বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ২৫ জুলাই ১৯৮১

বীরচন্দ্র মাণিক্য গণপাঠাগার

  • advertisement

    বীরচন্দ্র মাণিক্য গণপাঠাগার
    ****************
    রাজা আসে রাজা যায়। দু-একটি পাখি যেমন পালক ফেলে যায়, ঠিক রাজাদেরও দু-একজন কিছু কর্ম রেখে যান। ত্রিপুরার রাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য তেমনই এক রাজা। শিল্পসাহিত্যের প্রতি তাঁর আসক্তি ছিল গভীর। এই রাজা মানুষের জন্য করেও গেছেন অনেক। শিল্পসাহিত্যের প্রতি অনুরাগের কারণেই ১৮৮৫ সালে তিনি কুমিল্লার (তৎকালীন ত্রিপুরা) কান্দিরপাড়ে ১০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন টাউন হল। টাউন হলটির দুটি অংশ। একটি অংশে গণমিলনায়তন, আরেক অংশে গণপাঠাগার। এক হাজার সদস্য সংখ্যার গণপাঠাগারে নিয়মিত আসেন ছয় শতাধিক লোক। মোট ৬৩টি আলমারিতে প্রায় ২৪ হাজার বই আছে। যেকোনো পাঠকের জন্যই এই পাঠাগার খোলা। শুধু যে বই-ই রাখা হয় এই পাঠাগারে, তা নয়। ৪৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং প্রধান আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোও রাখা হয় গণপাঠাগারের নিচতলায়। জেলা পরিষদের নেতৃত্বে একটি পরিচালনা পরিষদ এই গণপাঠাগারসহ টাউন হলটি পরিচালনা করে। বীরচন্দ্র মাণিক্যের স্থাপন করা এই প্রতিষ্ঠানে এসেছেন মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, শচীন দেব বর্মণসহ অনেক মনীষী। কবি নজরুল কুমিল্লায় থাকাকালে তাঁর অনেকটা সময় কেটেছে এখানে। এই টাউন হলের মাঠ থেকেই কুমিল্লায় ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের পদচারণ শুরু হয়। এই প্রতিষ্ঠানের এক সময়ের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, যিনি প্রথম দাবি তোলেন রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। কুমিল্লার শিক্ষা-সংস্কৃতির অনেকটা অংশজুড়েই আছে এই টাউন হল এবং এর গণপাঠাগার। কুমিল্লার মানুষের পাঠাভ্যাসের পেছনে বড় একটি ভূমিকা আছে এই গণপাঠাগার। ১২৮ বছর আগে যে প্রতিষ্ঠানটি বীরচন্দ্র মাণিক্যের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হয়, তার প্রয়োজন দিন দিন বেড়েই চলেছে। ১৯৩৩ ও ২০০২ সালে দুবার এই হল সংস্কারের কাজ করা হয়েছে; কিন্তু এখন আবারও সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে যায়। যুগের চাহিদা মেটাতে এর আধুনিকায়নেও কিছু কাজ করতে হবে। মিলনায়তনটি ভাড়া দিয়ে প্রতিষ্ঠান চলার বড় রকম অর্থসংস্থান করা যায়। যে প্রতিষ্ঠানে বীরচন্দ্রের প্রিয় মানুষ কবিগুরুর পায়ের ধূলি পড়েছে, নজরুল-শচীনের সমবেত আড্ডার স্মৃতি জড়িয়ে আছে যার সঙ্গে, সেই প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। টাউন হলের এই গণপাঠাগারটি জাতির জন্য অনেক বড় একটি পাঠাগার হলেই এর সার্থকতা। তবেই বীরচন্দ্র মাণিক্য, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের স্মৃতি একসঙ্গে বাঁধা থাকবে।
    জাহাঙ্গীর হোসেন অরুণ

    http://www.kalerkantho.com/index.php?view=details&type=gold&data=news&pub_no=1121&cat_id=2&menu_id=20&news_type_id=1&index=3#.UPILE_JUog8

advertisement