বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ৬ জুন ১৯৮২

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

নিষিদ্ধ উপাখ্যান-৬

ড. জায়েদ বিন জাকির শাওন

  • advertisement

     

    ভিক্টোরিয়াঃ (করিনা টেলর) বললেন তার অতীত জীবনের কথা যেখানে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি তার জীবনে কি কি ক্ষতি করেছে। ২০০৩-২০০৪ এ সে ওখানে কাজ করেছে আর প্রায় ৬০ টি মুভিতে অংশ নিয়েছে। শেলী লুবেনের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন সেই অন্ধকার জীবনের কথা।

    শেলীঃ কিভাবে তুমি এই পথে এলে?

    ভিক্টোরিয়াঃ একজন বান্ধবীর কাছ থেকে, আর সে স্ট্রিপ ড্যান্স করতো।

    শেলীঃ এই ইন্ডাস্ট্রি তোমাকে কি দিতে পারতো বলে তোমার ধারণা ছিল?

    ভিক্টোরিয়াঃ গ্ল্যামার আর পুরুষদের কাছে নিজের গ্রহনযোগ্যতা। আমি আমার অন্যান্য বান্ধবীদের মত হতে চাইতাম।

    শেলীঃ তোমার প্রথম অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বল।

    ভিক্টোরিয়াঃ আমি একটা ম্যাগাজিনে একটা প্রতিযোগিতায় জিতি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল আমি হুব শিঘ্রই লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ডাক পাই। ওখানে ঐ ম্যাগাজিনের এক লোক আমাকে ডেরেক হে এর সাথে পরিচয় করায়ে দেয়। আমি তার বাসায় অন্যান্য পর্ন তারকাদের সাথে উঠে আসি। তার বাসা ভর্তি ছিল বলে একটা মেয়েকে সরিয়ে নেয়া হত। আর তার সাথে থাকার জন্য প্রত্যেক পর্ন তারকাকে মাসে ৭০০ ডলার করে তাকে দিতে হত।

    শেলীঃ তোমাকে কি পর্নোগ্রাফাররা যৌনক্রিয়া করতে বাধ্য করতো? যেহেতু তোমার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না?

    ভিক্টোরিয়াঃ হ্যা। আমি কখনই পায়ুমৈথুন করতে চাইতাম না আর কোন নিগ্রো লোকের সাথে কাজ করতে চাইতাম না, কিন্তু আমাকে বাধ্য করা হয়। নিগ্রোদের ব্যাপারে আমার কোন খারাপ ধারণা নেই কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে আমি কোন নিগ্রো ছেলের শয্যাসঙ্গী হই নি বা পায়ুমৈথুন করি নি। ভাবলেই আমার গা গোলায়।

    শেলীঃ কোন ঘটনায় তোমাকে বেশী নিগৃহীত মনে হয়েছে?

    ভিক্টোরিয়াঃ আমাকে বাধ্য হয়ে একটা নিগ্রো লোকের সাথে যৌনক্রিয়া আর পায়ুমৈথুন করতে হয়। এরপর আমি ভেঙ্গে পড়ি।

    শেলীঃ তোমার এজেন্ট কে ছিল? আর যা তুমি করতে চাইতে না তা করতে তোমাকে কি জোর করেছিল?

    ভিক্টোরিয়াঃ ডেরিক হে। সে মডেল দের দিয়ে পর্ন করাতো। সেই আমাকে পায়ুমৈথুনে বাধ্য করে। এমনকি সে আমাকে তার নিজের সাথে পায়ুমৈথুনের জন্য বলে। এরপর আমি আমার জিনিসপত্র নিয়ে ওর বাসা থেকে চলে আসি।

    শেলীঃ পর্ণে তোমার সবচাইতে বাজে অভিজ্ঞতার কথা বল।

    ভিক্টোরিয়াঃ আমি “রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট” কোম্পানীর জন্য একটা সিন করেছিলাম। ভিন্স ভয়ার আমাকে একটা গাড়ি দিয়ে সেটে চলে যেতে বলল। আমি গেলাম। আমি ধারণা করেছিলান কোন সাধারণ সেক্স সিন হবে হয়ত। সে আমাকে মাগী বলে সম্বোধন করে বলল, এটা আমাকে করতে হবে। ঐ সিনটা ছিল এরিক এভারহার্ড এর সাথে। সে তার সাখে কাজ করার সময় আমাকে জোর করে পায়ুমৈথুনে বাধ্য করে আর সে থামতে চাইছিল না। আমি গোঙ্গানির মত আওয়াজ করে তাকে থামতে বললাম; না পেরে চিৎকার দিয়ে উঠলাম কিন্তু তবুও সে থামতে চাইল না। আমার এত বেশী ব্যথা করছিল যে আমার পুরো শরীর একসময় অবশ হয়ে গেল প্রায়। তাকে বাঁধা দেবার মত শক্তি আমার তখন আর ছিল না। সিন শেষ করার পরে ওরা আমাকে আর গাড়ি দিল না বাসায় যাবার জন্য। আমি একটা ট্যাক্সি ডেকে সোজা ক্লিনিকে চলে গেলাম ব্যথা অনেক বেশী ছিল বলে। পরের দিন ভিন্স আমাকে ফোন করে শাসালো যে আমি যেন এই ধর্ষণের ব্যাপারে কোনরকম মুখ না খুলি। যদি আমি মুখ খুলি তাহলে সে আমার ভিডিও এডিট করে আমাকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করে ছাড়বে। এরপর আমি রেড লাইট ডিস্ট্রিক্টে গেলাম চেক আনতে। ওরা শুধু আমাকে সাধারণ যৌনক্রিয়ার জন্য পয়সা দিল। পায়ুপথে ধর্ষণের জন্য কিছুই পেলাম না। এই ঘটনা আমাকে এত কষ্ট দেয় যে ৬ সপ্তাহ আমি নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলাম।

    শেলীঃ তোমাকে কি ড্রাগ আর মদ দেয়া হত?

    ভিক্টোরিয়াঃ আমি ড্রাগ নিতাম না। মদও খেতাম না। মাঝে মাঝে পার্টিতে একটু মদ খেতাম। কিন্তু ওগুলোতেও অনেক কম যেতাম। পর্ণে যাবার আগে আমি এগুলার কথা চিন্তাও করতে পারতাম না। ইশ্বরকে ধন্যবাদ তিনি আমাকে বাচিয়েছেন।

    শেলীঃ তোমার চেহারার আদল পরিবর্তনের জন্য তোমাকে বলতো কি?

    ভিক্টোরিয়াঃ হ্যা এবং খুব অস্বাভাবিক ভাবে। এমন বাজে ভাবে মেক আপ দেয়া হত যে আমি নিজেকে চিনতেই পারতাম না। খুবি বিরক্তিকর ছিল ব্যাপারটা।

    শেলীঃ কোন হয়রানির কথা বল যা তুমি দেখেছো।

    ভিক্টোরিয়াঃ আমি অনেক পুরুষকেই ওখানে দেখেছি যারা মেয়েদের সাথে যাচ্ছেতাই আচরণ করে। সবার কথা বলছি না। কেউ কেউ আছে যে, তারা নিজেরাও বোঝে না কি পরিমাণ খারাপ আচরণ তারা মেয়েদের সাথে করে।

    শেলীঃ তোমার যৌনব্যাধি হয়েছিল কি?

    ভিক্টোরিয়াঃ ইশ্বরের কৃপায় আমি বেঁচে গেছি। আমি রেগুলার চেক আপ করাতাম। যদি কারো যৌনব্যাধি আছে এমন কারো সাথে কাজ করতে হতো, তাহলে আমাকে আগেই একটা পিল খেতে দেয়া হত যেন আমার অসুখ না হয়।

    শেলীঃ পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি কি তোমাকে যৌনব্যাধি সম্পর্কে অবহিত করেছিল?

    ভিক্টোরিয়াঃ আরে ওরা তোমাকে তো এমন ভাবে বলবে যেন তুমি পর্ণের একজন মহান ‘সৈনিক’ আর তোমাকে কোন ব্যাধি ছুঁতেও পারবে না। আমি এমন কিছুই দেখি নি যেখানে পার্ফরমারদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কিছু করা হয় বা কনডম ব্যাবহারে বাধ্য করা হয়। যারা পর্ণ বানায় ওরা তো আর বলির স্বীকার হয় না যৌনব্যাধির কাছে। হই আমরা।

    শেলীঃ তোমাকে কি তোমার অধিকার আর নিরাপত্তার ব্যাপারে কিছু বলা হয় নি?

    ভিক্টোরিয়াঃ অবশ্যই না।

    শেলীঃ কাজের পরিবেশ সম্পর্কে কিছু বল।

    ভিক্টোরিয়াঃ আমি তো ধোঁকার মধ্যে ছিলাম যে আমাদের নিরাপত্তা দেয়া হয়। আর আমরা এমনই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আছি যে আমাদের কোন ভয় নেই। কাজেই যথেচ্ছা অনিরাপদ যৌনাচারেও যেন কোন ভয় নেই।

    শেলীঃ তোমার কি এইডসের ভয় লাগতো না?

    ভিক্টোরিয়াঃ তখন মনে হত না। কারন মনে হত আমি নিরাপদ আছি। আমার ধারণা ছিল শ্যারন মিচেল তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে আমাদের নিরাপদ রাখতে। কিন্তু এরপরেও কোন নিশয়তা ছিল না যে অনিরাপদ যৌনাচারের পরের তোমার যৌনব্যাধি হবে না।

    শেলীঃ তোমার কাছে কি পর্ন আনন্দদায়ক মনে হত?

    ভিক্টোরিয়াঃ আমার কাছে কিছু সুবিধা ভালো লাগতো যেমন হাওয়ার্ড স্টার্ন এর শো তে যেতে পারা। আমার কখনই orgasm (যৌনক্রিয়ায় চরম পুলক প্রাপ্তি) হয় নি। আমি শুধু অভিনয় করে যেতাম। কিন্তু তাও অনেক জঘন্য ছিল। রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট এ সেটা ধর্ষণের নামান্তর মনে হত। আমি একজন পর্ণ তারকা তাই ওদের ইচ্ছামত গালিগালাজ আমার শুনে যেতে হবে, এটাই যেন নিয়ম ছিল। সেক্স জিনিসটাও আমার কাছে বিষিয়ে গেছিলো। কোন বাজে আচরণের কোন প্রতিকার করা হত না।

    শেলীঃ তুমি কিভাবে ওখান থেকে বের হলে?

    ভিক্টোরিয়াঃ আমার শেষ শটটা ছিল এভিল অ্যাঞ্জের কোম্পানীর সাথে আর সেটা ছিল, একজন নিগ্রোর সাথে সেক্স। আমি সেটা করতে চাইলাম না আমার আগের অভিজ্ঞতার কারণে। কিন্তু করতে বাধ্য হলাম ভিন্সের আগের দেখানো ভয়ের কারণে। আমি নিগ্রো পার্ফরমার এর সাথে কাজ করলাম এক বৃহস্পতিবারে আরে ডিরেক্টর আবার আমাগে বুক করলো সোমবারের জন্য ঐ একই লোকের সাথে কাজ করার জন্য। আমি এর শেষ দেখতে চাইলাম আর তাই ঘরে ফিরে আসবো বলে মনে মনে ঠিক করলাম। সত্যিই ইশ্বরের কৃপা আমার উপরে ছিল। আমি জানতে পেরেছিলাম যে ওই লোকটা মাত্র এমন একজনের সাথে কাজ করেছে আমার পরে যার HIV ছিল। আর  সে সেটা করেছে রবিবারে, আমার বুকিং এর মাত্র একদিন আগে। আমি এইডসের কত কাছে ছিলাম। আমি চিৎকার করে কেঁদেছি।

    শেলীঃ এখন তুমি কেমন ব্যাবহার পাও, যেহেতু তুমি এখন পর্ণের বাইরে?

    ভিক্টোরিয়াঃ অনেক জঘন্য। পর্ণ আমার জীবনে স্থায়ী দাগ দিয়ে দিয়েছে। আমাকে আমার বয়ফ্রেন্ড অনেক অপমান করেছে আমার পর্ণের জন্য। আমাকে একঘরে করে রাখার মতই করা হত যখন কোন চাকুরির জন্য যেতাম। আমি একটা সুখী জীবন চাই, আর এটা চাই না কেউ আমার অতীতের জন্য আমাকে এইভাবে অপমান করুক। আমি চাই না কেউ আমার কুৎসা গায়, আমি নিজে যেতা করি না।

    শেলীঃ যারা পর্ন করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বল।

    ভিক্টোরিয়াঃ আমি এটাই বলবো এতে গ্ল্যামার বলে কিছুই নেই। বরং তোমাকে এখানে অপদস্থ আর অপমানিত করা হবে। আর যদি তোমার HIV ধরা পড়ে তাহলে, তোমার জীবনে একাকীত্ব আর অপমান ছাড়া আর কিছুই জুটবে না। সবাই আঙ্গুলি দিয়ে তোমাকে বিদ্রুপ করবে। কোনভাবেই এটা আনন্দের কিছু না। এটা আমাকে একটা ঘৃণিত জীবন দিয়েছে, অথচ আমি এমন চাইতাম না। আমি একটা উদাহরণ মেয়েদের জন্য। আমি রাতে একা ঘুমাই। আমার ভাল বন্ধু নেই। আমি বুঝতে পারি নাই লোকে এখনও আমার অতীতের জন্য আমার সাথে এত বাজে ব্যবহার করবে।

    শেলীঃ তুমি ছেলেদের সম্পর্কে কিছু বল যারা পর্ন দেখে।

    ভিক্টোরিয়াঃ মেয়েরা ভোগের বস্তু না। আমরা এইভাবে নিষ্পেষিত বা অপমানিত হতে চাই না। আমরাও রক্ত মাংসের মানুষ। আমাদেরও একটা হৃদয় আর ব্যক্তিত্ব বলে কিছু আছে। এটা অনেক বিকৃত মানসিকতার পরিচয় যে, লোকেরা পর্ণে মেয়েদের অপদস্থ হতে দেখা পছন্দ করে। আমি এমন ডক্টর, ল’ইয়ার, ডেন্টিস্ট, জাজ দের চিনি যারা পর্নে রীতিমত আসক্ত। এই মানুষগুলার মানসিক চিকিৎসার দরকার বলে আমি মনে করি। আমি এক ডেন্টিস্ট কে চিনি যার পর্নের বিশাল সংগ্রহ আছে। উনি আর উনার স্ত্রী উনাদের সব কর্মচারীদের নিয়ে মেক্সিকো গিয়ে সবাই একত্রে যৌনাচারে লিপ্ত হন। ওরা আমকে বেশ্যা বলে কারণ আমি পর্ন করেছি। আর ওদের বেলায় এটা হল যৌন প্রিয়তা কারণ ওরা পর্ণ পছন্দ করা। আর সেকারণে অফিসের কর্মচারীদের জোর করে তাদের সাথে যৌনক্রিয়া করতে বাধ্য করে। বাস্তব দুনিয়ায় এমনটাই হচ্ছে। পর্ণে আসক্তি সত্য আর এটা জীবনকে নষ্ট করে দেয়।

    শেলীঃ  অনেক ধন্যবার তোমাকে ভিক্টোরিয়া। আশাকরি তোমার এই অভিজ্ঞতার কথা শুনে অন্যরা উপকৃত হবে। আমি জানি সহজ না কিন্তু আশাকরি তোমার মত যারা আছে তারা সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।

     

    (সূত্রঃ ইন্টারনেট)

advertisement