যেথায় করছি বসবাস শহরে বা নগরে
নিত্যই ঘটনা ঘটে যাচ্ছে সব অদ্ভুতূড়ে
ভূত আছে কি নেই, তাতে কার কি আসে যায়
ব্যস্ত এই শহরে নাকি সবাই ভূতের দেখা পায়।
যত্তসব কান্ড সবই লাগে অদ্ভুতুড়ে ।

মধ্যরাতে মানুষ দেয় যদি শান্তির ঘুম
কখন যে কে হয়ে যায় অজান্তেই গুম।
গুম ঘটনা, আজকে অমুক কালকে তমুক
ঘটনা ঘটিয়ে সন্ত্রাসী গুটিয়ে হয় শামুক
মানুষ গুমের কান্ড কি নয় অদ্ভুতূড়ে!

রাস্তার মাঝখানে মানুষ কাতড়ায় খুনে লাল
খুন করে নেতার ছত্রছায়ায় লুকায় পঙ্গপাল
জনসম্মুখে তড়পিয়ে হায়! মরে মানুষ
হেঁটে চলে পাশ ঘেঁষে কারো নেই হুশ;
ব্যাপারখানা কি আজব অদ্ভুতূড়ে!

দরজায় খিল এঁটে শান্তির ঘুম ঘুমায় মা শিশুরা
তালা দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষন্ডরা
মায়ের মমতা সন্তানের ভালবাসা জ্বলে পুড়ে ছাই
সোনার দেশে এমনতরো হায়েনা সন্তান কেন পাই!
যেথায় বিচার নেই কোনো! কি অদ্ভুতূড়ে!

নগরের ফ্লাটে ফ্লাটে কত কান্ডই দেখি ঘটে যেতে
খবরে আসে স্বামীর স্ত্রীর লাশ পড়ে আছে মেঝেতে
রক্তের বন্যায় গোসল করে পালায় হায়েনারা
এহেন কান্ডগুলো বলুন ঘটায় কে বা কারা ?
ভাবেন তো ঘটনাগুলো নয় কি অদ্ভুতূড়ে!

টেলিফোন-বিদ্যুত বিল দিতে গিয়ে নাজেহাল
টাকা দিয়ে মিটিয়ে বিল জীবনের হাল টালমাটাল,
তো! পরের মাসে হাতে একখান বিলশীট
চক্ষু চড়কগাছ, মেজাজটা হয় খিট-মিট
হায় আল্লাহ! বিলবাজিটাও দেখি অদ্ভুতূড়ে!

বিল করেছেন টেন্ডারে এক দুই নয় তিন গুণ বেশী
অধিক ব্যয়ে নাকি স্ব-পরিবারে মোটা করবেন পেশী
ভৌতিক বিল করে পুড়লে নিজ পকেটে
বউ মোড়ালেন স্বর্ণের চুড়ি আর লকেটে,
আহ কি কান্ড কি কান্ড সবই অদ্ভুতূড়ে!

এক টাকা ব্যয় হলে বিলে লিখে দেন দশ
নীতি ছেড়ে গিলেন শুধু অবৈধ কড়ির রস
অফিস আদালতে, ব্যবসা কিংবা টেন্ডারে
দেখে যাই নিরবে উড়াও ন্যায়ের ঝান্ডারে!
কিছুই নয় শুধু লাগে সব অদ্ভুতুড়ে।

(এসব কিছুই নয় ভাই,
অবনতি অবক্ষয় নৈতিক
যত কান্ড ঘটে যায় যাক,
ভৌতিক সবই ভৌতিক।

দেশটা আমার তোমার
তবুও সম্পত্তি পৈত্রিক
তার সম্পদ আমার হয়
ভৌতিক সবই ভৌতিক।

দেশরে ভালবাসি শুধু
আবেগ দেখাই চৈত্তিক
তাই বুঝি লাগে সবই
ভৌতিক সবই ভৌতিক।

আসেন সবে আগে করি
নিজের ন্যায়-নীতি ঠিক
লাগবে না কিছুই তবে
ভৌতিক সব ভৌতিক।)