না পাওয়াটা কষ্টের না। প্রকাশ করতে না পারাটাই কষ্টের। মানিক, বিভূতি, জীবনানন্দ, তারাশঙ্কর, মুজতবা আলি এদেরকে প্রচণ্ড রকম হিংসা করি। কত সহজে এরা প্রকাশ করতে পারে, যা দেখে, যা শুনে, যা জানে। শব্দ, বাক্য, অনুভুতির কত খেলা। সকাল, সন্ধ্যা, রাত,জোশ্না, অমাবস্যা, রুপ, দেহের কত বাহারি বর্ণনা। পরিচিত মুখ,ঘটনাকে এরা বাচিয়ে রাখে কাগজের পাতায়, কলমের কালিতে। পথের পাচালির-অপু দুর্গা বেঁচে থাকবে সারাজীবন। আরন্যকের-লবটুলিয়া জঙ্গল কখনো শেষ হবে না। “কবি”র নিতাই “ জীবন এত ছোট ক্যানে” আক্ষেপ নিয়েই বেঁচে থাকবে।
কই, আমার সাথেও তো কত জনের দেখা হল, কথা হল। কত জনের সাথে পথ চললাম। জোশ্না, শিশির কম দেখিনি। তারপরও কাউকে ধরে রাখা যায়না। তারপরও এক দিয়ে ভাবি, একেবারে যে যায়না তা না, যারা সাধারন, যারা লিখতে পারিনা, আমরাও ধরে রাখি সেই সব মুখ, আরো বেশি জীবন্ত ; আমাদের স্মৃতির পাতায়, সেখানে হয়তো আর কোন পাঠক নাই, নিজেই নিজের পাঠক। তবু সেখানেও আমাদের পরিচিত মুখ, ঘটনা, আনন্দ বেদনা অনুভুতিরা ঘুমায় থাকে। কেউ হারিয়ে যায়না, না-লেখকের মৃত্যু পর্যন্ত।