লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২২ অক্টোবর ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৫৫

বিচারক স্কোরঃ ১.৭৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপূর্ণতা (আগস্ট ২০১৩)

মেয়েটির অপেক্ষার গল্পে ছেলেটির অন্তর্ধান
পূর্ণতা

সংখ্যা

মোট ভোট ৩০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৫৫

ওসমান সজীব

comment ১৬  favorite ০  import_contacts ১,১৬২
মানুষের জীবনটা অদ্ভুত।অদ্ভুত কর্মকাণ্ডে ইচ্ছের বাড়াবাড়ি।কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব নেই ভবিষ্যৎ তে পরিণতির ভয়।সব কিছু উপেক্ষা করে প্রমান করতে চায় সে-ই ঠিক।তার এতেই সুখ।যে মেয়েটির সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তার থেকে বয়ছে বড়।মেয়েটির রুপ দেখে মুগ্ধ।জীবন বৃথা যাবে এই অপ্সরীকে বিয়ে না করতে পারলে।দীর্ঘ কামনার প্রত্যাশিত ঠিকানায় ঢিল পড়েছে। শুধু বিয়ের অপেক্ষা।মেয়েটি ছেলেটিকে ডেকে নিয়ে কানে কানে কী যেন গোপন কথা বলে।এ কোন বিষয় নয় সব ঠিক হয়ে যাবে।তোমার অপূর্ণতা কে মুছে দিব নতুন ভোরের সূর্য হয়ে।আমার হৃদয় গহীন ঘরে শুধু একটি শব্দ তুমি।আর কোন শব্দ নেই যা ছিল ভুলে গেছি।অবশেষে ঢাক ঢোল বাজনায় হল শুভ বিবাহ।আপন জনে বাড়ি গমগম করে।শিশু বৃদ্ধ তরুণ তরুণীর রঙ্গের মেলায় ইচ্ছের রংধনু।হাসি ঠাট্টায় বর কনের লাজুক হাসি।আবেগ ঘন পরিবেশ।কান্নাজর্জরিত বিদায়।ফুলে ফুলে অঙ্কিত গাড়িটি ছুটে চলছে।গাড়ির দূরত্ব যতই বাড়ছে হাহকার স্তব্দতার ততই মাখা মেলছে।বিজয় উল্লাস ধ্বনি বউ আইছে বউ আইছে ..।হুমড়ি খেয়ে পড়ে বউ দর্শনে।বধূ বরণ প্রথাগত নিয়মে।প্রত্যাক মানুষের জীবনের কাঙ্ক্ষিত সেই রাত।উতেজনার জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।আনন্দে আত্মহারা।ঘোমটা দিয়ে বসে আছে একটি গোলাপ ফুল।নতুন করে কিছু দেখা।নতুন করে কিছু বলা।নতুন করে প্রথম কিছু পাওয়া।দুটি মনের লাজুক লাজুক হাসিতে ছড়িয়ে পড়েছে ভালোবাসার ঘ্রাণ।তোমার সুখ দুঃখের আমি একজন ভাগিদার আজ থেকে।তোমার সব দায়িত্ব আমার।করবো সুখের সংসার কিন্তু? আজ কোন কিন্তু নেই।একটি মধুময় রাত পার হল।এভাবে দুটি বছর কাটল।অনেক ফকির কবিরাজ যুগের সেরা চিকিৎসা কিছুতেই কিছু হল না।মাজারে মাজারে দোয়া মিলাদ ফায়দা হল না।প্রখর রোদে ছায়া হবে।বর্ষায় নৌকা হব।হিম শীতে উষ্ণ বস্র হব।আঁধার ঘরে জোছনা হব।মেয়েটির সব সমস্যা হাসি মুখে বরণ করবে কিন্তু ছেলেটি তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করল।প্রতিটি পুরুষ চায় বংশধর।থাকে বাবা হবার আকুতি।সন্তানের মুখে মধুর বাবা বাবা ডাক শোনার ব্যাকুলতা।মেয়েটি বলেছিল আমি তোমায় সব দিতে পারি কিন্তু..।ছেলেটি মেয়েটি সম্পদের পাহাড়ে বাস করতে চায় না।নেই কোন উচ্চ আশা বিলাসিতার ভিড়।চায় একটি সন্তান।৮/১০টা সাধারণ মানুষের মত জীবন।কিন্তু প্রকৃতি চায় না।প্রকৃতি চলে তার নিজের নিয়মে হৃদয় ভাঙ্গার ছন্দে।স্বপ্ন ডানায় উড়তে উড়তে ঝড়ের ঝাপটায় ডানা ভেঙ্গে মাটিতে পড়ল।মেয়েটির ২য় সংসার ভাঙ্গল।


মেয়েটি কাঁদে আর ভাবে সেই দিনগুলো তো খুব খারাপ ছিল না।সব গাছ ফল দিবে না এটাই তো নিয়ম।সংসারে এভাবে বেঁচে থাকা যায় যদি থাকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।যেমন বেঁচে আছে ফলহীন গাছ।মেয়েটি বছরের পর বছর অপেক্ষায় রইল।সে জানে মানুষটি একদিন এসে বলবে আমি ভুল করেছি।নতুন করে জীবন শুরু করি অতীতের চাওয়া পাওয়া ভুলে।যে জীবনে থাকবে শুধু তুমি আর আমি।যে পথ শুরু হবে শেষ হবে না।মেয়েটির অপেক্ষার প্রহর শেষ হল।ছেলেটির ঘুম ভাঙ্গল।ছেলেটি সাদা চাদরে শুয়ে আছে।ঘিরে রেখেছে শত শত মানুষ।এত দিন একজনের অপেক্ষায় বসে ছিল। এখন কার জন্য বসে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনবে।দীর্ঘ অপেক্ষা শুধুই যন্ত্রণার নয় কখনও কখনও মধুর।অর্থপূর্ণ জীবনেরে অর্থ খুঁজতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখল পরিবারের বোঝা হয়ে। পৃথিবী কে চিৎকার করে বলে আমি বেঁচে আছি।এভাবে কী বেঁচে থাকা যায়...

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement