বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ২৬ মার্চ ১৯৭৪

রিয়ন চেম্বার

  • advertisement

    (গল্পটা অন্য একটা সাইটে প্রকাশ হয়েছিল, তবে বেশ কিছু পরিবর্তন করে পূনরায়, ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করছি....পড়ার আমন্ত্রন)

     

    এক.

    মানুষ কি কখনোই কল্পনা করেছিল, পুনরায় পৃথিবী বাস যোগ্য হয়ে উঠবে? হয়ে উঠবে প্রায় স্বর্গের মত যা একসময় মানুষ অন্ধের মত বিশ্বাস করত? অফুরন্ত শক্তি, অফুরন্ত সচ্ছলতা কেবল অমরত্ব ছাড়া। অমরত্বও কি অর্জন করা সম্ভব ছিলনা? কিন্তু মানুষতো অমরত্ব চায়নি, বুদ্ধিমান মানুষ বুঝে নিয়েছে মৃত্যুই জীবনের পূর্ণতা, তাই মেনে নিয়েছে।

     

    রিয়ন, পৃথিবীর নতুন জীবন দানকারী, প্রায় ঈশ্বর কিন্তু নিতান্তই সহজ সরল একজন মানুষ, একজন বিজ্ঞানী যে কিনা বিশ্বাস করতো ঈশ্বর বর্তমান। রিয়ন তৈরি করল চার ঘন ফুট আয়তনের এক চেম্বার যার মাধ্যমে এক গ্লাস পানি ব্যবহার করে নিরাপদ পারমানবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দশ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়। তার নামেই নাম করণ করা হয় চেম্বারটির, রিয়ন চেম্বার। রিয়ন এখন বেঁচে নেই তাই সে জানে না, তার তৈরি যন্ত্র পৃথিবীকে স্বর্গের কাছাকাছি সুন্দর করে দিয়েছে। তার তৈরি সেই যন্ত্র এখন প্রায় আধা ঘন ফুটের এক চেম্বার, কয়েক ফোটা পানি ব্যবহার করে আগের থেকে তিনগুণ বেশী শক্তি উৎপাদন করতে পারছে। মানুষ প্রয়োজন মাফিক চেম্বার ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক চাহিদা পূরণ করে চলছে। পৃথিবীর সব কিছুই এখন বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলে, যার অধিকাংশই আসে রিয়ন চেম্বার থেকে। তাই শক্তির জন্য পৃথিবীকে আর ছিন্ন ভিন্ন হতে হয় না আগের মত। রিয়ন জানে না শক্তির অনিশ্চয়তায় থাকা যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রনায়ক গণ কেমন হৃদয়বান মানুষে পরিণত হয়ে গেছে। পৃথিবীতে এখন অসংখ্য দেশ নেই, নেই কোন সীমানা রেখা। পরিকল্পিত জন্ম সংখ্যা, পরিকল্পিত উৎপাদন আর পরিকল্পিত বণ্টন। কোথাও অভাব নেই, নেই অপচয়। সর্বক্ষণ হচ্ছে সম্পদের পূনঃপূর্নায়ন (Recycle)। ক্যাপিটালিজম এবং সোশ্যালিজম এর সমন্বয়ে গড়া এক আধুনিক বিধি ব্যবস্থা যেখানে আছে মেধার মূল্যায়ন, আছে বিন্যস্ত বিলি বন্দবস্ত এবং মানুষের আন্তঃ শক্তি (Human Potentiality) জাগিয়ে তোলার পদ্ধতি। পরিচালনা, শিক্ষা-জ্ঞান বিকাশ, বিনোদন, ভ্রমণ, খেলাধুলা আর প্রার্থনা ছাড়া মানুষের এখন করার মত তেমন কিছুই নেই।

     

    আমার গাড়ীটা বাতাস কেটে দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিবেগে চলতে থাকা ইলেকট্রিক যান গুলো ওয়ারলেস ডিভাইসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযুক্ত থাকে এবং কোন রকম পরিবেশ দূষণ না করেই অসীম সময় পর্যন্ত চলতে পারে। আমার আবাসন হতে প্রায় দু’ শ কিলোমিটার দূরে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পনের মিনিট সময় লাগে। গাড়ীটাতে প্রোগ্রাম করা আছে বলে আমাকে কিছুই করতে হয় না। সে নিজে নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে যায়। তাই পনের মিনিট সময়ে অনেক কিছুই চিন্তা করা যায়। এই অলস সময়টা অধিকাংশ মানুষ কোননা কোন বিনোদনে ব্যস্ত থাকে। আমার ভাবতে ভাল লাগে। আজকে পথে যেতে যেতে কেন যেন আমার মাথায় রিয়নের এই অবদানের কথাই ফিরে ফিরে ঘুরপাক খাচ্ছিল।   

     

    আমি পৃথু। রৌদ্দুর রহমান, পৃথু। ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানো মেকানিক্স এর শিক্ষক। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা কক্সবাজারে ইনানি বিচের কাছে পাহাড়ি এলাকার মাঝে তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থীদের সবাইকে এর কম্পাউন্ডেই থাকতে হয়। বিশাল এলাকা নিয়ে এর কম্পাউন্ড। কোন রকম প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতি না করে এই বিশ্ববিদ্যালয়টাকে নির্মাণ করা হয়েছে। বরং যেন এর আশে পাশের পরিবেশকে আরও প্রাকৃতিক করে তোলা হয়েছে। এখানকার পাহাড়, বন-জঙ্গলকে যেন আরও মনোরম করে সাজানো হয়েছে। শান্ত মোলায়েম সবুজের মধ্যে যেন প্রতিষ্ঠানটি একেবারে মিশে আছে। আমি সোজা আমাদের কমন রুমটাতে চলে আসলাম। অন্যান্য শিক্ষকরাও ততক্ষণে পৌঁছে গিয়েছে। আনান, অর্থি, আভা, সায়ান, আসিফ আর ওদের গুরু ঈশান। ঈশান খ্যাপাটে, দুরন্ত এবং অস্থির। সবাই তাকে পছন্দ করে। আমিও ঈশানকে পছন্দ করি। হৈ হুলোর করে একেবারে মাতিয়ে রাখে। আমরা যতক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পাউন্ডে থাকি বাহিরের সাথে আমাদের সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ থাকে। প্রতিটি মানুষের কানের নিচের অংশে চামড়ার ভেতরে ন্যানো কমিউনিকেশন ডিভাইস বসানো আছে, আমরা ডিভাইসটা ব্যবহার করে দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক ভিডিও কমিউনিকেশন বা ইচ্ছা করলে শুধু মাত্র ভয়েস কমিউনিকেশন করতে পারি। এছাড়াও যেকোন নিউজ আপডেট ইচ্ছা করলেই আমাদের চোখে সামনে হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে দেখে নিতে পারি। শিক্ষকদের কাজে পূর্ণ মননিবেশের জন্য কমিউনিকেশন ডিভাইস গুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জ্যামিং করে রাখা হয়। বাইরের সাথে কোন যোগাযোগ থাকে না বলে আমরা আড্ডাটা খুবই উপভোগ করি।  আজকে ঈশান এক কোনে আনানের সাথে বসে গল্প করায় ব্যস্ত। ওদের বয়সের ফারাক কম হওয়ায় ওদের মাঝে খুব বেশী ভাব। আরেক প্রান্তে অর্থি এবং আভা। ওরা যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। সায়ান, আসিফ আর আমার সাথে জমে ভাল। সায়ান আর আসিফ একটা টেবিলে বসে আছে, আমি গিয়ে তাদের সাথে যোগ দিলাম।

    বসতে বসতে বললাম, “কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে?”

    আসিফ, জিভ দিয়ে ঠোটটা ভিজিয়ে নিয়ে বলল, “আমাদের আগামী দিনের প্রজন্ম”

    আমি কাঁধ বাঁকিয়ে বললাম, “আমাদের কি আর সেই জন্য এত ভাবনার আছে?”

    সায়ান সাধারণত কম কথা বলে কিন্তু খুবই যুক্তিসংগত কথা বলে ও। মাথা ঝাঁকাতে ঝোঁকাতে কফিটাতে একটা চুমুক দিল। বলল, “না আমরা মনে হয় ভুল করছি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোন রকম বিপর্যয় মোকাবেলা করা শিখছে না”।

    সায়ানের কথার স্পষ্ট যুক্তি আছে। মানতেই হবে। মানুষ প্রকৃতিকে তার মত করে চলতে দিলেও এমন ভাবে কব্জা করেছে যে, প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় মানুষকে তেমন অস্থির করে তোলে না। প্রকৃতির রুদ্র আচরণও প্রত্যহ সকালে সূর্য উদয়ের মতই গ্রাহ্য।

    আসিফ বলল, “তবে কি আগের পৃথিবীই মানুষের জন্য মঙ্গল জনক ছিল?”

    আমি হাসলাম। বললাম, “সায়ানের কথায় তেমন ইঙ্গিত থাকলেও আমি নিশ্চিত সায়ান সেই অনিশ্চিত পৃথিবীতে ফিরে যেতে চাইবে না। তবে ওর কথায় যুক্তি আছে। আমাদের হয়তো একটা প্রস্তুতি থাকা দরকার।”

     

    “মানলাম ওর কথায় যুক্তি আছে, তোমার কথাও বুঝলাম। কিন্তু কেমন বিপর্যয় আসতে পারে তা বুঝতে না পারলে, তার মোকাবিলা করার জন্য কি ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার তা বুঝব কি ভাবে?”

    আমাদের কমন রুমের বিশাল ডিসপ্লে স্ক্রিনে হঠাৎ আমাদের প্রিন্সিপাল অরণিকে দেখা গেল। বড় কোন সুখবর থাকলে অরণীকে ভার্চুয়াল কমিউনিকেট করতে দেখা যায়। যে কোন ধরনের সুখবর তিনি তৎক্ষণাৎ পৌঁছে দিতে চান। তিনি স্ক্রিনে আছেন কিন্তু যেন কিছু বলতে পারছেন না। বেশ কিছুক্ষণ পর তিনি ঘোষণা করলেন, আজকে সকল ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। সকল শিক্ষককে এক্ষুনি সভা কক্ষে উপস্থিত থাকতে বলা হচ্ছে।



    দুই.

    সভা কক্ষে সবাই উপস্থিত। অরণি তার নির্ধারিত চেয়ারটাতে বসে আছে, তার পাশেই রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান অবনী। চিফ এডমিন আদিব এবং চিফ এইচ.আর বর্ণী সহ সকল শিক্ষক ইতিমধ্যেই সভাকক্ষে উপস্থিত। সবাই নিশ্চুপ। কেউ কোন কথা বলছেনা। অনেকেই আসন গ্রহণ করে অরণির মুখের দিকে চেয়ে আছে। কেউ কেউ সভা কক্ষের এক পাশে দাড়িয়ে। সবাই বুঝতে পারছে ভয়ংকর কিছু হয়তো ঘটেছে।

     

    “আশা করছি সকলেই উপস্থিত হয়েছেন। একটা ভয়ংকর দুঃসংবাদ দেয়ার জন্য আপনাদের এখানে ডাকা হয়েছে”, নীরবতা ভাঙ্গল অরণি। তারপর একটু চুপ থেকে আবার বললেন, “২০ মিনিট আগে ৯টা ১১ মিনিটে, বিহারে একটি রিয়ন চেম্বার বিস্ফোরিত হয়েছে।” সবার মুখ থেকে এক বিস্ময়সূচক শব্দ বের হয়ে আসল। রিয়ন চেম্বার বিস্ফোরণের মানে কি, তা আমাদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

     

    ঈশান তার আসন থেকে উঠে দাড়িয়ে বলল, “এটা হতে পারে না। রিয়ন চেম্বার কোন ভাবেই বিস্ফোরিত হতে পারে না। এটাই রিয়ন চেম্বারের বৈশিষ্ট্য। ভয়ংকর পারমানবিক বিস্ফোরণেও রিয়ন চেম্বার অক্ষত থাকে, এটা প্রমাণিত সত্য।”

     

    : আমি জানি, পারমানবিক বিস্ফোরণেও রিয়ন চেম্বার অক্ষত থাকে। তা না হলে একটা রিয়ন চেম্বার বিস্ফোরিত হলে সমস্ত পৃথিবীই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা। কারণ গড়ে পৃথিবীতে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে অন্তত: তিনটি রিয়ন চেম্বার রয়েছে। কিন্তু বিষয় হচ্ছে, দুর্ঘটনাটা ঘটেছে। একটা রিয়ন চেম্বার বিস্ফোরিত হয়েছে এবং এতে করে একটা বিশাল এলাকা ধূলিতে মিশে গেছে। কম করে হলেও  সাত লাখ মানুষ মারা গেছে।

     

    অর্থি বলল, “এটাকে নিছক দুর্ঘটনা বলছি কেন? এটা তো পরিকল্পিতও তো হতে পারে। হতে পারে এটা মানব প্রজাতির বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র।”

     

    : হতে পারে। কোন সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেয়া যায়না। বিষয়টি যাচাই বাছাই করার জন্য পৃথিবীর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে নিয়ে একটা দল গঠন করে কাজ করার জন্য নির্দেশ এসেছে। সেই জন্যই আপনাদের সকলকে এখানে ডাকা হয়েছে। ঘটনাটিকে পৃথিবীর এক কঠিনতম বিপর্যয় হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টা নিশ্চিত আপনারা বুঝতে পারছেন।

     

    আমরা সবাই নীরবে মাথা নাড়লাম। “ঈশান”, অরণি আবার শুরু করলেন, “আমি চাই তোমার নেতৃত্বে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটা দল এ বিষয়ে কাজ শুরু করবে। তোমাকে সার্বিক সহায়তা করবে, আনান, অর্থি, আভা, আসিফ, পৃথু এবং সায়ান। আদিব তোমাদের যে কোন এডমিনিস্ট্রেটিভ বিষয়ে সহায়তা করবে। অবনী তোমাদের রেডিয়েশন প্রোটেকশনের জন্য যেকোনো ধরনের কিউরেটিভ মেসার নিবে। আর সবকিছু সমন্বয়ের জন্য দায়িত্বে থাকবে বর্ণী। এই মূহুর্ত থেকে তোমরা কাজ শুরু করছ। আপাতত তোমাদের সকল ধরনের ছুটি, বিনোদন বন্ধ। কাজের সুবিধার জন্য তোমাদের দলের যে কেউ যে কোন মূহুর্তে আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে। কিছুক্ষণ থেমে আবার বললেন, “আমি আশা করছি আমরা এই বিপর্যয় মোকাবিলা করতে পারব। এছাড়া অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক গণও সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকবেন। আপনারাও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যে কোন তথ্য দিয়ে এই দলকে সহায়তা করতে পারেন। সভার কাজ এখনই শেষ করতে হচ্ছে। সময় নষ্ট করার মত সময় হয়তো আমাদের কাছে নেই। সবশেষে একটা কথা বলি, যদিও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি জল বিদ্যুতের মাধ্যমে চলে তথাপি আমরা রিয়ন চেম্বারের আওতার বাইরে নই। আপনারা খুবই সাবধান থাকবেন তবে অযথাই ভীত হবেন না বা ভীত সৃষ্টি করবেন না।”

     

    আধা ঘণ্টা পরে ঈশানের নেতৃত্বে আমরা আবার আলোচনায় বসলাম। আমাদের সবধরনের কমিউনিকেশন ডিভাইসের জ্যামিং উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হলেও সকল ছাত্র, ছাত্রীদেরকে তাদের আবাসিক হল না ছাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই ধরণের ঘটনায় অধিকাংশ ছাত্র, ছাত্রী ভয়ংকর ভরকে গেছে। অনেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তাদের কাউন্সিলিং করার জন্য একটা দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ঈশান সভায় উপস্থিত সবার দিকে একবার তাকিয়ে নিল। ওর চোখে সচরাচরের দুরন্তপনা নেই। ওর স্থির কঠোর, আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টি, আমাদের সাহস যোগাল।

     

    “তোমরা হয়তো ইতোমধ্যে খবর পেয়েছ যে, পৃথিবী জুড়ে ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে গেছে। যে ভাবেই হোক মানুষের সন্দেহ হয়েছে যে কোন মূহুর্তে যে কোন রিয়ন চেম্বার বিস্ফোরণ হতে পারে। ভয়ার্ত মানুষের মত ভয়ংকর কিছুই হতে পারেনা। মৃত্যু ভয়ে সকল মানুষ বিপর্যস্ত, ফলে তারা উদ্ভ্রান্ত আচরণ করছে। আমাদের মধ্যেও যে ভয় কাজ করছে না তা কিন্তু নয়। কিন্তু আমাদের উপর এক কঠিন দায়িত্ব পড়েছে। আমাদেরকে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করে যেতে হবে। যদিও আমাদের ঘিরে রয়েছে অসংখ্য রিয়ন চেম্বার যার প্রতিটি একটি ভয়ংকর পারমানবিক বোমা”, একদমে কথা গুলো বলে থামলো ঈশান।

    সকালে সায়ানের কথাটা আমার মনে পড়ল। মানুষ দীর্ঘদিন কোন ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলা করেনি। মানুষ বিপর্যয়ের জন্য মোটেই প্রস্তুত নয় তাই তারা ধর্য্য হারা হয়ে গেছে। সত্যিই আমরা ভুল পথে এগিয়েছি। যে কোন ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য সবাইকে প্রস্তুত করা দরকার ছিল।  

    আসিফ বলল, “আমরা কেন নিশ্চিত হচ্ছি যে, রিয়ন চেম্বার বিস্ফোরণের জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে?”

    আমি বললাম, “বিষয়টা অনুধাবন করা খুবই সহজ। পৃথিবীতে কোন পারমানবিক বোমার অস্তিত্ব নেই। কোন পারমানবিক চুল্লিও নেই। একমাত্র রিয়ন চেম্বারের মধ্যেই পারমানবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়ে থাকে এবং মানুষ ধরে নিয়েছে তা অত্যন্ত নিরাপদ। একমাত্র রিয়ন চেম্বারের মাধ্যমেই এমন পারমানবিক বিস্ফোরণ ঘটা সম্ভব। তবু আমি মনেকরি অনুমান না করে আমাদের নিশ্চিত হয়ে নেয়াই ভাল।”

     

    “ঠিক বলেছ পৃথু”, ঈশান আমার কথায় সায় জানাল। অর্থি এবং আভার দিকে তাকিয়ে বলল,“তোমরা এই বিষয়ে যত তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় তা যাচাই করে শীঘ্রই আমাদের একটা রিপোর্ট দাও। বিস্ফোরণের অনান্য সম্ভাবনা গুলোর শতকরা হার রিপোর্টে তুলে ধরবে”। আমাদের দিকে তাকিয়ে ঈশান বলল, “পৃথু এবং সায়ান রিয়ন চেম্বার বিস্ফোরণের কি কারণ থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখ। আমি, আনান আর আসিফ দেখছি নতুন রিয়ন চেম্বার গুলোর প্রোডাকশনে টেকনিক্যাল ডিফিকাল্টি আছে কিনা?”

    মিটিং শেষ করে আমরা উঠতে যাব এমন সময় সবার ডিভাইসে বর্ণীর ম্যাসেজ আসল। ১৫ মিনিটের মধ্যে সবাইকে রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান অবনীর মেডিকেল সেন্টারে উপস্থিত থাকতে হবে।

     

    চলবে.....

advertisement

  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # অপূর্ব , অসাধারন চিন্তার প্রকাশ । এরকম ভাবনার বিতাশই সবার জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে ।।
    প্রত্যুত্তর . ৩১ জানুয়ারী, ২০১৩