প্রভু জানতেন, পৃথিবীর কোমল শরীর একদিন
উচ্চকিত হবে, মানুষের মুখর কল্লোলে -
তাই তিলোত্তমা করে তিনি গড়লেন বনভূমি।
স্বর্গের উদ্যান থেকে বিতাড়িত আমাদের আদিম পুরুষ
ঠাঁই পেয়েছিল সেই অরণ্যের অনাবৃত বুকে - সন্তানের স্নেহে।

তার পর কেটে গেছে কত কাল, কত লক্ষ নক্ষত্রের গান
ছুঁয়ে গেছে বহুবার পৃথিবীর শ্যামল ক্যানোপি।
সবুজে রচিত হল কত গান কত কাব্য গাঁথা,
প্রস্তরে খোদিত হল কত চিত্র, লেখা হল হাজার সিম্ফনি,
শ্যামের নিঠুর বাঁশী ব্যাকুল করেছে কত রাধিকার মন।

বয়সের ভারে ক্লান্ত পৃথিবীর বুকে শালিকের চঞ্চলতা আজ -
শাইলক হাতে নেয় ক্ষুধিত কুঠার, জুডাসের অস্থিরতা বাড়ে।
বিটোফেন নির্বাসিত, হোমারেরা একলব্য, রাধিকারা হত;
পৃথিবীর মাটি পোড়ে সীমাহীন লোভের লাভায়;
সবুজ বৃক্ষের শবে বেড়ে উঠে বর্ণহীন উটের মিছিল।

'ফিরে দাও সে অরণ্য, লহ এ নগর' - বলে হৃদয় গভীরে
পিতামহ কেঁদে উঠে, সবুজের আর্তি বুকে -
মরুর ধুসরে সেই পথহারা কাফেলার সারথির মত;
আদিগন্ত সমুদ্রের বুকে দূরবীন চোখে
সবুজ ভূমির জন্য লালায়িত নাবিকের মত।