বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

লক্ষ্য কর স্থির

শামস্ বিশ্বাস

  • advertisement

    অনেকগুলো অপশন থেকে সঠিক কেরিয়ার বাছাটা মোটেই সহজ নয়। কেরিয়ার বাছাইয়ের ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের সাফল্য। তাই স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েই ঠিক করা উচিত, কোন পথে এগোবে। প্রথমেই কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে মন দিয়ে ভাব ভবিষ্যতে তুমি জীবনের কাছ থেকে কি কি চাও? যদি ভবিষ্যৎ বলতেই তোমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে বড় বাড়ি, লেটেস্ট মডেলের নামি ব্র্যান্ডের গাড়ি আর ফরেন ট্রিপ তাহলে তোমার কেরিয়ার হবে এক রকম। আর যদি তুমি অনেক ডিগ্রি, উচ্চশিক্ষা, বিদেশী ইউনিভার্সিটিতে ইন্টার্নশিপের স্বপ্ন দেখ তাহলে অবশ্যই তোমার কেরিয়ার হবে অন্যরকম। এ উদাহরণ দুটি কিন্তু একেবারেই আপেক্ষিক। এ দু’রকমের ইচ্ছার মধ্যেই তোমার স্বপ্ন সীমাবদ্ধ থাকতে হবে তার কোনও মানে নেই। মোদ্দা কথা, কেরিয়ার নির্ধারণ করার এক এবং একমাত্র শর্ত হওয়া উচিত নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারা। এমন যেন না হয় এক বছর দু’বছর পরেই তোমার কাজটা করতে ভালো লাগছে না। তুমি কি চাও সেটাই কিন্তু সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সব বন্ধুরা পড়ছে বলেই তোমাকেও সেই একই জিনিস পড়তে হবে বা একই কাজ করতে হবে তার কোনও মানে নেই। এমন কোনও বিষয় বেছে নিও না যাতে তুমি স্বাচ্ছন্দ্য নও। ধর তোমার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার খুব শখ। কিন্তু তুমি অংকে কাঁচা। বা অংকটা আদৌ তোমার পছন্দের নয়। এবার নিজেকে প্রশ্ন কর কেন তুমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাও। যদি তোমার উত্তর হয় বিষয়টাকে তুমি ভালবাসো, তাহলে বলব এ ক্ষেত্রে একটু কম্প্রোমাইজ কর। নিজেকে বোঝাও যে বিষয়টি নিয়ে পড়ে রেজাল্ট খারাপ হলে আখেরে তোমারই ক্ষতি হবে। আর মোটা মাইনের চাকরি পাবে বলে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং বকরতে চাও তাহলে বলব এর জন্য আরও অনেক প্রফেশন আছে একটু সময় নিয়ে, মাথা ঠান্ডা করে খোঁজ।

     কেরিয়ার বাছার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই পিয়ার প্রেশার কাজ করে। বাড়ি থেকেও অনেক সময় চাপ থাকে। কিন্তু সেগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিও না। সব বন্ধুরা সায়েন্স পড়লে তোমার ইচ্ছা না থাকলে সায়েন্স নিওনা। কে বলেছে আর্টস পড়ে কিছু হয় না? ক্রাউড ফলো কর না। বরং এমন কিছু কর যাতে তুমিই ট্রেন্ড সেট করতে পার। উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা না থাকলে পার্সোনাল শপার, ডিস্কো জকি, অনলাইন ট্রান্সলেটারের মতো অফবিট প্রফেশন বেছে নিতে পার। যদি বিদেশী ইউনিভার্সিটিতে পড়তে চাও তাহলে সময় থাকতে খোঁজখবর এবং প্রস্তুতি নাও। সেই অনুযায়ী কোন ব্যাংকে এডুকেশন লোন পাওয়া যায়, স্কলারশিপের ব্যবস্থাই বা কি, অ্যাকোমডেশন কোথায় পাবে সব বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নাও। আইইএলটিএস বা টোফেল দিতে চাইলেও সময় থাকতে পড়াশোনা করতে শুরু কর।

     পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে ঠিকমতো প্ল্যানিং কর কেরিয়ার। একটা ডায়েরিতে নিজের কেরিয়ার, গোল লেখ। অর্থাৎ এক বছর পর তুমি নিজেকে কোথায় দেখতে চাও সেটা লিখে ফেল। অন্যকিছু পড়তে চাইলে সেটাও লিখে ফেল। যদি এ কেরিয়ারে সফল না হও বা এ কাজ বেশিদিন করতে ভালো না লাগে তাহলে কী করবে বিস্তারিতভাবে লিখে রাখ। ব্যাক-আপ প্ল্যান তৈরি থাকলে পরবর্তীকালে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে এবং নিজেও হতাশ হয়ে পড়বে না। কেন এ অন্য প্রফেশনটি বেছে নিতে চাও তাও লেখ। ওটাই তোমাকে নতুনভাবে শুরু করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। সব সময় প্রফেশনালি কাজ করার চেষ্টা কর। কাছের জায়গায় অযথা আবেগপ্রবণ হবে না। তোমার কাজ যেসব সময় সবার পছন্দ হবে তার কোনও মানে নেই। কাজ পছন্দ না হলে বসের বকা খেতে হবে। খারাপ লাগলেও তা নিয়ে ইমোশনাল হয়ে পড়ার কোনও কারণ নেই। সবাইকেই কাজ শিখতে হয়, তোমাকেও হবে। তাই মাত্র এক-দু’মাস কাজ করেই ভেবে ফেল না এ কাজটি তোমার জন্য নয় বা তুমি এ কাজ করতে অপারগ। নিজেকে সময় দাও। কাজটা শেখ কী করবে। চাকরি করলেও নিজের শখ বজায় রাখ। বই পড়, গান শোন, ছবি আঁক। নিজস্ব জগত তৈরি কর। যদি কাজ করতে ভালো না লাগে তাহলে চাকরি পরিবর্তন বা পেশা পরিবর্তন করতে দ্বিধা করো না। প্রথম কাজেই বাজিমাত হবে তার কোনও মানে নেই। হতাশ হয়ও না। নিজেকে তৈরি কর। পরিবর্তন তো আসতেই পারে।

advertisement