.................................☼

: এখানে ঘাস ফড়িং পালা করে কাটে
সুখের ফসল, দিন রাত্রির ব্যাবধান...

 

:: তুমিইতো বলেছ, ভালবাসা ঝুলে থাকে
কাঠ ঠোকরার ঠোঁটে, অবিরত স্লোগানে
মাছরাঙা প্রেম, টুপ করে জলে ডোবে
বলো নি কী, পিঁপড়ের পিঠে হাটে স্বপ্ন যতো
অত:পর ডুবে ডুবে যায়...


: ওপারে হিজল তলায় এক বড় গিরগিটি
রয়েছে পাহাড়ায়, আমার চোখে হেটে যায়
বিবাগী আধার, জল ছোয়ার বল কই মাছরাঙার?
যদি গাইতে সপ্ত ডিঙ্গার গান ভাটিয়ালী
যদি চাতকীর চোখে অবিরত দেখতে সপ্তর্ষী...


:: শুধু কী আমার দায়? আমাকে ঘিরে আছে
শকুনী চোখ, জল হাওয়ার দূরত্ব বলো
কিভাবে পেরোই? তবু যদি বাড়াতে দু’হাত
যদি ডেকে যেতে জোনাকীর আলোয়...


: আকাশ ভেঙ্গেছে বৃষ্টির ছাট
ক্ষুদ্র আমি, নগন্য, কী সাহসে মেলি পাখা?
নিরাভরণ জোছনায় কতটুকু আলো আমার?
তুমি খুজে পেতেই না...


:: এভাবে বলো না, আর বলোনা কখনো
যদি ভালবাসো, যদি বুকের ভিতর এখনো বাজে
ঝর্ণাধারার গান, তুমি চলে এসো, বাধ ভাঙ্গা
শ্রাবণ সন্ধায়, শাড়ীর আঁচল পেতে রাখবো দুয়ারে...


: গলে গলে বয়ে গেছে দূরন্ত সময়
হৃদয় দূর্গের দুয়ারও ভেঙ্গেছে সেই কবেই
তবে কেন এখনো অপেক্ষায়? স্বপ্ন
বয়ে বয়ে ক্লান্ত পিঁপড়ে, হারিয়েছে দিক
যদি পূণ:জন্ম হয়, যদি ফের ভালবাসো...


:: দোহাই তোমার, এক জনম দূর্ভিক্ষ
ঠেলে দিও না, থাকুক তবু ভালবাসা
কাঠ ঠোকরার ঠোঁটে বেঁচে, মাছরাঙার
বিবাগী আধার ভাগ করে নেবো, সুখের ফসল
কেটে নিক ঘাস ফড়িং...

 

: তোমাকে দেবার কিছুই যে রইবে না, আমার
অনাবাদী প্রেম, একটু শুধু ভালবাসার কাঙ্গাল
যদি দিতে পারতে! ডুবে যেতো মাছ রাঙা
ভালবাসা বয়ে নিয়ে দিক হারাতো না পিঁপড়ের
সারি, অথচ দেখো তোমাকেই মনে করে, আজো
ঘুমন্ত রাজকুমার...


:: স্থায়ীত্ব চেয়েছি, সে কী পুরো রাজত্ব?
সুখী হবো ভেবে ভেবে কত সূর্য ডুবেছে
শীতলক্ষ্যায়! অথচ আমার দিকে প্রতিদিন
সূর্যোদয়...


: আলোর অন্ধকারে ঢেকেছিল তোমার মন
উজার হতে শেখোনি, উজার করতে জানোনি
শেকল চড়াতে চেয়েছ পরিযায়ী পাখির পা'য়
সেইতো তার পুরো রাজত্ব, বন্দী পাখির বুকে
ভালবাসা বেঁচে থাকে কখনো?


:: তবে কী মরুভূমি রাত? নি:শব্দ জলে
ডুবে যাওয়া? অনেক হারিয়েছি, আর কতো বলো?


: শীতলক্ষ্যা থাকুক এপাড়-ওপাড়, সেতু হয়ে
বয়েসী বটের মতো আমি রব স্থির-অবিচল
তবু দুপাড়ের সঙ্গমে বাধা হয়ে থাকুক নদী,
তোমার ছায়া দেখে দেখে কাটবে আমার
অনন্ত সময়, বিবাগী প্রেম...

...........................