লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৬ অক্টোবর ১৯৮৩
গল্প/কবিতা: ৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৮

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftমুক্তির চেতনা (মার্চ ২০১২)

অতীত যেখানে কাদাঁয় স্বপ্ন সেখানে জাগায়
মুক্তির চেতনা

সংখ্যা

মোট ভোট ১৮

faruk আহমেদ

comment ১০  favorite ০  import_contacts ৭২৩
১.
মোহনা ঘরের জানালার পাশে বসে আছে। তার দিকে বাহির থেকে তাকালে কিংবা ঘরের কেউও যদি সামনে থেকে তাকায় তাহলে কোনো ভাবেই তার চেহারা দেখা সম্ভব নয় । খুব অদ্ভুত দেখা যাচ্ছে তাকে ।পেছনে থাকা চুলগুলো সব মাথার উপর দিয়ে এসে চেহারার সামনে চলে এসেছে এবং মাথাটা রাখা আছে জানালার সঙ্গে থাকা টেবিলের ওপর। আর ঠিক এই অবস্থাতেই তার বর্তমান থেকে শুরু হয়ে যাওয়া সামনের দুর্দসাগ্রস্থ দিনগুলো কিভাবে অতিবাহিত হবে তাই ছিল তার একমাত্র ভাবনা। আমার চারপাশ থেকে আসা শক্ত ও কঠিন দেওয়ালগুলো অমানবিক ভাবে আমার দিকে ছুটে আসছে,আমি যেখানে আছি সেখান থেকে আর এগুতে পারব না। কোথাও গিয়ে একটু শান্তির নিঃশ্বাস নিতে পারবো না। বর্তমানে যেভাবে আছি সে অবস্থানটুকু ও আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসবে দিনের দিনের পর দিন । মোহনার এ ধরনের ভাবনা বাস্তবতাই তাকে ভাবতে বাধ্য করছে । মোহনারা এক ভাই, দুই বোন। ভাই বোনদের মধ্যে মোহনাই বড়।দেখতেও মোহনা কম যায় না।

নিরিবিলি ভাবতে থাকার জন্য তার হাতে ও তেমন সময় ছিল না। পাশের ঘর থেকে একটা ডাক আসলো ম্যাডাম, দয়া করে যদি একটু আমাদের কথা ভাবতেন । আপনার জন্য আমাদের আরো কতো কি যে দেখতে হবে আর মেনে নিতে হবে। আসলে মোহনার মায়ের মুখের কথা ছিল এগুলো। অত্যন্ত জোরে জোরেই তার মা কথাগুলো বলছিল, মনে হচ্ছিল হৃদয়ের সব জ্বালা মেটাতেই যেন তিন এ কথাগুলো বলতে শুরু করেছেন।

মোহনা ভাবতে থাকে, মোহনার মা বড় মেয়ে মোহনাকে বিয়ে দিয়ে নিজেদের একটা বড় দায়িত্ব পালন করবেন বলে ভেবেছিলেন এবং সে মতেই তারা স্বামী স্ত্রী দু'জনেই ভালো একটা ছেলে দেখে মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থাও করে ফেলেন । এ সময় তাদের পরিবারে বেশ আনন্দের জোয়ার ছিল।

এদিক দিয়ে মায়ের ডাক কানে আসতে না আসতেই থতমত খেয়ে উঠেই দৌড়ে গিয়ে মায়ের সামনে দাঁড়ালো মোহনা এবং আস্তে করে বলল মা কি করবো বল। মোহনার মা চোখ গুলো টান টান করে মেয়ের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত ধীরে ধীরে তাকালও তারপর, মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে হাটতে শুরু করলো সামনের রুমের দিকে আর যেতে বলে গেল আমার মেয়েটা তো রোধের থেকে এখনই আসবে । সারাদিন না জানি কতটাই দখল গেছে তার ওপর দিয়ে। সে এসে ঘরে এসব নাটক দেখতে পেলে তার মনটা খারাপ হয়ে যাবে । ঘরের মধ্যে খেয়ে দেয়ে এভাবে আর কতদিন।

মোহনার স্বামী মারা যাওয়ার তিন দিন পরের ঘটনাই এটা। হঠাৎ করে মোহনার মনে পরে তার স্বামীর সে মৃত্যুর দিনের সে ঘটনার কথা।

২.
মোহনা আগের দিনগুলো ভাবতে থাকে,মোহনার স্বামী ছিল ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে জড়িত। ব্যবসায়িক দিক থেকে তার অবস্থান খারাপ ছিল না। উপার্জন ভালোই ছিল। ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রয়োজনে তাকে প্রায়ই খুব ব্যস্ত থাকতে হতো। মোহনার বিয়ের দিন রাতেই মোহনাকে প্রথম দেখাইতেই যে সে ভালোবেসে ফেলেছিল তা প্রকাশ করেছিল ভিন্নভাবেই।মোহনার মাথার ঘোমটা সরিয়ে সে বলে, আমি দ্বিতীয় বারের মতো তোমাকে দেখতে পারবো তা আমার জন্য সত্যই ভাগ্য। তোমার মতো এত সুন্দরী একটা মেয়ে আমার মতো একটা যন্ত্রের ভাগ্যে জুটবে তা সত্যি বিশ্বাস করার সাহস করতে পারিনি বলেই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন আমার জীবনে তুমি সত্যিই চলে এসেছো, কিভাবে আমি তোমাকে বিশ্বাস করাবো আমি তোমাকে ভালবাসি।

মোহনা তার পরিবারের বড় হলেও, স্বভাবতই খুব চঞ্চল প্রকৃতির ছিল। বিয়ের দিন রাতেই স্বামীর মুখের এ ধরনে কথা শুনেই সে আবদার করে বসলো অদ্ভুত রকমের কিছু। আর বেশ জোরাজোরি করেই সে তার স্বামীকে সে রাতে ঘর থেকে বের হয়ে মোহনাদের বাসায় যেতে বাধ্য করলো। সে দিন সে তার স্বামীকে বলল যে, তুমি আমার একটা কথা রাখবে আর আমি চিরকাল তোমার সবগুলো কথা রাখবো। তার স্বামী খুব উচ্ছলতার সহিত তার প্রস্তাব মেনে নিল।মোহনা তার স্বামীকে বলল, এৰুনি তুমি গাড়ী নিয়ে বেড়িয়ে পড়বে এবং আমাদের বাসায় গিয়ে আমার বাবা ও মাকে আমার সালাম জানাবে। তাদেরকে বলবে যে, আমি তাদেরকে অনেক বেশি ভালবাসি । আমার সুখের জন্য তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সত্যিই আমি আজ থেকে অনেক সুখী । তারা যেন আমাকে নিয়ে একটু চিন্তা না করে। আর অবশ্যই ফিরে আসার সময় আমার ভাই বোন দু'জনকেই সঙ্গে করে নিয়ে আসতে ভুলবে না। মোহনার যেমন কথা তেমন কাজ ।

৩.
মোহনার স্বামী সে রাতে ঘরে গিয়ে হাজির হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোহনার মা তাকে দেখে চমকে ওঠে। দৌড়ে এসে মোহনার স্বামীর কাছে এসে কাঁদো কাঁদো গলায় বলতে থাকে যে বাবা কি হয়েছে ? কি হয়েছে বাবা?

মোহনার স্বামী খুব অবাক হয় এবং ভাবে মেয়ে হলো এক রকম আর বাবা মা হয়েছে অন্যরকম। পরিস্থিতিটা উপভোগ্য করে তোলার জন্য সে ও খানিকটা মজা শুরু করে দেয় ঠিক মোহনার মতো। একটু গম্ভীরভাবেই বলে উঠে যে, আপনার মেয়ের জন্যই আমাকে আসতে হলো এ রাতে গাড়ি নিয়ে । ঠিক এভাবেই সে কথাটা শুরু করে কিন্তু কথা শেষ না হতে না হতেই মোহনার বাবা মা দুজনই খুব আকুতি মিনতি করে মোহনার স্বামীকে বলতে থাকে " বাবা, তুমি আমাদের কথাটা শোনো তুমি তো আমাদেরই ছেলে ওর কথা বাদ দাও এৰুনি তুমি গাড়ী নিয়ে চলে যাও আর খুব সাবধানে যেও। এ রাতে এভাবে তোমাদের এমন করা ঠিক হয়নি। কালকে সকালে এসে আমরা মোহনাকে দেখছি। সে নিজেকে ভাবে কি?

মজা করতে গিয়ে মোহনার স্বামী এখন নিজেই বিপদে । পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো উপস্থিত বুদ্ধি তার মাথায় আসছিল না।ভদ্রতা বজায় রেখে সে, ফিরে আসতে থাকে বাড়ির দিক গাড়ি নিয়ে। পথের মধ্যেই সন্ত্রাসীরা কৌশলে তাকে গাড়ি থামাতে বাধ্য করে এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি করতে তাদের মাঝ থেকে একজন মাতাল অবস্থাতেই মোহনার স্বামীকে গুলি করে বসে । মোহনার স্বামীর মৃত্যু সেখানেই হয়।

৪.
মোহনা আবার বর্তমানে ফিরে আসে। সে ঘটনার সঠিক রহস্য আর কখনও উন্মোচন হয় নি। মোহনার বাবা মা এবং তার দুই ভাই বোন সেদিন রাতের মোহনার সম্পর্কে যেভাবে শুনেছিল তা হৃদয়ে গেঁথে রেখেছিল। মোহনার স্বামীর মৃত্যুর জন্য মোহনাকে পুরোপুরি দায়ী করা এবং মোহনার জেদ আজ দুটি পরিবারকে ধ্বংসের দিক ঠেলে দিয়েছে তা সম্পূর্ণ বিশ্বাস করে পথ চলতে তাদের কোনো দ্বিধা নেই। ও দিক দিয়ে মোহনার বাবা ও মার সরল স্বীকারোক্তি ছিল মোহনার স্বামীদের বাড়িতে এই যে, ঐ রাতের ঘটনা আমরা জানি সবকিছুর জন্য মোহনার জেদই দায়ী। কথাগুলো মোহনার শ্বশুর শাশ্বড়ীকে বলার সময় তার বাবা ও মা এতটাই আবেগময় ছিল যে তা বিশ্বাস করতে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। পাশে বসে থেকেও অপ্রিয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনা ঘটতে দেখে এবং অবাঞ্ছিত কথা বার্তা শুনেও সে লজ্জায় এবং অপমানে নিজে চুপসে যাচ্ছিল। কিন্তু শুশুর শ্বাশুড়ীর সামনে বাবা মা কে ছোট করতে পারে নি এবং সে রাতে তার স্বামীই বা বাসায় যাওয়ার পর কোন ঘটনা সৃষ্টি হয়েছিল সে রহস্যও উন্মোচন করতে পারিনি।বাবা মায়ের কথায় আত্মবিশ্বাস দেখে এবং স্বামীর সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু না যেনে কোনো বাজে চিনত্দা না করে সবার সব রাগ,ৰোভ এবং ঘৃণাকেই সে পুজি করে নেয় এবং সেদিনই মৃত্যু হয় তার ভেতরের সব চঞ্চলতার । তার স্বপ্ন সেখানেই সত্দব্ধ হয়ে যায়। মসত্দিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়।চারপাশের এত আলো থেকেও সে এমনভাবে সবার দিকে এক করে তাকাতে থাকে যেন ঝাপসা আলোর মধ্যে অনেক কষ্ট হচ্ছে কাছের মানুষগুলোকে চিনতে। সেদিনই মোহনার শ্বশুর ু শ্বাশুড়ী খুব রাগান্বিত অবস্থায় বলে ওঠে, আমাদের ছেলে হারানোর জন্য তোমাকে দ্বায়ী না করলে ঘৃণা চিরকালই থাকবে তোমার জন্য। সত্যি এ চেহারার আড়ালে এত ভয়ংকর কিছু ছিল তা যদি আগে বুঝতে পারতাম। তুমি দেখ তোমার জীবনে তুমি কখনই সুখী হবে না আর এ কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হবে তোমার বাবা মাকেও । তুমি এবার আসতে পার । সঙ্গে সঙ্গে মোহনার বাবা চোখ নিচু করে লজ্জায় বেরিয়ে আসে আর মোহনার মা মেয়ের হাতটা খুব জোরে ধরে টেনে বের করে নিয়ে আসে।


৫.
বাসায় আসার পর, কাঠগোড়ায় দারোগা যেভাবে দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক সে ভাবেই মোহনা মাঝখানে দাড়িঁয়ে থাকে। আর এক পাশে বসে থাকে তার বাবা মা। আর এক পাশে বসে থাকে তার দুটি ভাই বোন। শুরম্নটা করে তার বোন। ছিঃ ছিঃ আপু মানুষ এত স্বার্থপর হতে পারে।নিজেকে তুমি আসলে কি যে মনে করো। বাবা মা কত কষ্ট করেই না এমন ভালো একটা পরিবারের সাথে সম্পর্ক করলো । এখানে তো তুমি সুখীই হতে। তোমার চাওয়া যে কি ছিল তা বাবা মাকে আগে বললেই পারতে। ছোট ভাইটা খুব ছোট না হলেও ক্লাশ সেভেনে পড়ে । সে হঠাৎ করে বলে উঠে আমার ছোট আপু আমার বড় আপুর মতো খারাপ না। আর আমি ও বড় আপুর মতো কখনই হবো না। কোনো কিছু স্পষ্ট বুঝতে না পারলে ও পরিস্থিতিটা কিছু অনুমান করেই ছোট ভাই তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গেল। মোহনার বাবা এতৰণ চুপ করে থাকলেও এখন সে ও বলতে শুরম্ন করে ' কেউ যেন এটা না ভাবে যে তার ছায়া আমি আমার ছোট দুটি ছেলে মেয়েদের ওপর পড়তে দিব।নিজের ভাবনা নিজেই যে ভালো ভাবতে পারে সে যেন তার ভাবনা ভাবতে শুরম্ন করে।তোমরা সবাই খেতে এসো সারাদিন অনেক দখল গেছে। একথা বলে সকলেই টেবিলে বসে রাতের খাওয়াটা খেয়ে নেয়।খাওয়া শেষ করে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মোহনার মা মোহনাকে আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে খাওয়াটা খেয়ে নিলেই পারেন আপনার পছন্দের খাবার যে আবার কোথায় পাবো।

৬.
মোহনার ছোট বোন কলেজ থেকে ঘরে ফিরে আসে। ধীরে ধীরে বড় বোনের সামনে এসে একটু নিচু গলায় শুরম্ন করলেও পরে জোর গলায় বলতে থাকে যে, দেখ আপু তুই যখন টেবিলের সামনে সকালে বসে ছিলি তখন তোর সামনেই তো আমার মোবাইলটা ছিল তাই না। মোহনার উত্তর হ্যাঁ ছিল তো। যাক বাবা মেনে নিলে আচ্ছা আমার মোবাইলে ব্যালেন্সটুকু তুমি কোথায় কিভাবে খরচ করেছো তা না হয় নাই বললে আমাকেতো বলতে পারতে । তাহলে অনত্দত কলেজে বন্ধুদের কাছে ছোট হতে হোত না। সত্যি আপু তোমার তুল না হয় না। এসময় মোহনা অসহায়ের মতো অবাক দৃষ্টিতে অনেৰন ছোট বোনের দিকে চেয়ে ছিল । মোহনার মা সব শুনে এসে বলে এসব কিছু আমার ঘরে বসে করলে হবে না।কিন্তু সত্যিই এ সকল ঘটনা এখন আর তাকে নাড়া দেয় না। বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে সে পূর্বের দিনগুলোতে ফিরে যায়।

৭.
মোহনার ছোট বোন বিয়ের আগের রাত্রে দৌড়ে এসে বড় বোনকে জড়িয়ে ধরে বলে আপু আমাকে মায়ের হাত থেকে বাচাঁও। তুমি মা আসার আগেই মোবাইলটা তোমার হাতে নাও এবং মা আসলে বল মোবাইলে টাকা তুমিই ঢুকিয়েছো । আর মোবাইলটা এখন তোমার হাতে নাও। মোহনা আবার ও মজা করে বলে ভালই হয়েছে সবগুলো টাকা আমি এ সুযোগে শেষ করে ফেলবো তোকে না বলেই। আপু কি যে বলনা তুমি শেষ করে ফেল না আমাকে বলতে হবে কেন ? কিছুদিন পর দুলাভাইয়ের টাকা শেষ করার সময় কি আর তোমাকে কিছু বলব নাকি? এ কথা বলেই মোহনার ছোট বোন হাসতে শুরম্ন করে আর মোহনা তাকে জড়িয়ে ধরে একটু কেদেঁ ওঠে।

মোহনার এ কল্পনা শেষ না হতে হতেই দুবোনে মাঝখানে তাদের ছোট ভাইটা এসে বলে আমি মিথ্যে বলবোনা মোবাইলের টাকাটা আমিই শেষ করেছি । সকালে মোবাইলটা টেবিলে পড়ে ছিল তাই এমনিতেই পাশের ঘরের বন্ধুর বাসায় ফোন করে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেছিলাম।আপু আমার ভুল হয়েছে। মোহনার ছোট বোন মোহনাকে সরি বলে তাড়াতাড়ি সে জায়গা ছেড়ে চলে গেল এবং ভেতরে গিয়ে সেও দরজা লাগিয়ে কাঁদতে থাকলো।

৮.
আজ রাতে মোহনা নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে হলেও নিজ থেকে গিয়ে ঘরের টিভিটা ছাড়ে। আসলে এ দিনটা ছিল আমাদের স্বাধীনতা দিবস অর্থাৎ সেই ঐতিহাসিক ২৬মার্চ ।ভেতর থেকে একটা চেতনা অনুভব করতে পারে মোহনা। স্কুল কলেজে বহুবার এ দিনে বেশ উদ্দীপনার সঙ্গেই সে বিতর্ক প্রতিযোগীতা থেকে শুরম্ন করে বিভিন্ন দলীয় সঙ্গীতেও অংশগ্রহণ করেছিল। সে দিনগুলোর কথাও তার মনে পড়ে যায়।টিভিটা চালু করেই দেখতে পায় সে ভয়ঙ্কও দিনগুলো যেখানে মা বোনেরা অকাতরে প্রাণ দেয় পাকিসত্দানীসেনাদেও হাতে । যারা জীবিত আছেন কেউ কাছের যারা অবলম্বন তাদের হারিয়েও এখন বেচেঁ থাকার জন্য লড়ে যাচ্ছে। কেউ বা বলছে কিভাবে নিজের সর্বস্ব হারিয়েও মাথা উচুঁ করে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখে আজও।মোহনা একটু আড়মোড়া ভেঙ্গে সোজা হয়ে বসে এবং টিভির ভলিউমটা বাড়িয়ে দেয়।চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করতে থাকে।মোহনা ভাবতে থাকেসত্যিই তো এ জীবনটা যতকাল আছে ভালবাসা, ত্যাগও এবং আনন্দ জীবনকে যেমন সুন্দর করে তোলে,তেমনি ভেতর থেকে জন্ম নেওয়া একটা চেতনা যেন অন্ধকারে আলোর সন্ধান দিতে পারে,জড়তা এবং হতাশার গস্নানিকে দূও করতে পারে, পরাজয়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনতে পারে জয়কে।একেই বলে মুক্তির চেতনা।ভাবতে ভাবতেই যেন মোহনার সমসত্দ শরীরের শিরা উপশিরাগুলো নতুন করে জেগে উঠতে শুরম্ন করলো ভেতর থেকে। মোহনার চোখে মুখে চলে আসলো আত্নবিশ্বাসের ছাপ। সে দ্রম্নততার সঙ্গে বসা থেকে লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে গেল এবং ছোট বোনকে গিয়ে দরজার বাহির থেকে স্পষ্ট কন্ঠে ডেকে বের করলো এবং তার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে বান্ধবীর নিকট ফোন করেই বলল শোন তোদের অফিসে আমি আসছি কিন্তু কাল তোর সাথে দেখা করতে আর আমার ইচ্ছে হলো তোর সঙ্গে থেকেই আমি কর্মজীবন শুর করতে চাই । আশা করি তুই আমাকে সাহায্য করবি। কথাটা বলে মোহনা চুলটা পেছনের দিকে নিল মাথাটা নেড়ে আর তার বাবা মা এবং ছোট ভাই অবাক হয়ে তার দিকে চেয়ে সবকিছু দেখছিল।ছোট বোনটা একটা মুচকি হাসি দিল।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • লুতফুল বারি পান্না
    লুতফুল বারি পান্না একটু ভিন্ন ধরনের গল্প। যদিও কাহিনীটা বুঝতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে। যথেষ্ট জটিল করে তোলা গল্প। সুখপাঠ্যতার অভাবটা ফিল করলাম। গল্প কিন্তু ভাল।
    প্রত্যুত্তর . ৬ মার্চ, ২০১২
  • শাহ আকরাম  রিয়াদ
    শাহ আকরাম রিয়াদ একটু কঠিনে মনে হলো.....
    প্রত্যুত্তর . ৭ মার্চ, ২০১২
  • Abu Umar Saifullah
    Abu Umar Saifullah ভালো
    প্রত্যুত্তর . ৯ মার্চ, ২০১২
  • আহমেদ সাবের
    আহমেদ সাবের মোহনা নিজের ভুলে স্বামীকে হারিয়ে পাথর হয়ে যায়। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের "মুক্তির চেতনায়" আবার ওর স্বাভাবিক হবার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে গল্পে। বর্ণনাশৈলী, বানান ও শব্দ গঠনে বেশ দুর্বলতা লক্ষণীয়। আশা করি লিখতে লিখতে দুর্বলতাগুলো কেটে যাবে। লেখাটায়...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১১ মার্চ, ২০১২
  • মাহবুব খান
    মাহবুব খান জটিল হলেও ভালো
    প্রত্যুত্তর . ১৩ মার্চ, ২০১২
  • খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি
    খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি kahini sundor...gathuni o bunone nojor deya dorkar...........
    প্রত্যুত্তর . ১৩ মার্চ, ২০১২
  • জাফর  পাঠান
    জাফর পাঠান যে উদ্যেশ্য উপস্হাপনার জন্য গল্পটি লেখা হয়েছে তা দিয়ে পাত্রটি ভরে গেছে ।নিরাশার কিছু নেই ।সফল অবশ্যই হবেন আশা রাখি ।পাঁচের পাত্রটি আমিও দিলাম ভরে ।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ মার্চ, ২০১২
  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া তেমন কিছুই বুঝতে পারলাম না .........এখানে একট কথা জানিয়ে রাখি মোহনা আমার ছোট বোনের নাম , নামটা দেখেই পড়তে এসেছিলাম ......শেষের দিকে মোহনা বোধ হয় তার বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হবার একটা উপায় বের করেছে , তাই না??
    প্রত্যুত্তর . ১৫ মার্চ, ২০১২
  • প্রদীপ
    প্রদীপ একটু দীর্ঘ লেখা! হলে খুব খুব ভালো হয়েছে!
    প্রত্যুত্তর . ২০ মার্চ, ২০১২
  • মারুফ মুস্তাফা আযাদ
    মারুফ মুস্তাফা আযাদ গল্পের উপস্থপনা নিয়ে কোনো কথা নেই। উপস্থাপনা ভালো। তবে থিমটা প্রথমবার ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। বোঝার জন্য দ্বিতীয়বার পড়তে হয়েছে। মোদ্দাকথা, ভালো হয়েছে। তবে আরো ভালো আশা করছি।
    প্রত্যুত্তর . ২৭ মার্চ, ২০১২

advertisement