ছোট্টবেলায় বড়রা ভয় দেখাতেন – ‘জুজু আসছে’ !
শুনে ছুট্টে পালাতাম তাঁদের পিছন ৷
বন্ধ হত সমস্ত বিচ্ছুগিরি ও দামালপনা,
বন্ধ হত খেতে না চাওয়ার গোঁ ৷
আরেকটু বড় হলে জুজুর স্থান কেড়ে নিল ভূত, প্রেত, জিন…
খপ্পরে পড়ে গেলাম অশরীরী ভাবনার;
অন্ধকারে একা থাকলেই চেপে ধরত অশরীরীর উপস্থিতির ভয়,
চেপে ধরত অজানা আতঙ্ক !

বোধের ঘরে ভয়ের সেই স্থায়ী ছাপ থেকে
আমি এখন মানুষকেই ভয় করি,
আর ভয় নামক আততায়ী মানুষের রূপ ধরে
আমার কাছে হয়ে ওঠে খুনি, ধর্ষক, চোর, ডাকাত,
ভেজালদার, ঘুষখোর, মানুষ বা তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাচারকারী,
আরও কত কী…

ভয়ের রূপ আছে বলেই ভয় শব্দটি সাকার কর্তৃক সৃষ্ট, এটা বুঝতেই -
খুলে পড়ল ছোট্টবেলায় আমার চোখে পরানো ভয় নামক ঠুলি 1

ভয়কে ধারণ করে এতকাল ঢিপঢিপ করে চলা বুক অবশ্য
কিছুতেই বুঝতে পারল না –
কী করে ভয় চোখ থেকে নেমে এসেছিল বুকে !