মাঝে মাঝে নিজের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে আমি বেশ ভাবুক হয়ে পড়ি,
কে আমি, পরিচয়টা ঠিক কিভাবে দেয়া উচিৎ?
আমি পিতার চোখে ধরণীর শ্রেষ্ঠ দুহিতা; সহজ, সরল, অমায়িক।
মায়ের দৃষ্টিতে আমি বোধহয় ঝর্ণার জলের মতন স্বচ্ছ!
প্রেমিকা হিসেবে হয়ত প্রেমিকার কাছে আমি বেশ রহস্যময়,
অজানায় ভরপুর এক জটিল উপন্যাস।
নিজের পরিচয় নিয়ে আমি নিজেই গুলিয়ে যাই ভেবে ভেবে,
আমি আসলে কেমন? আমার বৈশিষ্ট্যই বা কি!
সমাজের দৃষ্টিতে আমি একজন বাঙালি মেয়ে বা নারী,
যে প্রতিনিয়ত ডিঙিয়ে পার হয় ছোট বড় সামাজিক বাঁধাগুলো।
অথচ আমি তো সেই মানুষ হতে চেয়েছি,
নির্ভয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলা যার প্রাপ্য অধিকার।
খুব ভেবে আমি আবিষ্কার করি আমার নিজেকে,
আমি বোধহয় একজন সাধারণ বাঙালি রমণী।
আভিধান অনুসারে একজন সুন্দরী নারী কিংবা পত্নী,
বেঁচে থাকা অর্থে যে সুখ দুঃখ আর একরাশ স্বপ্নের মিলিত গল্প।
আমি কখনো স্বচ্ছ, কখনো জটিল, কখনোবা বেশ হিংসুটে,
আমি নারী, আমি রমণী, আমিই শক্তি ধরে রাখি হাতের মুঠে।
আমাকে আবিষ্কার করতে গিয়ে বারংবার থেমে যায় মহাকাল,
আমি রাত্রির মতন আঁধার, আমিই রৌদ্রজ্জ্বল নতুন সকাল।