প্রচন্ড রকম মেজাজ গরম নিয়ে ট্রেনের কেবিনে ঢুকলো জারিফ। রেগে মেগে ফোনে বলল,
-বৃষ্টি টৃষ্টি বুঝি না এক ঘন্টার মধ্যে পৌছাঁনোর ব্যাবস্থা করতে হবে।
ফোন কান থেকে নামাতে নামাতে খেয়াল করলো কেবিনের ভিতরে একটি মেয়ে ট্রেনের জানালার গøাস উপরে উঠানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন ভাবেই উঠাতে পারছে না। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় সবাই ট্রেনের জানালা লাগানোর চেষ্টা করে অথচ এই মেয়ে উঠানোর চেষ্টা করছে। মেজাজ খারাপের মধ্যে অত কিছু ভাবার ইচ্ছে হলো না জারিফের। নিজের সিটে বসে পড়ল সে। এমন সময় মেয়েটি বলল,
-প্লিজ একটু হেল্প করবেন? আমি জানালার এই গøাসটা কোনভাবেই উঠাতে পারছি না।
জারিফ কোন জবাব না দিয়ে এক ঝটকায় জানালার গøাসটা উঠিয়ে ছিটকিনিটা টেনে আটকায় দিল। মেয়েটি অনেক ধন্যবাদ বলে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁতে শুরু করল। বৃষ্টি ছুঁতে ছুঁতে বলল,
-বৃষ্টির পানি ছুঁতে আমার অনেক মজা লাগে। ছুঁবেন নাকি আপনি?
সাথে সাথে জবাব দিল ও, না।
-কোথায় যাবেন আপনি?
জারিফ প্রশ্ন শুনে মেয়েটির দিকে তাকাল। মেয়েটি অদ্ভুত সুন্দর। কিন্তু মেজাজটা এমনভাবে বিগরে আছে যেন সবকিছুই এখন অসুন্দর লাগছে ওর। তবুও স্বাভাবিক ভাবে জবাব দিল।
-রংপুর। আপনি।
-আমিও রংপুর যাব। কী নাম আপনার? আবার প্রশ্ন মেয়েটির।
-আমি জারিফ। আপনার নাম?
ঠিক সে সময় চা বিক্রেতার কেবিনে উপস্থিতি দেখা গেল। বলল, আপা আপনার চা।
মেয়েটি হাত বাড়িয়ে চা নিল। জারিফের দিকে তাকিয়ে বলল,
- চা খাবেন?
জারিফ এবার জবাবে হ্যা না কিছু বলল না। জারিফের জবাবের অপেক্ষা না করেই মেয়েটি চা বিক্রেতার উদ্দেশ্যে বলল,
-আর এক কাপ চা দেন।
জারিফ চায়ে চুমুক দিয়ে অন্যরকম এক অনুভূতি অনুভব করল। পুনরায় চায়ে চুমক দিতে দিতে জারিফ বলল,
- আপনার নাম কিন্তু বললেন না।
-সরি। আমার নাম সিমন। চা দেখে নাম বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। চা এমন একটা জিনিষ সামনে পেলে না খেয়ে উপায় নেই। চা তে আমার কখোনো না নেই। বলেই হিহি করে হাসতে থাকল সিমন।
জারিফ মুগ্ধ চোখে সিমনের হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। এক নিমিষেই যেন সকল রাগ উড়ে গেল মন থেকে। মনের আকাশে যেন ঝলমলে রৌদ্দুর খেলা করছে। মনের অজান্তেই ও ওর হাত ট্রেনের জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানি ছুঁতে থাকল। ট্রেনের জানালায় এক জোড়া হাত যেন বৃষ্টির পানিতে ঢেউ খেলছে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
ভালবাসা কি দারুণ এক অনুভূতি। মানুষের খারাপ লাগাকেও ভাল লাগায় পরিনত করতে তার জুরী নেই।
২০ নভেম্বর - ২০১৫
গল্প/কবিতা:
১৩ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি
“ ” সংখ্যার জন্য গল্প/কবিতা প্রদানের সময় শেষ। আপনাদের পাঠানো গল্প/কবিতা গুলো রিভিউ হচ্ছে। ১ , থেকে গল্প/কবিতা গুলো ভোটের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামি সংখ্যার বিষয় জানিয়ে দেয়া হবে।