তমার কথা বলা

মাতৃভাষা (ফেব্রুয়ারী ২০২৬)

সাদিয়া আক্তার রিমি
  • ২৪২
তানিশা ও তুহিনের একমাত্র মেয়ে তমা। বিয়ের এক বছরের মাথায় তানিশা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। কিন্তু নয় মাস বয়স হওয়ার পরও তমা এখনো ঠিকমতো কথা বলতে পারে না। বেশিরভাগ সময় সে চুপচাপ থাকে। মাঝে মাঝে তার মুখ থেকে অস্পষ্ট কিছু শব্দ বের হয়।
আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় তমার মা-বাবা তমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারছিলেন না।
তানিশার শ্বশুরবাড়ি যৌথ পরিবার হলেও সেখানে এমন কোনো বাচ্চা ছিল না যে তমাকে কথা বলা শেখাতে পারত। তানিশার ভাসুরের এক ছেলে ছিল, নাম অনি। সেও ছিল ছোট ; অনির তখন তিন বছর হতে চলেছে। অনির পক্ষে তমাকে কথা বলা শেখানো সম্ভব ছিল না, তবু দিনের অধিকাংশ সময় সে ছোট বোন তমার সঙ্গে খেলত এবং কথা বলত।
বাড়ির বড়রা সময় পেলে তমাকে কোলে নিত, কিন্তু খেলার ছলে তমার সঙ্গে তেমন কোনো কথা বলত না। এ নিয়ে তানিশার মনে তেমন কোনো দুঃখ নেই। সে ভাবত, বাড়ির বড়রা যদি সারাক্ষণ তমার সঙ্গে কথাও বলত, তবুও কি কোনো লাভ হতো? বাচ্চাদের সঙ্গে সারাক্ষণ কথা বললেই যদি বাচ্চারা কথা বলা শিখে যেত, তাহলে এতদিনে তমাও কথা বলা শিখে যেত।
তবে মাঝে মাঝে তানিশার একটু খারাপই লাগে। তমার মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল না। তানিশা সবসময়ই হাসিমুখে হেসে-খেলে তমাকে মাতিয়ে রাখত। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। তমার মুখ থেকে শুধু ‘আম্মা’, ‘আব্বা’ আর কিছু অস্পষ্ট শব্দ ছাড়া আর কিছুই বের হত না। এভাবে আরও দু’মাস পার হয়ে যায়।
কিছুদিন পর, তানিশা তার মেয়ে তমাকে নিয়ে তমার নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে তানিশা দেখতে পায়, তমার মামাতো বোন সাথী, তমার থেকে তিন মাসের ছোট, কিন্তু কত সুন্দর করে স্পষ্টভাবে কথা বলছে। সাথীর দুষ্টু মিষ্টি কথা শুনে তানিশা মুগ্ধ হলেও তমার কথা মনে পড়তেই তার মনটা একটু খারাপ হয়ে যায়।
সাথী তমাকে পেয়ে খুব খুশি হয়। তমাও সাথীকে পেয়ে খুব খুশি হয়। সাথী নাওয়া-খাওয়া ভুলে সারাক্ষণ তমার সঙ্গে কথা বলে এবং খেলে। কয়েকদিন তারা একসাথে আনন্দে সময় কাটায়।
শ্বশুরবাড়ি ফিরে যাবার দুই দিন আগে তানিশা তার ভাবির সঙ্গে তমার ঠিকমতো কথা বলতে না পারার সমস্যা নিয়ে কথা বলছিল।
তানিশা: “ভাবি, এক বছর হতে চলেছে। এখনও পর্যন্ত মেয়েটা দু’একটা শব্দ ছাড়া আর কোনো কথা বলাই শিখলো না। ভেবেছিলাম এখানে এসে সবার সঙ্গে মিশলে তমাও সাথীর মতো কথা বলা শিখে যাবে। কিন্তু কিছুই তো হলো না। আমি তো তমার মধ্যে কোনো পরিবর্তনই দেখতে পাচ্ছি না। তমা কি তাহলে কখনো সাথীর মতো কথা বলতে পারবে না?”
ভাবি: “চিন্তা করবেন না, আপা। সব ঠিক হয়ে যাবে। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। তমাও একদিন কথা বলা শিখে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এক কাজ করা যায়, আপা — আমরা দুজন রোজা রেখে তমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি। আল্লাহ সহায় থাকলে তমাও খুব তাড়াতাড়ি সাথীর মতো কথা বলতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।”
তানিশা: “ইনশাআল্লাহ।”
ভাবির কথা শুনে তানিশা যেন মনে সাহস ফিরে পায়। পরদিন তারা দুজনেই রোজা রেখে আল্লাহর কাছে তমার জন্য দোয়া করেন। পরদিন বিকালে তমাকে নিয়ে তানিশা শ্বশুরবাড়ি ফিরে যায়।
কিছুদিনের মধ্যেই তমার মধ্যে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। মাঝে মাঝে ভুলভাল শব্দ বললেও তমা এখন কথা বলার চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে তমা কথা বলতে শিখছে। যদিও ভাঙা-ভাঙা শব্দ, তবে আগের মতো অস্পষ্ট নয়।
তমার কথা এখন যথেষ্ট স্পষ্ট এবং বোঝা যায়। যেমন, গলা শুকিয়ে গেলে তমা বলে, “মাম দাও, মাম।” অথবা কখনো বলে, “ভাত খাব, ভাত।” খেতে মন না চাইলে “খাব না, খাব না,” বলে তমা ঘাড় ডানে-বাঁয়ে ঘাড় নাড়ায়।
আজকাল তমা এমন সব কাণ্ড করে বেড়ায়। তবু তানিশা ও তুহিন খুশি। কথা বলতে পেরে তমাও মহাখুশি। কথা বলার সময় তমার আনন্দ তার চোখ-মুখে স্পষ্ট ফুটে ওঠে। ধীরে ধীরে শিখলেও তমা এখন কথা বলছে। এটাই তাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তারা দুজনেই খুশিমনে আলহামদুলিল্লাহ বলে প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

তমা নামক এক মেয়ের কথা বলা শিখতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সময় লাগছে। যা তার বাবা-মা, আত্নীয় স্বজনদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শেষপর্যন্ত সমস্ত বাধা পার করে তমার কথা বলা শেখাই এই গল্পের মূল বিষয়।

০৫ মে - ২০২৫ গল্প/কবিতা: ৯ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "স্বাধীনতা”
কবিতার বিষয় "স্বাধীনতা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারী,২০২৬