বৈশাখের খররোদ্রে, আকাশ ছোঁয়া মায়ের পাঁজর থেকে
একটা চাঙ্গড় খসে, দ্বিখণ্ডিত হয়ে ছিটকে পড়লো তারই পায়ের নীচে;
তারপর গড়িয়ে গেলো শ্যামল উপত্যকার দুটো ভিন্ন ঠিকানায় -
সুনামিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুই সহোদরের মতো।

বৃষ্টির নিষাদ, নিষ্করুণ বল্লম ফোটাল ওদের গায়ে।
বন্যার অশান্ত পানিতে শ্বাস-রুদ্ধ হয়ে
ওরা একে অন্যের দিকে চেয়ে থাকলো অনুকম্পায়;
দৈবগ্রহে তবু, ওরা টিকে গেলো বর্ষার নিষ্ঠুর ছোবল।

শরতের স্বর্ণাভ রোদে ওরা খিল খিল করে হেসে উঠলো ঝর্না হয়ে;
হেমন্তের উদাসী হাওয়া ওদেরকে মনে করিয়ে দিলো মায়ের কথা।
বিচ্ছিন্ন দ্বীপে দাঁড়িয়ে ওরা নীরবে দু ফোটা অশ্রু ফেললো মায়ের জন্যে,
মাকড়সার জালের মতো বয়ে যাওয়া কাকচক্ষু-জল স্রোত-ধারায়।

অবশেষে, হেমন্তের সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ে নেমে এলো শ্বেত ভাল্লুক।
গাছ গাছালির বেড়াজাল ফাঁকি দিয়ে এক টুকরো নরোম আলো
এতটুকু উষ্ণতার পরশ বুলালো একটা পাথরে; আর
আরেক খণ্ড বন্দী হয়ে থাকলো হিমের নিষ্করুণ কারাগারে।

দেখতে দেখতে পয়মন্ত পাথরের গা ঘেঁষে
শীতের শাসনকে উপেক্ষা করে মেলা বসালো পাহাড়ী ফুলের রঙ্গীন সম্ভার।
পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা পরম আগ্রহে
উপভোগ করলো ফুল আর পাথরের অপার্থিব সৌন্দর্য।

আর, শীতের জঠরে বন্দী বর্ণহীন পাথরে, শ্যাওলার আস্তরণ পড়ে
সেটা সবুজ থেকে সবুজতর হতে থাকলো দিনে দিনে।



সিডনী ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২