গল্পকবিতা ডটকম পরিবেশিত ‘সেরা গল্প ও কবিতা’ সংকলন নিয়ে কিছু কথা

আহমাদ মুকুল
২৭ ফেব্রুয়ারী,২০১২

অন্যপ্রকাশ প্রকাশনার ব্যানারে বহুল আলোচিত গল্পকবিতা সংকলন বেরুলো। বইটি হাতে নেয়ার সুযোগ হয়েছে। মোড়ক উন্মোচনের দিনই জেনেছি কার কার লেখা গেছে। আমাদের দু’জনের লেখা আছে, পছন্দের নবীণ প্রবীণ কয়েকজন লেখকের লেখা গেছে, খুব প্রিয় গুণী কিছু লেখকের লেখা যায় নি-সব মিলিয়ে আনন্দ হতাশার মিশ্রন। লেখা নির্বাচন, নির্বাচিত লেখার সংখ্যা ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সেগুলো কর্তৃপক্ষের ব্যাপার ধরে নিয়ে আলোচনায় যাচ্ছি না।

 

‘‘গল্পকার ও কবিদের সৃজন ধারায় স্বাগতম’’- এই সংকলনের দু’জন সম্পাদকের মুখবন্ধের শিরোনাম এটি। এখানে বলে রাখি, গল্পকবিতা.ডট.কম আযোজিত লেখা প্রতিযোগিতার অন্যতম দু’জন বিচারক জনাব মনি হাযদার ও মোমিন রহমান সম্পাদনার গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। ভূমিকাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। জানার আগ্রহ ছিল, কীভাবে নব্য লেখকদের লেখা পাঠক সমাজে তুলে ধরা হয়।

 

গল্পকবিতা সাইটে বিষয়ভিত্তিক লেখা হয়। তার উপরই প্রতিযোগিতা। সৃজনশীলতা, মনন, ভাষাশৈলীর পাশাপাশি বিষয়বস্তুতে থাকার কঠিন শর্তের মধ্যে থেকে লেখক/কবিদের লিখতে হয়েছে। বিষয়বস্তুতে আবদ্ধ থেকে উন্নত রচনার সব শর্ত পূরণ যে কতটা কষ্টকর লেখকমাত্রই জানেন। বিষয় দিয়ে প্রতিযোগিতা হয়, কিন্তু লেখকের মুক্ত সৃজন হয়না। নতুন লেখক সৃষ্টির জন্য বিষয়বস্তু দিয়ে লেখা আহবানের একটা যুক্তিও আছে। এ কথাগুলো ভূমিকাতে থাকলে লেখকদের প্রতি সুবিচার হতো। যদিও কবিতার ক্ষেত্রে মুখবন্ধের শেষদিকে এ ব্যাপারে কিছুটা বলেছেন।

 

কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুখবন্ধে গল্পকবিতা.কম এর লেখক-কবিদের মান নিয়ে, তাদের লেখার উচ্চতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ রয়েছে। তা্ও আবার একেবারে প্রথম পাতায় । যে কেউ এটা পড়লে ভেবে বসতে পারেন- কোন কট্টর সমালোচকের পুস্তক সমালোচনা বোধহয় এটি। সমালোচনা, দূর্বলতা তুলে ধরে পরামর্শ সবসময়ই আকাঙ্খিত। কিন্তু সম্পাদক(গণ) যখন এগুলো বলেন, তখন মনে হয় যেন বিক্রেতা তার পণ্যের গুণাগুণের চেয়ে দোষগুলোই বেশী বলছেন।

 

আলোচনার প্রেক্ষিতে সম্পাদকগণ কী কী বলেছেন তার কিছু অংশ তুলে ধরা আবশ্যক।  “…..আমাদের ধারণা ছিল-ইন্টারনেট আধুনিক সময়ের শ্রেষ্ট বাহন, যারা এই মাধ্যমে লেখালেখি করেন, তারা সময়ের চেয়ে বেশী এগিয়ে থাকবেন। যারা এখন ইন্টারনেট সময় বলয়ের গল্পকার, কবি- তাদের লেখা নিশ্চয়ই স্মার্ট, আধুনিক আর চৈতন্যে গভীরতর হবে।…..যত দিন যেতে লাগল, ইন্টারনেটে পাওয়া গল্প-কবিতা পড়ে দেখে খুব যে আনন্দ পেয়েছি, আশাবাদী হয়েছি এমন বলতে বা লিখতে পারছি না। এ পর্যন্ত বহু গল্প-কবিতা পাঠ করেছি। চেতনায় নতুন করে নাড়া বা সাড়া দেয়ার মতো গল্প বা কবিতা উঠে আসে নি।’’ ….এখানে সম্পাদকগণের বয়ানে অনলাইন লেখালেখির প্রতি প্রচ্ছন্ন বিষোদগার পরিলক্ষিত হয়। সেটা নাহয় তাদের ব্যক্তিগত অভিমত। দুই ঘরাণার লেখকের মধ্যে চিন্তার বিভেদ থাকতেই পারে, বিতর্কের অবকাশ আছে। যদিও্ অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন আর প্রথাগত সিস্টেমের লেখক এখন কিন্তু মিলেমিশে একাকার। তবে আমাদের প্রশ্ন এখানে, সম্পাদক যদি বলেন এখানে চেতনায় সাড়া কিংবা নাড়া দেয়ার মত গল্প নেই, তবে পাঠক এ বই পড়বে কেন? সম্পাদকগণ কেনইবা পাঠককে মানহীন লেখা তুলে দেবেন? সেক্ষেত্রে বিচারক আছেন সেটি অন্য বিষয় কিন্তু নিজের বোধের বিরুদ্ধে এমন একটি বই কেনইবা তিনি/তারা সম্পাদনা করতে সম্মত হলেন?

 

‘‘এখানে অংশ নেয়া গল্পকার বা কবিরা সমকালীন লেখকদের লেখা পড়েন, আমাদের মনে হয় না। আর পাঠ করলেও তা চেনা ও জনপ্রিয় লেখকদের অল্পকিছু লেখাতেই সীমাবদ্ধ। এতে আর যাই হোক একজন নিবেদিতপ্রাণ লেখক হয়ে ওঠা যায় না।’’ গল্পকবিতায় চার হাজারের উপর গল্প-কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। বিচারকগণের কাছে পাঁচ ছয় শ’য়ের বেশী যাওয়ার কথা নয়। অনেক ভাল লেখা পাঠকদের ভোটে সেরা পঁচিশে যায় না বলে বিচারকের হাতে পৌঁছে না। আবার অনেক গুণী লেখক তাদের লেখা ভোটের জন্য উন্মুক্ত রাখেন না। পুরো সাইটের অল্পকিছু লেখা পড়েই এ ধরণের চূড়ান্ত কমেন্ট ভয়ানক অবিবেচনাপ্রসূত বলে মনে হয়েছে। তার উপর একজন লেখকের লেখা পড়ে তার ব্যক্তিগত পাঠাভ্যাস সম্বন্ধে মন্তব্য করাটা শোভনীয় নয়। এই অশোভন আচরণটি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। বিষয়টা এমন- একজন লেখক মনে করি দশজন লেখকের বই পাঠ করেছে। তারপর তিনি যখন একটি গল্প লিখলেন সেখানে সেই দশজনের ছাপ এলোনা, কোন একজনের ছাপ এল। তার মানে কি সে কেবল ঐ একজনের লেখাই পড়েছে? আবার যদি কারও ছাপ না এসে নিজস্ব একটা স্টাইল চলে আসে লেখায় (যেটা ভাল বা মন্দ দুইই হতে পারে), তার মানে কি লেখক অন্য দশজনের বই পড়েনি? এমন অদ্ভুত মনোভাব কেন সম্পাদকদের?

 

‘‘……………খুন হতে বা খুন করতে না পারলে লেখালেখিতে না আসাই ভাল। ….গল্পকবিতা ডটকমের লেখকেরা পাঠ করেন না আমাদের চিরায়ত ও শ্রেষ্ঠ গল্পকারদের গল্প, কবিদের কবিতা। পাঠ করলে তাদের লেখায় অবশ্যই তার মোচড় থাকত। থাকত আঁচড়। রাখতো দাগ।’’ মাঝে মাঝেই তাদের এ জাতীয় মন্তব্য পড়ে হতবুদ্ধি হয়েছি, তারা এই সাইটটির নেতিবাচক প্রচারণা করছেন, নাকি লেখকদের! অবাক হয়েছি, গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই প্রচারণা(!) ভাষ্য দেখেছেন কি না। একজন নবীন লেখককে ডিমোটিভেট করার মত এইসব উক্তি খুবই কষ্টদায়ক, হৃদয়বিদারক। যোগ্য সম্পাদক/বিচারকের কাছ থেকে এমনটি নবীন লেখক/কবিগণ অবশ্যই প্রত্যাশা করেনা। বিশিষ্ট গল্পকার/লেখকদের লেখা নব্য লেখককে অনেক কিছু শেখাবে। তাই বলে তার আঁচড়, মোচড় কেন থাকতে হব, কেন অনুকরণ করতে হবে, এটা আমাদের বোধগম্য নয়। বিচারকগণ লেখকদের নিজস্বতা কেন বিচার করছেন না? নাকি তারা নিজেরাই প্রথাবদ্ধ? আধুনিক সাহিত্য কিন্তু প্রথাহীন বহু দিকে মোড় নিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যে।

তাছাড়া তারা বলেছে প্রায় বছরখানেক আগে তারা বিচারক নিযোজিত হয়েছেন, কথাটা ঠিক না। প্রথম কয়েকমাস কোন বিচারক ছিলনা। সে সময়ের প্রচুর ভালো এবং মান সম্পন্ন গল্প তারা হয়তো পড়ার সুযোগই পাননি। তখন পাঠক ভোটের ভ্রান্তির কারনে অনেক ভালো লেখা সামনের সারিতে আসতো না।

 

এসব গেল সাধারণ মন্তব্য। এবার আসি ১৩টি গল্পের সার-মন্তব্যে। উল্লেখযোগ্য মন্তব্য- একটি গল্পেরে ক্ষেত্রে বলেছেন‘ “….গল্পের আখ্যান মনঃসমীক্ষায় পরিপূর্ণ।” আরেক গল্পের জন্য বলেছেন, “…পাঠ করতে করতে নিজের চোয়ালই একসময় শক্ত হয়ে ওঠে।” তাহলে দেখা যায়, একটা দুটো গল্প তাঁদের নাড়া দিয়েছে!!!

 

কবিতার ক্ষেত্রে আলাদা মূল্যায়ন- ‘‘….কবিতার যে নিজস্ব চরিত্র, ছন্দ, শব্দের আধুনিক বর্ণায়ন, উপমার নিঁখুত প্রয়োগ, নিটোল রস, যা থাকলে একটি কবিতা প্রকৃত কবিতা হয়ে থাকে, অধিকাংশ কবিতায় সে সবের উপস্থিতি নেই। এক ধরণের ফেনানো আবেগের সঙ্গে কিছু শব্দের সমাবেশ মাত্র অধিকাংশ কবির কবিতা। সম্ভবত কবিদের আধুনিক কবিতার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই….।” গল্পকবিতায় আধুনিক চিন্তার কবি নেই, কবিতা আসছে না-মানতে পারি না। বরং অনেক সময়েই কবিতা বিচারের মানদণ্ড নিয়েই পাঠক সমাজে প্রশ্ন উঠেছে। বিচারকদের কাছে তাদের লেখা আধুনিক কবিতার উদাহরণ চেয়েও অনেক সময় ক্ষুব্ধ কবিগণ সাইটে পোষ্টও দিয়েছেন। আমাদের ব্যক্তিগত অভিমত, সংকলনে যে সকল কবিতা স্থান পেয়েছে এর চেয়েও আধুনিক সুন্দর কবিতা সাইটে পাঠ করার সুযোগ হয়েছে। গল্পের ক্ষেত্রেও একই অভিমত।

 

সাইটের অভ্যন্তরে লেখকদের গঠণমূলক সমালোচনা হতে পারে। বিচারকগণ তাদের সীমাবদ্ধতার মাঝে মন্তব্য করুন, আপত্তি নেই। লেখকদের মধ্যে জেদ সৃষ্টি করার জন্যও কটাক্ষ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে একটি প্রকাশনা, এটি একটি কট্টর দলিল,  যেটি ‘গল্পকবিতা ডটকম’ এর প্রচার প্রসারে কাজ করবে, সেখানে এ ধরণের বক্তব্য কেন? নব্য লেখকদের লেখা একটি নামী প্রকাশনীর মাধ্যমে পাঠকদের কাছে আনার সময় তাদের গুণগত, অভ্যাসগত বিষয় নিয়ে কল্পিত কথন কেন? তদুপরি নেতিবাচক ভঙ্গিতে অনলাইন লেখালেখিকেই এখানে টেনে আনার কারণ কি?

আমার মনে হয়েছে, সম্পাদকদের মহান বাণী পড়লে সচেতন পাঠক আর এই বইটি পড়তে আগ্রহবোধ করবে না। তার পাশাপাশি ‘গল্পকবিতা ডটকম’-এ প্রবেশ করে সাইটটি দেখতে আগ্রহ হারাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে ভেবে দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

 

 

আহমাদ মুকুল

এবং

মামুন ম. আজিজ

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
কনিকা রহমান গল্প কবিতা.কম-এর এমন আচরণে মর্মাহত হলাম ....
নিরব নিশাচর অনেক কিছুই বলার ছিল তবে বেমানান হবে বিধায় বললাম না.. অন্যপ্রকাশ সহ গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে আরো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিবে বলে আশা রাখছি.. যদি কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা থাকে এই সাইটকে এমনই হালকা ভাবে চালানোর, তাহলে নিশ্চই আমরা অনেকেই আমাদের জীবনের ভারী সময়টুকু এখানে দিতে আসব না..
আশিক বিন রহিম kobira kolom soynik. tara ba tader acro annaer kace kokhono matha noto koreni ar korbeo na. mukul vai o mamun vai, Donnobad apnadar..
প্রজ্ঞা মৌসুমী মৈত্রেয়ী দেবীর প্রথম বই প্রকাশ হয় উনার ১৯তম জন্মদিনে। 'ন হন্য'তে লিখেছিলেন "জন্মদিনের দিন বাংলাদেশের সমস্ত খ্যাতনামা সাহিত্যিকরা এসেছিলেন।" শুধু রবীন্দ্রনাথ দেশে ছিলেন না, আসতে পারেননি। সেই ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়েই তিনি কিংবদন্তী বাংলা সাহিত্যিক আর পরবর্তী সাহিত্যিকদের নিয়ে বলেন,"এখনকার সঙ্গে একটা তুলনা আমার মনে আসে, এখন যাঁরা ইনটেলেকচুয়াল বলে খ্যাত তাঁদের উন্নাসিকতা মনে হয় অনেক বেশি। অল্পবয়সী ছেলেরাও কেউ অমুক কাগজে লিখছে, কেউ অমুক প্রাইজ পেয়েছে, ব্যাস তাদের সামনে এ বয়সেও ভয়ে আমরা মাথা তুলতে পারিনা। ব্যতিক্রম যে নেই তা নয় তবে তারা ব্যতিক্রমই। আমিতো আজ রীতিমত হীনমন্যতা রোগে ভুগি কারণ পুরনো হয়ে গেছি। কিন্তু সেদিন এইসব প্রসিদ্ধ সাহিত্যিকরা যাঁরা জ্ঞানে গুণে বয়সে আমার চেয়ে অনেক বড়, তাঁদের ব্যবহারে এতটুকু অবজ্ঞা দেখতে পাইনি। আমার বাবা যে এইটুকু একটামেয়েকে নিয়ে বাড়াবাড়ি শুরু করেছেন তাতেও কেউ তাচ্ছিল্য ভাব দেখাচ্ছেন না। তাঁরা খুব খুশি তুষ্ট ও তৃপ্ত। তাঁরা আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন যেন সহযাত্রীকে গাড়িতে তুলে নিলেন।" নতুনদের্র প্রতি উনাদের মনোভাব মুগ্ধ করে। একটা উপমা দিতে ইচ্ছে করছে, পৃথিবীর সেরা ফুটবলারদের খেলা সারাবছর দেখেও কেউ দাবী করতে পারেনা আমি ফুটবল শিখে গেছি...মাঠে নামতে হবে...আবার ভালো খেলোয়ার থাকলেও দল শক্তিশালী হয়ে যায় তা নয়। দলের দরকার দক্ষ কোচ। যে প্রতিটা খেলোয়ারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে তৈরি করে, নতুন টেকনিক হাতে-কলমে শেখায়। এই কোচই দূর্বল দলের চেহারা বদলিয়ে দেয়। এটাকে বলে গাইড। সায়ীদ স্যারকে ভালো লাগে কারণ তিনি সবসময় কিছু না কিছু মাথায় তুলে দেবেনই কাজে লাগানোর জন্য। শুধু পড়লেই কাজ হবে বলবোনা, আমাদের সাহিত্যিক বিষয়ক আলোচনা, কর্মসূচী বা ওয়ার্কশপে যোগ দেয়া উচিত। আমি একবার গিয়েছিলাম ভালো লেগেছিল। বন্ধুমেলার আড্ডাতে সাহিত্যিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষকদের আনার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়...অনেক কিছু শিখতে পারবো আমরা।
প্রজ্ঞা মৌসুমী সেরা ফুটবলারদের খেলা সারাবছর দেখেও কেউ দাবী করতে পারেনা আমি ফুটবল শিখে গেছি...মাঠে নামতে হবে...আবার ভালো খেলোয়ার থাকলেও দল শক্তিশালী হয়ে যায় তা নয়। দলের দরকার দক্ষ কোচ। যে প্রতিটা খেলোয়ারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে তৈরি করে, নতুন টেকনিক হাতে-কলমে শেখায়। এই কোচই দূর্বল দলের চেহারা বদলিয়ে দেয়। এটাকে বলে গাইড। সায়ীদ স্যারকে ভালো লাগে কারণ তিনি সবসময় কিছু না কিছু মাথায় তুলে দেবেনই কাজে লাগানোর জন্য। শুধু পড়লেই কাজ হবে বলবোনা, আমাদের সাহিত্যিক বিষয়ক আলোচনা, কর্মসূচী বা ওয়ার্কশপে যোগ দেয়া উচিত। আমি একবার গিয়েছিলাম ভালো লেগেছিল। বন্ধুমেলার আড্ডাতে বা সংঘঠনের উদ্যেগে সাহিত্যিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষকদের আনার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়...অনেক কিছু শিখতে পারবো আমরা।
মামুন ম. আজিজ মৈত্রয়ী দেবী..১৯ বছর বয়সে কি লিখেছিলেন ন হন্যতে?..এটা কি সঠিক ?
প্রজ্ঞা মৌসুমী মামুন ভাই, প্রথম বই কবিতার ছিল,নাম 'ভাসিতা'। সেটা ১৯৩০'র দিকে আর 'না হন্যতে' (অনেকটা আত্নজীবনী) লিখেছিলেন বোধহয় ১৯৭২ এ।
Md. Akhteruzzaman N/A সংকলনটি সংগ্রহ করতে পারিনি বিধায় এখনো পড়া হয়নি| কিন্তু আমাদের দুই গুণী ব্যক্তিত্বের (জনাব আহমাদ মুকুল এবং জনাব মামুন ম আজিজ সাহেব) এই বিশ্লেষণ ধর্মী লেখাটি পড়ে যতটুকু উপলব্ধি করেছি তাতে আমি খুবই হতাশ এবং মর্ম যাতনা অনুভব করছি| অনেক ক্ষেত্রেই বইয়ের মুখবন্ধে পাঠক আকৃষ্ট করতে তুচ্ছকেও বিশাল করে দেখানো হয়| আর এই সংকলনটিতে তিলকে তাল না করে হলেও অন্তত কিছু আশা জাগানিয়া শব্দমালা থাকলেও বোধ হয় তা আমাদেরকে বা গল্পকবিতার নবীন লেখকদের অনুপ্রেরণার সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকত|
আনিসুর রহমান মানিক উপরের বর্ণনামতে মুখবন্ধে যদি এসব লিখা থাকে ( যেহেতু আমি এখন ও বইটি দেখিনি ),তাহলে বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে / কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার দাবি জানাচ্ছি / মানহীন (?)লেখা দিয়ে সংকলন প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তাই বা কতটুকু ?
আনিসুর রহমান মানিক এতে কে লাভবান হলো -লেখক,পাঠক নাকি ......./
আনিসুর রহমান মানিক সেরা গল্পগুলো যদি মান সম্মত না হয়ে থাকে তাহলে এই সাইটে যে কিসব লেখা প্রকাশ পাচ্ছে !
বিন আরফান. N/A দুঃখ পেলাম ! ভেবেছিলাম অন্য প্রকাশে সময় হলে যাব. তাদের হ্যায় মনোভাব দেখে তাকে বয়কট করলাম. বইটিও সংগ্রহ করলাম না. এতে কষ্টই বাড়বে. বাছাইকৃত লেখা নিয়ে এরূপ মতামত, তাহলে আমার মত আরো দুই চারজন জনপ্রিয়দের অবস্থান জিরো. হাহাহা.
মামুন ম. আজিজ বয়কটা করার জন্য কিন্তু আমাদের এই নিবন্ধ লেখা নয়। এগ্রিসিভনেস সবক্ষেত্রে কেনো দেখাও। কিছূ জমা রাখ। সময় মত কাজে লাগাতে পারবে।
স্বর্ণলতা যাই বলুন না কেন মুকুল ভাই, আমি কিন্তু সম্পাদক মহোদয়ের সাথে একমত। ঐ বইতেই শুধু নয়, পুরো গল্পকবিতাতে এখন পর্যন্ত যারা লিখছেন তাদের মধ্যে হাতে গোনা কেবল এক থেকে দুজন ছাড়া বাকি সবার লেখাই একেবারে না হলেও অখাদ্য বলা চলে। সমস্যা হচ্ছে এই সত্যটা মেনে নেয়ার মত মানষিকতা লেখকদের নেই। আর সম্পাদকরা ঐ সব লেখা পড়ে যা সত্য তাই মন্তব্য করেন। তা করাও উচিৎ। সত্য না বলে শুধু শুধু মিথ্যা বললে এতে লেখকদের উপকার না হয়ে অপকারই বেশি হবে। মনে রাখবেন, সাহিত্য এমন এক জায়গা যেখানে ভাল বলে উৎসাহ দেয়ার চাইতে মন্দ বলে জিদ চাপিয়ে দেয়াটা অনেক বেশি কাজের। একদিন এই কথার মর্মার্থ বুঝবেন ভাই। ততদিনে আমাকে আবার ভুল বুঝবেননা।
পাঁচ হাজার ভাই অথবা বোন স্বর্ণলতা, আপনি অনেক জ্ঞান গর্ভ(?) কথা বলেন। আপনার জ্ঞানের পরিধি মাপতে গুগুল আর্থের প্রচেষ্টাও সফল হবে না। আপনি অনেক বড় হয়েছেন এখনও নিশ্চয় স্নান করেন? সেখানে নিশ্চয় আপনার কাপড় বদলাতে হয়? চলে আসুন না জনপূর্ণ ঢাকা স্টেডিয়ামে স্নানের পরে আপনার প্যান্ট সবার সামনে খুলে বদলে ফেলুন যেমনটা আপনি আপনার আবদ্ধ স্নানাগারে করে থাকেন অহরহ। সুস্থ মস্তিস্কের হলে আপনি তা পারবেন না। আর আপনার কাছে পান্তা ভাত অখাদ্য হলে পরেও বালাদেশের ৭০ভাগের উপর মানুষের নিত্যদিনের নাস্তা এটা। যেখানে গল্পকবিতার সংকলনের নামই দেয়া হয়েছে সেরা গল্পকবিতার সংকলন সেখানে এমন একটা আরটিক্যাল লেখা কতটা স্ববিরোধী এটুকু বুঝার মানসিকতা আপনার মত মানুষের কোন কালেই হবে না। এখানে প্রতিযোগীতাটা শির্ষেন্দু, সুনীল, রবীন্দ্র নাথ আর নজরুলের সাথে হচ্ছে না। হচ্ছে নতুনদের মাঝে। যে আলোচনা এই সাইটে হতে পারে সেটা ছাপানো বইয়ে আসতে পারে না। আগামী সংখ্যায় আপনার হাতের লেখা একটা সুখাদ্য গল্প অথবা কবিতা আশা করব। একটু জানতে ইচ্ছে করছে আপনার সাহিত্য জ্ঞান সম্পর্কে। ভাল থাকবেন
Azaha Sultan স্বর্ণলতাকে বলছি-- ''জীবনে জীবন হোক সুন্দর- মরণে মরণ//আর কী আমি রেখে যাই কাঁদতে ভুবন//'' এ লাইন দুটো একটু ব্যাখ্যা করে দিন ত, আমি কী বুঝাতে চাচ্ছি? খুব সহজ বাক্য কিন্তু। আপনার যুক্তি ঠিক আছে- মানলাম। ‌‌''রবীন্দ্রনাথ যেখানে বলেছেন, কবিতা যে লেখে মর্মার্থ তার কাছে স্পষ্ট......অন্যে বুঝার সাধ্য নেই।'' কবি আকাশ-পাতাল, শাকপাতা লিখেছে ঠিক কিন্তু তা দিয়ে কী বুঝাতে চাচ্ছে আমার কাছে স্পষ্ট নয়.....তা হলে? অখাদ্য ত বটে.....মনে করেন, একজন লোক একটি কাজ করতে গিয়ে ঐ জিনিসটা নষ্ট করে ফেলল; তাকে যদি কঠোর ভাষার ভর্ৎসিত করা হয়, তার কি ঐ কাজে আর মন স্থির হবে? রীতিমতো ভয়ে সে আগ্রহটা হারিয়ে ফেলবে না?... জিদ দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায়, উন্নতি জয় করা যায় না। আমি একটু যুক্তিবাদী.....তাই......ভুল বললে ক্ষমা চাই.....ধন্যবাদ...
Lutful Bari Panna স্বর্ণলতা এ সাইটে বেশীরভাগ লেখকই ভাল লেখেন না এই সত্যটার সাথে আমি একমত। আবার আপনার মত হাতে গোণা এক দুজন লেখক এই সত্যটার সাথে পরিপূর্ণভাবে দ্বিমত। আপনি আমাকে দায়িত্ব দেন এই সাইটের সবগুলো লেখা থেকে সেরা সংকলন তৈরী করার আপনি স্রেফ অবাক হয়ে দেখবেন যে সংকলনটি বের করা হয়েছে তার সাথে সেটার গুণে ও মানে কতটা তফাৎ। অথচ সেখানে কিন্তু সেই পুরোনো লেখকেরাই থাকবেন। হয়ত সংগে আরো কিছু মুখ যুক্ত হবে। এবং লেখা গুলো এই সাইট থেকেই আমি সংগ্রহ করব অন্য কোথাও হাত পাতব না। আপনি চাইলে আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেন।
Lutful Bari Panna আপনার নিজ বক্তব্যের প্রতি যদি আপনার এতই আত্মবিশ্বাস থাকে তাহলে এখানে এসে আমার চ্যালেঞ্জটি নিন। আমরা প্রাথমিকভাবে একটা ইবুক বের করে ফেলি। আর যদি সে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকে তাহলে সবার সামনে এসে ক্ষমা চেয়ে চলে যান।
স্বর্ণলতা আমি ভাল কে নয় ভাই, মন্দকেই মন্দ বলার কথা বলেছি। সহজ কথা। সহজভাবে বুঝলে বুঝে নিন। না বুঝলে নাই। অহেতুক তর্ক করা আমার স্বভাব নয়।
আহমাদ মুকুল প্রিয় স্বর্ণলতা, নতুন নতুন লেখা বেরিয়েছে। আপনার অপছেন্দের জায়গাটি ছেড়ে লেখার পাতায় ঘুরুন।
স্বর্ণলতা পান্না ভাই, হার মানলাম। ক্ষমা চাইলাম। ক্ষমা করুন ভাই।
স্বর্ণলতা তাই নাকি মুকুল ভাই? কেউ স্বাধীনভাবে ঘোরাঘুরি করলে তার পিছু লাগাটা কি ঠিক? আচ্ছা আমরা কেমন মানুষ বলেন তো? কেউ সত্যটুকু বললে, আর তা যদি হয় নেগেটিভ, তবে মানতে কেন আমাদের এত কষ্ট হয়? এমনটি হতে থাকলে আমরা শিখবো কিভাবে? ভয়ে কে আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে আসবে?
আহমাদ মুকুল আপনিই এই কাজটি করছেন না কেন? দুয়েকটা লেখা পড়ে ভাল/খারাপ দিক দেখিয়ে দিন না। আমার নিজের লেখায়ও যেতে পারেন, যুক্তিগ্রাহ্য সমালোচনা করে আসুন, মাথায় তুলে রাখবো।....আপনি এই পোস্টের মূল সূরটি ধরতে পারেন নি, নাহলে এড়িয়ে গেছেন। এখানে মূলতঃ বলা হয়েছে, সংকলনের লেখা পছন্দ না হলে সংকলন প্রকাশ করা কেন? পাঠকের হাতে দূর্বল লেখা তুলে দেয়া মানে লেখক-পাঠক দুপক্ষের সাথেই প্রতারনা নয়?
Lutful Bari Panna ধন্যবাদ স্বর্ণলতা। তবে আপনাকে যেহেতু ভাল একজন ক্রিটিক মনে হচ্ছে মুকুল ভাইয়ের প্রস্তাবটা একটু গ্রহণ করেন না। আপনার মত ক্রিটিক যদি ঢালাওভাবে সব খারাপ লেখে বলে যান সেটা ঠিক মানানসই হয় না। প্রজ্ঞাকে দেখছেন তো- প্রত্যেকটা লেখার মেরিট অনুসারে সামালোচনা করে যাচ্ছে। বাইরে থেকে এসে বড়বড় কথা বলে গেলে সেটা ঠিক নেয়া যায় না। এত কিছু বোঝেন- আর এটুকু বোঝেন না। হয় আপনি এখানে গল্প কবিতা লেখেন, আপনার অমূল্য সাহিত্য পড়ে আমরা উপকৃত হই নয়ত যে দায়িত্ববোধ আপনি এখানে দেখালেন সেটা একটু লেখায় লেখায় ঘুরে দেখালে ভাল হয় না কি বলেন? হুট করে এসেই বলবেন কেউ কিছু লিখতে পারে না, তাহলে তো হবে না। একটু কষ্ট স্বীকার করেন। নয়ত লেখার মান নিয়ে যে পেরেশানিতে আছেন- তাতে তো আমারো আপনার মত বলতে ইচ্ছে করছে... আহারে আহারে.. বেচারা... সাহিত্যের এই অধঃপতন দেখে ওনার তো ঘুমই আসছে না। আহারে...
মিজানুর রহমান রানা ভেবেছি সব ধরনের মন্তব্য থেকে আমি নিজকে প্রত্যাহার করবো। কখনও আর মন্তব্যে যাবো না। তবে, একটি কথাই জানিয়ে যাই। আপনারা যারাই এখানে আলোচনা করেছেন, সেগুলো আমাদেরই মনের কথা। আমার মনে কোনো দুঃখবোধ নেই। তবে যারা ভালো লেখে তাদের প্রকৃত মূল্যায়ন না হলে একটা দুঃখবোধ থেকেই যায়। আর এ দুঃখবোধ ও জেদ থেকেই সৃষ্টি হয় নতুন কিছু। আমরা সেই নতুন কিছু ইতোমধ্যেই করে ফেলেছি। তাই আমার মনে কোনো দুঃখবোধ নেই। আমি সুখী, আমি সুখী। আমি সুখী।
মনির মুকুল আমার একটা অভ্যাস আছে। জানি না এটা ভালো না মন্দ। অভ্যাসটা হলো- আমি কোনো বই সংগ্রহ করলে ভূমিকাটাই সবার আগে পড়ি। গতকাল সংকলনটা হাতে পাওয়ার পর সেটাই করা হয়েছিল। আমার শ্রদ্ধাভাজন দুইজন মানুষ আহমাদ মুকুল ও মামুম ম. আজিজ ভাইয়ের সম্মিলিত মতের এই লেখাটা পড়ে মনে হয়েছে তারা যে দিকগুলোতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুক্তিসঙ্গত। আমার ব্যক্তিগত মতও এই আলোচনার পক্ষে।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "রহস্য”
কবিতার বিষয় "রহস্য”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মার্চ,২০২৬

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।।

জানুয়ারী ২০২৬ সংখ্যার বিজয়ী কবি ও লেখকদের অভিনন্দন!i