মন ছুটে যায় গ্রামের পানে শান্ত নদীর কূলে,
থাকতো যেখানে দুকুল ছেপে সারি সারি কাশ ফুলে।
দুরন্ত মন আবদ্ধ আজ ইটের এই দেয়ালে,
ছুটন্ত মন ছুটে যেতে চায় আপনার খেয়ালে।
যেথানে আমার বন্ধু ছিলো ফুল পাখি ছেলে কালে,
হারিয়ে তাদের খুজে ফিরি আজ সময়ের বেড়াজালে।
যেখানে নয়ন ভরে দেখতাম সবুজের ঘেরা মাঠ,
হাটার পথের সাথী হতো মোর গ্রামের ঐ পথ ঘাট।
রোদেলা দুপুরে শালিকের ঝাক খেয়ে যেতো ঝরা ধান,
তাড়িয়ে বেড়াতাম তাদের আমি তাই দাদী মলে দিত কান।
সোনালী বিকেলে কত উড়িয়েছি মাঠে প্রান্তরে ঘুড়ি,
সবার আড়ালে কত যে করেছি গাছের নারকেল চুরি।
ছোট সে নদী বর্ষার তোরে থাকতোনা কুলে ঠাই,
আজ সে নদী গেছে হারিয়ে হাটু পানিও যে নাই।
কেরাত মাঝির নাও খানি নিয়ে চলে যেতাম গাঁও ছাড়ি
দাদীর কাছে যাইত বিচার পিঠেতে ব্যাতের বারি।
ডোবা খাল বিল ছিল যত ঝিল কিছুই রাখিনি বাদ,
মাছ ধরতে নিত্য নতুন পাতিতাম কত ফাঁদ।
শীতের রাতে জোছনা আলোতে খেজুরের রস সব,
অতি গোপনে চুরি করে এনে করেছি শির্‌নী উৎশব।
বসন্ত ভরা ককিলের ডাক শুনে খুজতাম তারে,
কুহু কুহু সুর আহা কি মধুর কান পাতি বারে বারে।
এমন সোনালী ছেলেবেলা কেন আসেনা বারেবার,
এই জীবনের সেই দিনগুলো ফিরেকি পাবো আর ?
সৃতিমধুর সেই দিনগুলো আজো পারিনা ভুলিতে,
মনের গহীনে এঁকে রাখি তারে বিনা রং আর তুলিতে।