আসলাম বিয়ে করেছেন। নতুন বউকে নিয়ে তিনি মহা খুশি। তিনি ভেবেছিলেন, উনার বউ সুন্দর হবে না। কারণ উনার মতামত নিয়ে বিয়ে করানো হয়নি। উনি চাকুরী করতেন। উনার বাবা উনাকে বলল, জরুরী কাজে যেন উনি বাড়িতে আসেন। বাড়ীতে এসে দেখেন বিয়ে ঠিক করা আছে। কবুল বললেই হয়ে যায়। তিনি প্রথম অবস্থায় কিছুতেই রাজি হলেন না। সবার চাপাচাপিতে বউয়ের ছবি দেখে মন কিছুটা গলে গেল। কি আর করা ভেবে বিয়ে করে ফেললেন।
কয়েকদিন যাওয়ার পরই মনে হতে থাকে তিনি এর চেয়ে ভাল বিয়ে করতে পারতেন। বাবার একঘেঁয়েমির কারনে এরকম হয়েছে।
বাবাকে অদৃশ্য গাল দিতে লাগলেন। নিজেকেও গাল দিতে লাগলেন। কেন ছবি দেখে মনটা গলে গেল। বিয়ে না করে পালিয়ে আসলেই হত। কয়েকদিন যাওয়ার পর সব আগের মতই হয়ে যেত।
নতুন বউকে কেন আসলামের ভাল লাগে না তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না। বউ স্বামীর চারদিকেই ঘোর ঘোর করতে থাকে। কখন কি লাগে।
অল্প কয়েকদিনেই নতুন বউ সবার মন জয় করে ফেলেছে। বাবা বউ মা ছাড়া কখনো ডাকই দেন না। মা ও কেমন জানি বউয়ের বক্ত হয়ে গেল।
আসলাম নতুন মেয়ে দেখেন এবং আফসোস করেন কত সুন্দর মেয়েটি দেখতে। এরকম মেয়ে যদি বিয়ে করতে পারতাম। বাবা আমাকে কোন সুযোগই দিল না। আমাকে অন্তত একটা সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
মেয়েটাও কেমন অল্প দিনেই সবাইকে কাবু করে ফেলল। এখন বউয়ের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে সবার রক্তচক্ষুর শিকার হওয়া।
আসলাম চাকুরীতে চলে গেলেন। তিনি নিজে নিজেই ভাবেন কেন প্রথম দিকে বউটাকে এত ভাল লেগেছিল। বিয়ে করার পরও মনে হয়েছিল বউটাকে পেয়ে অনেক খুশি। এখন যে কি হল। বারবার শুধু মনে হয় এর চেয়ে অনেক ভাল মেয়ে পেতে পারত। কত নায়িকা নায়িকা মেয়ে আছে। তাদের কি বিয়ে করা যেত না। তবে সবাই বলে বউটা নাকি নায়িকা নায়িকা চেহারা। উনার ভাল কেন লাগে না তা নিজেই জানে না। অন্যরা জানবে কি করে।
আসলামের একটা অভ্যাসের কথা সবাইকে জানানো দরকার। উনি নতুন জিনিস ছাড়া কোন জিনিসই পছন্দ করেন না। একটা কাপড় কিনলেন। দেখা গেল এই কাপড়টা অন্য কারো গায়ে দেখেছেন তখনই তিনি মনে করেন এটা পুরাতন হয়ে গেছে। সুতরাং এটাকে আর পরা যাবে না। এছাড়াও উনার আরেকটি অভ্যাস হচ্ছে উনি কোন জিনিসই বেশি দিন ব্যবহার করতে পারেন না। জিনিসটি ভাল থাকলেও তিনি ব্যবহার করতে পারেন না।
এরফলে বন্ধু-বান্ধব এবং গ্রামবাসীর কাছে নতুন মানুষ হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছেন। সবাই উনাকে নতুন মানুষ হিসেবে চিনে। এতে উনিও খুশি। অভ্যাসটি ছোট বেলা থেকেই ছিল। এই অভ্যাসের কারণে আসলাম কত মার যে খেয়েছেন তা ভাষায় বলা যাবে না। তবুও তিনি অভ্যাসটি ছাড়তে পারেন নি। তিনি নিজেও অভ্যাসটি ছাড়তে চান না।
বিয়ে করেছেন বাড়ীতে যান না। ছুটি পেলেও বাড়ীতে যান না। বাড়িতে গেলেই বউকে দেখতে হবে এই জন্য বাড়ীতে যান না। এদিকে বাবা-মা থেকে শুরু করে সবাই কানাগুসা চলতে লাগল। কি হল। নতুন বিয়ে করে স্বামী ছুটি পেলেও আসে না এরকম হয় নাকি।
মানুষের টিটকারী, গালগল্প সহ্য করতে না পেরে আসলামের বাবা জমিরউদ্দিন সাহেব অফিসে এসে হাজির হলেন। আসলাম ভূত দেখার মত ভয় পেয়ে গেলেন। যেই বাবা কোন দিন গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাই নি সেই বাবা একেবারে অফিসে এসে হাজির। উনি আমিনের একটি চাকুরী পেয়েছিলেন। গ্রাম থেকে চলে আসতে হবে বলে উনি চাকুরীতে যোগ দেন নি। কৃষি কাজ করেই জীবনটাকে কাটিয়ে দিলেন।
আসলাম বাবার কোন কিছু কেই অগ্রাহ্য করতে পারে না। পিছনে পিছনে অনেক কিছু বললেও সামনে কিছুই বলতে পারেন না। বাবার সাথে বাড়িতে আসতে হল। বাড়িতে এসে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে লাগলেন। বউয়ের সামনে যদি পড়ে যায়।
সবাই ভাবল কয়েক দিনেই ঠিক হয়ে যাবে। এত দিন বাড়িতে আসে নি বলে বউয়ের সামনে যেতে লজ্জা পাচ্ছে।
আসলাম কয়েকদিন এভাবে থাকার পর খালার বাড়িতে বেড়াতে চলে গেল। সবাই অবাক বউ ছাড়া কেউ খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়। খালা ভাবলেন, হয়ত রাগ করেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কিরে আসলাম তর বউয়ের নাম কি যেন। আমার আবার ভূলে যাওয়ার রোগ আছে। ওর সাথে কি জগড়া টগড়া করেছিস নাকি।
আসলামের মনে হল। এখন পর্যন্ত বউয়ের নামই জানা হয়নি। বিয়ে হয়ে গেছে প্রায় দু মাস হতে চলল এখনো বউয়ের নাম জানাই হয়নি।
খালা আসলামকে নিয়ে বাড়িতে আসলেন। সবাই বিভিন্ন প্রশ্নে আসলামকে জর্জরিত করল। আসলাম কারো কথারই কোন উওর দিল না। সে নির্বিকার ভাবে তাকিয়ে রইল।
রাতের আধাঁর যখন নেমে আসল তখন অনেকটা জোর করেই বউয়ের ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে গেল। আসলাম বাধ্য ছেলের মত বউকে জিজ্ঞেস করল, তোমার নাম যেন কি।
বউ কোন উওর দিল না। আবার জিজ্ঞেস করতেই কান্না বিজরিত কন্ঠে বলল, রহিমা।
নামটাও কেমন যেন পুরাতন পুরাতন লাগে। যাই হোক তুমি কাঁদছ কেন।
বিয়ে করার পর যদি স্বামী স্ত্রীর কাছে না আসে তাহলে কাঁদতেই হয়। কত জনে কত কথা বলে। আপনার যদি আমাকে পছন্দ না হয়ে থাকে আমাকে বিয়ে না করলেই হত। আমি যদি আমার বাবাকে বলতাম যে আমি এই ছেলেকে বিয়ে করব না তাহলে তিনি কখনো আমাকে বিয়ে দিতেন না। আপনার কি আমাকে পছন্দ হয় নি। নাকি অন্য কিছু।
তা না। আমার মনে হয় তোমার চেয়ে সুন্দর মেয়ে আমি পেতে পারতাম।
তাহলে আমাকে বিয়ে করা আপনার একদম উচিত হয় নি। আপনি বড় ধরনের একটা ভূল করেছেন। আমাকে আগে বললে, আপনার মত ছেলেকে আমি কখনো বিয়ে করতাম না।
শুন। এত তেজ দেখাবা না। মেয়েদের এত তেজ দেখানো উচিত না। বিয়ে হয়ে গেলে মেয়েরা পুরান মাল হয়ে যায়। তাদের কোন ধাম থাকে না। সুতরাং তোমার চুপ থাকাই ভাল।
তোমাকে দেখতে অনেক ভদ্র মনে হয়। তোমার মুখ দিয়ে এত খারাপ কথা বের হতে পারে কোনদিন কল্পনাই করতে পারি না।
সরি। ভূল হয়েছে। ক্ষমা চাচ্ছি।
ক্ষমা চাইতে হবে না। আমাকে তুমি ভালবাসলেই হবে।
গ্রামের মেয়েরা কি এত চতুর হয় নাকি। আমি ভাবতাম গ্রামের মেয়েরা বোকা ধরনের হয়।
বোকা হলে মেয়েদের বেশি নির্যাতন করা যায়। তাই না। যাক সেই কথা। আমাকে অন্তত মানুষদের নিকট খাট করে দিয় না। মেয়েদের সবচেয়ে বড় অবলম্ভন তার স্বামীই। তুমি যদি আমাকে স্থান না দেও তাহলে আমাদের আর কোথাও জায়গা থাকে না।
আসলাম পরের দিনই হাসি মুখে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কর্মস্থলে চলে গেল। যাওয়ার আগে একটা সুখ স্মৃতি নিয়েই গেল।
কিছুদিন যেতে না যেতেই মনে হতে থাকে রহিমা অনেক চমৎকার মেয়ে তবুও কেন জানি মনে নাড়া দেয় রহিমার চেয়ে বেশি চমৎকার মেয়ে পেতে পারতাম। কর্মস্থলের ঘনিষ্ট বন্ধু লতিফের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে সে বলে বিয়ে যখন করেই ফেলেছিস তাহলে এটা নিয়ে ভেবে লাভ কি। তাছাড়া সুন্দর, কাল দিয়ে কি করবি। সবের রং একই। সুতরাং এত বাছবিছার না করে যা আছে তা নিয়েই পরে থাক। বেশি চাইতে গেলে দেখবি সবচেয়ে খারাপ জিনিসটাই তর কপালে পড়েছে।
লতিফ মজা করে বলল, তুই ত আবার নতুন জিনিস ছাড়া কোন কিছু ব্যবহার করিস না। বউ কি পুরান হয়ে গেল নাকি যে পাল্টাতে হবে। মনে কিছু নিছ না। মজা করে বললাম।
আসলামের লতিফের কথাটি মনে ধরল। লতিফ ঠিকই বলেছে। বিয়ে করেছে চার মাস। এতদিনে নতুন বউ পুরানা হয়ে গেছে। তার ভাল না লাগারই কথা। এতদিন যে এ নিয়ে চিন্তা করেনি এটা সবটাই রহিমার গুনে। রহিমা মন্ত্রগুনে তাকে ভূলিয়ে রেখেছে। হয়ত তার অবচেতন মন বারবার বলছে বউ পুরান হয়ে গেছে শিঘ্রই একটা ব্যবস্থা নিতে হবে।
ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেই বলতে লাগল। বউ পুরাতন হয়ে গেছে। এই বউ নিয়ে আমি সংসার করতে পারব না।
এই কথা শুনে, জমিরউদ্দিনের হার্ডএ্যাটাক হল। ডাক্তারের কাছে নিতে নিতেই মারা গেলেন। জমিরউদ্দিনের মারা যাওয়ার কারণে আসলামের বিষয়টা চাপা পড়ে গেল। গাঁয়ের মানুষরা ঠিকই মজা করতে লাগল। আসলামকে দেখলেই বলে, বউ পুরান হয়ে গেছে নতুন একটা বিয়ে কর না কেন। এতদিন তুমি ব্যবহার করছ।
আসলামের মনে বিষয়টি বারবার নাড়া দেয়। বাবা মরার কারণে বিষয়টি উৎত্থাপন করতে পারছে না। রহিমাও দেখা যাচ্ছে ভাল ব্যবহার করছে না। এদিকে নাকি রহিমার বাচ্চা হবার সম্ভবনা আছে। বাচ্চা না হতেই একটা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বাচ্চা হয়ে গেলে বিপদ হতে পারে।
বাচ্চা নিয়ে চিন্তা করতে করতে হঠাৎ করেই মা মারা গেল। বাবা মারা যাওয়ার পর মা আসলামের সাথে কোনদিন কোন কথা বলে নি। ছেলেকে নাকি তিনি অনেক বদদোয়া করে গেছেন।
রহিমা অনেকদিন থেকেই ভাবছেন চলে যাবেন। চলে যাবেন। যেই স্বামী এই রকম বর্বর কথা বলতে পারে তার সাথে থাকার কোন প্রশ্নই আসে না। না যাওয়ার পিছনে প্রধান যেই কারণ তা হচ্ছে বাবা মারা যাওয়ার পর মা অন্য পুরুষের সাথে চলে গেছে। যাওয়ার সময় যা সম্পদ ছিল সবই তিনি নিয়ে নিয়েছেন।
রহিমার বাচ্চা হবে এ বিষয়টা আসলাম কোন মতেই মেনে নিতে পারছে না। বাচ্চা হয়ে গেলে পুরাতন বউয়ের জালে যদি আটকা পড়ে যায়। রহিমা অবশ্য কিছু বলে নি। তবুও।
রহিমা অনেক বার ভেবেছিল বাচ্চাটাকে নষ্ট করে ফেলবে। এরকম স্বামীর ঘর কয়দিন করা যায় তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। তারউপর যদি বাচ্চাটা আসে তাহলে তাকে কিভাবে লালন পালন করবে। কয়েকবার সাহস করে গিয়ে ও ফেরত এসেছে। বারবার মনে হয়েছে একটা বোবা শিশুকে হত্যা করতে যাচ্ছে। যে কোন দুষ করেনি।
আসলাম আবার বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে বাড়িতে এলেন। রহিমা আগেই প্রস্তুত ছিল সুতরাং তার কাছে বিষয়টি তেমন কিছুই মনে হয়নি। গ্রামের অনেকেই ছি ছি করতে লাগল। ছি ছি করলেও কেউ বাধা দিতে এল না। বউ পালতে পারলে বিয়ে করলে সমস্যা কি। এরকম মনোভাব অনেকেরই কাজ করে।
বাসর রাতে খুশি খুশি মন নিয়ে নতুন বউয়ের ঘরে ঢুকল। বউয়ের সাথে কয়েক কথা বলার পরই বউ জানতে চাইল সম্পদের পরিমান কি আছে। পুরাতন বউয়ের নামে কত সম্পদ আছে।
আসলাম বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাচ্ছিল। বারবার বলার পর আসলাম রেগে গেল। কি যা তা বলছ। আমার সম্পদ দিয়ে তুমি কি করবে। তোমার এত কিছু জানার দরকার নাই।
অবশ্যই দরকার আছে। তোমার কাছে আমার বাবা, মা বিয়ে দিয়েছে তোমার সম্পদের কারণেই। তাছাড়া তোমার বউ থাকা সত্ত্বেও তুমি আরেকটা বিয়ে করেছে। এরপর আরেকটা বিয়ে যে করবে না তার নিশ্চয়তা কি। তখন আমি কিভাবে চলব।
তোমাকে একটা কথা বলি মনোযোগ দিয়ে শুন। প্রথম যেই বিয়েটা করেছিলাম তা বাবার ইচ্ছায় করেছিলাম। এখনের বিয়েটা নিজের ইচ্ছায় করেছি। সুতরাং আরেকটা বিয়ে করার প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া তুমি নতুন বউ।
আমি যে পুরাতন হব না। তা কে বলল। কয়েকদিন পরেই পুরান হয়ে যাব।
আসলাম কয়েক মিনিট নিরব থাকল। সত্যিইত। রহিমা পুরান হয়েছে। সেও একদিন পুরান হবে।
তাছাড়া আমি পুরান হয়েই আছি। আমার আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। স্বামী মারা গেছে। ঐ স্বামী অনেক ভাল ছিল। তোমার মত এত চেংড়া ছিল না।
আসলাম রাগ সামলাতে পারছিল না। মনে হচ্ছে এখনই মেয়েটাকে খুন করে। অনেক কষ্টে রাগ সামলিয়ে বলল, তোমরা আমার সাথে এত বড় একটা প্রতারণা করতে পারলা।
বাজে কথা বলবে না। আমরা কোন প্রতারণা করি নি। তোমার পছন্দ হয়েছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছ। বাবা অনেক বার চাচ্ছিল তোমাকে বিষয়টি বলার। তুমি বারবার বাঁধা দিয়েছ।
আমি ভেবেছিলাম আমার পুরান বউ সম্পর্কে কথা বলবে। তাই আমি উনাকে বারবার বাঁধা দিয়েছি। এখন আমি কি করব।
তুমি যে এত বাহাদুরি দেখাচ্ছ। তুমি কি নতুন নাকি। এক বউ ঘরে থাকতে আরেক বউকে নিয়ে এসেছ। তোমার চেয়ে আমি ভাল আছি। আমার আরেকটা স্বামী এখনও বেঁচে নেই।
আসলাম নতুন বউয়ের গায়ে চড় দিয়েই বেড়িয়ে গেল। আজকে রাতটি বাহিরেই কাটাতে হবে। বাসর রাত যদি বাহিরে কাটাতে হয়, এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা পৃথিবীতে হয় না। তাছাড়া বাহিরে কোথায় কাঁটাবে। মানুষ কি বলবে।
পুনরায় আসলাম নতুন বউয়ের ঘরে প্রবেশ করল। নতুন বউ দ্বিগুন রাগে বলতে লাগল, পুরান বউ কি তোমাকে জায়গা দেয় নি নাকি। আবার আসতে হল।
এবার আসলাম রাগ সামলাতে পারল না। হাতের কাছেই একটা ছুরি ছিল। ছুরি দিয়ে বউয়ের গায়ে আঘাত করল। বউ চিৎকার করছে মেরে ফেলল। আমাকে বাঁচান। আসলামের রাগ বেড়ে গেলে। সে ছুরি দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করেই যাচ্ছে।
নতুন বউকে হাসপাতালে নেওয়া হল। ডাক্তার মৃত ঘোষনা করল। পুলিশ এসে আসলামকে ধরে নিয়ে গেল।
আসলামের বাবা যত সম্পওি ছিল সব রহিমার নামে লিখে দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আগেই বুঝতে পারছিলেন ছেলে ভবিষ্যতে কি করে বলা যায় না।
রহিমা আসলামকে কারাগারে দেখতে গেল। আসলামের ফাঁসির হুকুম হয়ে গেছে। রহিমাকে দেখে আসলাম ফুঁফরে কেঁেদ উঠল। এতদিন পরে মনে হল সবকিছু নতুন ভাল হলেও বউ নতুন ভাল হয় না। সব কিছু পাল্টানো গেলে ও বউ ঘন ঘন পাল্টানো যায় না। পুরাতন বউকে সবচেয়ে আপন মনে হল। আসলামের ছেলেটাও অনেক সুন্দর হয়েছে। আসলাম নতুন করে জীবন শুরু করতে চায়। নতুন করে জীবন টাকে দেখতে চায়। আসলামের আশা পূরণ হবে না। সে যেই অপরাধ করেছে তার শাস্তি কমই হয়েছে। তাকে আর সুযোগ দেওয়া যায়নি। আদালত থেকে ফাঁসির হুকুম জারি হয়ে গেছে।