ফিরে যাবো।
তাই ব্যাগপত্তর গুছিয়ে নিয়েছি কামরায়
ট্রেনের জানলা খুলে দিয়েছি, হাওয়া আসুক
ওপাশে অরণ্যের দেশ- পালাতে ব্যস্ত প্রবাসে
চাপা হাওয়ায় ছেলেবেলার মত
নিরুদ্দেশ হতে ভালোই লাগে।
সন্ধ্যে আকাশে তাকিয়ে
আমি খাতা খুলে নেই
কবিতার ফরমায়েশ দেই
দরাদরি, বিকি-কিনি শুরু হবে।
সচারচর তীব্র নির্জনতায়
কবিতাগুলো পরিপুষ্ট আর স্বাস্থ্যবান হয়।
সেই ঘোরে মেয়েটাকে তাই দেখিনি
সামনের সিটেই বসা ছিলো
হালকা অবিন্যস্ত চুল
ধুপছায়া অন্ধকারে হালকা ঈর্ষা-রাঙ্গা
ঠোঁট-চিবুক, গাল-বুক
দু’চোখে তীক্ষ্ণ ছুড়ির মত দৃষ্টি।
আমায় হেসে বললো,
আমায় চিনলে না?
কী আশ্চর্য!
মেয়েটা জানলো কি করে মনের কথা!

তারপর একে একে কথা বলে গেলো
সেই অবিন্যস্ত চুলের
ধুপছায়া অন্ধকারে হালকা ঈর্ষা-রাঙ্গা ঠোঁট-
বাইরের সমস্ত অরণ্য কান পেতে শুনলো
আমার ব্যাগ শুনলো
জানলার ওঠানো কাঁচ শুনলো
তালাসী বাতাসও কান পেতেছিলো-
নদীর ওপাড়ে গ্রামের কথা
বিলের ধারে গাছের কথা বলে গেলো এক নিমেষে
স্বামীর নাম, ছেলের নাম, মেয়ের নাম
কোন কিছুই বাদ রাখেনি,
এমনকি আমি চলে আসার পর
মরে যাওয়া মেয়েটার নামও শুনিয়ে দিলো
হালকা ঈর্ষা-রাঙ্গা ঐ ঠোঁট।
আমার চোখ তখন অবিশ্বাসী
তখনো দ্বিধাহীন ক্লান্তির প্রতিনিধি।
মেয়েটি আবার বললো,
আমায় চিনলে না এবারো?

সিগারেট খাইনি অনেকক্ষণ
ধোয়াঘর অনেক পেছনে, হয়তো শেষ কামরায়-
আমি পাড়ি দেই মাথা নিচু করে
একটার পর একটা চলন্ত কামরা।
পেছনে পরে থাকে সমস্ত অরণ্য
হালকা ঈর্ষা-রাঙ্গা ঠোঁটের মেয়েটি
আর অন্য প্রসঙ্গের একটি অচেনা প্রশ্ন।