লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১০৫টি

সমন্বিত স্কোর

৫.১৩

বিচারক স্কোরঃ ২.৭৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - স্বপ্ন (জানুয়ারী ২০১৮)

সোনালু সুধার ঘোর
স্বপ্ন

সংখ্যা

মোট ভোট ৩৬ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.১৩

সেলিনা ইসলাম

comment ১০  favorite ০  import_contacts ৩৩০
এক
মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। যে এই দেখার সময়টাকে উৎরে যায়-কিছুদিনের মাঝেই ভুলে যায়,সে কী দেখেছে। কতটা আতঙ্কিত ছিল এই দেখা! আতঙ্ককে জয় করে মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই করে। মানুষ,জগত সংসারে ভালো থাকার জন্য যেমন অনুশীলন করে যায়। আর এই অনুশীলন করতে করতে এক সময় এই জগতে টিকে থাকে। ঠিক তেমনিভাবেই মৃত্যুর জন্যও রোগ শোক প্রভৃতি দিয়ে সৃষ্টিকর্তা মানুষকে অনুশীলন করায়। সুখ সমৃদ্ধি কষ্ট ব্যথা সবকিছু উপভোগ করে,একসময় মানুষ চূড়ান্ত নাটকীয়তায় মৃত্যুতেই জীবনের সমাপ্তি খুঁজে নেয়। এভাবেই জীবন নামের নাটকের যবনিকা পতন হয়। আমার জীবনের পতন যেন আরও বেশি নাটকীয় হবে। কারণ আমি মৃত্যুকে ভীষণ ভয় পাই। গুণীজন বলেন-"মানুষ যা ভয় করে। সে ভয় পিছু ছাড়ে না। একদিন সেই ভয়ই তাকে আষ্টেপৃষ্টে ঘিরে ধরে। এই জন্য ভয় পেতে নেই।"

আমিও সময়ের সাথে সাথে এক সময় ভয়কে জয় করতে বাধ্য হয়েছি। আমার ছেলেটা যখন আমার গর্ভে,সেই তখন থেকেই আমার কল্পলোকে ধীরে ধীরে জীবন দিয়েছি যাকে। তার শেষ না দেখে যে আমার মৃত্যুও আমাকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না! আর এই ভাবনায় ছোট্ট অঙ্কুর থেকে বড় হতে থাকে আমার বেঁচে থাকার একান্ত আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ খুব বেশিদিন স্থায়ী থাকেনি। ছেলেটা বড় হতে হতে নতুন করে অন্যরকম একটা ভয় আমাকে ধীরে ধীরে জড়িয়ে ধরেছে। যা আমাকে মৃত্যু ভয়ের চেয়েও বেশি ভীত করে দেয়। যা ভাবলেও অজানা একটা আতঙ্কের শিহরণ খেলে গেছে আমার প্রতিটা রোমকূপে।

নতুন করে এই ভয়ের সূচনা হয়েছিল আমাদের ভাড়া করা বাসা থেকে। বাসাটা ছিল বেশ সুন্দর নিরিবিলি একটা জায়গায়। দোতলা বাড়ির ছাঁদে একরুমের একটা বাসা। এই বাসায় কেন যেন ভাড়াটিয়া বেশিদিন থাকে না। আর তাই বেশ কম ভাড়ায় বাসাটা পাওয়া গেছে! ঘরের জানালায় দাঁড়ালেই পাশের বিশাল একতলা বাড়িটার ভিতরটা দেখা যেত। একতলা বাড়ির চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে কেউ বুঝতে পারবে না যে,এই বাড়ির ভিতরে কী হচ্ছে। মাঝে মাঝে দেখা যেত বাড়ির গেইটের সামনে নানা রঙের গাড়ি এসে থামছে। সেই গাড়ির ভিতর থেকে নেমে আসে কয়েকজন। এদের মাঝে একজন,যার জলে ভরা শীতল চোখ-অনেক কিছু বলে। কিন্তু সেই চোখের গভীরের ভাষা বুঝতে পারার মত যেন কেউই নেই! কিছুক্ষণ পর আবার গাড়িটা যখন চলে যেত! তখন শুধু থেকে যেত সেই একজন। এভাবেই কখনো কখনো থেকে যেত দুইজনও।সেই সময়ের কথা-

দুই
আমার পাঁচ বছরের ছেলে জিতু সব সময় আমাকে ভীষণ বিরক্ত করে। নানা প্রশ্ন করে আমাকে জ্বালিয়ে ছাড়ে। সে ঐ বাড়ির ভিতরে যেতে চায়। কিন্তু আমি নিয়ে যাই না। কেন নিয়ে যাই না তার পুরোটা ঠিক জানা নেই। শুধু জানি অজানা একটা ভয় মনের মাঝে উড়াউড়ি করে। 'যদি এই ছোট্ট মনের মাঝে হাজারও প্রশ্নের জন্ম নেয়! সে প্রশ্নের উত্তর তো আমার জানা নেই। যদি ওর ভাবনাগুলোতে জড়িয়ে যায় স্বার্থপরের ছেড়া পালক। সে পালক যদি ওকে দুর্বল করে দেয়! কী করব আমি তখন?' নানা রকম চিন্তা আমাকেও স্বার্থপর করে ঐ বাড়িতে যেতে বাঁধা দেয়। জিতুকে নিয়ে আমার পুরো বিকালটাই কাটে ছাঁদে বসে ঐ বাড়ির মানুষগুলোকে দেখে। খুব ইচ্ছে হত ঐ মানুষগুলোর কাছে গিয়ে ওদের সবার গল্পগুলো শুনতে। খুব ইচ্ছে হত ওদের পাশে কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকতে। ঐ পর্যন্তই আমার ইচ্ছেটুকু সীমাবদ্ধ ছিল। কেন যেন আর আগানো সম্ভব হয়নি! কিন্তু ভিতরে ভিতরে যে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছে;তা আমি বেশ বুঝতে পারতাম।

তারপর মাঝে মাঝে ভাবতাম জিতুকে ছাড়াই একা যাব। কিন্তু সেখানেও মনের মাঝে একটা অজানা ভয় কাজ করত। ভয়টা হল মায়া। আমি জানি মায়া বড় খারাপ জিনিষ।একবার মায়ার জালে জড়িয়ে গেলে,সেই জাল থেকে বের হওয়া খুব কষ্টের। যদিবা কোন রকমে সেই জাল ছিঁড়ে বের হওয়া যায়-হৃদয়টা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। সারা জীবনেও সেই ভাঙা হৃদয় আর জোড়া লাগে না। ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা সত্যিই খুব কষ্টের।

প্রায়ই ছাঁদে গেলে একজন মহিলাকে দেখতাম আমার আর জিতুর দিকে তাকিয়ে আছে। উদাস চোখে জানালায় দাঁড়িয়ে সে কী যেন ভাবতো! একদিন ছাদে জিতু আমার পাশেই বসে খেলছে। আমি দেখি ঐ মহিলা আমার ছেলেটার দিকে অপলক তাকিয়ে বিড়বিড় করে আপন মনে কীসব বলছে! একসময় সাদা শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে নিলো। দীর্ঘশ্বাসের একটা ভারি দমকা হাওয়া এসে আমাকে কাঁপিয়ে যেন উড়িয়ে নিতে চাইলো। আমি কিছু না ভেবেই জিতুকে নিয়ে ছাঁদ থেকে ঘরে চলে গেলাম। মহিলার চোখ দুটোতে যেন কী ছিল! সেই চোখে সে জিতুকে একেবারে গভীর দৃষ্টি নিয়ে দেখছিল। মনে হচ্ছিল জিতুকে আমার বুক থেকে সে কেঁড়ে নেবে! উফঃ কী যে ভয় পেয়েছিলাম। সেদিন আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি।
তারপরের দিন সকাল বেলা আমি রান্না ঘরে রান্না করছিলাম। এমন সময় কাজের মেয়ে সেফা'র চিৎকার শুনতে পাই-
-ও খালাম্মা আইয়া দেহেন কী হইছে। আইজগোও একজন টপকাইছে!
সেফা প্রায়ই এভাবে কথা বলে। আর তাই আমার বুঝতে বাকি রইল না যে সে কী দেখতে ডাকছে। আজ কেন যেন মনটা ভালো লাগছে না। কালকের ঘটনাটা এখনও মন থেকে মুছতে পারিনি। মনের মাঝে এখনও জ্বলজ্বল করছে কালকে ঐ মহিলা যেভাবে আমার জিতুকে দেখেছিল,সেই চোখ দুটো। প্রায় দশ মিনিট পরে আমি গেলাম জানালায়। দেখি ঐ বাড়িটার সামনে একটা বড় গাড়ী! জানিনা আমার কেন এত খারাপ লাগল। তাকিয়ে দেখি কাল যে জানালায় ঐ মহিলা দাঁড়িয়েছিল। সেখানে অন্য আরেকটা মহিলা! আমার সাথে চোখাচোখি হতেই মৃদ্যু হেসে দিল মহিলা। তারপর দেখি খাটিয়ায় করে কারো মৃতদেহ নিয়ে বের হচ্ছে কিছু মানুষ। গাড়িটাতে খাটিয়া তুলে এক সময় চলেও গেল। আবারও শুনশান চারদিক। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে ঐ বাড়িটাতে। আগের সেই মহিলাকে আর কোনদিন কোথাও দেখিনি। আমার বুকের জমিনে প্রচণ্ড ঝড় বইতে লাগল। সজলকে বলে ফেললাম-

-শুনো এই বাড়িতে আমি থাকব না। তুমি দেখ না তোমার অফিসের আশে পাশে বাসা নেয়া যায় কিনা।
-আরে এই বাসা কী দোষ করলো? মাত্র তো এক বছর হল এলাম এখানে।
-প্লিজ পাশের বাড়ি থেকে কয়েকদিন পরপর খাটিয়া বের হয়। আমার ভয় করে। তাছাড়া বয়স্ক মানুষগুলোকে দেখলে আমার ভীষণ মায়া লাগে।
-কিসব যে বল না! দেখি কিছু করা যায় কিনা। এই কথা বলে সজল ঘুমিয়ে যায়। দুইমাস পর আমরা নতুন বাসায় উঠে যাই।

তিন
সারাদিন আমি নানা কাজে ব্যস্ত থাকি। জিতুকে স্কুলে দেয়া নেয়া সব করি। ঐ বাড়িটার কথা মনে পড়ে না। কিন্তু যখন বিছানায় যাই,তখন আমি আমার ছেলেটাকে বুকের মাঝে নিয়ে কল্পনার নৌকায় ভেসে যাই। জিতুকে আমি অনেক লেখাপড়া করাব। ওকে বিয়ে দেব। ছেলে,ছেলে বউ আর ওদের ছেলে মেয়ে নিয়ে আমি বেশ সুখেই থাকব। প্রতিদিন সকালে জিতু অফিসে যাবার আগে আমাকে নিয়ে নাস্তা করবে। অফিসে যাবার সময় পায়ে হাত দিয়ে...না না পায়ে হাত দিতে হবে না। আমাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নেবে। ওর কপালে চুমু দিয়ে আমি বলব
- 'সাবধানে যাস বাবা। যা দিনকাল পড়েছে সব সময় দোয়া ইউনুস পড়তে থাকবি!'
-তুমি ভেবো না মা। সময় করে ওষুধ খেয়ে নিও।
ওর একটা মিষ্টি বউ থাকবে। নাম থাকবে...হুমম মৌ...জিতু মৌকে বলবে-
-শুনো মাকে সময় মত খাওয়া দিও। আর ওষুধগুলো নিজে হাতে খাওয়াবে কিন্তু। আমি জিতুকে হাত নেড়ে নেড়ে 'ফি আমানিল্লাহ' বলে বিদায় জানাবো। ছেলেটা অফিসে যেতেই মৌ আমার সাথে বসে বসে গল্প করবে। আর ঘরের কাজ করবে। আমি মৌয়ের ছেলেবেলার গল্প শুনে নিজের ছেলেবেলার সাথে তুলনা করে তৃপ্তি খুঁজে নেব। সেই ধানি জমির আইল ধরে ছুটে বেড়ানো। নদীর কিনারায় বসে পালতোলা আর গুণটানা নৌকোগুলো ভাঁটির টানে ভেসে গেছে তা গুণে গুণে সময় কাটানো। আমার সেই স্মৃতি বেশিদূর আর এগোতে পারবে না-জিতুর দুষ্টু ছেলে মেয়ে দাদি দাদি বলে পাগল করে নেবে। আমার হাত ধরে টেনে চেয়ার ছেড়ে উঠতে বাধ্য করে-ওদের সাথে খেলার জন্য। আর তা দেখে সজল হেসে খবরের কাগজ পড়া বন্ধ করে আমাকে বলবে-'তুমি এত দৌড়া দৌড়ী কর না। বুড়ো হয়েছ এখন,ভুলে যেও না যেন!' হা হা হা পাগল আমি। আমি কী আর সজলের কথা শুনব? আমি ঐ দুষ্টুগুলোর সাথে সাথে নিজেও দুষ্টু বাচ্চা হয়ে যাব। ওরা ছুটে ছুটে প্রজাপতির মত উড়ে বেড়াবে। আর আমি? আমি ওদের সাথে সাথে ঘুরে ঘুরে বেড়াব। আমার চোখদুটো সুখের তৃপ্তি নিয়ে ওদেরকে দেখে যাবে। তখন নিশ্চয় জিতুর অনেক টাকা থাকবে। আমার খুব ইচ্ছে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার। সজলের ওত টাকা নেই। কেরানির চাকুরী করে সংসার চালাতেই হিমসিম খায়। আমার খুব ইচ্ছে সমুদ্র সৈকতে বসে সজলের কাঁধে মাথা রেখে সমুদ্রের ঢেউ গুনব। ওর আর আমার পরনে থাকবে দামি শাল। দুজনে কালো ফ্রেমে আটা চশমা। উত্তম সুচিত্রার মত। ঐ যে কী যেন একটা ছবিতে দেখেছিলাম। ধ্যেৎ এখন মনে পড়ছে না।

শেষ
-পলি কী হল? আবারও ভাবনার অতলে ডুবে গেলে? একটু পানি দাও।
-হুউউ...! সজলের দুর্বল কণ্ঠে বলা কথায়,আমি বাস্তবে ফিরে আসি। গত পয়ত্রিশ বছর ধরে আমার কল্পনা বাস্তব রূপ না নিলেও,তিন বছর ধরে তার রঙটা একটু বদলে গেছে। এখন মাঝে মাঝে জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই মহিলাকে ভীষণ মনে পড়ে! বুকের ভিতরে পাথর চাপা পড়া চাপচাপ ব্যথা। এই আমি জানালার কাছে বসে সামনে দোতলা বাড়িটা দেখছি। ঐ বাড়ির ছাঁদে বসে আমি আর জিতু এই বাড়ির দৃশ্যগুলো দেখতাম। ঐ বাড়িটা আগের মতই আছে। কিন্তু এই বাড়িটা এখন তিনতলা হয়েছে! এখন এই বাড়ির সেই একই জানালায় আমি দাঁড়িয়ে। জিতু এখন ওর বউ বাচ্চা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। এই বুড়ো বুড়ি একা থাকলে ওর খুব দুশ্চিন্তা হয়। তাই এই বাড়িতে রেখে গেছে। এই বাড়ির মানুষ আগের থেকে অনেক বেড়েছে। সেফু এখন এখানেই ধোয়া মুছার কাজ করে। কিন্তু আমার চিন্তা চেতনা জুড়ে সেই ছোট্ট জিতু। যাকে বুকে নিয়ে সুখনিদ্রায় নৌকা ভাসাতাম! সেই জিতু এখনও ভাবনার ঘোরে ছুটে বেড়ায়। ওর জন্য আমাকে যে আরও ছুটতে হবে...। উত্তম সুচিত্রা এখনও সেই আগের মতই মনের অতলে ডুবে আছে। শুধু বদলে গেছে সজল। সে ব্রেইন স্ট্রোক করে বিছানায় পড়ে আছে। ওর বামপাশ প্যারালাইজড। অসার চোখ মেলে খুঁজে যায় কাউকে। আর আমি? জানালায় দাঁড়িয়ে ঘোরাচ্ছন্ন ঝাপসা চোখে দেখি-জিতুর ছেলে মেয়ে "দাদি! দাদি!" বলে দু'হাত বাড়িয়ে এই বাড়িটার দিকে ছুটে আসছে! অধীর অপেক্ষায় নির্ঘুম কাটে,আমাদের বেঁচে থাকার দিন রাত।শূন্য দৃষ্টিতে যখন কিছুই ধরা দেয় না। আমার ভীষণ রাগ হয়। একটা কষ্টের ঢেউ উঠে আসে বুকের গভীর থেকে।
-'আমার চশমাটার ফ্রেম ভেঙে গেছে। কেউ একটু খেয়ালও করে না। সজল আমার যে চলতে অসুবিধা হচ্ছে।' খকখক কাশি দিয়ে কাপাকাপা কণ্ঠে অনুযোগ করে যাই। ক্ষীণ স্বরে ভেসে আসে-
-পলি পানি...পলি পানি দাও...।
আমি হাতড়ে হাতড়ে সজলকে পানি খাওয়াতে যাই। একটা হাতের স্পর্শ পাই...'কে সেফু...?'
-'হ খালাম্মা'
জানালার কাছে থাকা ইজি চেয়ারটায় ক্লান্ত দেহে ধপ করে বসে পড়ি। যে বাড়িতে জিতু চাইলেও আমি নিয়ে আসিনি। সেই বাড়ি এখন আমার স্থায়ী ঠিকানা। জিতু ওর ইচ্ছেমত ফোন করে এখানে।আমার সাথে শেষ কবে কথা হয়েছে ঠিক মনে নেই।
এই বাড়িটার একটা নাম আছে। ছোট বেলায় জিতু নামটা খুব কষ্টে বানান করে করে উচ্চারণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হত! অথচ এখন নিশ্চয় ওর মুখস্ত! বাড়িটার গেইটের উপরে সবার নজরে পড়ার জন্য বড় বড় অক্ষরে লেখা 'বৃদ্ধাশ্রম'। মনে হয় জিতুর মত ছেলেদের সুবিধা করে দিতে,তাদের দৃষ্টি কাড়া হচ্ছে! ভাবনায় আসে-'এই আশ্রম যদি না থাকত তাহলে নিশ্চয় জিতু আমার কাছে থাকতো!' কেন যে দীর্ঘশ্বাসটা ঠিক গলার কাছে এসে বড্ড ব্যথা দিচ্ছে! বেশ জোর করেই ব্যথাটা গিলে ফেলি।







advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া
    মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া বেশ ভালো লাগল। সেঞ্চুরি করার জন্য আবারও অভিনন্দন। আমার গল্পের পাতায় আমন্ত্রন। শুভকামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ১ জানুয়ারী, ২০১৮
  • ওয়াহিদ  মামুন লাভলু
    ওয়াহিদ মামুন লাভলু গল্পের বেশিরভাগ জুড়েই দুঃখের কালো মেঘ। আর যাতে দুঃখ থাকে তাই তো মনে আলোড়ন তোলে। পাশের বাড়ির বিষয়টা খুব রহস্যজনক ও বেদনাদায়ক। যোগ্য ছেলে থাকতেও বৃদ্ধাশ্রমে থাকার ব্যাপারটা ভীষণ কষ্ট দিল মনে। এমন ছেলে থাকার চেয়ে না থাকাই ভাল। আমার শ্রদ্ধা গ্রহণ করবেন। ভাল থ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ২ জানুয়ারী
  • মোস্তফা  হাসান
    মোস্তফা হাসান অামাদর চিরন্তন বাস্তবতাকে নতুনভাবে বলাটা অাকষণ করে। শুভকামনা।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ২ জানুয়ারী
  • মৌরি হক দোলা
    মৌরি হক দোলা অসাধারণ গল্প... অনেক অনেক ভালোলাগা রইল...
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৩ জানুয়ারী
  • Farhana Shormin
    Farhana Shormin মন্তব্য করার জন্য মন্তব্য নয়। সত্যি দারুন হয়েছে। শুভকামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৩ জানুয়ারী
  • মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
    মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী শুরুতে মনে করেছিলাম ভুত-বিভ্রাট নিয়ে কিছু একটা ঘটে যাবে, কিন্তু গল্প শেষ করতে দেখি তারচেয়ে খুব ভয়ানক কষ্টের জীবন→ বৃদ্ধাশ্রম। যে ছেলেটা বুকের ভিতরে ধরে কত স্বপ্ন এঁকেছেন, লাশের খাটি দেখে বাসা ত্যাগ করেছেন..... অথচ সে ছেলেটাই আজ বউ, নাতি- নাতনী নিয়ে অস্ট্র...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৫ জানুয়ারী
  • খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি
    খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি কেন যে দীর্ঘশ্বাসটা ঠিক গলার কাছে এসে বড্ড ব্যথা দিচ্ছে! বেশ জোর করেই ব্যথাটা গিলে ফেলি।
    .....// অসাধারণ গল্প ....নিদারুণ বাস্তবতা...পরিচিত পুরাতন কাহিনী হলেও শক্ত হাতের লেখুনীতে নতুনত্বের স্বাদ পেলাম....শুভ কামনা রইলো সেলিনা আপা....মূল্যায়ন করে গেলাম....
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৮ জানুয়ারী
  • মোঃ মোখলেছুর  রহমান
    মোঃ মোখলেছুর রহমান অাবারও একটি অসাধারন গল্প পড়লাম।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৯ জানুয়ারী
  • সেলিনা ইসলাম
    সেলিনা ইসলাম সবাইকে অনেক অনেক আন্তরিক ধন্যবাদ। সবার জন্য রইল শুভেচ্ছা।
    প্রত্যুত্তর . ১৪ জানুয়ারী
  •  মাইনুল ইসলাম  আলিফ
    মাইনুল ইসলাম আলিফ দারুণ।একরাশ মুগ্ধতা রেখে গেলাম।শুভ কামনা আর ভোট রইল।আমার পাতায় আমন্ত্রণ।
    প্রত্যুত্তর . ২৩ জানুয়ারী

advertisement