কোন ভ্রুক্ষেপ নেই যেন পৃথিবীর মাঝে আর কোন চোখে
সবাই গেড়ে বসে আছে এখানেই সব দাড়ি-কমা চিহ্ন এঁকে!
ছেঁড়াপাল-ভাঙ্গা বৈঠার তরী ভরে গেছে ছিদ্রে ছিদ্রে
বারেবার ডুবেছে সে তরী কারো চোখের নীল সমুদ্রে।
বন্দী হয়েছে কেউ কেউ মায়া-কারায়, যেন পরাজিত সৈনিক
পরাজয় গ্লানিতে হতাশা-যন্ত্রনায় ওরা ছুটছে দিগ্বিদিক।
কত জনপদ ডুবেছে এখানে, বিরান ভূমি হয়েছে কত শহর
তবুও দম্ভ আঘাতে আবারও ভাঙ্গছে কেউ কারও অন্তর।
লালসা আবৃত চোখে ঘনায় বারো-আনা জীবনের অমানিষা
ষড়রিপুর ষড়যন্ত্রে, কুমন্ত্রনার মহামন্ত্রে বারেবার তাই হারায় দিশা।

এখানেই ঘুরে ফিরে দিয়ে যেতে হয় জীবনের যত ঋণ
অ-শেষ জ্ঞানী মূর্খমন সে-কথা বুঝবে কি কোন দিন?
অচেনা বন্দর নিজের ভেতর তবুও খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত সব নাবিক
এত ফন্দি করেও তারা বন্দী রয়েছে আজও পৃথিবী গ্রহে ঠিক।
তুমুল যুদ্ধ চলে প্রত্যহ-অবিরত চাহিদার সাথে অসহায় জীবনের
কালের ভেলায় চড়ে তবুও ঘুরে ঘুরে এখানেই ফিরে সব ফের।
যুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত আমার চারপাশ, দুষিত হয়েছে আরও বাতাস
নীরবে-নিভৃতে সাক্ষী রয়ে যায় বিস্তৃত কালো মেঘের আকাশ।

যুদ্ধ চলছে দেশে-দেশে, মানুষে-মানুষে আকাশ সমান হওয়ার
রুদ্ধ অথচ মরিচীকা খেয়ালে আপন গৃহ দ্বার।
দিগ্বীজয়ী বীর স্বাধীন করে বহুবার ফিরে অভিনন্দনের শহর
অথচ পরাধীন রয়েছে চির অগোচরে থাকা নিজের ভেতর...
রিপুর মর্জিতে আত্মা বন্দী চারপাশে কাঁটাতার
যুদ্ধ চলেনি একটিবারও নিজেকে মুক্ত করার!