বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৬ জুন ১৯৮২

ত্বলা'আল বাদরু আলাইনা

  • advertisement

     

     

    মক্কাবাসী নাস্তিক, পৌত্তলিক তথা কাফির মুশরিকদের নিরবিচ্ছিন্ন অত্যাচারের মুখে, নবুওয়াত প্রাপ্তির সূদীর্ঘ দশ বছর পরে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) মহান আল্লহ পাকের নির্দেশে মদীনা নগরীর উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ তথা হিজরতের অনুমতি পান। মহানবী (সাঃ) উনার সবচাইতে নিকটতম বন্ধু মহামতি হযরত আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন উসমান আস-সিদ্দিক (রাঃ) কে সঙ্গে নিয়ে হিজরতের জন্য তৎকালীন ইয়াসরিব তথা মদীনার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। উনাদের এই সফর কোন আনন্দময় সফর ছিল না। একে তো ছিল দেশ ছেড়ে যাবার বেদনা, তদুপরি ছিল শত্রুদের তরফ থেকে আক্রমনের আশঙ্কা। এই সফরে হযরত আবু বকর (রাঃ) যেভাবে মহানবী (সাঃ) কে সঙ্গ দিয়েছিলেন এবং সহযোগিতা করেছিলেন সেজন্য আল্লহ পাকের কৃপায় উনি সমগ্র মুসলিম উম্মাতের মধ্যে উনি শীর্ষে উন্নীত হয়েছেন। এই উম্মতের আর এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা হযরত উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) নিজের এবং উনার সমগ্র পরিবারের সারা জীবনের নেক আমল কে হযরত আবু বকর (রাঃ) এর হিজরতের এক রাতের তুলনায় তুলনায় নিতান্তই তুচ্ছ মনে করতেন।

     

    সূদীর্ঘ দুই সপ্তাহের কষ্টকর সফর শেষে এই দুই বন্ধু অবশেষে মদীনা এসে পৌঁছান। এদিকে মহানবী (সাঃ) এর আগমন এর সংবাদ ইয়াসরিব বাসীর মধ্যে প্রচার হয়ে গিয়েছিল। ইয়াসরিবের মুসলমান আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উনাদের আগমনের জন্য পথ চেয়ে বসে থাকতো। অবশেষে দুই সপ্তাহ পরে যখন উনাদের আগমন নজরে এলো তখন সমগ্র ইয়াসরিববাসী খুশিতে কলরোল করে ওঠে। এক আশ্চর্য আনন্দের জোয়ারে সবাই ভাসতে থাকে। আল্লহ পাক এখানে একটি অসাধারন কুদরত কে প্রকাশ করেন যেটি মহানবী (সাঃ) এর একটি মু’জেজাও বটে। অপেক্ষমাণ শিশু কিশোর সবাই মহানবী (সাঃ) এবং আবু বকর (রাঃ) কে সাদর সম্ভাসন জানিয়ে একযোগে একসাথে একই সুরে গেয়ে ওঠে “ত্বলা'আল বাদরু আলাইনা” এই গানটি। ৬২২ ইং সনে বাচ্চাদের গাওয়া এই গানটি আরব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচিন গান বলে বিবেচিত। সবচাইতে আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, এই গানের কথা, সুর এই বাচ্চারা কখনও কারো কাছে শিখে নি। কেউ জানতো ও না এই গানের ব্যাপারে। মহান আল্লহ পাক এই অলৌকিক ঘটনা ঘটান। মহানবী (সাঃ) খুশি হলেন ইয়াসরিববাসীর এই অভ্যর্থনায়। গানের সপ্তম লাইনে উল্লেখিত “মদীনা” (যার অর্থঃ শহর) থেকে মহানবী (সাঃ) ‘ইয়াসরিব’ নাম পরিবর্তন করে নগরীর নাম রাখলেন ‘মদীনা’।

     

    বাচ্চাদের গাওয়া ‘ত্বলা'আল বাদরু আলাইনা’ গানটি উল্লেখ করা হল। উইকিপেডিয়া থেকে প্রাপ্ত গানটির কথা প্রথমে মূল আরবী ভাষায়, পরের লাইনে ইংরেজী অক্ষরে উচ্চারন এবং সবশেষে ইংরেজী অনুবাদ নিম্নরূপ-

     

    طلع البدر علينا
    ṭala‘a 'l-badru ‘alaynā
    Oh the white moon rose over us

    من ثنيات الوداع
    min thaniyyāti 'l-wadā‘
    From the valley of al-Wadā‘
    وجب الشكر علينا
    wajaba 'l-shukru ‘alaynā
    And we owe it to show gratefulness

    ما دعى لله داع
    mā da‘ā li-l-lāhi dā‘
    Where the call is to Allah.
    أيها المبعوث فينا
    ’ayyuha 'l-mab‘ūthu fīnā
    Oh you who were raised among us

    جئت بالأمر المطاع
    ji’ta bi-l-’amri 'l-muṭā‘
    Coming with a word to be obeyed

    جئت شرفت المدينة
    ji’ta sharrafta 'l-madīnah
    You have brought to this city nobleness

    مرحبا يا خير داع
    marḥaban yā khayra dā‘
    Welcome best caller to God's way 

     

     

    একটি বাংলা ভাবানুবাদ আমি নিম্নে উল্লেখ করছি-

     

    জ্যোতির্ময় শশী আজ আমাদের উপরে উদিত-

    সানিয়াতুল ওদা উপত্যকা হতে উনার আগমন

    উনার সেবায় আমরা সদা সর্বদা নিবেদিত প্রাণ,

    যেথায় উনি আমাদের শোনাবেন ইসলামের কথন!

     

    তোমার শুভাগমন হয়েছে আমাদেরই মধ্য থেকে-

    তোমার অনুগত থাকবো সর্বদা, দিলাম প্রতিশ্রুতি।

    তোমার আগমনে আমাদের এই নগরী আজ ধন্য!

    স্বাগতম! সু-স্বাগতম জানাই তোমায় হে মহান অতিথি!

     

advertisement