বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭০

অনেক কথা ১

  • advertisement

     

          চিরন্তন কথা--


    ‘কপাল ভাল’‘কপাল খারাপ’‘কপালে আছে’‘কপালে নেই’‘কপালগুণে’‘কপালদোষে’‘কপাল এমন’‘হায় রে কপাল’ ইত্যাদি...কপালকে ঘিরে ভালমন্দের কত কথাইনা হয়, তত কথা বোধহয় অন্যকোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হয় না। কতইনা অঘটন ঘটে গেছে--ঘটে যাচ্ছে এ বিশ্বে--মহাকাশে--মহাদেশে--দেশেদেশে--ঘরেঘরে কার খবর রাখে কে। সৃষ্টিকে নিয়ে মানুষের আজ কী উৎসুক--কত আস্ফাল! আহা, কালকে কী হবে--কী হতে যাচ্ছে পৃথিবীতে যদি এতটুকু জানত সবাই। দেখছি শুধু দিনদিন পৃথিবীর উন্নতি বাড়ছে, দেখছি না মানুষের কী অবনতি ঘটছে! মায়ামমতা বন্ধুত্ব আত্মীয়তা যা-ই বলিনা, মানুষের কাছে আজ কোন বন্ধনেরই গুরুত্ব দেখি না! মানুষ দিনদিন সম্পর্কের কাছথেকে যেন অনেক দূরে সরে যাচ্ছে! ‘সবকিছু অদৃষ্টের লিখন’ যাঁরা সব সময় কপালের দোষ দিয়ে বসে থাকে, তাঁরা না জানি সাঙ্ঘাতিক ঘটনাবলী ও দৈবত্বকে কী বলে! আর কেউ ‘উদ্দেশ্যহীন’‘উদ্দেশ্যহীন’ বিশ্ব নিয়ে পাগলামিতে নেমেছে! অন্ধ হওয়া যায় কিন্তু অন্ধের মতো সবকিছু মেনে নেওয়া ত যায় না। যাঁরা মধ্যম তাঁরা হয়ত চিন্তাশীল। কোনেক অদৃশ্য ইশারায় সবকিছু চলছে এবং ঘটছে। প্রত্যেক চলনা আর ঘটনার পিছনে যে কোন কারণ নেই (উদ্দেশ্যহীন) এমন কথা যুক্তিহীন। কিছু-না-কিছু হেতু ত অবশ্যই আছে--সমস্ত ঘটনের পিছে। যতই যুক্তি থাকুক, এমনি এমনি কোনকিছু হয় না আর ঘটে না তদ্রূপ কপালদোষে আর কপালগুণেও সবকিছু হয় না।

     

    ‘কপাল’‘কপাল’ করে বনেজঙ্গলে ঘুরলে কপাল প্রসন্ন হয় না। কপাল ভাল হয় বুদ্ধির জোরে। জ্ঞান থাকলেও সবাই জ্ঞানী নয়। আগে আমাকে খুঁজতে হবে বাঁচার রাস্তা তারপর পথ দেখাবেন দিশারি। কপালে যা আছে ঘটুক--চোখবুজে দিলাম ঝাঁপ আগুনে, হাসি...আমি কোন্‌ মহাপুরুষ ভাই রক্ষা করবেন রক্ষাকারী? আগে আমার আমিকে বুঝতে হবে, জানতে হবে...

     

    ‘অদৃষ্টের লিখন খণ্ডানো যায় না’ তবে কিছু কর্মগুণে অদৃষ্টই বদলে যায়। বিধি ভাগ্যের রচয়িতা কিন্তু মানুষ মনের নিয়ন্তা। মনে রাখা দরকার চিরন্তন কথা, ভাল কর্মের ফল সব সময়ই ভাল। কাকে মারতে গেলে নিজেই মরতে হয়। কাকে আঘাত করলে নিজেই আঘাতিত হতে হয়। কখনো কাকে ছোট করা ঠিক না। কখনো কিছু অবহেলা করাও ঠিক নয়। ক্ষুদ্র একটি দিয়াশলাই পুরো লোকালয় পুড়াতে পারে। সুতরাং কাকে ক্ষুদ্র ভাবতে নেই। হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে হাজার পিপীলিকা একবারে মারা যায় কিন্তু কখনো আবার একটি পিপীলিকা হাতির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাজেই নিজেকে ক্ষমতাবান বা শক্তিশালী মনে করা ভুল। চাল এখন তোমার হাতে একটুপর আমার হতে দেরি নেই। আজ তুমি রাজা--রাজত্ব তোমার...কিন্তু, মনে রেখো, সময় স্থির নয়--প্রকৃতি পাল্টে যায় মুহূর্তেই। কারও ক্ষতি করে নিজের পথ সুগম করা ভাল না। সৎপথ অবলম্বন করা কঠিন তবে অসৎপথে চলা মারাত্মক অন্যায়। এ জিন্দেগি বড়ই ক্ষীণ। এখানে অমরত্ব লাভ করা যেমন যায় না, তেমনি অমরকীর্তি সৃষ্টি করাও সহজ না।

     

    কিছু কিছু সত্য খুব তিক্ত হয়। তবে যেখানে এধরণের সত্যের তিক্ততা রয়েছে সেখানে মিথ্যাকেই পথ দেওয়া ভাল। কারণ, এমন কিছু সত্য থাকে যা প্রকাশ করলেই মৃত্যুর আশঙ্কা বা কারও জিন্দেগি বিপন্নের পথে, এমন সত্যের সামনে মিথ্যাকেই গ্রাহ্য করা মঙ্গলের কাজ। কথায় আছে, একটি অপরাধে যদি দশটি উপকার হয় এবং দশটি অপরাধে যদি পুরা জাতির মঙ্গল হয়, তা হলে সেই অপরাধ ক্ষমার যোগ্য। একের কষ্টে যেখানে দশের কষ্ট, সেখানে মিথ্যাই ভাল সত্যরূপে মানা। এরূপ মিথ্যার কাছে নুয়ে যাওয়া সত্যের দুর্বলতা নয়। ফিতনার চেয়ে মীমাংসা উত্তম। যাঁরা মীমাংসা মেনে নিতে পারে না তাঁরা আসলে সত্যবাদী না--বিবাদী। মানুষ এমন এক জাতি, হিংসার আগুনে সারা জীবন জ্বলেপুড়ে ছারখার হতে পারে কিন্তু সামান্য ভালবাসার বণ্টনে এতটুকু পথ চলতে পারে না! এটাই মানবধর্ম এবং এটাই মানুষের কীর্তি!

     

    ‘আপদ কেটে গেলে নিরাপদ’ তবে সবক্ষেত্রে বিপদ ডিঙিয়ে যেতে পারলেই বেঁচে যাওয়া ভুল। সবখানে সমস্যাকে এড়িয়ে গেলে সমাধান নয়। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধকে ঢাকতে গেলে অন্যায় বাড়বেই। ন্যায়ের সমাদরে--সততার সঙ্গে কেউ পথ চলতে না পারলেও মিথ্যার সঙ্গে বসবাস করা ক্ষতি। প্রতিটি ঘরের কর্তা, প্রতিটি সমাজপতি, প্রতিটি মহল্লার প্রধান এবং প্রতিটি বিভাগের চালক সৎ হলে সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। মানুষ ভুল করবে তবে বারবার ভুল করা একজন মানুষের উচিত না। অভ্যাসের দাস বলে কোন কথা নেই। চেষ্টায় সবকিছু অর্জন। চেষ্টা করতে হবে। আদত বদলাতে হবে। দেখতে হবে, কাকে এক আঙ্গুল দেখাতে গেলে তিন আঙ্গুল নিজের দিকে তাক করে আছে।

     

    একদম ঠিক, মানুষ যা কল্পনা করে তা কখনো হয় না আর যা কল্পনা করে না হঠাৎ তা-ই হয়ে যায়! কখনো আমি কল্পনা করিনি কালির সঙ্গে হবে আত্মীয়তা এবং কলমের সঙ্গে হবে আমার ঘনিষ্ঠতা। ভাগ্যে কাকে কোথায় নিয়ে যায় এবং কাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করায় কেউ জানে না। এটাই হল কপাল। কেউ পানির উপর হাঁটছে ত কেউ উড়ছে হাওয়ায় ওটা কারও ভাগ্য নয়--একমাত্র সাধনার বল। মানুষ বলতে সকলে এক। শুধু মানুষের কর্ম ভিন্ন, ধর্ম ভিন্ন, মস্তিষ্কের চিন্তা ভিন্ন, অন্তরের ভাব ভিন্ন এবং চাওয়ার চাহনি ভিন্ন। এখানেই মানুষের ভিন্নতা আর এখানেই মানুষের অমিল। অন্যথায় সকলে সমান এবং সকলেরই পরিণতি এক।

    চলবে...

advertisement