আমি এক সেকেলে অবগুণ্ঠনাবতী নারী । চার দেয়ালের মাঝে বন্দী ছিল আমার  জীবন । ঘরের জানালায় চোখ রেখে আকাশ দেখতাম । কতবার স্বপ্ন দেখেছি উঠোনে পা রেখে খোলা আকাশ দেখব ,রুপালী চাঁদ থেকে সোনালী স্বপ্নের সুতা গুলো আমাকে জড়িয়ে ধরবে । কখনো পূরণ হয়নি । শিশু বেলায় পিতা আর ভায়ের , বুঝতে না শিখতেই স্বামীর , আর মৃত্যু পর্যন্ত সন্তানের সেবা করেছি । তাদের পরিচয়েই কেটে গিয়েছে জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি । নিজের নাম কি ছিল এখনো মনে করতে পারিনা ।

কত আগেই তোমরা উঠোন পেরিয়ে বাইরে এসেছ । শিশুর দোলনার রশির পরিবর্তে তোমাদের হাতে আজ অস্ত্র । আকাশ পথে বিমান চালাও , সমুদ্রে জাহাজ । কোন কোন জায়গায় তোমাদের জয়কার জয়কার্ , বিপরীত সেখানে অসহায় । শুনেছি নারী পুরুষ সমান এই বিতর্কে পক্ষ দলই আজ জয়ী হয় । কিন্তু আসলে কি তাই ? কিভাবে ? আমরা এখানে বসেই হাসি বিদ্রুপের । যদি সমান হবে কেন এই নারী দিবস ? পুরুষ দিবস কেন নেই ? আচ্ছা মুরগীর রানটি কি তোমার পাতে পড়ে ? নাকি ভায়ের ? বড় হয়েছ বলে কি তোমাকে আগে স্কুলে পাঠায় নাকি ছোট ভাইটিকে ? আমি এখানে ব্যতিক্রমের কথা জানতে চাইনা জানতে চাই  সর্ব সাধারনের কথা ।

 আমাদের সময় কন্যাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো । তোমাদের কে এসিড দিয়ে ঝলসে দেয় । লেখা পড়ার অপরাধে হাত কেটে ফেলে । আজো মেয়েরা সম্ভ্রম হারিয়ে রশিতে ঝুলে পড়ে । দোররার আঘাতে আজো তোমাদের শরীর কালশিটে হয় । পুরুষের মনোরঞ্জনে আমরা বাজারের বাইজী হয়েছি আর হাটে বিকিকিনির পন্য হয়েছি বারংবার । আর তোমরা ? বিজ্ঞাপন আর নীল ছবির বাজারে নিলাম হচ্ছ বারবার । এখনো লক্ষ লক্ষ নারী চারদেয়ালের মাঝে গুমরে কাঁদে । এখনো নারীরা বাবা , স্বামী আর সন্তানদের কাঁধে হাত রেখেই পার করে দেয় জীবনের পুরোটা সময় । এখনো তারা ঠিকানাহীন ।

তবে আমাদের থেকে তোমাদের পার্থক্য কোথায় ? কতটুকু পথ এগিয়েছ সেকাল থেকে একালে ? খুব বেশি নয় । কোটা নিয়ে আর কতকাল চলবে ? বেরিয়ে এস নারীদিবসে লিপিসটীক মেখে , ফুলের তোড়া নিয়ে মিষ্টি কথার ভাষণ শোনা সব পাওয়া নয় । বছরের প্রতিটা দিনই মানুষের , সুতরাং তোমারও । ঋজু হও , ঋদ্ধ হও সামনে যেতে হবে বহুদুর ! আমরা যা পারিনি তোমরাই পারবে তাই ।

মনে রেখ ,

সে যুগ হয়েছে বাসী ,

যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না , নারী আছিল দাসী ।