টনমনে কড়া রোদ, গুমোট-ভাঙ্গা বাতাস,
আমি ঝি-ম ধরে বসে আছি;
একটা বুড় জট-পাকানো বটগাছের পায়ের কাছে ।
আমার পাশেই পড়ে আছে দামি সিগারেটের খালি ঠোস,
কয়েকটা শুকনো পাতার জড় করা স্তূপ ।
আর সামনের জনশূন্য রেল-স্লিপারে চিকচিকে সাদা দাগ-
সূর্যের আলো পড়ে থেমে-থেম চুপ করে হেঁসে উঠছে ।

তাহলে এখানেও পাতা কুড়ানিরা আসে…
আমি চমকে উঠলাম !
পাতাদের পুড়ে মরা ভবিষ্যৎ চিন্তা করে
মেলাতে চাইলাম জ্বলন্ত সূর্যের সাথে,
আমার সাথে । নাহ্‌ হচ্ছে না,
পুড়ে যাওয়া, পুড়ে মরা, দু’জনের অনেক পার্থক্য;
বারবার আলাদা হয়ে দুই দিক চলে যাচ্ছে দু’জন ।

এরপর তুমি এলে !
আমার ঘুমেথাকা স্মৃতিদের মুখে জলের ছিটা দিয়ে
পাঁজর ভাঙ্গা ব্যথা গুলকে শক্তি দিতে !
আমি অস্থির হয়ে এক কাল-পুরুষের কল্পনা কথা
নিজের মতো করে বললাম- আহ্‌ তুমি ! তুমি আবার এসেছ? 
এই নাও আঁধারের কালো-শরীর চোখের জল, এবার চলে যাও ।
তুমি তবুও ঠাই দাঁড়িয়েই রইলে……!

অনেকদূরের ভেসে আসা গাড়ীর হর্ন
গলা চেঁচিয়ে বলে যাচ্ছে- চল্‌ রে পথকবি উঠে চল্‌ !
আমি হেটে-হুটে চলে যাচ্ছি, সূর্যটাও নিভে আসছে,
সন্ধ্যা ব্যস্ত হয়ে রাতের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে,
তুমিও চলে গেছো অনেকক্ষণ !
আজ এই সন্ধ্যার সাথে চলে যাবো আমিও,
পড়ে থাক বটগাছ, পাতার স্তূপ, দামি সিগারেটের খালি ঠোস ।

_____নৈশতরী, রাজশাহী থেকে ।
16-11-2012 রাত দুইটা ।