চারটি দশক শুধু, তবু মনে হয় চার লক্ষ আলো বর্ষ আগে
এই পথ দিয়ে হেটে গেছি রাইফেল কাঁধে। জীবনকে বাজি রেখে
লড়েছি শত্রুর সাথে, শৃঙ্খল ছেঁড়ার স্বপ্নে দুরুদুরু কম্পমান বুকে।
সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ, এক সুর, এক তান, এক গান স্বাধীনতা, স্বাধীনতা -
জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা। সাথীরা দিয়েছে প্রাণ বলে
সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি পৃথিবীর বুকে, মৈনাকের মতো।


হায় স্বাধীনতা!
ভোরের আলোকটুকু ফোটবার আগে, কালো মেঘ ঘিরে ঘিরে আসে।
আড়ালে লুকানো সব জুডাসেরা, উন্মাতাল হয়ে উঠে রক্ত গন্ধে।
ওরা আমাদের পিতা, প্রপিতামহের টুপি, দাঁড়ি, পাঞ্জাবীর অপমান করে
মেতেছিল হত্যা যজ্ঞে। আজ সে কথা বললে নাকি অপমান হয়
টুপি, দাঁড়ি, পাঞ্জাবীর। হায়! অপকর্মে অপমান নয়, অপমান অন্যায় প্রকাশে।
পুতুল নাচের গূঢ়তত্ত্ব জানা হয়ে গেছে বহুবার, বহু কাল আগে।


হায় স্বাধীনতা!
আমার প্রিয় ধর্ম, শান্তির ধর্মকে অপমান করে ওরা নেমেছিলো হত্যাযজ্ঞে ।
আমার প্রিয় আল্লাহ আর রসুলের বানীর অপব্যাখ্যা করে,
মানবতাকে লুণ্ঠিত করে; অন্যের সম্পদে ভাগ বসায় গনিমতের মাল বলে।
বিচার চাইতে গেলে তারা, আবার ফিরিয়ে আনে একাত্তরের কালো রাত্রি -
ঘর পুড়ে, আমার সবুজ মানচিত্র আবার রঞ্জিত হয় নিরপরাধীর পুত রক্তে।
পুতুল নাচের গূঢ়তত্ত্ব জানা হয়ে গেছে বহুবার, বহু কাল আগে।


শহীদেরা, তোমরাই ভালো আছো, শহীদি দরজা পেয়ে মৃত্যুর ওপারে।
আমরা এখনো যারা ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছি, অপমানে নীল হই; নীলকন্ঠ হই
বিষের পেয়ালা মুখে প্রতিদিন - বেঁচে থাকি শত্রু বুহ্যে গ্যালিলিও হয়ে ।