লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসা (ফেব্রুয়ারী ২০১১)

ভালোবাসার ভাষা
ভালবাসা

সংখ্যা

pinzira khanom

comment ১১  favorite ৩  import_contacts ১,৬৭৮
১৯৭৯ সাল এইচ.এস.সি পাশ করেছি। আমার জীবন কেটেছিলো সেন্ট গ্রেগরিজে। ঐ স্কুলে পড়ায় আমি ইংরেজি ভাষা এবং আমেরিকানদের খুব ফান হয়ে যায়। হঠাৎ একদিন বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি চিরতরে চলে যায়। আমি ছিলাম বাবার বড় ছেলে তাই সংসারের দায়িত্বটা আমার মাথায় এসে পড়ে। ছোট একটি ভাই একটি বোন ও মাকে নিয়ে ছিলো আমার সংসার। আমি বাবা মরার পাঁচ মাস পরে আমেরিকায় পাড়ি জমাই। সেখানে দোকানে কাজ করি আর পড়াশুনা চালায়। এরপর ছোট খাটো একটা ব্যবসা দিয়। ক্রমে ব্যবসা বড় হয়। এর মধ্যে হঁঠাৎ রোজ নামের এক আমেরিকান মেয়েকে আমার ভালে লাগে। ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা এবং পরে বিয়ে করে সংসার করি। সুখের সংসারে আলো করে আসলো আমার মেয়ে, তারপর দুই ছেলে। আমি ছোট বেলা থেকে ইংরেজির সাথে যুক্ত হওয়ায় এবং স্ত্রী ইংরেজ হওয়ায় বাংলা ভাষার কোন মূল্যই আমার কাছে ছিলো না। আমি। আমি বাংলা ভাষাকে ছোট করে দেখতাম। হঠাৎ আমার সুখের সংসারে ঝড় বয়ে যায় গেল। একদিন বাইরে থেক এসে দেখি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে চলে গেছে আর লিখে গেছে আমি চলে যাচ্ছি। তোমাদের আমার আর ভালো লাগছে না। কয়েক দিনের মধ্যে ডিভোর্স লেটার পেয়ে যাবে। আমি এ ঘটনায় খুব ভেঙে পড়ি আর ডিভোর্স নামার শর্তানুযায়ী সন্তানদের জন্য মাসে মাসে খরচ পাঠায়। একবার আমি আমার সন্তানদের দেখতে গেলে তারা আমার সাথে কথা বলে না। এরপর দেশে এসে বাঙালি মেয়ে বিয়ে করি। ওকে বিদেশে নিয়ে চাকুরী দেয়, অর্থ উপার্জন করে আর বিদেশী কালচার দেখে সেও সুযোগ পেয়ে হাতিয়ে আমার সব সম্পত্তি নিয়ে চলে যায়। আর কোর্টের রায়ে বাকি যা ছিল সেগুল সে পায়। আমি নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসি। দেশে এসে প্রথমে ভাবতাম আমি কত কষ্টের একজন মানুষ। কিছুদিন পর আর একটি মেয়ে আমার জীবনে এল যে কিনা এই দেশকে জীবন দিয়ে ভালো বাসে। তার সংস্পর্শ এসে আমি বুঝতে শিখলাম বাঙালি মেয়েরা স্বামী সংসার কে কিভাবে আগলে রাখে। আসলে বাঙালি কালচারে চললে আমাদের জীবনে কোন দুঃখ আসে না। আমাদের প্রথাগুলো ভুলে গেলে চলবে না। আমি যে বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করতাম সেই ভাষাকে এখন আমি প্রাণ দিয়ে ভালো বাসি। বাংলা ভাষার ‘মা’ ডাকের উপর পৃথিবীর আর কোন ভাষা হতে পারে না। আজ আমি বুঝেছি। মধুসূদন কেন ফ্রান্সের নগরীতে বসে বাংলার জন্য আকুতি করে ছিল। উচ্চশিক্ষার শিক্ষা অর্জনের জন্য হোক আর টাকা উপার্জনের জন্য হোক বিদেশে যাওয়া ভালো। কিন্তু নিজেদের দেশকে ভুলে নয় নিজের দেশের মাটিকে পার করে নয়। বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করে নয়। কেউ যদি নিজের মা, মাটি, মাতৃভাষাকে অস্বীকার বা অসম্মান করে তবে সে তার নিজেকে অসম্মান করলো। আমার আজ কোন কষ্ট নেই। আমি বাংলাদেশে জন্মেছি বলে নিজেকে ধন্য মনে করি। আমার মতো ভুল যেন কেউ না করে। মনীষীদের সেই বাণী যেন আমার মেনে চলি- আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি পরে চাই ইংরেজি ভাষার পত্তন। তাহলে সমাজে কোন অশান্তি থাকবে না। এদেশে কিছু লোক অসৎ বলে দেশ কখনো খারাপ নয়। দেশের মাটি কখনো খারাপ নয় এই ভালোবাসা দিবসে আমার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা সেই ত্রিশ লক্ষ শহীদদের জন্য যারা এদেশকে স্বাধীন করেছে। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বাংলা ভাষায় বলতে- আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। আসুন আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। এই মাটিকে ভালোবাসি। মর্যাদা রাখি এ ভাষার।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement