বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১৫ মে ১৯৭৮

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

মনি হায়দারের উপন্যাস ‘নায়ক ও নায়িকারা’ এবং পাঠ প্রতিক্রিয়া

মামুন ম. আজিজ

  • advertisement

    মামুন ম. আজিজ



    অন্যপ্রকাশের ব্যানারে একুশে গ্রন্থমেলা ২০১২ তে গল্পকবতিা.কম এর ‘সেরা গল্প কবিতা’ শিরোণামের যে সংকলনটি প্রকাশ হয়েছে তা সম্পাদনা করেছেন গল্পকবিতা.কম সাইটটির দু’জন বিশিষ্ট বিচারক , মনি হায়দার এবং মোমিন রহমান। এ আমরা এই সাইটের নিয়মিত বিচরণকারী মাত্রই জানি। এবং সেই সংকলনে সম্পাদকদের নাট সিটকানো মুখবন্ধে আমাদের মাঝে যে বিরূপ মনোভাবের পশলা পশলা বাতাস হয়ে মনের কষ্টের রেখা  ছুঁয়ে গেছে সেটাও আমরা জানি।

     
    মূলত সেই মুখবন্ধের তাচ্ছিল্যসূচক কথার মধ্যে দুটি উক্তি খুব মনকে নাড়া দিয়েছে। বেদনায় সিক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে দুষ্টু আবহ। মুখবন্ধে ওনারা লিখেছেন-‘‘এখানে অংশ নেয়া গল্পকার বা কবিরা সমকালীন লেখকদের লেখা পড়েন, আমাদের মনে হয় না। আর পাঠ করলেও তা চেনা ও জনপ্রিয় লেখকদের অল্পকিছু লেখাতেই সীমাবদ্ধ। এতে আর যাই হোক একজন নিবেদিতপ্রাণ লেখক হয়ে ওঠা যায় না’’...আবার আরেক প্যারায় লিখেছেন- ‘......খুন হতে বা খুন করতে না পারলে লেখালেখিতে না আসাই ভাল। .......গল্পকবিতা ডটকমের লেখকেরা পাঠ করেন না আমাদের চিরায়ত ও শ্রেষ্ঠ গল্পকারদের গল্প, কবিদের কবিতা। পাঠ করলে তাদের লেখায় অবশ্যই তার মোচড় থাকত। থাকত আঁচড়। রাখতো দাগ।’’


    মনি হায়দারের সম্ভবত ছয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে ২০১২ এর বইমেলায়। ধরে নিলাম তিনি সমসাময়িক লেখক। লেখক হিসেবে তিনি আমার কাছে অপরিচিত এবং সম্ভবত জনপ্রিয়্ও নয়। এবং  তার লেখা আগে পড়িনি , তাই সমসাময়িক লেখকদের বই পাঠ করার সুযোগ নিলাম বৈশাখী প্রকাশন থেকে ২০১০ সালে প্রকাশিত তার ‘নায়ক ও নায়িকারা’ বইটি ক্রয় করে। ১২৮ পৃষ্টার এই উপন্যাসটি আমি সম্প্রতি  পড়েছি।

     
    বিজ্ঞ পুস্তক সমালোচক নই। তবে পাঠক হিসেবে একটা উপলব্ধি এবং দৃষ্টিকোণতো আছেই। সেই দৃষ্টিকোণ আর উপলব্ধি থেকে ‘নায়ক ও নায়িকারা’ বইটি নিয়ে ক’টি কথা বলার ইচ্ছে সংবরণ করা গেলোনা।
    বইটির ফ্ল্যাপে প্রথমে শেষে জুড়ে কোন সারমর্ম নয় বরং উপন্যাসের একটি চুম্বকাংশ তুলে দেয়া হয়েছে । সেই চুস্বাকাংশেরও কিছু চুম্বাংকশ তুলে ধরেই আলোচনা শুরু করতে চাচ্ছি।

     
    ‘...সিনেমার ভিলেন ঢঙে সামনে এসে দাঁড়ায় পথিক। মাধবী পিছু হটে, পথিকও এগোয়। মাধবীকে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরে পথিক-এই মুখে তাকাতে ঘৃণা হয় তোমার? অথচ এই মুখই তুমি চুষতে, চাটতে জিভ দিয়ে। মনে পড়ে ?খুব কি বেশিদিনের কথা মাধবী?


    প্রাণ শক্তি সঞ্চয় করে পথিককে ঠেলে দেয় মাধবী-আমিতো মুখই চুষতাম, প্রত্যেক নারীই বিশেষ বিশেষ সময় ওসব করে। তুমি যে আমার সারা শরীর, শরীরের সবচেয়ে নোংরা জায়গা ঘন্টার পর ঘন্টা চুষতে। পেচ্ছাবের গন্ধ নিতে। বলতে জগতের শ্রেষ্ঠ গোলাপের সুগন্ধ।

     
    আত্মপীড়িত বেহায়ার মতো পথিক হাসে-পুরুষ কোন না কোন সময় নারীর কাছে কুকুর হয়ে যায়।
    ছিঃ আমি মানুষ নয় একটা কুকুরের সংগে সংসার করেছি এতদিন?
    কুকুরের সংগে সংসার করলে তো কুকুরী হতে হয়।
    না, আমি মানুষ ছিলাম। আছি এবং থাকবোও। ...’


    -ভালগার ডায়ালোগ কাহিনীর প্রয়োজনে লেখকরাই এনে থাকেন। এটা আসতে পারে। ফ্ল্যাপে সেটা তুলে দেয়ার মাধ্যমে পাঠককে হয়তো একটা ধারনা দেয়া হচ্ছে অভ্যন্তরে ভালগার শুধু প্রয়োজনে আসবেই না সেটাকে লালন পালন এবং আত্তিকরনও করা হতে পারে। অথবা হতে পারে ইরোটিক কথাবার্তা পাঠে আনন্দ লাভের প্রত্যাশী একদল পাঠক যেন বইটি ক্রয় করে সে কারনে ফ্ল্যাপে একটু তার পরশ। ফ্ল্যাপে চুম্বকাংশ চুজ করার কাজটি প্রকাশকও করে থাকতে পারেন। বৈশাখী প্রকাশনীর প্রকাশক ইকবাল ভাইকে আমি চিনি। তিনি একজন ধর্মপরায়ণ মানুষ -কাজেকর্মেতো বটেই  এবং অব্যশই লেবাশে। কিন্তু ব্যাবসাটা তিনি খুব ভালো বোঝেন। বিশাল প্রেস ওনার। ‘আলো ও ছায়া’ নামক একটি পত্রিকার আমি সহ সম্পাদক কাম অলংকরনকারী ছিলাম। সেটার প্রকাশিত দুই সংখ্যার ৮০% ফাইন্যান্স করেছিলেন এই ইকবাল ভাই । এবং ওনার ৫০% অসহযোগীতায় পত্রিকাটি আজ মুখ থুবড়ে বন্ধ হয়ে গেছে।

     
    ‘নায়ক ও নায়িকারা’ উপন্যাসটি খুবই রিয়েলিস্টিক কিন্তু আম জনতার অদেখা কিন্তু জ্ঞাত ও বহুল আলোচতি একটি বিষয়ের উপর লেখা হয়েছে। নতুন কোন জ্ঞান, তথ্য, লেখকের কোন উপলব্ধিগত শিক্ষার বিস্তার বিস্তৃত করে উপন্যাসের পরিসর গড়ে ওঠেনি। এটা উপন্যাসকে বেশ সহজ বোধ্য , পাঠক গ্রাহী করে তোলার উপযোগীতা প্রদান করেছে এবং কাঠিন্য বর্জন করতে বাধ্য করেছে।

     
    নাট্যজগতের বিচরণ কারী মানুষের চরিত্রের কিছু কলুষিত বাস্তবতা তুলে ধরা লেখকের উপন্যাসের মূল উপজীব্য মনে করা যেতে পারে। পথিক রহমান একজন অভিনেতা। মঞ্চে অভিনয়ের হাত পেঁকেছে তার। মঞ্চে মাধবী নামের একটি সহ অভিনেত্রীর সাথে তার মন  দেয়ানেয়ার মাধম্যে তার নারীপ্রিিতর খেলাটার সূচনা । একসময় মঞ্চ ছেড়ে সে টিভিতে অভিনয় শুরু। প্রথম নাটকেই বাজিমাত। সবচেয়ে দামী নাট্য অভিনেতা বনে যেতে একটুও দেরী করতে হয়নি। তরতর করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে গেছে পথিক রহমান ।

     
    বাবা-মা হারা পথিক রহমান ছোট বেলায় খালা-খালুর আশ্রিত হিসেবে খুবই নিগৃহ ভাবে মানুষ হয়েছে। সেকানে একজন বয়স্ক পুরুষ কাজের লোকের দ্বারা যৌণ নিপীড়ন হতে হতে বেঁচে গেছে। একমাত্র  বোন আত্মহত্যা করেছিল অথবা স্বামীর হাতে খুন হয়েছিল। তার স্বামী ছিল পার্ভার্টেড। নিজ চাচীর সাথে তার চলত যৌনাচার।  স্বামীর এসব হযতো জেনে ফেলে তার বোন। পথিক রহমান কিছুই করতে পারেনি; এমন সব কষ্টক্লীষ্ট কাল পেরিয়ে আজ সে অনন্ত সফল। মাধবীর বাবা আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল। কিন্তু নিঃসঙ্গ। একমাত্র ছেলে বিদেশে বিয়ে করেছে। মাধবীও পথিককে বিয়ে করে চলে গেলো।

     
    ঘটনার নতুন মোড় দিতে লেখক দ্রুত কয়েক বছর করে এগিয়ে যান। পথিক আর মাধবীর একটা ছেলে হয় । ছেলের নাম নিবিড়। এদিকে নাট্য জগতে নতুন নায়িকা হয়ে এসেছে লায়লা নামের একটি মেয়ে। সেই মেয়ের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে পথিক। তার সাথে দৈহিক সম্পর্কের নৈমত্তিক নতুন সুখে মাধবীর থেকে একটু একটু করে দূরে সয়ে যায় পথিক। মাধবী লায়লাকে সাবধান করে। লায়লা উল্টো মাধবীকে অপমান করে।
    মাধবী আর পথিকের ঝগড়া হয় একদিন। পথিক মাধবীর গায়ে হাত তোলে। মাধবী পথিক হয়ে যায় পুরো দুই জগতের দুই বাসিন্দা। 

    ঘটনার এই ক্ষণে মাধবীর বাবা মারা যান। বাবার সম্পত্তি দেখাশোনা করে আর ছেলে নিবিড়কে মানুষ করতে থাকে মাধবী। একসময় নিজেও সময কাটানো উছিলায় টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করে দেয়।


    ইতমধ্যে লায়লার বাবা-মা মেয়ের মিডিয়া গসিপে বিরক্ত হয়ে যায়। মেয়েকে একদিন সে কথা জিজ্ঞেস করতেই মেয়ে মা নাজনীনকে  ৫-৬ বছর আগে মা এর গোপন পরকীয়া আর যৌনক্রিয়ার কথা তুলে উল্টো শাসায়। এখানে এরপর লেখক লায়লার মা’র স্মৃতিচারনের মাধ্যমে এক পৌঢ়া নারীর তরুন যুবার সাথে পরকীয়া যৌনাচারের বর্ননা দিয়েছেন। সেই নিয়মিত যৌনাচারের অনুশোচনায় কিংবা স্বামীর কাছে নিগৃহীত লজ্জিত হবার ভয়ে স্বামীকে মেয়ের দোহাই দিয়ে গ্রামে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেন লায়লার মা।

     
    একসময় পথিক আর লায়লাও বিয়ে করে ফেলে। তাদের একটি মেয়ে হয়। মেয়ের বয়স এসময় চার হয। পথিক আবার নতুন এক কিশোরী অভিনেত্রী প্রেমে পড়ে। লাযলা এসে মাধবীর কাছে ক্ষমা চায়। দু’জনের ছেলে মেয়ে খেলতে থাকে আর দু’জন একসাথে বসে কাঁদতে থাকে আর আফসোস করতে থাকে পথিকের নতুন প্রেমিকার জন্য।
    ...এভাবেই শেষ হয়ে গেলো এক নষ্ট পুরুষ, নারী লিপ্সু, স্বার্থপর নাট্য অভিনেতা পথিক রহমানের কিচ্ছা কাহিনী আর তার দুই স্ত্রীর পরিতাপ।

     
    বাংলাদেশের একটা বড় পাঠকশ্রেণী এমন সহজবোধ্য কাহিনীরই পাগল। মনি হায়দারের জনপ্রিয়তা পাবার জন্য বইটি স্বার্থক হতে পারে।

     
    লেখকের লেখার ধরন মানে বাক্য বুনন মোটামুটি সরল, প্রাঞ্জলের কাছাকাছি এবং সহজবোধ্য যদিও মাঝে মাঝে নয় প্রায়শই তার একটা বিষয় পাঠক হিসেবে লক্ষ্য করেছি, তা হলো উপমা চয়ন।
    এই যেমন, -‘...মানুষের জীবনে এমন ভাল লাগার মর্মর মুহূর্ত আসে।’ , ‘ ..বুকের গহিন ভিতরে যদি দুঃখের ডিম না থাকে তবে কি শিল্পী হওয়া যায়!’; ‘মাধবীর কামরাঙা ঠোঁটে পাশা খেলার রহস্যময় হাসি উজান গাঙে পাল তোলে..’ ;  ‘শরীরি সংরাগে মাধবীর শরীর কাঁপছে এলোমেলো কলাপাতার মত।’ কিংবা ‘অথচ আজ বিদীর্ণ দুপুরে পুকুর ঘাটে বানুর শ্যামল কোমল ল্যাবণ্য ঢলো ঢলো স্তনজোড়া দেখে জয়নালের শরীর হাঙর জোড়ায়ে ভাসতে থাকে।’ ...এমন অসংখ্য উপমার প্রয়োগে বোঝা যায় লেখরেক উপমা বিলাস মনোভাব এবং এই প্রয়োগ পারদর্শিতা।

    কিছূ কিছূ বাক্য গঠনে আমার দৃষ্টিতে লেখকের অমনোযোগীতার ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। অবশ্য সেটা মনি হায়দারের নিজস্ব স্টাইলও হতে পারে। উদহারণ স্বরূপ -‘হাসে পথিকও, মাধবী, আজ হাসছো কিন্তু ভাবো, সাত আট বছরের একটি বালক তিমির বরণ কালে সে মাঠে বিশ পঁচিশটা গরু, যার অধিকাংশ ছিল দুর্দান্ত ষাঁড়, গ্রামের ধূলি ধূসরিত আঁকাবাঁকা পথ পার হয়ে ফিরছে বাড়িতে।’ ...এই বাক্যটি আরও গুছিয়ে ভেঙে লেখা যেত। তাতে আমার মত সহজ পাঠকের কাছে বাক্যটি আরও সহজভাবে ধরা দিত। কিংবা -‘কি বলবে, কি বলে সামলাবে এই বুনো হঠাৎ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠা আটচল্লিশ বছরের অভিজ্ঞ তুখাড় অভিনয় শিল্পীকে।’ একবারে পরলে একটা খট্কা লাগে, হঠাৎ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠা বুনো লিখতাম আমি হলে, শব্দের এই আগ পর অবস্থান -এটা হয়তো আধুনিক রীতি যা একজন পাঠক আমার জানা নেই।

     
    তারপর ...
     ‘কে? নিজস্ব ভাবনার বলয় ছিঁড়ে ঘুরে তাকায় মাধবী।


    আমি রতন। কাজের ছেলেটা বলে, আপনার কাছে মেহমান এসেছে’-২য়  লাইনটি ...কাজের ছেলেটি বলে, আমি রতন। আপনার কাছে মেহমান এসেছে---এভাবে বললে বুঝতে সহজ হয়।

     
    উপন্যাস হিসেবে কাহিনী এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কাহিনী বুনটে লেখকের দক্ষতা বেশ পরিপক্ক অবশ্যই।


    তবে ঐ যে ফ্ল্যাপের সেই ইরোটিক চুম্বকাংশ...তা এমন একটি প্রেম, পরকীয়া, যৌনাচার এবং অভিনয় জগতের কাহিনী উপজীব্য উপন্যাসে বারবার আসবে এবং সেটা কাহিনীর প্রয়োজনে এটাই স্বাভাবিক। লেখক মনি হায়দারও  তাই হয়তো এ উপন্যাসে যৌন বিষয়টিকে বারংবার তুলে এনেছেন। বেশ কয়েকটি যৌন মিলনের রগরগে বর্ননা বেশ গভীরতার সাথে লেখক লিখেছেন। এইখানে আমার ব্যক্তিগত একটু আপত্তি হচ্ছে এতটা খোলামেলা না বলে আরেকটু শর্ট ফর্মে আরেকটু কুয়াশায় রেখে কি লেখক বর্ননা গুলো দিতে পারতোনা? যৌন মিলনের দৃশ্যগুলোর বর্ননা অনেকাংশে কিশোর বয়সে লুকিয়ে পড়া রসময় গুপ্তের চটির ভাষার মত দূর্বল না হলেও বর্ননার গভীরতায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আমি যখন ৯/১০ এ পড়ি তখন নিশাত চৌধুরী নামে এক লেখকের বই বেশ চলত। সেখানেও রগরগে বর্ননা থাকত যৌন বিষয়ের। আবার বুদ্ধদেব গুহ্ও যৌনতাকে তার বইয়ে প্রাধান্য দিয়্ওে বিখ্যাত , খ্যাতনামা এবং জনপ্রিয়ও হয়েছেন।

    এ্ উপন্যাসের একটি যৌনাচার দৃশ্যের বর্ননা দিলে এই লেখকের যৌন বর্ননার গভীরতা সম্পর্কে একটা সম্যক ধারনা পাওয়া যাবে , যে ধারনা হয়তো নবীন লেখকদের আধুনিক সাহিত্য লিখতে একটু হলেও সহায়তা করলেও করতে পারে।


    ‘...এক হাতে আলতো করে লায়লাকে ঘুরিয়ে বুকের সঙ্গে জাপটে ধরে। লায়লার আধ খোলা চোখ, ঠোঁট কাঁপে থিরথির। পথিক কমলার কোয়ার মত চুষতে থাকে লায়লার কামনায় কাতর ঠোঁট জোড়া। লায়লাও পাল্টা আঘাত হানে। শরীরের আবেগময় ঘর্ষণে লায়লার শরীরের শাড়ি শরীর থেকে বিছানায় লুটিয়ে পড়ে। পথিক একটানে ব্লাউজের বোতাম খুললে লায়লা নিজেই ব্লাউজটাকে শরীর থেকে মুক্তি দেয় মখমলে শরীরে জড়িয়ে থাকে কেবল একটি ব্রা।

     
    পথিক ব্রাটাকে ঘুড়িয়ে চাটতে থাকে। লায়লার শরীরের তুফানে শীৎকার করতে থাকে, আমাকে নাও, আমাকে গ্রহণ কর প্লিজ...আর পারছিনাতো...


    পথিক হাসে। লায়লাকে বুকের সঙ্গে কবুতরের মত ঝাপটে ধরে ব্রার ফিতা খুলে দেয়। ব্রার বন্ধন মুক্ত হয়ে স্তন জোড়া চাঁদনি রাতে যমুনায় মাছ ধরতে থাকে। বাম নিপলে হাত রেখে ডান নিপল মুখ নেয় পথিক আলতো আদরে।
    পথিক তুখোড় খেলোয়াড়, সে এত সহজে নিষ্কৃতি দেবে কেনে। লায়লা বুক, নাভি, থাই, পায়ের আঙ্গুল, যৌনাঙ্গ চুষতে থাকে তাথিয়া তাথিয়া। ......, লায়লা দুদিকে দুপা ছড়িয়ে দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ করে দেয় পথিককে।
    .....................................................................................
    পথিক ব্রা পড়াতে গিয়ে বারবার নিপল টিপতে আর চুষতে থাকে।

    ..
    পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়েছে এই দৃশ্যগুলো আরও সংক্ষেপে লিখলেও পাঠক বুঝতে পারত। তবে ঐ যে একটা কথা ওনারা সম্পাদনায় বলেছিলেন, খুন হতে কিংবা খুন করতে না পারলে লেখালেখি না করাই ভাল---- তবে কি ভাবব এই রগরগে দৃশ্যগুলোর বর্ননা পড়ে যে কামভাবের বাতাস মনে ছুটে আসতে চায় সেটা খুন হওয়ার মত বিষয়?

    লেখক মনি হায়দার কিছু কিছু স্থানে বেশ গভীর ভাবনার পরিচয় দিয়েছেনে। বোঝা যায় তিনি লেখায় গভীর দর্শন ফোটাতে পারদর্শী বটে। এই যেমন-‘ খুন , খুনের মত মহৎ শিল্প কি আর আছে জগৎ সংসারে? ছোট এক টুকরো লোহা একটা জ্যান্ত মানুষের হৃদপিন্ডে ঢুকিয়ে দিলেই। লোকটা কি অবিশ্বাস্য ভাবে দুনিয়াটাকে টা টা জানিয়ে বিদায় নেয়। মাত্র ছোট্ট এক টুকরো লোহা...বাবা জগতের সব মানুষের খুন করা অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। ’

     
    অথবা --‘এক সময় দেখলাম আমার বুবু আমার কাছে কেবল ঝরা পাতার মর্মম স্মৃতির ঘুড়ি ছাড়া আর কিছু নয়। ..’  ..এই কঠিন বাস্তবতাও লেখক এমন উপন্যাসে এক সুযোগে লিখে দিয়েছেন। মৃত্যুর স্মৃতি বড্ড ভারী । মনের সাগরে সহসাই ডুবে যায়। লেখকের চিন্তা চেতনায় এই দর্শন ঘোরে ফেরে। লেখকের মনের গভীরতা সম্পর্কে একটা উচ্চ ধারনা আসে এখান থেকে।

     
    গ্রন্থ সমালোচক হিসেবে আমার দৌড় অনলাইনেই সামান্য পরিসরে। সে কারনে অগ্রজ লেখক মনি হায়দারের ‘নায়ক ও নায়িকারা’ বইটির উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে পাঠক এবং গল্পকবতিা.কম এর প্রতিযোগী সহলেখকগণকে বইটি এবং লেখক মনি হায়দারের আধুনিক উপন্যাস সম্পর্কে  একটা ধারনা দিতে চেষ্টা করেছি মাত্র।


    আধুনিক সাহিত্যজ্ঞান পরিপূর্ণ না হওয়ায় কোন উপসংহার টানা সম্ভব হলোনা বইটির সার্বিক আলোচনার উপর।

advertisement

  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া মনি হায়দার সাহেবের কোনো বই পড়া হই নি, ভেবেছিলাম এবার পড়তে হবে .......যাক বাচলাম, টাকা দিয়ে এরকম জিনিস পড়ার কোনো মানে হয় না / সরকার সিনেমা সেন্সর করে আমার তো মনে হয় এরকম উপন্যাসও সেন্সর করা দরকার ....
    প্রত্যুত্তর . ৩ মার্চ, ২০১২
    • ড. জায়েদ বিন জাকির শাওন দারুন মন্তব্য করেছেন আপনি! এইসব উপন্যাস নিষিদ্ধ করা দরকার. জুব সমাজকে উচ্ছন্নে নিবে আর কি!
      ৩ মার্চ, ২০১২
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ মনি হায়দার কিন্তু শিশু সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত বেশি। বাংলা একাডেমীতে কর্মরত এই লেখক শিশু সাহিত্যে পুরষ্কারও পেয়েছেন শুনেছি। ওনার একটা শিশু সাহিত্যও জোগাড় করেছি সেটা ১০ বছর আগের লেখা। সেটা পড়েও একটা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারব।
    প্রত্যুত্তর . ৩ মার্চ, ২০১২
    • ড. জায়েদ বিন জাকির শাওন জলদি চাই মামুন ভাই!
      ৩ মার্চ, ২০১২
    • ড. জায়েদ বিন জাকির শাওন মনি হায়দার জনাবের লেখা সম্পর্কে জানতে পেরে আমার মনে হচ্ছে, ব্লু রিল্ম দেখে দেখে ঐটার হুবহু বর্ণনা করে দিলে মনে হয় লেখা ফার্স্ট হয়ে যাবে! বাজে লেখার একটা লিমিট থাকে. এমন বাজে কুরুচিকর যৌনাত্মক বর্ণনা দিয়ে উপন্যাস লিখে ভারী আমার আধুনিক সাহিত্যিক হয়ে গেছেন. ছি ছি ছি ..........
      ৪ মার্চ, ২০১২
    • পন্ডিত মাহী আমি একটু আধুনিকতা শিখতে চাই! বিজ্ঞ কেউ আছেন? শেখাবেন আমাকে?
      ৪ মার্চ, ২০১২
    • মামুন ম. আজিজ ফোনে শেখাতে পারি। একটা ভালো টিপস আছে মাহি।
      ৫ মার্চ, ২০১২
    • ড. জায়েদ বিন জাকির শাওন আমারেও একটু শেখায়েন! মানসম্পন্ন লেখা লিখতে পারি না দেখে আমার অনেক কষ্ট :'(
      ৫ মার্চ, ২০১২
    • পন্ডিত মাহী নিশ্চই...
      ৬ মার্চ, ২০১২
  • নাজনীন পলি
    নাজনীন পলি এ ধরনের লেখা বই পড়ার কোন ইচ্ছা আমার ও নাই । এ ধরনের লেখা কখনো সাহিত্য বলে গণ্য হতে পারে না ।
    প্রত্যুত্তর . ২০ অক্টোবর, ২০১২