বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ২৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০

keyboard_arrow_leftসাহিত্য ব্লগ

প্রাগৈতিহাসিক মানবী

মোঃ শামছুল আরেফিন

  • advertisement

    আন্তগ্রহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থার বিশাল প্রাঙ্গনে শিশিরভেজা বাদামী ঘাসগুলোর বুক ছিড়ে উঁকি দিয়েছিল নীল বর্ণের ক্লিওকেক্টাস ফুল। তাদের জীবনকাল আজ আর লিপিবদ্ধ করা হলনা। হাজার হাজার স্পেশশীপ, ভিনগ্রহের সকল বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী আর স্যাটেলাইট সংবাদকর্মীদের পায়ের চাপে সেগুলো তার জৌলুস হারিয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। অন্য কোন দিন হলে প্রকৃতির বিরুদ্ধে এই রকম বুনো অত্যাচার মানা হতনা। তবে আজকের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহাজগতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কারটি আর কিছুক্ষণ পরেই উন্মোচিত হবে মহাবিশ্বের প্রতিটি বুদ্ধিমান প্রাণের কাছে।

     

    বিশাল হল ঘরে প্রতিটি গ্রহের জন্য নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের আসনগুলোতে সাতশটি গ্রহের ২৩০০ জন বৈজ্ঞানিক এবং সংবাদ কর্মীরা নিজেদের আসন নিয়েছেন ইতিমধ্যে। তাদের সবার দৃষ্টি এক হয়েছে ৩০ ফুট প্রশস্ত হলোগ্রাফিক স্ক্রীনের দিকে। সেখানে ইসটো প্রধান মহামান্য রবার্ট স্টুয়ার্ট ল এর ৩৭ সেমি দেহটাকে অনেক বড় করে দেখা যায়। মহামান্য স্টুয়ার্ট প্লাটিনিয়াম নির্মিত মঞ্চের এ পাশ থেকে ওপারে হাটছেন আর কর্কশ কন্ঠে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ভিনগ্রহবাসী বিজ্ঞানীরা তার কথা শুনছে খুব মন দিয়ে।

    এই দিনটির জন্য এতদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। এই মহান আবিষ্কার কেবল কোটি বছর আগের প্রাচীন সভ্যতা ও সেই সময়কার প্রাণীগুলোর বুদ্ধিমক্তা সম্পর্কে আমাদের জানাতে সাহায্য করেনি। এটি আমাদের আগেরকার পৃথিবী সম্পর্কে আমাদের সকল ধারণা সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দিয়েছে। আমরা ল্যামেন্সরাই এই গ্রহের প্রথম বুদ্ধিমান প্রাণী নই। তবে আমরা তাদের উত্তরাধিকারীও নই। তবে আমরা কোথা থেকে এলাম! আমরা কি তবে এথিকদের পরবর্তী কোন প্রজাতির বংশধর?

    আরও নানান কথা বলে মি রবার্ট তার নাতিদীর্ঘ বক্তব্য শেষ করলেন। এখন তার সামনে গ্রানাইটের টেবিলে সুইচটিতে টিপ দেবার সময় হল। পুরো হলে তখন পিন পতন নীরবতা। সবাই খুব উক্তেজিত। চোখে বিস্ময়। উপস্থিত বিজ্ঞানীদের দিকে চোখ বুলিয়ে একগাল হেঁসে তিনি সুইচে টিপ দিলেন। পুরো হল রুমের বাতি তখন নিবিয়ে দেয়া হল। মঞ্চের ঠিক মাঝখানে এলুমিনিয়ামের পর্দা সরে গেল। নীল আলো গিয়ে পড়ছে সেখানে। আসতে আসতে করে ভিতর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে এল কোটি বছর আগেরকার প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীটি। হলভর্তি সকল বিজ্ঞানীদের চোখ তখন স্থির হয়েছে সেই প্রাগৈতিহাসিকের দিকে। প্রত্নতক্তবিদ ডঃ মান্দ্রেলা এই প্রাণীটির নাম দিয়েছিলেন এথিক। প্রাচীন ইঙ্কা ভাষায় যার অর্থ হল সবচেয়ে সুন্দর। আর ডঃ ম্যাথিয়ুস যিনি এই আবিস্কারের মূল নায়ক এবং ইসটোর শ্রেষ্ঠ জীব বিজ্ঞানী তিনি সম্মান করে  তার গড়া এথিকের নাম দিয়েছেন এলিয়ানা।

     

    এলিয়ানার দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই। তার সোনালী চুল আর নীল রঙা হীরক খণ্ডের মত চোখগুলো থেকে চোখ ফিরাতে পারছেনা কেউ। বিজ্ঞানী স্মিট তিনি তার ত্রিজোড়া চোখ দিয়ে এথিককে কেবল দেখছেনই না প্রতি সেকেন্ডে এক লক্ষ ফ্রেম গতিতে তাকে স্ক্যান ও গবেষণা করে শুরু করে দিয়েছেন।  নবীন বিজ্ঞানী ক্যালিস্ত্রা তিন হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরের একটি সৌরজগতের বাসিন্দা। সে এতক্ষণ নিজেকে স্থির করে রাখতে পেরেছিল। তবে ধৈর্যের বাঁধকে ধরে রাখতে পারলোনা বেশিক্ষণ।  হঠাৎ কি যেন ভেবে তিনি তার  স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের আসন থেকে বেড়িয়ে তড়িৎ গতিতে ছুটে গেল এলিয়ানার কাছে।  তারপর নিজ ক্যামেরার ফ্ল্যাশ লাইটে কয়েকবার আলোকিত করতে লাগলো এলিয়ানাকে। ডঃ ম্যাথিয়ুস তখন এথিকদের নানা অজানা কথা এবং তাদের বুদ্ধিমক্তা উপস্থিত বিজ্ঞানীদের কাছে ব্যাখ্যা করছিলেন। ক্যালিস্ত্রার এমন আচরণে তিনি যতটা না রুষ্ট হলেন তার চেয়ে বেশি ঘাবড়ে গেলেন তাকে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা দেখতে হবে বলে। কেননা পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ক্যালিস্ত্রার টিকে থাকতে পারার কথা না। তার পাশের আসনের বুড়ো বিজ্ঞানীটি যদি আর সামান্যতম সময়ের ব্যবধানে ক্যালিস্ত্রাকে বিশেষ ল্যান্ডিং সুট না পড়িয়ে দিত তবে ক্যালিস্ত্রার ধূলোগুলো হয়তোবা তাদের গ্রহের ন্যাশনাল সায়েন্স মিউজিয়ামে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হত।

     

    হলভর্তি সকল বিজ্ঞানীগণ হতবিহ্বল হয়ে গেল এই ঘটনায়। কোন এক বিজ্ঞানী যে এমন করতে পারে ধারণা করেনি কেউ। অল্পের জন্য বেঁচে গেল ক্যালিস্ত্রা। রবার্ট স্টুয়ার্ট তার পাশে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি ঠিক আছেন তো?

    হ্যাঁ মহামান্য আমি ঠিক আছি। অনেক কষ্টে দম নিয়ে উত্তর দিল ক্যালিস্ত্রা।

    আমরা এথিক সম্পর্কে সকল ডকুমেন্টারি আপনাদেরকে সরবরাহ করব। অতিথিকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করছি।

    মুখে ম্লান হাঁসি চেপে ক্যালিস্ত্রা তার আসনে ফিরে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। বিশাল স্ক্রীনে এখন দেখা যাচ্ছে সেই দৃশ্য। অন্যান্য বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ তার দিকে ভিনগ্রহবাসী চরম কুৎসিত প্রাণী দেখার মত করে তাকাচ্ছে আবার কেউ অত্যন্ত স্নেহময়ী দৃষ্টিতে দেখছে তাকে। তবে ক্যালিস্ত্রার খেয়াল নেই কোন দিকে। তার ভাবনায় তখনও এথিক।

     

    ৭০ বছর আগের কথা। ঠিক এই দিনে পুরো পৃথিবীতে আলোড়ন তুলেছিল একটিমাত্র খবর। তা হল সম্পূর্ণ নতুন একটি ফসিলের সন্ধান। ফসিল বলতে যা কিছু পাওয়া গিয়েছিল তা হল এথিকের প্রায় বিচ্ছিন্ন একটি মাথার খুলি। ভ্রমন পিপাসু ল্যামেন্স স্টিভেন পেয়েছিল ফসিলটি নিয়ামি পর্বতের পাদদেশে। তখনও তিনি জানতেন না কিসের সন্ধ্যান দিয়েছেন তিনি।

     

    তৎকালীন ইসটো প্রধান জুবেন্তাস সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির এই নতুন ফসিলের জীবন রহস্য বের করার জন্য মাঠে নেমে পড়েন। শুরু হল নিয়ামি পর্বতে খোড়াখুড়ি। পাওয়া গেল অসংখ্য এথিক। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকেও এথিকের ফসিল পাবার খবর শোনা গেল। তবে এথিকের পূর্ণাঙ্গ ফসিলের সন্ধ্যান পাওয়া গেল মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি। ল্যামেন্সরা যখন দেখল একটি এথিকের আকার তাঁদের চেয়ে চার গুনেরও বেশি তারা তখন দৈত্যাকার প্রানীটির রহস্য অনুসন্ধ্যানে আরো বেশি ব্যকুল হয়ে উঠল। যেদিন কার্বন ১৪ ডেটিং এর মাধ্যমে মহাজগৎবাসী জানতে পারলো এথিকেরা পৃথিবীতে ছিল প্রায় আড়াই কোটি বছর আগে সেদিন বিজ্ঞানীদের মাঝে নতুন উদ্যমের সঞ্চার হয় এবং এথিকদের জীবন রহস্য উন্মোচনের নেশা চেপে বসে তাঁদের মাথায়। কেননা সমস্ত মহাজগতের ইতিহাসে এত পুরানো কোন প্রাণীর সন্ধ্যান পাবার খবর শোনা যায়নি। এথিকদের স্থান হল ইসটো’র গবেষণাগার, বিখ্যাত মিউজিয়াম, কল্পিত বিজ্ঞান সাহিত্যের নানা চরিত্র আর ভয়ংকর মুভিগুলোতে।  

    বছরের পর বছর নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে বিজ্ঞানীদের মাঝে। এথিকরা কি ভয়ংকর কোন প্রাণী ছিল? নাকি বুদ্ধিমান কোন প্রাণী? যদি বুদ্ধিমান হয়েই থাকে তবে কি তারা ল্যামেন্সদের চেয়েও বুদ্ধিমান ছিল? তারা কি বিশেষ কোন সভ্যতার কর্ণধার ছিল? তারা কি পৃথিবীতে তখন ল্যামেন্সদের মতই শাসন করত? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তখনও জানা ছিলনা তাঁদের। তবে যখন এথিকদের আমলের প্রাচীন কিছু সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হল তখন বিজ্ঞানীরা ধারণা করে নিল এথিকরাই ছিল তাঁদের যুগের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী।

     

    এথিকদের নিয়ে গবেষণার ধরণ সম্পূর্ণ পাল্টে যায় যখন বিজ্ঞানী ম্যাথিয়ুস তাঁদের জিনেটিক কোডিং আবিষ্কার করেন। কোটি বছরে সময়ের শোষণে এথিকদের ক্ষয় হয়ে যাওয়া কোমল হাড়গুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হল আবার। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অঞ্ছলের হাড়গুলো থেকে ডিএনএ অন্য একটি প্রাণী কোষে স্থানান্তর করা হল। তৈরি হল এথিকের নানা প্রাণহীন অঙ্গ, প্রত্যঙ্গ এবং দেহাবরণ। ডঃ ম্যাথিয়ুস এবং তার দল মাত্র চার বছরে এথিকের মুখমন্ডল ছাড়া বাকি শরীরের নিখুঁত গঠন দান করেছিলেন। আর ত্রুটিপূর্ণ মুখমণ্ডলের অবয়ব দিতে তাঁদের সময় লেগেছিল নয় বছর তিনশত আটচল্লিশ দিন। তারপর আজ হয়ে গেল সমস্ত মহাজগতের সামনে এথিকের শোডাউন। যার নেপথ্যের নায়ক ডঃ ম্যাথিয়ুস আর সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হল এলিয়ানা।

     

    এথিকদের নিয়ে মহাজগতের বিখ্যাত সকল বিজ্ঞানীদের আলোচনা, বিতর্ক এবং তাঁদের পরবর্তী কর্মপন্থা স্থির করার পর ভিনগ্রহবাসী বিজ্ঞানীদের ফিরে যাবার সময় হল। নবীন বিজ্ঞানী ক্যালিস্ত্রা তার ব্যক্তিগত স্পেসশিপে চড়েছেন একটু আগে। তাকে যেতে হবে সবচেয়ে দূরের সৌরজগতের সিসালি নামক গ্রহে। তাঁদের অধিবাসীদের ভিনগ্রহবাসীরা চিনে সিসালিয়ান নামে।

    স্পেশশিপ চলছে প্রতি সেকেন্ডে ১০ c গতিতে। ছুটে চলছে মিটিমিটি তারা, গ্রহ, উপগ্রহ, ছায়াপথ, নীহারিকা আর ব্ল্যাক হোলকে পিছনে ফেলে। স্পেশশিপের ছোট্ট জানালা দিয়ে সে দৃশ্য ক্যালিস্ত্রা সবসময় উপভোগ করে। তবে আজ সে সেদিকে উদাসীন। কেননা স্পেশশিপের স্ক্রীনটিতে এলিয়ানার ছবি ভাসছে। তার দৃষ্টি বন্দী হয়ে আছে সেখানে।

     

    ক্যালিস্ত্রাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা অন্য গ্রহের বাসিন্দাদের সবচেয়ে বেশি তা হল সিসালিয়ানরা নাকি অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ। অন্যের কষ্ট সহ্য করতে পারেনা তারা। তাঁদের চেহারাতেও আছে একটা মায়াবী ভাব। আর সেই মায়াবী ভাবটাই তাঁদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বর্তমান মহাজগতের সবচেয়ে সুন্দরতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে। কিন্তু স্ক্রীনে যে এলিয়ানা স্থির হয়ে আছে তার দিকে তাকিয়ে হিংসা হচ্ছে ক্যালিস্ত্রার।কেননা সবচেয়ে সুন্দর প্রাণীর তকমাটা এখন থেকে চলে গেল এথিকদের কাছে। যদিও হিংসা শব্দটি বর্তমান মহাজগতের কোন অভিধানেই খুঁজে পাওয়া যায়না তবুও নিজেকে হিংসুক ভাবতে মোটেও ঘৃণা হচ্ছেনা ক্যালিস্ত্রার। এলিয়ানার জন্য আবার কষ্টও লাগে তার। ডঃ ম্যাথিয়ুস বলেছিল এলিয়ানা ছিল বিশ বছরের একটি মেয়ে। সেই বয়সটা ছিল একজন এথিকের যৌবনের প্রথম ভাগ।যে বয়সটা ছিল কারো প্রতি বিশেষভাবে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যাবার বয়স, যে বয়সে এথিকরা তাঁদের বিপরীত লিঙ্গের এথিকদের প্রতি প্রবল আকর্ষণ অনুভব করত। একে অপরকে অনেক ভালবাসতে জানতো ওরা। ক্যালিস্ত্রা ভাবতে থাকে এলিয়ানা কি এমন কাউকে ভালবাসত যেমনটি সে বাসে ফিদ্রোকে?

     

    ফিদ্রোর কথা মনে পড়ছে তার। সে এখন নিশ্চই সিসালি সায়েন্স একাডেমীতে ভিনগ্রহের নানা প্রাণী নিয়ে গবেষণা করছে। মহাজগতের প্রায় দশ হাজার প্রজাতির বুদ্ধিমান ও বোকা প্রাণীর চতুর্মাত্রিক ছবি তার সংগ্রহে আছে। এলিয়ানার ছবি পেলে সে নিশ্চই অনেক খুশী হবে। দুইদিন পর ফিদ্রোর এক হাজার বছর পূর্ন হবে। তার জন্মদিনে এলিয়ানার ছবিটি নিঃসন্দেহে ফিদ্রোর জন্য হবে সেরা উপহার। ভাবতেই অনেক ভাল লাগছে ক্যালিস্ত্রার। আবার তার দৃষ্টি যায় এলিয়ানার দিকে। কি মায়াবী চেহারা তার।

     

     দেখতে এত সুন্দর আর মায়াবী হলেও কি নিষ্ঠুর ছিল তারা! অথচ তাঁদের মস্তিস্ক ছিল মোটামুটি রকমের সুগঠিত। মস্তিষ্কের প্রায় একশ ট্রিলিয়ন কোষের মাত্র পনের ভাগ ব্যবহার করতে জানত ওরা। এই সীমিতি জ্ঞান নিয়ে তারা অনেক কিছুই  করেছিল। তবে তারা নিশ্চই সিসালিয়ানদের মত কাউকে ভালবাসতে জানতোনা। কেননা ভালবাসতে জানলে নিজেদের ধ্বংস করে দিতে পারতোনা তারা। ধারণা করা হয় ওরা নিজেদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল শুধুমাত্র তাঁদের ক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে। দেশে দেশে হয়েছিল নিউক্লিও যুদ্ধ। মারা যায় পৃথিবীর সকল এথিকরা। তারপর যুদ্ধ চলে তাঁদের স্যাটেলাইটগুলোর মাঝে। পৃথিবীর একটি উপগ্রহ ছিল। সেখানে আশ্রয় নিয়ে ছিল কিছু এথিক। কিন্তু স্যাটেলাইটগুলো ধ্বংস করে দেয় সেই উপগ্রহটি। তারপর নিজেদের। উপগ্রহ হারিয়ে নিঃসঙ্গ পৃথিবীর আমূল পরিবর্তন ঘটেছিল।  পৃথিবী তার মূল অক্ষ থেকে সরে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছিল তার সবকিছু। সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। হারিয়ে যায় এথিক এবং তাঁদের সভ্যতা।

     

    ক্যালিস্ত্রা চলে এসেছে অনেকটা পথ। আর মাত্র দুটি ব্ল্যাক হোল পার হয়ে সে হাইপার ডাইব চালু করবে আবার। তারপর ফিদ্রোর কাছে যেতে খুব বেশি সময় লাগবেনা। তবুও দীর্ঘ পথ ভ্রমণে অনেক ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ক্যালিস্ত্রা। তার স্পেশশিপের নিয়ন্ত্রন নিয়েছে স্পেসশিপ নিজেই।  ক্যালিস্ত্রা এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার ছয়টি পা দেহ থেকে বের হয়ে প্রসারিত হল দুদিকে। চারটি হাতের সবগুলো প্রসারিত হয়ে স্পেশশিপের শেষপ্রান্ত স্পর্শ করেছে। তার বিশাল মাথার স্যাঁতসেঁতে চোখগুলো কালো মোটা চুলে যখন ঢাকা পড়ে গেল তখন ক্যালিস্ত্রার বুকের কাছে যেখানে মুখ এসে মিলেছে ঠিক সেখান থেকে বের হয়ে আসে আরো তিনটি চোখ। ঝুলে থাকা চোখগুলোতেও ঘুমের নিবাস তখন। স্পেশশিপের ভিতরের পরিবেশটা একদম শান্ত। এখানে তারারা নেই, অনেক দূরের কোন নক্ষত্রের আলোও এসে পৌছায় না। আঁধার কেটে স্পেশশিপটি নিয়ে যাচ্ছে ক্যালিস্ত্রাকে তার সিসালিতে। স্ক্রীনে থাকা প্রাগৈতিহাসিক মানবীর মুখে তখনও লেগে আছে এক টুকরো মায়াবী হাঁসি।

advertisement

  • তানি হক
    তানি হক সেদিনই গল্পটি পড়েছিলাম ..ব্যস্ততার জন্য তখন অনুভুতি জানাতে পারিনি ...অনেক অনেক সুন্দর লিখেছ ভাইয়া ..মামুন ভাই , ফাতেমা প্রমি আপু ,মাহী ভাই ,পান্না ভাই , সেই সাথে তুমি ও সাইন্স ফিকসন লিখছ দেখে অনেক আনন্দিত হলাম ..যখন গল্পটি পড়ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল যেন সত্যি...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৯ মে, ২০১২
  • মো ফরহাদ আলম
    মো ফরহাদ আলম সহজ ভাষা ব্যবহার করলে পাঠক সহজেই বুঝতে পারে। জটিল লিখছেন ভাই।
    প্রত্যুত্তর . ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩
  • মো ফরহাদ আলম
    মো ফরহাদ আলম অসাধারণ!!!!
    প্রত্যুত্তর . ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩