বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫

রাগকে বাগে আনুন

  • advertisement



    রাগারাগির জন্য কিন্তু রাগ জন্মায় না। মানসিক আর সামাজিক চাপ আমাদের রেগে যেতে সহায়তা করে। অপছন্দ থেকেই বিরক্তি, আর বিরক্তি যখন সহ্যের চরম সীমা ছাড়ায় তখন জন্ম দেয় রাগের। মানুষ মাত্রই রাগ হয়, আর কিছু কিছু রাগ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে জন্ম দেয় ক্রোধের। আর এ ‘ক্রোধ প্রবণ’রাই বদরাগীর উপাধি পেয়ে যায়। জীবন যন্ত্রণায় জর্জরিত আমরা একটু একটু করে বদরাগী হয়ে উঠছি। যা জমে জমে বাড়ছে প্রতিহিংসা আর আরও বেশি মাত্রায় হলে জিঘাংসা। কাজের দুনিয়ায় যার মারাÍক রকম ভয়ংকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। কাজের চাপ আর সহকর্মী বা সহপাঠীর সুড়সুড়ি কিংবা স্যার অথবা বসের ছোট্ট বকা এগুলোকে মুহূর্তে ভয়ানক করে তোলে। এছাড়া আড়াল থাকে নানা পারিবারিক অথবা সামাজিক সমস্যার চাপ। তাই রাগকে এড়িয়ে যাওয়ার একমাত্র মূলমন্ত্র অনুরাগী হয়ে ওঠা। রাগ হতে শুরু করলেই মুহূর্তে চিন্তা করতে থাকতে হবে আমাদের অনুরাগী বিষয়গুলোকে। তাতেও না কমলে মনে করতে হবে সব সম্ভবের দুনিয়ায় সবই সম্ভব।

    আমাদের চারপাশে এমন অনেক কিছুই ঘটে থাকে বা আমাদের পছন্দ হয় না। আবার সেসব কারণে রাগ প্রকাশ করেও কোনও লাভ হয় না। তবে সবার স্বভাব সমান হয় না। একজন মানুষ হয়তো সামান্য কারণেই রেগে যায়, আবার কেউ একটু অন্যরকম। রাগ আমাদের সবারই হয়। তফাতটা তখনই দেখা যায় যখন আমাদের মধ্যে কেউ কেউ রাগটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এ রাগ যে শুধু আমাদের ক্ষতি করছে তা নয়, আমাদের পরিবার, একান্ত প্রিয়জন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব এমনকি কর্মক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ে। কোনও মানুষ যদি দিনের বেশিরভাগ সময় রেগে থাকেন, বা এমন বিষয়ে অতিরিক্ত রেগে যান যে বিষয়ের কোনও গুরুত্ব নেই তার জীবনে বা সামান্য কারণে অধৈর্য হয়ে গেলে ধরে নিতে হবে, তার রাগটা ক্রনিক ক্রোধে পরিণত হয়েছে। একটা বিষয়ে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে রাগকে সাইলেন্ট কিলার বলা হয়। রাগ হলে আমাদের শরীরে এক ধরনের টনিক নিঃসৃত হয়, যা রক্তের সঙ্গে মিশে আমাদের শরীরের ক্ষতি করে থাকে। ক্রনিক অ্যাঙ্গার থেকে নানা ধরনের অসুখও হতে পারে, যেমন হাই ব্লাড প্রেসার, হাই কলস্টেরল লেভেল, ও কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্ট্রোকও হতে পারে। তাই হঠাৎ করে যাদের রেগে যাওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের এ বিষয়ে সময় থাকতে চিন্তাভাবনা করা উচিত। 

    যখন কোনও বিষয়ের বা ব্যক্তির ওপর রাগ হবে, তখন চেষ্টা করুন সেখান থেকে সরে যেতে। যদি ঘরে যেতে না পারেন তাহলে ব্যাক কাউন্টিংও করতে পারেন, এতে রাগ কমে। এছাড়া প্রতিদিন নিয়ম করে ধর্মীয় প্রার্থনা ও মেডিটেশন করুন। চেষ্টা করুন এভাবেই এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে। ক্ষণিকের রাগ অনেক উটকো ঝামেলা নিয়ে আসে। তাই প্রথম থেকেই রাগের কারণগুলো জন্মানোর আগে তাকে ঝেড়ে ফেলতে শিখতে হবে। যেমন কারও ওপর রাগ হচ্ছে, তাকে মুহূর্তে এড়িয়ে চলুন। আবার গায়ে পড়ে খোঁচাখুঁচি করলে হয় উদাসী কথা বলবেন অথবা হাস্যকর ব্যাপার করে বিষয়টাকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিন। সিনিয়র হলে একদম হাসিয়ে ছেড়ে দিন। আর ঘটনার চাপকে কখনও মাথায় স্থান দেওয়া যাবে না। এ বিষয়গুলো মেনে চললে দেখবেন, রাগ থাকবে আপনার বশে আর ‘রাগের বশবর্তী হয়ে’ দুর্ঘটনা ঘটনার সম্ভাবনা নেমে যাবে শূন্যে।

advertisement