চড়ুইটি ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ চক্কর মেরে নির্ভয়ে কার্নিশে নামে। ওটি বা ওরা সবসময় কার্নিশে এসে বসে না; আর বসলেও নির্ভয়ে তো নয়ই। কেননা, গিন্নির তাড়া খাবে, নয়তো দস্যি ছেলেমেয়েরা তাদের ধরতে ছুটে আসবে। তাই অস্থির চড়ুইগুলো পুচ্ছ নাচাতে নাচাতে চোখের পলকেই ফুড়ুৎ। কিন্তু এখন যেটি নির্ভয়ে নেমে এলো সে সুলতানাকে চেনে। সে একা নয়, তার আরও কিছু বন্ধুর ভাব আছে সুলতানার সাথে। সে জানে সুলতানা তার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে এসেছে। তা চাল হতে পারে, মুড়ি হতে পারে, বিস্কুটের গুঁড়ো হতে পারে; নিদেনপক্ষে এক চিমটি ভাত হতে পারে।
সুলতানা কার্নিশের ওপর কয়েকটি চাল রাখতেই পুচ্ছ দোলাতে দোলাতে চড়ুইটি খুটখুট করে তা খেতে থাকে। সুলতানা মাঝে মাঝে তার হাতের তালুতে খাবার রাখলেও চড়ুইগুলো নিঃশঙ্কচিত্তে খুঁটে নেয়। চাল শেষ হবার আগেই আরেকটি চড়ুই কোথা থেকে ফুড়ুৎ করে এসে এই চড়ুইয়ের সাথে যোগ দেয়। সুলতানা পুরোপুরিভাবে ওদের লিঙ্গভেদ করতে পারে না, তবে ধারণা করে ওটি তার ছেলেবন্ধু হবে। অবশ্য টুম্পি আপু তাকে একদিন বলেছে, পুরুষ চড়ুইয়ের রং মেয়েদের চেয়ে গাঢ় হয় এবং তাদের গলায় কাল রঙের ডোরা থাকে। এতটুকু বিদ্যেই শুধু সুলতানার আছে।
সুলতানা পরীবাগের সুউচ্চ অ্যাপার্টমেন্টের নয় তলায় থাকে। পরীবাগে আরও বেশ ক’টি উঁচু ইমারত আছে। সুলতানা এক বছর আগে যখন মেহবুব সাহেবের বাসায় আসে তখন সে ভয়ে বারান্দায় বেরোতো না। টুম্পি ধীরে ধীরে তার ভয় ভাঙ্গিয়েছে। এখন তার উচ্চতাভীতি নেই বললেই চলে। এখন সে অবলীলায় বারান্দা ঝাঁট দেয়, দড়িতে কাপড় শুকাতে দেয়, গ্রিলে ধরে আকাশ দেখে। আর চড়ুইদের সাথে বন্ধুত্ব তো আছেই।
টুম্পি মনিবের মেয়ে হলেও সুলতানার সাথে সে ছোটবোনসুলভ আচরণ করে। একমাত্র ভাই আখলাক পড়াশুনার জন্য অস্ট্রেলিয়া চলে গেলে টুম্পি একা হয়ে পড়ে। সুলতানাকে পেয়ে তার একাকীত্ব কেটে যায়। সুলতানাকে গ্রাম থেকে নিয়ে আসার পর মিসেস মেহবুব তাকে ঘরকন্নার তালিম দিলেও আদবকেতা, ভাষা-সংশোধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবংবিধ আরও অনেক কিছু টুম্পিই শিখিয়েছে। তবে নতুন জায়গায় আসা মাত্রই মৃদু জটিলতা হয়েছিল। হয়তো এই জটিলতা আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। টুম্পি সহজেই তার সমাধান করেছে। সে সুলতানাকে বলেছে, ‘এটি ভয়েরও নয়, লজ্জারও নয়; সব মেয়েদের অমনটি হয়। তোকে আমি শিখিয়ে দেবো কীভাবে পরিচ্ছন্ন থাকতে হয়।’ তারপর সে সুলতানাকে লাগসই পদ্ধতিতে ঋতুস্রাব সামাল দেওয়া শিখিয়ে দেয়। শারীরিক পরিবর্তনের সাথে তাকে কীভাবে খাপ খাওয়াতে হবে তাও সে বিশদভাবে বলে দেয়ে। অপুষ্ট মেয়ে বলে একটু দেরিতে রজঃস্বলা হলেও সুলতানার বয়স এখন চোদ্দ।
কিশোরী সুলতানার এখন আবিষ্কারের বয়স। লাগাম ছেঁড়ার বয়স। প্রাকৃতিক নিয়মে হরমোন পরিবর্তন হচ্ছে এবং দেহ-মন-আচরণে তা প্রতিভাত হচ্ছে। টুম্পি সবই বোঝে, কেননা সে তো কণ্টকাকীর্ণ কুসুমকানন ইতোমধ্যে মাড়িয়ে এসেছে। সে জানে সুলতানা এখন ছোট্ট শিশুর মতো সুবোধ আচরণ করবে না। সে কখনও হাসবে, কখনও কাঁদবে; কখনও কথা শুনবে, কখনও শুনবে না; বারবার আয়নায় মুখ দেখবে; কোনো ছোকরা দেখলে আড়চোখে তাকাবে; নিজের ভাগ্য নিয়ে হাহাকার করবে এবং এমনতর অনেক কিছুই করবে।
টুম্পির কাছে এসব উপসর্গের কোনো একটি ধরা পড়লে সে সুলতানাকে এমনি এমনি নানা ধরনের ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে। সেসব প্রশ্নের উত্তর অধিকাংশই টুম্পির জানা আছে; সে তার মায়ের কাছে শুনেছে। তার কয়েকটি এরকম:
- অ্যাই, তুই কি কখনও স্কুলে যাস নাই, সুলতানা?
- হ্যাঁ গেছি। কেলাস সেভেন পর্যন্ত পড়ছি।
- আর পড়লি না ক্যান?
সুলতানা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কিছু বলে না।
- কী রে! পড়লি না ক্যান?
- মামা বিয়া করলো। তারপর আমার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল।
- মামার বিয়ের সাথে তোর পড়াশোনার সম্পর্ক কী?
- আমি না নানাবাড়ি ছিলাম –
- হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি। তোর মায়ের মৃত্যুর পর সৎ-মা ঘরে আসে, তাই না? এজন্য ছোটবেলা নানাবাড়িতে তোর ঠাঁই হয়। তো, বিয়ে করেই মামা তোর স্কুল বন্ধ করে দিল?
- মামা না। মামি। আমারে দিয়া ঘরের সব কাজ করাইতো। আমারও লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেল।
- স্যাড, ভেরি স্যাড। এরপরই তো আম্মা তার বাপের বাড়ি গিয়ে তোর সন্ধান পাইল, তাই না?
আরেকদিন বিকেলে কৌণিক দূরত্বের পাশের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় অল্পবয়সী একটি ছেলে পার্সিয়ান বিড়াল নিয়ে খেলছিল। সুলতানা তখন বারান্দার গ্রিলে মাথা ঠেকিয়ে ছেলেটির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল। ছেলেটিও ওপাশ থেকে মাঝে মাঝে ক্যাবলাহাসি দিচ্ছিল। টুম্পি তখন ভার্সিটি থেকে ফিরে এসেছে মাত্র। সুলতানার জ্বলজ্বল চোখের দিকে তাকিয়ে সে যতটা না রাগ হয় তার চেয়ে বেশি শিহরিত হয়। সে বলে:
- কী রে, বিড়াল দেখিস? বিড়াল দেখিস নাই কোনোদিন?
সুলতানা ভয় ও লজ্জায় কুপোকাত হয়ে যায়। তার হযবরল উত্তর: না; হ্যাঁ, কী সুন্দর লোমওয়ালা বিড়াল! আগে দেখি নাই।
- বুঝেছি। আয় ভিতরে আয়; আর বিড়াল দেখার দরকার নাই। কামড় দিবে।
- ইস!
- ইস আবার কী? তোর দেখি আজকাল সবকিছুই ভাল লাগে, সুন্দর লাগে। ফাঁকা আসমানের দিকেও দেখি তুই হা করে তাকিয়ে থাকিস। আকাশে কী দেখিস? ওখানে তো বিড়াল নাই।
- মাঝে মাঝে আমার মনটা খারাপ হয়ে যায়, আপু। কান্না পায়।
- কেন? কান্না পায় কেন?
- এই যে দেখেন না, পাখিগুলা আসে, আমার সাথে খেলা করে, তারপর ফুড়ুৎ করে চলে যায়।
- পাখিগুলা তোকে খুব ভালবাসে, তাই না?
- হ্যাঁ, আমিও তাদের খুব আদর করি। তারা আমার হাত থেকে খাবার খায়, গান গায়, নাচানাচি করে।
দিন যায়। সুলতানাও একটু একটু করে চঞ্চল হয়; একটু একটু করে বেয়াড়া হয়। ঘরের কাজ করে ঠিকই, কিন্তু কেমন যেন আনমনা হয়ে। মিসেস মেহবুব পরিণত মানুষ। তিনি বয়সের দোষ ভালভাবেই বুঝতে পারেন। তাই মাঝে মাঝে সুলতানাকে একটু ধমকান যাতে কক্ষচ্যুত না হয়। তবে নরম মনের মানুষ বলে অভাগিনীকে স্নেহও করেন বেশ। কপাল খারাপ না হলে তারও তো আজ জোড়া বেণি দুলিয়ে স্কুলে যাবার কথা। বাপের ঘরের বঞ্চনা, মামার বাড়ির নিগ্রহ শেষে এখন এসে বন্দি হয়েছে ইট-পাথরের খাঁচায়।
একদিন টুম্পির মাথায় এক ভাল বুদ্ধি খেলে যায়। সে সুলতানাকে ডেকে বলে, ‘পড়ালেখা করবি?’
সুলতানা বোকার মতো তাকায়।
টুম্পি বলে, ‘তোকে আমি পড়াবো। ভাল করে পড়লে তোকে আমি একদিন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবো।’
সুলতানা মাথা নাড়ে।
টুম্পি অষ্টম শ্রেণির কিছু বই জোগাড় করে এনে দিলে সুলতানা বেশ আগ্রহ নিয়ে নাড়াচাড়া করে। কিন্তু লেখাপড়ার রেশ এতদিনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বইয়ের পাঠ তার কাছে কঠিন ঠেকে। বিশেষ করে ইংরেজি ও অঙ্ক ভয়ঙ্কর মনে হয়। কাজের অবসরে সে পড়তে বসলে টুম্পি আপু অনেক ধৈর্য নিয়ে একটি একটি করে শব্দ শেখায়, ছোট ছোট অঙ্ক কষায়। এভাবে বেশ কিছুদিন চললেও সুলতানার ছাত্রত্বে তেমন অগ্রগতি দেখা যায় না।
বইখাতার সংস্পর্শে আসার পরই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি সুলতানার সামনে এসে দাঁড়ায়। অল্প বয়সে মা হারানোর পর নানাবাড়িতে চলে আসায় দাদাবাড়ির কোনো স্মৃতি তার মনে তেমন দাগ কাটেনি। মাঝেমধ্যে দাদাবাড়িতে গিয়েছে, দু’চারদিন থেকেছে, সৎ-ভাইবোন ও অন্যান্য স্বজনদের সাথে সময় কাটিয়ে চলে এসেছে। তবে নানাবাড়ির সব্বাই, স্কুলের বন্ধুরা – সবই তার প্রিয়জন। এদের কথাই তার বেশি মনে পড়ে। সহপাঠী জোসনা, রহিমা, বুলবুলি, মজনু, সেলিম – ওদের ছবি ঘনঘন তার মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। ওরা হয়তো এখনও স্কুলে যাচ্ছে, টিফিনের ছুটিতে প্রাণ খুলে কলরব করছে। এমন দৃশ্যের কথা ভাবতে গেলে সুলতানার মন ভারী হয়ে যায়, চোখে জল জমে।
টুম্পি বুঝতে পারে সুলতানাকে নিয়ে সে যে স্বপ্ন দেখেছিল তা পূরণ হবার নয়। পড়াশুনায় সফল হবার জেদ তার মধ্যে অনুপস্থিত। তবুও টুম্পি একারণে হাল ছাড়ে না যে তাকে পড়ালেখার নামে ব্যস্ত রাখলে অন্তত তার মনে শূন্যতা, হাহাকার বাসা বাঁধবে না। আর বয়ঃসন্ধির চঞ্চলতাকে তো কৌশলে বাগে রাখতে হবে।
চড়ুইদের সাথে সুলতানার ভাব আরও গাঢ় হয়েছে। সুলতানাকে দীর্ঘক্ষণ না দেখতে পেলে ওরা দল বেঁধে এসে কিচিরমিচির করতে থাকে। ওদের কেউ কেউ সাহস করে কার্নিশ থেকে বারান্দায় এসে লাফালাফি করতে থাকে। টুম্পি ওদের তাড়িয়ে দেয় না; চড়ুইয়ের ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ তার ভালই লাগে। তবে মিসেস মেহবুব ওদের তীক্ষ্ণ চেঁচামেচি পছন্দ করেন না। তিনি ওদের তাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সুলতানার ওপরও খেঁকিয়ে ওঠেন, ‘তুই লাই দিয়ে ওদের মাথায় তুলেছিস!’
খালাম্মার বকুনিতে সুলতানার যায় আসে না। আর তারই বা দোষ কী? পাখিগুলো তো বিড়ালওয়ালার মতো মানুষ না। ওরা পাখনাওয়ালা বনের পাখি। যখন ইচ্ছে ফুড়ুৎ করে চলে আসে। তার সাথে কথা বলে। খাবার চায়। আবার ফুড়ুৎ করে চলে যায়। মাঝে মাঝে সুলতানা ভাবে তার যদি দুটি ডানা থাকতো। তার খুব ইচ্ছে করে চড়ুইয়ের মতো উড়তে। উড়ে গিয়ে নিচের বাগানের কাঁঠালচাঁপার ডালে বসতে। ওখানে শুধু চড়ুই নয়, আরও পাখির মেলা বসে। সুলতানা সব পাখি চেনে না। তবে বুলবুলি চেনে, শালিক চেনে, ফিঙ্গেও চেনে। বাগানে অনেক ফুল। সব ফুলের নাম সে জানে না। তবে গোলাপ, গেন্দা, ডালিয়া, কাঁঠালচাঁপা, বাগানবিলাস এবং আরও কিছু ফুলের সাথে তার পরিচয় আছে। তার স্কুলেও একটি ফুলের বাগান ছিল। দপ্তরীর কাছে অনুনয় করে সে দুয়েকবার গোলাপ ফুল এনেছিল। ডানা থাকলে সে আরেকটি কাজ করতো। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সে বিড়ালওয়ালার বারান্দায় উড়ে যেত। তারপর বিড়ালওয়ালার চোখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে পার্সিয়ান বিড়ালের গায়ে হাত বুলাতো।
বিড়ালওয়ালা এখন প্রায়ই বিড়াল কোলে নিয়ে বারান্দায় আসে। ছেলেটি হয়তো ওই বাসার মালিকের সন্তান নয়। নইলে দিনের বেলা সে ঘরে থাকতো না; স্কুল-কলেজে যেত। হয়তো সে গৃহকর্মী অথবা আশ্রিত দূরাত্মীয়। সুলতানা অত বোঝার জ্ঞান রাখে না। সে বোঝে বিড়াল ও বিড়ালওয়ালা। সে-ও কাজের ফাঁকে ফাঁকে আশায়-দুরাশায় বারান্দায় চক্কর মেরে আসে। বিড়ালওয়ালাকে দেখলেই সে চনমনে হয়ে যায়। তারপর একবার বিশাল আকাশের দিকে তাকায়, আরেকবার শিরিষ গাছের কচি পত্রমঞ্জরি দেখে, অবশেষে আড়চোখে বিড়ালের দিকে তাকিয়ে থাকে আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
সেদিন টুম্পি আবার ধরেছিল। বলেছিল:
- পড়াশুনায় তো মন বসাতে পারলি না। মন কোথায় ঘুরে বেড়ায়?
সুলতানা বিব্রত হয়ে ঘাড় নিচু করে বলে: আমার ভাল্লাগে না, আপু।
- কেন ভাল্লাগে না?
- জানি না।
- বারান্দায় ভাল্লাগে?
সুলতানার কেন ভাল লাগে না তা সে গুছিয়ে বলতে পারবে না। তবে এটা ঠিক, খোলা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালে তার মনের সবগুলো বদ্ধ দুয়ার খানিকের জন্য খুলে যায়। কৌণিক দূরত্বের বিড়াল ও বিড়ালওয়ালার উপস্থিতি দুয়ারগুলোকে আরও প্রশস্ত করে দেয়। কিচিরমিচির করে যখন চড়ুইগুলো ছুটে আসে তখন তার মনে হয় দক্ষিণের মৃদুমন্দ হাওয়ার তরঙ্গ ভেসে এসে তার উদাস প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছে। তখন তার অনেক কথা কইতে ইচ্ছা করে। গলা ছেড়ে গান গাইতে ইচ্ছা করে। তিড়িংবিড়িং করে একটু নাচতেও ইচ্ছা করে। চড়ুই পাখিগুলি কিছুক্ষণ গল্প করে যখন ফুড়ুৎ করে উড়ে যায় তখন গরাদ ভেঙ্গে তারও ডানা মেলে অসীম আকাশে উড়ে যেতে মন চায়। কখনও সে দুচোখ বন্ধ করে হাওয়ায় সাঁতার কাটতে কাটতে আকাশছোঁয়া দালানের ওপর দিয়ে ছুটে যায়। তারপর নদীনালা, মাঠঘাট, প্রান্তর পেরিয়ে এগিয়ে যায় উত্তর সীমান্তের দিকে যেখানে আছে মোহনগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়। সেই বিদ্যালয়ের মাঠে ছুটোছুটি করছে জোসনা, রহিমা, বুলবুলি, মজনু, সেলিমসহ তার আরও বন্ধুরা।
এমন সময় ভেতর থেকে খালাম্মা হাঁক দেন ‘কই গেলি রে’ বলে, নয়তো টুম্পি এসে চুলের বেণীতে টান দিয়ে বলে, ‘কোন দুনিয়ায় আছিস?’
সুলতানা তখন ধপাস করে মাটিতে পড়ে যায়। মনের দুয়ারগুলো আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। সম্বিতে ফিরে এসে দেখে তার মুক্ত-স্বাধীন ডানাদুটি খসে পড়েছে।