহ্বায় কেমন জানি একটা রসালো ভাব আসে, তাদেরও এসেছিল। যেই কথা সেই কাজ। দলের মধ্যে সবচেয় দুষ্টু সজিবকে দায়িত্ব দেয়া হলো আম সংগ্রহ করার। পাঁচ তলার সানসেট বেয়ে সামনে হাত বাড়ালেই এক থোকা কাঁচা আম অনায়াসে আনা যায়। যা সজিবের কাছে কোন ব্যাপারই না। এমন কাজ সে প্রায়ই করে থাকে বন্ধুদের উৎসাহে। বন্ধুদের মাঝে হাসির উপদান যোগাতেও তার কোন জুড়ি নেই। এলাকায় তার একটা সম্মানও রয়েছে। মা বাবার একমাত্র সন্তান সে। লেখাপড়ায় ভাল। অভাব তাদের নিত্য সঙ্গী। বাবা দিন মজুরে।
কিছুক্ষণ আগে সজিবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাঁচ তলা বিল্ডিং থেকে পড়ে সে মারাত্মক ভবে আহত হয়েছে। ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পর ডাক্তারগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। মৃত সজিবের মাথার একপাশটা সামান্য থেঁতলে গেছে। রাস্তা দিয়ে আনার সময় পিচ ঢালা পথটা লাল হয়ে উঠেছে সজিবের লাল রক্তে। যা কিছুক্ষণের মধ্যেই চাপা পড়বে দাপুটে বাতাসে মিশে থাকা উড়ন্ত বালির নিচে। এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠছে স্বপ্ন ভাঙ্গা মায়ের আহাজারিতে। দিন মজুরে বাবার কঙ্কাল সার দেহ থেকে বেরিয়ে আসছে দীর্ঘশ্বাস। সান্ত্বনার বাণী শোনানোর মানুষের অভাব নেই। প্রাণের বন্ধুরা ভয়ে কোথায় জানি দৌড়ে পালিয়েছে। কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ এসে তাঁর দায়িত্ব কর্ম সেরে গেছেন। হাসপাতাল থেকে- পোস্ট মর্ডেম শেষে বাড়িতে লাশ নিয়ে এসেছে। সজিবের বাবা মার ইচ্ছে ছিল- পোস্ট মর্ডেম ব্যতীত লাশটা হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসার। কিন্তু মোটা অংকের হিস্যা দাবীর নিজে তাদের ইচ্ছে গুলো চাপা পড়েছে।
রাত্র হয়ে গেছে। সজিবকে বরই পাতা, গরম পানি আর সাবান দিয়ে খুব ভালো ভাবে গোসল করানো হয়েছে। তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছে। আর বাতাস ভারি করা কান্না সে কাঁদতে পারছে না। সজিবের বাবা বসে আপন মনে বিড়বিড় করে কি যেন বলছে। সে ভাষা বুঝার সাধ্য কারও নেই। সজিবকে সাদা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে খাটিয়ায় শোয়ানো হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার জানজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। স্কুল মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে আছে। অনেকে শেষ দেখা দেখে নিচ্ছে। সজিবের বন্ধুরা কয়েক জন জানাজায় ভিড়েছে। তাদের চোখেও অশ্রুর ধারা। মুখটা মলিন হয়ে আছে। সদ্য বরই পাতা আর গরম পানিতে গোসল করে সজিবের মুখ থেকে যেন জ্যোতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু তার চেহারায় কেমন জানি একটু ব্যাকুলতা। কিছু বলার আকাঙ্ক্ষা। সে যেন বলতে চায়- লোভ করো না, লোভ মানুষকে নষ্ট করে দেয়। চুরি করো না, চুরি সমাজের ঘৃণা।
তারপর তাকে কবরে শুয়ে দেয়া হয়েছে। সবাই চলে গেছে যার যার মায়ের বুকে। সবুজের মা রহিমা খালি বুক থাপড়ে আজও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে তাঁর ছেলেকে খুঁজছে। সবুজের বাবা রহমত উল্লাহ এখন একা একা গাছের সাথে গাছের পাতার সাথে কথা বলে। আর এলাকার লোকজন আঙ্গুল তুলে বলে ঐ পুরুষ/মহিলার ছেলেটা আম চুরি করতে যেয়ে মারা গেছে।

  • forum
  • import_contacts ৯৭৭
  • thumb_up
মামুন ম. আজিজ
মামুন ম. আজিজ
বৈশাখ, এপ্রিল ২০১৫
গল্প

নিদালি ও তার হর্ডার স্বামী

compulsive hoarding একটি মানসিক রোগ। এক ধরনের অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসওর্ডার। মনোবিজ্ঞানে একে ডিসপোসফোবিয়াও বলা হয়। আক্রান্ত রোগীকে বলা হয় হর্ডার , এমনই একজন হর্ডার এবং তার ডাক্তা স্ত্রীকে নিয়েই আমার এই গল্পটি লেখা হয়েছে। ...... এমবিবিএস করা ডাক্তার নিদালির মানসিক রোগের উপর বেশ মনোযোগ। তার প্রেমের বিয়ে ফাহিমের সাথে । ফাহিমে দীর্ঘদিনের অভ্যাস রাজ্যের যত ব্যবহৃত জিনিস জমানো। সে পুরাতন সব ঘড়ি, খবেরর কাগজ, পিসি, টিভি, নানান যন্ত্রাংশ সব জমিয়ে স্তুপ করে রেকেছ ঘরে। নতুন উঠা ফ্লাটের ছোট পরিসরে সেই সব জঞ্জাল ঘরময়। বৃষ্টির এক রাতে প্রেমের নিবির ক্ষণে স্ত্রীর বাহুডোর ছেড়ে লেগে যায় বৃষ্টির জলের হাত থেকে তার প্রিয় জঞ্জাল গোছাতে....স্ত্রী ইতোমদধে বুঝে গেছে তার স্বামী একজন হর্ডার। সে স্বামীকে এ রোগ থেকে মুক্তি দেয়ার বিষয় নিয়ে ভাবে....কিন্তু এক বৃষ্টিমুখর দিনে ঘটে যায় তাদের ঘিরে অনে ঘটনা।

  • forum ৫৭
  • import_contacts ১৫৬৯
  • thumb_up