লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ২৭টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৯৪

বিচারক স্কোরঃ ২.২৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসি তোমায় (ফেব্রুয়ারী ২০১৪)

ঝড়ের তান্ডব
ভালবাসি তোমায়

সংখ্যা

মোট ভোট ৩৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৯৪

ওয়াহিদ মামুন লাভলু

comment ২৪  favorite ০  import_contacts ১,৩০৫
ধড়াস করে উঠলো বুকটা।

পিছনের বেঞ্চে বসা রুমেলের সাথে কথা বলার সময় আরো পিছনে দৃষ্টি যেতেই চমকে উঠলো মামুন তার মুখের দিকে রোজীর চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে দেখে। অবাক হয়ে চিন্তা করলো, সুন্দরী ও মেধাবী মেয়ে রোজী তার মত সাধারণ ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে কেন? চোখাচোখি হওয়ামাত্রই রোজী দৃষ্টি সরিয়ে নিল। বিস্ময়াভিভূত হয়ে সম্মুখে দৃষ্টি ফিরিয়ে স্যারের বক্তৃতায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলো মামুন।

পরদিন একটা ইনকোর্স পরীক্ষার ত্রিশ মিনিট পূর্বে একটা ক্লাস রুমে সামনের দরজার কাছাকাছি বেঞ্চে রোজী বসে আছে। রুমে মাত্র তিন/চার জন সহপাঠী আছে। রোজীর সমান্তরাল ডান পাশের বেঞ্চে থাকা সোহানের সাথে কথা বলার জন্য বারান্দা থেকে সামনের দরজার দিকে এগুলো মামুন।

গোপনে রোজীকে নিকট থেকে এক নজর দেখার আকর্ষণে রুমে পা ফেলেই তাকালো সে। কিন্তু রোজীর চোখ দুটো আগে থেকেই মামুনের দিকে তাকিয়ে আছে দেখে ছ্যাঁত করে উঠলো মামুনের কলিজাটা। টালমাটাল পায়ে বাধ্যতামূলকভাবে এগিয়ে সোহানের পাশে বসলো সে।

চলে আসার সময় হোঁচট খেল মামুন। কারণ রোজী নিজের বেঞ্চের মাঝামাঝি থেকে শেষ প্রান্তে সরে এসে বেঞ্চের বাইরে পা ঝুলিয়ে মামুনদের দিকে মুখ দিয়ে আছে। রোজীর দৃষ্টির সামনে থতমত খেয়ে সীটবেঞ্চের সাথে যে কাঠ দিয়ে হাইবেঞ্চকে জোড়া লাগানো হয় সেটার সাথে মামুনের পা ঠেকে গেল। দ্রুত পা আরো উপরে তুলে বেঞ্চের বাইরে রোজীর পায়ের সামনে ফেলে বের হয়ে এলো।

পরীক্ষার পর টি. এস. সি. হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারমুখি রাস্তা ধরে চাঁন খার পুলের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়ার সময় বার বার রোজীর ডাগর চোখের কথা মামুনের মনে পড়লো আর প্রশ্ন জাগলো যে সে ওভাবে তাকিয়েছিল কেন?

ভার্সিটিতে ভর্তির পর গ্রামের বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার প্রাক্কালে মা-বাবা, ভাই-ভাবি, বোন, স্নেহের ছোট ভাই, কাজের লোক, বন্ধুর দল, পরিচিত গাছপালা, জঙ্গল, ফসলের মাঠ, রাস্তা-ঘাট, পুকুর, খাল-বিল এবং অন্যান্য পরিবেশকে ছেড়ে আসতে হু হু করে উঠেছিল মামুনের মনটা। বয়সের কারণে বিছানা নেওয়া বৃদ্ধা দাদীর দোয়া নিয়েছিল। এমন কি বাড়ির কুকুরটার জন্যও মায়া হওয়ায় তাকে খাবার খাইয়েছিল।

গাড়ি ছেড়ে দিলে গ্রামের বাড়ি-ঘর, ঈদগাহ মাঠ, গাছ-পালা থেকে ক্রমেই দূরে যেতে থাকলে চোখে এসেছিল অশ্রু।

প্রথম দিন ক্লাস করতে এসে চমকে উঠেছিল একজনকে দেখে। পাঁচ ফিট দুই ইঞ্চির মত উচ্চতা, লম্বা চুল, অসাধারণ চোখ, খুব সুন্দর মুখাবয়ব, কবিতার মত গায়ের রং তার।

ক্লাসের ফাঁকে বারান্দার রেলিং-এ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাকালে মানানসই পোশাকে রোজীর হাঁটাহাঁটি করার সময় তার সতেজ মুখাবয়ব ও ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে শিহরণে হাবুডুবু খেত মামুন। এক সময় জেনেছিল, তার নাম রোজী, রোজীনা সুলতানা।

কয়েকদিন পর লেকচার থিয়েটার-এর নীচে দাঁড়িয়ে আছে মামুন। রোজী কলা ভবনের উত্তরের গেট দিয়ে রাস্তায় নেমে পশ্চিম দিকে এগিয়ে মামুনের সোজাসুজি এসে রাস্তা পার হওয়া শুরু করলো। মামুন তাকাতেই চোখাচোখি হলো। কিন্তু রোজী চোখে-মুখে রাগ ও অভিমান ফুটিয়ে মামুনের চোখে দৃষ্টি রেখেই রাস্তা পার হয়ে মামুনের সামনে এসে হঠাৎ পাশ কাটালো। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে মামুন চিন্তা করলো, সাধারণতঃ সবাই যেখান দিয়ে রাস্তা পার হয় রোজী তা না করে মামুনের সোজাসুজি এসে পার হলো কেন? তাছাড়া চোখের ভাষায় কেন বললো যে সে অভিমান করে আছে?

পরিসংখ্যান প্রথম পত্রের ইনকোর্স পরীক্ষার দিন চাকমা বন্ধু মং সিং এর সাথে সেমিনার রুমে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে পূর্বে মুখ করে প্র্যাকটিস করছিল মামুন। রোজী তার এক বান্ধবী ববির সাথে রুমে ঢুকে তাদেরকে অতিক্রম করে পূর্বদিকে চলে গেল। অন্যান্য বন্ধুদেরকে না পেয়ে ফিরতে শুরু করলো। ববি দরজার কাছে চলে গেল। কিন্তু রোজী ধীর গতিতে তাদের টেবিলের কাছে এলে মামুন রোজীর দিকে তাকানো মাত্রই মামুনের দিকেই চেয়ে থাকা রোজী ফিক করে হেসে ফেললো। থ ও উত্তেজিত বনে গেল মামুন।

পনের মিনিট পূর্বেই পরীক্ষা শেষ করে সামনের দরজার ওখানে বারান্দায় উদাসী মুখে রোজী দাঁড়িয়ে রইলো। কালো পোশাকের উপরে, আলগা চুলের মাঝে পূর্ণিমার চাঁদের মত মুখটা দেখে মামুন অভিভূত হয়ে গেল।

যেদিন ক্লাস শেষে লেকচার থিয়েটারের দোতলায় মামুন একা দাঁড়িয়ে ছিল সেদিন রোজী তার বান্ধবী এলিনা ও ববিকে নিয়ে পায়চারী করার সময় মামুনের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি দিল। ভ্রু কুঁচকে মামুন অনুসন্ধানের সাগরে অবগাহন করে মুখ ভেংচির হেতুর কূল-কিনারার নাগাল না পেলেও ধোঁয়াটে নিশানা দেখতে পেল।

অবিশ্বাস্য লাগলো। ভাবলো, এও কি সম্ভব! এ কি বাস্তব নাকি স্বপ্ন! বাস্তব হলে সে সহ্য করতে পারবে তো?

রোজীর সাথে কথা বলার আবশ্যকীয়তা অনুধাবন করলো সে। কিন্তু রোজীর প্রতি অসীম ভালবাসার মত নিজের অযোগ্যতার দুশ্চিন্তার কারণে সংকোচবোধটাও সীমাহীন। ওর কাছাকাছি হলেই আড়ষ্টতা আঁকড়ে ধরে তাকে। এমতাবস্থায় ভয় হলো যে রোজী কথা বলবে তো?

ডীন অফিসের সামনে দিয়ে দোতলায় উঠে পূর্বে নোটিশ বোর্ডের দিকে যাওয়ার সময় মামুন দেখলো, উল্টো দিক থেকে রোজী আসছে।
মামুন জিজ্ঞাসা করলো, আজ ক্লাস হবে না?
দ্রুত রোজী বললো, শিক্ষকদের স্ট্রাইক বারটায় শেষ হলে তারপর হবে।
প্রথমবার কথা বলতে পেরে মামুন খুব পরিতৃপ্ত হলো।

একদিন লেকচার থিয়েটারের দোতলার পূর্ব পাশের গ্যালারীর বাইরে রোজী ঘোরাঘুরি করার সময় মামুন এসে রুমে বসার পর রোজীও ঢুকলো। প্রথম দিকের বেঞ্চে রাখা ব্যাগ নিয়ে মামুনের সোজাসুজি বামের বেঞ্চে রেখে রোজী গুন গুন করে গান গাইতে লাগলো।
মামুন জিজ্ঞাসা করলো, রোজী, গতকালের ইকবাল স্যারের ক্লাস নোটটা কাছে আছে?
রোজী বললো, না, ওটা দিশা নিয়েছে।
কয়েক মুহূর্ত পর রোজীই জিজ্ঞাসা করলো, ইকবাল স্যারের ক্লাস নোট তো?
মামুন বললো, হ্যাঁ।
রোজী একই উত্তর দিল।

টার্ম ফাইনালের রেজাল্ট বেরুনোর খবর পেয়ে ক্লাস রুমের সামনে চাদর গায়ে দেওয়া রোজীর কাছে গিয়ে মামুন একদিন জিজ্ঞাসা করলো, তোমার রেজাল্ট কেমন হয়েছে?
রোজী বললো, এখনও দেখি নি। তোমার?
মামুন বললো, আমিও দেখি নি, তবে ধারণা করছি যে খুব খারাপ হয়েছে।
দু’জনই হেসে উঠলো।

এবার মামুন ভালবাসার কথা জানাতে উদ্বুদ্ধ হলো।

একটা চিঠি লিখলোঃ

রোজী,
তোমাকে প্রথম দেখেই বুকের ভিতরে বিদ্যুৎ চমকে উঠেছিল। এরপর মাঝে মাঝেই তুমি আমার সাথে অন্যরকম আচরণ করতে বলে মনে হতো (আমার ধারণাটা যদি ভুল হয় তবে আমাকে ক্ষমা কোরো)। বিশ্বাস করো, সেইসব দিনগুলিতে আমি যে কি রকম যন্ত্রণাময় সময় কাটাতাম তা তোমাকে বোঝাতে পারবো না। নিজেকে শুধু প্রশ্ন করতাম, রোজীকে কেন কিছু বলতে পারছি না? কিন্তু এর কোনো উত্তর মেলে নি।

রোজী, আমার মনে লেখা আছে শুধু তোমারই নাম। তোমাকে আমি তত ভালবাসি যত ভালবাসি নিজেকে। সোনামণি, লক্ষ্যি সোনা আমার, প্লিজ, তুমি চুপ করে থেকো না। কারণ তোমার নিরবতা আমি সহ্য করতে পারছি না। জানি, তোমার চিরসাথী হওয়ার যোগ্যতা আমার নেই। কিন্তু যোগ্য হওয়ার উপযুক্ত পদক্ষেপ ফেলার সাহস থাকা কি যোগ্যতা নয়? তুমি কি এমন দোয়া করবে না যাতে আমি তেমন যোগ্য হতে পারি যেমনটি হলে সমাজ আমাকে তোমার চিরদিনের বন্ধু হিসাবে মেনে নেবে?

রোজী, আমার হৃদয়ে ভালবাসার পাহাড় জমে আছে। সারা জীবন তোমাকে সবদিক দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা করবো। জানি, আমি তা পারবো। কারণ আমার ভালবাসার মধ্যে কোন পাপ নেই।

আমার বাড়ি পাবনা। আমার সম্পর্কে সবকিছু তোমাকে জানাবো।

রোজী, আমি তোমাকে সত্যিই প্রচন্ড ভালবাসি। তুমি যদি আমার ভালবাসার ডাকে সারা দিতে তবে আমি ধন্য হয়ে যেতাম।

সবসময় ভাল থেকো।
মামুন

হল থেকে বের হওয়ার পথে এক অসহায় বুড়িমা সাহায্য চাইলে তাকে হোটেলে খাওয়ালো এবং টাকা দিল এই আশায় যে এর ফলে রোজী যেন প্রস্তাবে রাজী হয়।

ক্লাস রুমে সবাই গল্প করছে। রোজীও আছে।

গুলির শব্দে চমকে উঠলো ওরা।
আবার গুলির শব্দ। চিৎকারের শব্দও কানে এলো। আতঙ্কে কড়িডোর ধরে দৌড়াতে লাগলো সবাই।

কলাভবনের দক্ষিণ প্রান্তে এসে দেখলো, ভীত-সন্ত্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা দৌড়াচ্ছে। এখন গুড়ুম গুড়ুম গুলি ফুটেই চলেছে। শোনা গেল, টি. এস. সি.’ র ওখানে দুটি প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়েছে।

গুরুদুয়ারা নানকশাহী’ র পশ্চিমের গাছপালার ওখানে একজন গুলি ছুঁড়লো। গুলি লাগার ভয়ে রেলিং-এর ওখানে নীচু হয়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে এলো মামুন।

আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট-এর সামনে একজন নাকি গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। উত্তেজনা অনুভব করলো মামুন। তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিচ্ছে না কেন? মূল্যবান জীবনটা ঝরে যাবে তো! খালি হবে এক মায়ের কোল, বোন বঞ্চিত হবে ভাইয়ের আদর থেকে।

এক সময় গোলাগুলি থেমে গেল। জানা গেল, তিন জন মারা গেছে।

নিথরভাবে দণ্ডায়মান গাছপালার পত্ররাজি, রিক্সার বেলের টুং টাং শব্দ, পাখির ডাক, মানুষের শোকার্ত মুখগুলো যেন উদগীরন করছে নীরব বেদনা।

প্যান্টের পকেটে খাম হাতে ঠেকলে ধাক্কা খেল মামুন। আরে, ওটা তো রোজীকে দিতে চেয়েছিল সে!

কিন্তু রোজীকে তো দেখা যাচ্ছে না! কিছুক্ষণ আগেও তো সকলের সাথে ছোটাছুটি করছিলো। মামুন দ্রুত উত্তরের গেটের ওখানে গেল। তারপর কমন রুমের কাছে গিয়ে ওকে পেল না। ডিপার্টমেন্টের অফিসে, নোটিশ বোর্ডের সামনে ও সেমিনারেও তাকে দেখতে পেল না। নীপা ভবনের ওখানকার গেট দিয়ে বের হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনের খোলা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলো মামুন।

রোজী কল্যাণপুর থাকে। আজ তো ভার্সিটির গাড়ি সম্ভবতঃ যাবে না। ও কি অন্যভাবে বাসায় চলে গেছে?

ফুলার রোড হয়ে হলের উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলো মামুন। চিঠিটা দেওয়া হলো না। ভাবলো যে আগামীকালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

কিন্তু রাতে ভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সকাল দশটার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।

রোজীর ঠিকানাটা মামুন জানে না।

বাড়ি গিয়ে ভার্সিটি খোলার খবরের আশায় প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় চোখ রাখে আর টেলিভিশনে খবর দেখে। যেখানেই যায় রোজীর মুখটা ভেসে ওঠে।

অবশেষে তিন মাস পর অপেক্ষার পালা শেষ হলো।

ক্লাসে গিয়ে দেখলো, রোজী আরো সুন্দর হয়েছে। চিন্তা করলো, প্রথমে সামান্য উপহার দিতে চাইবে। যদি নেয় তবে বুঝবে যে রোজীর কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আছে। তারপর প্রস্তাব দিবে।

নিউমার্কেট থেকে শঙ্খনীল কারাগার, অপরাজিত ও বালিকা বধূ বইগুলো এবং রোজীর নামের সাথে কিছুটা মিলে যাওয়া “টি রোজ” পারফিউম কিনলো। স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে দুইটা ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেট কিনে ফার্মভিউ সুপার মার্কেট থেকে পছন্দের গান রেকর্ডিং করলো।

ক্যাম্পাসে গিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে রেখে টোকেন নিল।

প্রথম ক্লাস শেষ করেই সামনের দরজা দিয়ে বের হয়ে পিছনের দরজার কাছে রোজী বসে থাকা অবস্থায়ই কানের কাছে ঝুঁকে মামুন বললো, রোজী, তোমার সাথে একটু কথা আছে।
বলেই বারান্দায় এলো।
চুম্বকের মত রোজীও এসে বললো, ঠিক আছে, বলো।
রোজীকে কলাভবনের পূর্ব-দক্ষিণ গেটের ভিতরের ফাঁকা জায়গাটায় নিয়ে এসে মামুন বললো, তোমাকে সামান্য উপহার দিতে চাই।
রোজী অবাক হয়ে বললো, কিন্তু কেন?

রোজী একটা সাদা পোশাক পরে আছে। চুলগুলি পিঠের উপরে আলগা। মুখে সামান্য প্রসাধনী। খুব প্রফুল্ল আর জীবন্ত লাগছে। মুখাবয়ব থেকে লাবণ্যের দ্যুতি ঝলকাচ্ছে। পাগল করা ঐ মুখপানে চেয়ে মামুন অভিভূত হয়ে গেল। রোজী দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে বলে মনে হলো।

তাই মামুন বললো, রোজী, তুমি যদি উপহারটা নাও তবে তোমার তো কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু আমার প্রচন্ড লাভ হবে, আমি খুব আনন্দ পাবো। তোমার কোন ক্ষতি না হওয়ার বিনিময়েই আমি যদি আনন্দ পাই, তবে সেই পাওয়া থেকে তোমার কি আমাকে বঞ্চিত করা উচিৎ?
রোজী বললো, যদি না নেই?
মামুন বললো, দুঃখ পাবো। প্লিজ একটু দাঁড়াও, আমি নিয়ে আসছি।
রোজী বললো, ঠিক আছে, আমি দাঁড়াচ্ছি।
মামুন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।

কয়েকদিন পর মামুন দেখলো, রোজী একটা নীল পোশাক পরে এসেছে। খুব ফুরফুরে, উৎফুল্ল এবং প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর লাগছে।

নিরিবিলি জায়গায় ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর রোজী হাসিমাখা চটপটে গলায় বললো, আচ্ছা, তুমি কি পাগল হলে? আমাকে কি বলতে চাও বলো তো?
মামুন বললো, কি বলতে চাই তা কি এখনও বুঝতে পারো নি?
রোজী বললো, হ্যাঁ, সেদিনই বুঝতে পেরেছি যে কি বলতে চাও। কিন্তু ওসব বলে-টলে কোন লাভ হবে না।
মামুন একটা প্যাকেট বাড়িয়ে দিয়ে বললো, এখানে একটা ক্যাসেট আর চিঠি আছে। তোমাকে যা বলতে চাই তার কিঞ্চিৎ চিঠিতে লেখা আছে। তুমি যদি চিঠিটা পড় এবং ক্লাস শেষে প্লিজ একটু সময় দাও তাহলে খুব ভাল হয়।
রোজী বললো, কিন্তু এখন তো ক্লাস আছে। চিঠিটা পড়বো কখন?
মামুন বললো, তাহলে আধা ঘণ্টা পরে এসো।
রোজী বললো, ঠিক আছে, কোথায় আসবো বলো।
মামুন বললো, আগের দিনের জায়গায়ই এসো।

নির্দিষ্ট সময় গিয়ে মামুন দেখলো, উত্তর দিকে রেলিংয়ের কাছে রোজী দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ঘণ্টা দেড়েক আগের চাঞ্চল্যতা, মুখাবয়বের চপলতার ঝিলিক উধাও হয়ে মুখটা এত নিষ্প্রভ হয়েছে কেন? তখন মুখে সূর্য উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু এখন যেন দুঃখের মেঘ জমেছে। চিঠিটা কি তার মনে তুলেছিল ঝড়ের তান্ডব? এত মন মরা লাগছে কেন?

রোজী খোলা চিঠিটা বাড়িয়ে ধরে যান্ত্রিকভাবে বললো, ধরো, চিঠিটা পড়েছি। একজনের সাথে আমার সম্পর্ক আছে।
এ ধরণের কথার জন্য বিন্দুমাত্রও প্রস্তুত ছিল না মামুন। তার সবকিছু গুলিয়ে গেল। বললো, বলো কি! এ কথা আগে বললেই পারতে।
রোজী বললো, আমি আসলে সেদিন বুঝতে পারি নি।
পশ্চিমে আগাছার দিকে তাকিয়ে মামুন বললো, তোমাকে সারা জীবনের বন্ধু হিসাবে না পেলে জীবনের প্রতি আমার আগ্রহই থাকবে না।
রোজী বললো, বাস্তবকে মেনে নাও।
মামুন বললো, সবকিছু কি যুক্তি দিয়ে মেনে নেওয়া যায়?
রোজী বললো, তা অবশ্য ঠিক।

মামুন ভাবলো, রোজী বোধহয় কোন কারণে মিথ্যা বলছে। কারণ রোজীকে তো তেমন কারো সাথে কোনদিন দেখা যায় নি। তাই বললো, চলো না, কোথাও বসে একটু কথা বলি।
রোজী বললো, আমার কাজ আছে।
মামুন বললো, তোমার বাবা-মা, ভাই-বোনের পরই আমাকে সবচেয়ে ভাল শুভাকাংখি ভাবতে পারো। কিছু মনে না করলে কোথায় কাজ তা কি জানতে পারি?
রোজী বললো, রোকেয়া হলের অফিসে।
মামুন বললো, ঠিক আছে। কাজের পর না হয় কথা বলবো।
রোজী সম্মতি জানালো।

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর দিকে যাওয়ার সময় মামুন বললো, একজনের সাথে সম্পর্ক আছে, আমাকে রিফিউজ করার এটাই কি কারণ? অন্য কোন কারণ থাকলে বলো, প্লিজ।
রোজী বললো, এটাই তো প্রধাণ কারণ হতে পারে।

রোকেয়া হলের সামনের রাস্তায় লোকজনের মধ্যেও চিঠিটা আবার ফেরত দিতে চাওয়ায় অবাক হলো মামুন। ওর আচরণ অস্বাভাবিক লাগলো।
মামুন জিজ্ঞাসা করলো, বইগুলো কেমন লেগেছে?
রোজী বললো, বালিকা বধূটা বেশি ভাল লেগেছে।
হলের সামনে গিয়ে মামুন জানতে চাইলো, তোমার কি দেরী হবে?
ব্যস্ত স্বরে রোজী বললো, না, না, এক্ষুণি চলে আসবো।
মামুনের কপাল কুঁচকে গেল।

কয়েক মিনিট পরেই রোজী এসে বললো, আমার সাথে কথা বলে আর কি হবে, আমি তো তোমার জন্য কিছুই করতে পারবো না।
মামুন বললো, তবুও একটু সময় দাও না প্লিজ।
রোজী বললো, কোথায় বসবে?
মামুন বললো, চলো, টি. এস. সি.’ র ভিতরে বসি।
রোজীর হাতে ঘড়ি থাকায় মামুন জিজ্ঞাসা করলো, কয়টা বাজে?
মামুনও হাঁটতে হাঁটতে দেখলো, দুইটা বাজে। কিন্তু রোজী বললো, দেড়টা বাজে।
মামুন আবারো অবাক হলো।
বললো, এখন তো দুপুর। চলো না, হোটেলে দু’জন খেয়ে নিই।
রোজী বললো, বাইরে আমার খাওয়ার অভ্যাস নেই।
মামুন জানতে চাইলো, তোমাদের বাড়িটা কোথায়?
রোজী বললো, নাটোর। অবশ্য এখন কল্যাণপুরে। মুক্তিযুদ্ধের পর আমার দাদা তার আট ছেলের জন্য আটটি বাড়ি করে দিয়েছিলেন।
এরপর কোন রাস্তা দিয়ে বাড়িতে যেতে হয় তার বর্ণনাও রোজী দিল।

টি. এস. সি.’ র বিল্ডিং-এর ভিতরে প্রবেশকালে ক্যাসেটটা রোজীর হাত থেকে পড়ে গেল। ও এত এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে কেন! দ্রুত রোজী যত্ন সহকারে উবু হয়ে তুললো দেখে খুব ভাল লাগলো মামুনের। ক্যাসেটটা একবারও ফেরত দিতে চাইলো না কেন?

অডিটরিয়ামের সামনে পূর্বদিকে মুখ করে মামুন ডানে আর রোজী বামে বসলো। রোজীর পায়ে কালো জুতা।

মামুন জিজ্ঞাসা করলো, তোমরা কয় ভাই-বোন?
রোজী বললো, সাত বোন তিন ভাই। আমি ছয় নাম্বার। তোমার বাবা কি পাবনায় থাকেন?
মামুন বললো, হ্যাঁ। তিনি ঢাকায় এ. জি. অফিসে চাকরি করতেন। কিন্তু দুই বছর অসুস্থ থাকার পর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ১৯৬০ সালে বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন।
রোজী জানতে চাইলো, এখনও কি অসুস্থ?
মামুন বললো, না। তোমার বাবা কি করেন?
রোজী বললো, বাংলাদেশ রেলওয়ে-তে চাকরি করতেন।
মামুন জিজ্ঞাসা করলো, তুমি কোন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছিলে?
রোজী বললো, ইডেন কলেজ থেকে।
মামুন খেয়াল করলো, সে সামনে তাকালে রোজী তার দিকে তাকায় আর রোজীর দিকে তাকালেই রোজী সামনের দিকে তাকায়।

মামুন বললো, জানতাম যে তুমি কল্যাণপুরে থাকো। তাই আমাদের বাড়ি যাওয়ার সময় যখনই গাবতলী যাই তখনই অদ্ভুত এক অনুভুতি হয়।
মামুন দেখলো, রোজীর চোখের পাতা কেঁপে উঠলো, ছল ছল হয়ে চোখ একটু বুঁজে গেল। কথাগুলো কেন এত প্রতিক্রিয়া জাগালো?
আবার বললো, রোজী, যতদিন ক্যাম্পাসে আছি ততদিন আমার মানসিক তৃপ্তির জন্য তোমার কাছে যেতে চাই গিফট নিয়ে। তুমি গিফটগুলো নেবে, এই সম্মতিটা ভিক্ষা চাই।
রোজী বললো, সম্মতি দিলাম।
ধন্যবাদ জানালো মামুন। বললো, তোমার জন্ম তারিখটাও জানতে চাই। কারণ সেদিনও তোমার কাছে যেতে চাই।
রোজী উৎফুল্ল হয়ে বললো, কয়েকদিন আগেই তো জন্মদিন চলে গেল।
এরপর তারিখটা বললো।
মামুন বললো, আমার খুব ইচ্ছা, পহেলা ফাল্গুনে তুমি হলুদ শাড়ি পরে আসবে। সেদিন তোমার ছবি তুলতে চাই। শাড়িতে তোমাকে ভীষণ সুন্দর লাগে তো, তাই।
উত্তেজিত হয়ে রোজী বললো, তুমি আমাকে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখেছো নাকি?
মামুন বললো, হ্যাঁ।
একটা দিনের বর্ণনা দিল যেদিন সে হলুদ শাড়ি পরে ক্যাম্পাসে এসেছিল।
স্মৃতি রোমন্থনের মত করে রোজী বললো, তখন রমজান ছিল।
মামুন বললো, তোমাকে খুব সুন্দর লাগছিল।
রোজী বললো, আমি আবার কি এমন সুন্দর।
মামুন বললো, কতটা সুন্দর তা তো তুমি বুঝবে না। একজন বৈজ্ঞানিক নিজের সম্পর্কে বলেন যে তিনি কিছুই জানেন না। কিন্তু তিনি কত জানেন তা অন্যেরা জানে।
রোজী বললো, তুমি আবার কিসের সাথে কিসের তুলনা করছো।
মামুন বললো, তুমি যে কতটা সুন্দর তা বোঝানোর জন্য বললাম।
রোজী বললো, ও আচ্ছা। চলো, স্ট্যান্ডে যাই।

ওরা ডাস-এর পশ্চিমের যাত্রী ছাউনীর সামনে দাঁড়ালো।
মামুন বললো, তোমার ছবি কি দেওয়া যাবে?
রোজী বললো, তুমি তো ছবি তুলবেই, সেখান থেকেই নিও।
মামুন আবারো ধন্যবাদ জানালো।
রোজী বললো, এত ধন্যবাদ!
দুজনই হেসে উঠলো।
রোজী আবার বললো, তুমি তো খাও নি, তুমি না হয় যাও।
মামুন বললো, তুমিও তো খাও নি।
রোজী বললো, আমার অভ্যাস হয়ে গেছে।
মামুন বললো, আমারও অভ্যাস হয়ে গেছে।

রোজী সাড়া না দেওয়ায় মামুনের মনে জেদ চাপলো। চিন্তা করলো, ভবিষ্যতে একটা কলেজ করবে। নাম দিবে রোজিনা সুলতানা মহাবিদ্যালয়।

একটা ক্যাসেট ও দুইটা বই নিয়ে রোজীর কাছে গিয়ে মামুন বললো, আমি যে তোমার অনেক বড় শুভাকাংখী তার প্রমাণ একদিন দিব। তাই তোমার ঠিকানাটা আমার প্রয়োজন।
রোজী বললো, মুখে বলেছো, সেটা কি আমি বিশ্বাস করি নি?
মামুন বললো, কিন্তু প্রমাণ দেখাতে হলে তো তোমার সাথে আমার যোগাযোগ করতে হবে।
রোজী বললো, ঠিক আছে। দাও দাও, তাড়াতাড়ি দাও।
কড়িডোরের রেলিং-এর উপর মামুনের এগিয়ে দেওয়া খাতা রেখে রোজী ঠিকানা লিখলো।
শেষ চেষ্টা করে মামুন বললো, রোজী, জীবনের প্রতি আমার আগ্রহ সত্যিই থাকবে না।
রোজী বললো, কিন্তু আমি কি করবো?

কিছুদিন পর লেকচার থিয়েটারের নীচে দাঁড়িয়ে মামুন দেখলো, রোজী একজন ছেলের সাথে আঁটোসাঁটো, উত্তেজক পোশাকে মধুর কেন্টিনের দিকে যাচ্ছে। আঁতকে উঠলো মামুন। তাদের পিছু পিছু গেল। তারা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর মধ্যে ঢুকলো।

আধা ঘণ্টা পর বের হয়ে মসজিদের পূর্বের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ভার্সিটির গাড়িতে উঠলো। গাড়ি কার্জন হলের দিকে চলে গেল। একসময় সেই গাড়ি ডাস-এর পশ্চিমে এলো। এরপর নীলক্ষেতের দিকে চললো মামুনের সমস্ত আশা ধূলিসাৎ করে।

মামুন ভাবলো, যে রাজনীতি মহা-মূল্যবান জীবন প্রদীপ রাস্তায় নিভিয়ে দেয়, সেশন জটের আগুনে পুড়িয়ে দেয় মূল্যবান সময়, ভালবাসার মানুষটাকে নিজের করতে দেয় না, ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভালবাসার মানুষটাকে কঠোর হয়ে দুঃখ পাওয়ার পথে ঠেলে দেয় সেই রাজনীতির প্রতি লক্ষ, কোটি বার জানাই ধিক্কার।

মামুনের এক শিক্ষক শ্রদ্ধেয় জনাব মোঃ আলতাফ জলিল স্যার ক্লাসে বলেছিলেন, আপনাদের জীবনের লক্ষ্য আকাশকে ছিদ্র করে চলে যাবে। কিন্তু কাউকে ধাক্কা দিয়ে কিংবা সরিয়ে দিয়ে নয়, এগিয়ে যাবেন ঠিক নিজের মত করে।

অথচ যে কোন উপায়ে কিছু পাওয়ার চেষ্টা অধিকাংশ মানুষের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিকটেই ডাঃ মিলন চত্বর। কিছুটা পশ্চিমেই সেদিন প্রথম জনকে গুলি করা হয়েছিল। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা হলো মামুনের, আমাকেও গুলি কর। জীবিত লাশ হয়ে বাঁচতে চাই না।

যে ক্ষত ওর মনে তৈরী হলো তা মুছে যাবে না কখনো। কেউ বুঝবে না কোনদিন, কেউ জানবে না তার ক্ষতের কথা। এই ক্ষতের কারণে প্রতিনিয়ত নির্গত হবে দীর্ঘশ্বাস, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। উপরন্তু মৃত্যুর পর তার আত্মায় তো এ অনুভুতি রয়ে যাবেই যে এই জীবনে রোজীকে সে ভালবেসেছিল, তাই পরকালীন জীবনেও।

দশ বছর পরঃ

মামুনের সামনে রোজী দাঁড়িয়ে আছে। পরনে সালোয়ার-কামিজ। রোজীর বাম হাতের মাঝখানের আঙ্গুলে বাইরের দিকে একটা শুকনো কাটা দাগ।
মামুন জিজ্ঞাসা করলো, এটা কিভাবে হলো?
ভারাক্রান্ত কন্ঠে রোজী বললো, তুমিই তো এটা করে দিয়েছো!

চোখ খুললো মামুন। অন্ধকারে শুয়ে আছে কিন্তু জায়গাটা আন্দাজ করতে পারলো না। নিরাপত্তা প্রহরীর বাঁশির আওয়াজে স্মরণ হলো, কুয়েটের ব্যাচেলর কোয়ার্টারে সে শুয়ে আছে। গভীর রাত। বুঝলো, রোজীকে সে স্বপ্নে দেখেছে।

সে ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লো। অস্তিত্বটা যেন নিজের কর্তৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুঃখের স্রোতে গভীর যন্ত্রণার সাগরে খড়কুটোর মত ভেসে হারিয়ে গেল। মনে হচ্ছে, গলার মধ্যে কি যেন আটকে আছে। চোখের কোন বেয়ে অশ্রুর ধারা গড়িয়ে কানের নিকট দিয়ে চোয়াল ছুঁয়ে বালিশের উপর পড়লো।

রোজীই তার প্রেরণা, রোজীই জীবন-মরণের বেদনা। তাকে সে আজও ভালবাসে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • নাজমুছ - ছায়াদাত ( সবুজ )
    নাজমুছ - ছায়াদাত ( সবুজ ) আসলেই নিঃস্বার্থ ভালবাসা । বেশ ভালবাসার নির্মল গন্ধ , কিন্তু অন্তপুরে পোড়া গন্ধ কেন????
    প্রত্যুত্তর . ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
    • ওয়াহিদ মামুন লাভলু বাস্তব অনেক সময় বড়ই নির্মম হয়ে দেখা দেয়। আর নির্মম ঘটনার কারণ হিসাবে অনেক সময় পারিপার্শ্বিক স্বার্থ-সংঘাত দায়ী থাকে। আমি এ বিষয়টাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন। শ্রদ্ধা জানবেন।
      প্রত্যুত্তর . ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • এস, এম, ইমদাদুল  ইসলাম
    এস, এম, ইমদাদুল ইসলাম আসলে ছেলেদের অপরিণত বয়সে প্রেমে পড়ার ঘটনাগুলো এরকম হয় । তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেরা বোধহয় এরকম অবস্থার স্বীকার হয় না। তারা যেটা করে সেটার মেচিউরিটি অনেক বেশী হয় । ভাল লিখেছেন, এটি তরুনদের জন্য শিক্ষনীয়ও বটে ।
    প্রত্যুত্তর . ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
    • ওয়াহিদ মামুন লাভলু আপনার লম্বা মন্তব্য পড়ে খুব উৎসাহ পেলাম। তরুণদের প্রেম বিষয়ে আপনার মূল্যবান মতামত ও গল্পটি তরুণদের জন্য শিক্ষণীয়ও হতে পারে উল্লেখ করায় এবং খুব সুন্দর মন্তব্য করায় অসংখ্য ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন। সালাম ও শ্রদ্ধা জানবেন।
      প্রত্যুত্তর . ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া আপনার গল্পটি মন দিয়ে পড়লাম , ভালো লাগলো । তবে এতো খুঁটিনাটি বর্ণনা ছোট গল্পে না দিলেও ক্ষতি নেই । পরিসর তাতে একটু ছোট হতে পারতো। সহজ সরল ভাষায় লেখা বলে পড়তে বেশ ভালো।
    প্রত্যুত্তর . ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
    • ওয়াহিদ মামুন লাভলু গল্পটি পড়ার জন্য ও ভালো লাগা জানানোর জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ভাল থাকবেন। আমার সালাম ও শ্রদ্ধা জানবেন।
      প্রত্যুত্তর . ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • ইয়াসির  আরাফাত
    ইয়াসির আরাফাত খুলনার কারো কাহিনীর ছায়াতলে লিখেছেন ।কুয়েটের অসিলায় ছাত্র রাজনীতির এক বিন্দু পেলাম ।। সবমিলিয়ে ভালোই লাগছিলো কিন্তু স্বপ্নেই অনেকটা পথ হাঁটা হলও । তবুও ভালো ।
    প্রত্যুত্তর . ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
    • ওয়াহিদ মামুন লাভলু গল্পটি আপনি যে ভালোভাবে পড়েছেন তার প্রমাণ পেলাম। এতে খুবই উৎসাহ পেলাম। চমৎকার মন্তব্যের জন্য আপনাকে হৃদয় থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভালো থাকবেন। সালাম ও শ্রদ্ধা জানবেন।
      প্রত্যুত্তর . ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • মোঃ আক্তারুজ্জামান
    মোঃ আক্তারুজ্জামান প্রাণবন্ত, সরল লেখা সবারই মন কাঁড়ে। দারুণ সুন্দর লিখেছেন। ধন্যবাদ।
    প্রত্যুত্তর . ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
    • ওয়াহিদ মামুন লাভলু আপনার সুন্দর মন্তব্যে খুব অনুপ্রাণিত হলাম। আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন। আমার সালাম ও শ্রদ্ধা জানবেন।
      প্রত্যুত্তর . ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক ওয়াহিদ ভাই, একেবারে ডিটেলস গল্প...গল্পের কলেবর দীর্ঘ হলেও গাঁথুনিটা ভালো হয়েছে, ডায়ালগগুলো আরো সংক্ষেপ করা যেতো....খুব ভালো লাগলো...শুভকামনা....
    প্রত্যুত্তর . ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
    • ওয়াহিদ মামুন লাভলু গল্পটি পড়ার জন্য এবং খুব সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে ভালো লাগা জানানোর জন্য আপনাকে সীমাহীন ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার খুব মূল্যবান মতামত তুলে ধরার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা রইলো। আপনি ভালো থাকবেন। আমার শ্রদ্ধা জানবেন।
      প্রত্যুত্তর . ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • মোজাম্মেল  কবির
    মোজাম্মেল কবির ভালবাসা প্রেরণা... ভালোবাসা শক্তি।
    প্রত্যুত্তর . ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • মাসুম বিল্লাহ
    মাসুম বিল্লাহ ভালো লিখেছেন ভাই
    প্রত্যুত্তর . ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • biplobi biplob
    biplobi biplob Valo lagatai shavabik. Onak valo likashan.
    প্রত্যুত্তর . ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
  • অন্তর মাশঊদ
    অন্তর মাশঊদ খুব ভালো লাগলো
    প্রত্যুত্তর . ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
    • ওয়াহিদ মামুন লাভলু সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে ভালো লাগা জানানোর জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। আমার সালাম ও শ্রদ্ধা জানবেন।
      প্রত্যুত্তর . ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪

advertisement