১)
যুবকের পাশ দিয়ে পিছলে যায় কামিনী বাতাস!

বৃষ্টি আসবেই, আসে...
হাত মেললেই যার তীক্ষ্ণ বোঁটা, লেপ্টে যায় হাতের তালুতে।
ঠোঁট বেয়ে নেমে যায় আষাঢ়ের ঢল, অতঃপর -
স্পর্শের চেয়ে জমে থাকে কামড়ের স্বাদ!

বর্ষা যদি খুব অল্প হয়! বৃষ্টি, খুব আফসোস হবে!
কদমের পরিধি জুড়ে মখমল রোম- শুকিয়ে যায়, শুকিয়ে যাবে...


২)
এখনো আমি হুট-হাট বেরিয়ে যাই বৃষ্টির সন্ধানে
গুড়িগুড়ি, হালকা থেকে ভারী বর্ষণের ঠিক আগমুহূর্তে।
ক্যাম্পাসের সেই যাত্রী ছাউনির নিচে, চুলে এখনো তৃষ্ণার জল !
যেখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম প্রত্যহ। আর কয়েকটা ফুল ।
তুমি তাকে বিনয় করে বলতে... কদমফুল !

আমি বলতাম- বর্ষার প্রথম কন্যা ! আষাঢ়ের প্রমিকা। বৃষ্টির বাল্যবন্ধু ।


৩)
যতটুকু শুষে নেওয়ার ঠিক ততটুকুই শুষে নিয়েছে ক্ষত,
অতিরিক্ত জল জমে থাক অশ্রু হয়ে নগরের প্রতিটি ভাঁজে।
তাতে আমার কি ? আমার কোন কিছুতেই, কিছু যায় আসে না !


৪)
বর্ষাকালে ভূগর্ভস্থ যোনিপথ ভেজা আর পিচ্ছিল থাকে বইলাই কি, কর্তৃপক্ষ মনের সুখে তার বিশাল বিশাল মোটা পাইপ আর সরু তারের মাথা ঢুকিয়ে দিবে শহরের ভার্জিন রাস্তাগুলাতে... আচ্ছা ঠিক আছে বুঝলাম, এটা না হয় উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার!! তাই বলে সোঁদা-মাটির বীর্যও বাইরে ফেলবেন!!! পয়সায় যদি না কুলায় তাইলে পলিথিন দিয়া করেন... কেউ তো আর মানা করে নাই!! আমরা নাদান পুলাপাইন রাস্তায় হাটি, কাপড়চোপড় তো নাপাক হয়ে যায়...!


৫)
আবার বৃষ্টি আয়, শহরের সব ছোট-বড় রাস্তার ধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভালোলাগার বীজ। এখন এই বাঁধভাঙ্গা রোদের সিথানে একটু বৃষ্টির প্রয়োজন তাতে ঝুলে ঝুলে যাওয়া, বসে ঢুলতে থাকা, বিরক্তি নিয়ে বেসামাল সামনের ভদ্রমহিলা এমন আরও অগণিত মানুষ চলতে চলতে অন্তত দেখতে পাবে প্রশান্তির বহুমুখী অঙ্কুরোদ্গম... হয়তো কিছুদিন পর বাসের জানালা দিয়ে খুব খুব সস্তায়, হতেও পারে বিনামূল্যে পেয়ে যাবে “মানবতায় মোড়া ভ্যাকুয়াম প্যাকেটে সুস্বাদু শান্তির প্রাথমিক ফলন!!!”

কেননা এখন সময় মূলতই চাষাবাদের! বৃষ্টি তুই আবার আয়, এমন উর্বর মাটির যুগে।