বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫

সম্পর্কের এপিঠ ওপিঠ

  • advertisement

     

     

    ভাঙা আয়না যতই জোড়া লাগানোর চেষ্টা করা হোক, দাগটা থেকেই যায়— এ কথাটা ঠিক ততটাই প্রযোজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। সম্পর্কে একবার ঘুণ ধরে গেলে সেটা একটা পরিণতিতে নিয়ে যাওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। 
    সম্পর্কে খিটমিট লেগে আছে এমন লোকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। দু’জনেই হয়তো অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ফল মিলছে না কিছুই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় অশান্তির কারণ সম্পর্কে ঠিকঠাক সময় না দিতে পারা। বলা হয় সময় জিনিসটির জন্যই যত্ত গণ্ডগোল। সেক্ষেত্রে একটাই টিপস। সম্পর্ক ভাঙতে চাইলে তো যখন খুশিই ভাঙা যায়। যদি ঠিকঠাক সময় দিতে পারেন না এই যুক্তিতে সম্পর্ক ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়ায় তাহলে একবার ভেবে দেখুন। আরও একবার সুযোগ দিন সম্পর্কটাকে। কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও যদি সম্পর্কে সেই পুরনো ভালোলাগা ব্যাপারটা ফিরিয়ে না আনা যায় তাহলে মনোমালিন্য না বাড়িয়ে বিচ্ছেদ পথে এগোনোই ভালো।
    তবে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও মেনে চলতে হবে কয়েকটা নিয়ম। না হলে মনকষ্টে ভুগতে হবে আপনাকেই।
    রইলো তারই কয়েকটা টিপস :
    মনটাকে শক্ত করুন। এতদিনের সম্পর্ক ছেড়ে হঠাৎ বেরিয়ে আসাটা বেশ কঠিন। কিন্তু একান্ত কোনও উপায় না থাকলে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটা মেনে নিতেই হবে। তবে তাতে দেবদাস হয়ে পড়ার কোনও মানে হয় না। মনে রাখবেন একটাই জীবন আর তাতে এগিয়ে যেতে হবে।
    মোবাইল বস্তুটি টেকনোলজির দিক দিয়ে উন্নতমানের বস্তু হলেও ব্রেকআপের পর কিন্তু খুব খারাপ। ব্রেকআপ যখন হয়েছে তখন বিচ্ছেদটি মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই বিচ্ছেদের পর যতই আপনার সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলতে মন ছুঁক ছুঁক করুক না কেন ফোনটি করবেন না, এসএমএস করবেন না। এমনকি আপনার সঙ্গীর ফোনটি ধরবেনও না, এসএমএস পড়বেন না। চাইলে তার নম্বরটি ব্লক করে দিতে পারেন, নয়তো ডিলিট করে দিতে পারেন। মোদ্দা কথা, কোনোভাবেই সঙ্গীর ফোনটি ধরবেন না। কথা বললে কষ্টটা বাড়বে বই কমবে না। তাই ওই ফাঁদে পা না দেওয়াই মঙ্গলের। এমনকি আপনার সোশ্যাল অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ব্লক করে দিন আপনার সঙ্গীকে। যাতে সে আপনার কোনও গতিবিধি বা আপনার মন খারাপের কোনও হদিস না পেতে পারে।
    আপনাদের দু’জনের কমনফ্রেন্ড যারা তাদের সঙ্গে যতটা কম সম্ভব যোগাযোগ রাখুন। আর একান্ত যদি যোগাযোগ রাখতেই হয়, তাহলে তাদের সামনে স্বাভাবিক ব্যবহার করুন। সম্পর্কটা ভেঙে যাওয়া যে আপনি অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন সেটা দেখার কোনও দরকার নেই।
    সম্পর্ক বিচ্ছেদের কিছু দিনের মধ্যে নতুন করে প্রেমে পড়াটা মোটেই কাজের কথা নয়। নতুন করে প্রেম করাটা আপনাকে চাঙ্গা করে তুলবে এমনটা ভেবে যদি আপনি প্রেমে পড়েন তাহলে ভুল করবেন। সিদ্ধান্তটা ভালো তো নয়ই বরং বেশ খারাপ। নতুন সঙ্গীর সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে বার বার পুরনো ব্যথা উথলে উঠতে পারে। তাই আগে মনকে সম্পূর্ণরূপে গত সম্পর্ক থেকে মুক্ত করে তবেই নতুন সম্পর্কের দিকে পা বাড়ান।
    বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। প্রেম করার সময় সঙ্গীর উপরে এত বেশি মন দিয়েছিলেন যে বন্ধুদের কথা একেবারে ভুলে গেছিলেন। 
    এবার সেই ভুলগুলো শুধরে নিন। পুরনো বন্ধুদের ফোন করুন। 
    আড্ডা মারতে যান, পার্টি করুন। সম্ভব হলে বন্ধুদের নিয়ে কাছেপিঠে কোথাও একটু ঘুরে আসুন।
    কাজে মন বসান। নিজেকে যতটা সম্ভব কাজে ব্যস্ত রাখুন। 
    মানসিক কষ্ট ভোলার এর থেকে ভালো উপায় আর কিছু হতে পারে না।

advertisement