কলমটা কখন যেন হয়ে গেছে কণ্টক
নিজের কালি ফুরিয়েছে, তাই হয়ত
পিয়াসী হয়ে খুঁচিয়ে রক্ত বের করার
তালে আছে। ভাবি ওকে দেই কিছুদিন ছুটি।

টের পেয়েই সুবোধ বালকের মত
কাগজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পেছনের বাক্যগুলোর
কথা মনে পড়ে, না জানি আবার কোন
স্বপ্নের পেছনে ছোটে। স্বপ্ন ভঙ্গকে ভয় নয,
স্বপ্ন জয়ই না আবার কবে বোঝা হয়!
….লেখনি হয়েছিল আশ্রয়, আজ বিপ্লবে
মেতেছে জনককে বাস্তুহীন করার নেশায়।

উদ্বাস্তু কবি, ক্লান্ত শ্রান্ত, কলমকে ডাকি-চল আঁকি।
একটা শান্ত গ্রামের ছবি, শিশুবেলায় এঁকেছিলাম।
দোচালা ঘর, একটা খড়ের গাদা। পেছনে কলাগাছ
ডানদিক দিয়ে বয়ে চলা নদী, ঢেউয়ের মাথায় পানসী।
পেছনে দিগন্তের সবুজরেখা, ছবির পটে উডে চলে বলাকা।

চল ফিরে যাই- কার যেন হেঁয়ালী ডাকে
ভাঙা সেতু পেরিয়ে হাঁচড়ে পিচড়ে এ তটে এসে
মনে পড়ে, এখানে ছিল তিন বাঁশের সাঁকো,
পথ মেলাতো কলরবী হাটুড়ে দেহাতি মানুষের।
……………
ছবির গ্রামটি শহরের পলেস্তারা নিয়ে এখন জংধরা
এঁটেল কাদা আর ঘাস ছাউনী মোড়া, ক্যাঁচ ক্যাঁচ গরুর গাড়ির
শব্দ তোলা পথটি ধীরে ধীরে হয় ইট বাঁধা, কংক্রিট পাকা।
কাছেই নিরেট শহরের হাতছানি
প্রতিদিন নিয়ে চলে নতুন নতুন পথিককে।
যাদের মাঝে, ফিরে আসে হাতে গোণা!
যন্ত্রযান আর পদযুগলের সহজতায় পৌঁছে যাওয়া
শহর থেকে ফেরার পথে, অনেক বিড়ম্বনা
আধুনিকতা থেকে প্রাকৃতিকতায় প্রত্যাগমনে
অভিযোজিত মানসিকতার সহজাত শত বাধা!!!