বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৬ জুন ১৯৮২

Jeroslav Seifert এর কবিতা ‘Autobiography’

  • advertisement



     

    চেক কবি এবং সাংবাদিক Jeroslav Seifert উনার স্কুল জীবন থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৯২১ সালে উনার লেখা প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়। সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করলেও সাহিত্য চর্চা করতে ভোলেননি কখনো। রাজনৈতিক অঙ্গনেও উনার পদচারনা ছিল। এই কৃতী ব্যক্তিত্ব ১৯৮৪ সালে উনার অনবদ্য সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি স্বরুপ নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। উনার একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা ‘Autobiography’ এর ভাবানুবাদ নিচে তুলে দেয়া হল-

    "Autobiography"


    Sometimes
    when she would talk about herself
    my mother would say:
    My life was sad and quiet,
    I always walked on tip-toe.
    But if I got a little angry
    and stamped my foot
    the cups, which had been my mother's,
    would tinkle on the dresser
    and make me laugh.
    At the moment of my birth, so I am told,
    a butterfly flew in by the window
    and settled on my mother's bed,
    but that same moment a dog howled in the yard.
    My mother thought
    it a bad omen.
    My life of course has not been quite
    as peaceful as hers.
    But even when I gaze upon our present days
    with wistfulness
    as if at empty picture frames
    and all I see is a dusty wall,
    still it has been so beautiful.
    There are many moments
    I cannot forget,
    moments like radiant flowers
    in all possible colours and hues,
    evenings filled with fragrance
    like purple grapes
    hidden in the leaves of darkness.
    With passion I read poetry
    and loved music
    and blundered, ever surprised,
    from beauty to beauty.
    But when I first saw
    the picture of a woman nude
    I began to believe in miracles.
    My life unrolled swiftly.
    It was too short
    for my vast longings,
    which had no bounds.
    Before I knew it
    my life's end was drawing near.
    Death soon will kick open my door
    and enter.
    With startled terror I'll catch my breath
    and forget to breathe again.
    May I not be denied the time
    once more to kiss the hands
    of the one who patiently and in step with me
    walked on and on and on
    and who loved most of all.
    .........................................................
     
    ("Autobiography" from The Poetry of Jaroslav Seifert
    Translated from the Czech by Ewald Osers
    Edited by George Gibian
    Copyright © 1998 by Ewald Osers and George Gibian
    Used by permission of Catbird Press
    All rights reserved
    Poem selected by Carola Hermelin, assistant head librarian,
    Nobel Library of the Swedish Academy.)


    "জীবনালেখ্য"



    কখনো কখনো মা কে বলতে শুনেছি,
    ‘আমার জীবন ছিল ছন্দহীন,
    নিস্তব্ধতার নিগড়ে বন্দী,
    কর্মব্যস্ত দিনমান, সদা চঞ্চল তনুমন’।
    কখনোও যদি বা রেগে গিয়েছি আমি,
    আর প্রচন্ড লাথি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছি
    আমার মায়ের চায়ের কাপ!
    কতরকম ভঙ্গি করে মা আমাকে হাসিয়েছে!
    আমি মা কে দেখে হেসেছি!

    আমার জন্মলগ্নে, যেমনটি শুনেছি,
    একটা উড়ন্ত প্রজাপতি এসে বসে
    মায়ের বিছানার কাছে,
    ঠিক তখনই উঠানে তারস্বরে ডেকেছে কুকুর; আর
    মা উৎকন্ঠিত ছিল অজানা আশঙ্কায়,
    কোন বিপদ যেন আমার বাছা’র না আসে।

    আমি তো শান্তশিষ্ট ছিলাম না কখনো,
    আর না আমার মায়ের মত সুশীল সৌম্য।
    আর যদি এখনের কথা বলি-
    নোংরা দেয়ালে পড়ে থাকা শুধু একটি ফ্রেম,
    ছবি নেই তাতে;
    তবুও সত্যিই অসাধারণ, অনন্য।

    কত স্মৃতি রয়ে গেছে
    ভুলতে পারি নি হায়;
    বর্ণিল উজ্জ্বল ফুলের মত,
    আর মিষ্টি সুবাসে সরভিত-
    হারিয়ে গেছে আজ সেই সব
    অন্ধকারের পল্লব ছায়ায়!

    কত আবেগে কবিতা পড়ি
    কত ভালবাসি গান!
    আর কিছু ভুল; সাথে মাশুল
    দিয়ে পুজেছি সুন্দরকে!
    আর যখন দেখেছি এক নগ্ন নারীর ছবি,
    অলৌকিক বলে মেনেছে আমার সত্ত্বা কবি!

    নিশ্চিন্তে কেটে গেল জীবন
    যদিও আয়ু অনেক কম-
    কিন্তু আমার উচ্চাশার পরিধি
    হয়নিতো অবদমন!
    আর যখন হল আমার বোধোদয়-
    আমার জীবনের তখন যে ফুরিয়েছে সময়।

    তান্ডব প্রলয়ে মৃত্যু যখন
    দুয়ারে দিবে হানা-
    ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আঁকড়ে ধরবো
    আমার অন্তিম শ্বাসখানা!
    আর ভুলে যাব এই কথা, এখন যে আমার
    শ্বাস নিতে আছে মানা!

    হায় যদি পেতাম তাকে! ফিরে এসো মা তুমি
    একটু সুযোগ দাও গো আমায়, ফের তোমার হাত চুমি!
    কত সহ্য করেও সাথী ছিলে আমার
    সারাটি জীবনভর-
    কতভালবাসা দিয়েছো তুমি,
    আজ কেন হলে পর?

advertisement