খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেলো,
গত রাতে নিশ্চিত ছিলাম তুমি আসবে সুর্যোদয়ের শুভক্ষণে
খু------উ-----ব সকালে, তোমার যাত্রাপথে ক্ষণিক বিরতি নিয়ে।
আমি ঠিক ঠিক জেগে উঠি, ঠিক ছয়টায়, হয়তো তারও কিছু আগে।
অন্ধকার ঘরে এক টুকরো আলো, যখন প্রথম দেখলাম,   
সেই প্রথমার মতো, প্রথম ভালোবাসার মতো।
সবকিছু উজাড় করা কৌতুহল, শুধু তুমি আসবে বলে, স্যাঁত সকালে।
অন্ধকার ঘর, চারিদিকে মশারীর বেষ্ঠনী
এক টুকরো আলো যেন, জীবনের সমস্ত লুকোচুরির মাঝে,
স্বর্ণোজ্জল এক মায়াবী স্বপ্ন। জানালাও খুলিনি, তুলিনি মশারীর বেষ্ঠনীও
কেবল শুয়ে শুয়ে ভাবছি, স্বপ্নের পরিধি কত বিস্তৃত ?
হয়তো ভাবছি, জানালাটা কেউ খুলে দেবে, তুলে দেবে মশারীর বেষ্ঠনীও,
বেষ্ঠনীর মধ্যে আবদ্ধ জীবন বড় বিষন্ন।
গুছিয়ে দেবে হয়তো শীতের কম্বলটাও,
অতঃপর ডেকে বলবে এ্যাঁই উঠো- উ--টো--ই--না, ভোর হলো ।
ভাবছি জানালা খুলে, সকালের প্রথম আলোয় যাকে দেখবো
সেই প্রথমা, তাকে কেমন দেখাবে ?
বদলাবে কি গত রাতের সেই, বিমর্ষ মলিন বেদনাটা ?
কোন শাড়ীটা পরবে, হলুদ কিংবা, গাড় নীল, এতো সবই স্বপ্ন।
স্বপ্নও সত্যি হলো, হলুদ শাড়ীটায় তুমি পড়লে
পাড়টা নীল, তাই মিলেয়ে পরলে গাড় নীল ব্লাউজ।
প্রথম দর্শনে সত্যিই অপূর্ব লাগছিল। প্রথম আলোর প্রথম দেখা,
জানালা খুলে দিলে তুমি, তাও সত্যি,  স্বপ্নও সত্যি।
সকালের রোদ মাখা শিশির সিক্ত দুটো পা, আমার ঘর আলোকিত করল।
কাব্যিক মহিমায়, স্বপ্নের বাস্তবতায়, সব স্বপ্নও সত্যি নয়, কিছুটা সত্যি।
আমার দুষ্টু মন, তোমার মোহনীয় রুপে, সান্নিধ্যের
প্রত্যাশা করেছিল স্বপ্নীল আবরণে। তা সম্ভব নয়। বাকী স্বপ্নগুলোর মতোই
সমস্ত স্বপ্নকে আত্মহনন করে, বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বল্লাম
শুভ সকাল। তুমি অপলক থাকিয়ে,  মৃদু হেসে তাই বললে
স্বপ্ন আঁকা দুটি চোখে, শু--ভ     স----কা----ল।