জনপ্রিয় পত্রিকা "দেশ" এ এ যাবত কালে অনেক জনপ্রিয়, অনেক নবীন কবি লিখেছেন। কেউ কেউ একটা ধারা তৈরী করেছেন। কেউ কেউ সেই ধারা ভেঙ্গে নতুন করে কিছু করার চেষ্টা করেছেন। তাদের প্রত্যকের লেখার সাহিত্য মান প্রশ্নাতীত। সে "দেশ" পত্রিকার (১৯৮৩-২০০৭) এর একটি সংকলন এখন আমি পড়ছি। আর ইচ্ছে হলো বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি সেগুলো। পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু ভালো লেখা নিয়মিত এখানে প্রকাশ করার চেষ্টা করবো। এটি শুধুমাত্র এখানের কবিদের কিছু জানার উদ্দেশ্যেই প্রকাশ করা হচ্ছে। 

 

স্বগতোক্তি

   অনিতা অগ্নিহোত্রী 

 

আদরি নারকেল গাছ            আর দেখবো না

তোমার কেশরে

কেমন চিকন রোদ ঠোঁট ঘসে

দেখব না উজ্জ্বল ফুলেরা কেমন

আলো দিয়ে

ক্রমাগত অন্ধকারে হেঁটে চলে যায়...

ছ'টার ঘন্টার শব্দ আকাশে টাঙ্গিয়ে দেবে

বিষন্ন ঘড়িটি...

অনেক আগেই তার বন্ধ করে দিয়ে যাব

দৃষ্টির জানালা

শাশ্বতী পাখিটি এসে নিয়ে যাবে কাঠ, কুঠো, কাঠি

রোজকার;

শ্মশানবন্ধুর মতো কাতর গাছেরা,

লাল সুর্যে হাত রেখে আগুন পোহাবে,

ঝিরিঝিরি হাওয়া শেষে বৃষ্টি দিয়ে চলে যাবে

সন্ধের বাগানে;

তাদের কী এসে যায়। আঁধার বাড়িটি,

বন্ধ করে বসে আছে দৃষ্টির জানালা!

 

বর্ষ ৫৪ সংখ্যা ২০ । ২৯ ফাল্গুন ১৩৯৩ । ১৪ মার্চ ১৯৮৭

 

 

 

ইচ্ছাপত্র

    উৎপলকুমার বসু

 

পদ্মপাতা উল্টে যাচ্ছে জলে।

তুমি আমার আধিক-কথা-বলা

মায়ের মতো নেমেছ পল্বলে--

সারা জগৎ তোমার কথাই বলে।

 

উৎকেন্দ্রিক কাব্যে যাবে পাওয়া

পুকুরঘাট, ভিজে বনের তলা,

দুপুরবেলার ব্যবস্থাহীন খাওয়া,

পদ্মসায়র উল্টে-দেওয়া হাওয়া।

 

মহাজীবন, তুমি ওদের খাতা,

ওই পিঁপড়েদের, পতঙ্গদের চলা,

পায়ের ছাপে ভরিয়ে-তোলা পাতা--

মলমূত্রের বিন্দুবিসর্গতা।

 

আজ বৃষ্টি জলে ধুয়ে যাচ্ছে বন,

শুনতে পাই মানুষজনের গলা--

আকাশজুড়ে মেঘের গর্জন,

স্মরণাতীত, তুমি আমার স্মরণ।

 

বর্ষ ৬৯ সংখ্যা ২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪০৯ । ৪ অক্টোবর ২০০২

 

 

ঘড়িদাদু

   ঋতব্রত মিত্র

 

আমাদের বৈঠকখানার বড় দেওয়াল ঘড়িটার

হামেশাই খারাপ হয়ে যাওয়া বাতিক।

ঘড়িদাদু ঘাড় গুঁজে কাঁপা কাঁপা হাতে

ঠুকঠুক করে কাজ করে যান।

ঘড়িটা আপত্তি করে না।

কিন্তু কিছুদিন পর পরই

তার ঘড়িদাদুর কথা মনে পড়ে যায়।

 

আমার ছোটভাই নাক সিঁটকে বলে,

ঘড়িদাদু পচা।

ঘড়িদাদু ম্লান হাসেন,

ভাইরে, তোদের ঘড়িগুলো বড্ড জোরে ছোটে!

 

একদিন যথানিয়মেই

ঘড়িদাদুর আসা বন্ধ হয়ে গেছে।

আমাদের দেওয়াল ঘড়িটা

কিছুদিন অভিমানে চুপ;

তারপর দেখি

ওর কাঁটা দুটো

অন্য হাতে দিব্যি ঘুরে ঘুরে যায়।

 

শারদীয় ১৪১২ । ২০০৫