এক ছোট্ট গ্রামে ছিল একটি পরিবার। পরিবারের প্রধান ছিলেন একজন বয়স্ক কৃষক, নাম ছিল গোপাল। তাঁর ছিল একমাত্র পুত্র, নাম রজনী। গোপাল অনেক চেষ্টা করেছিলেন তাঁর ছেলেকে ভালো মানুষ বানানোর জন্য, কিন্তু গ্রামের মাটি ও আকাশে, তাদের জীবন যেন এক অসমাপ্ত যুদ্ধের মতো ছিল। শস্যের জন্য সংগ্রাম, জীবনযুদ্ধে রক্ষা পাওয়ার প্রতিযোগিতা—এটাই ছিল তাদের চিরকালীন সংগ্রাম।
একদিন গ্রামে এক নতুন জমিদার আসেন। তার নাম ছিল মলয়। তিনি খুব কঠোর, শাসক মনোভাবের অধিকারী ছিলেন এবং গ্রামবাসীদের উপর জোরাজুরি চালাতে শুরু করেন। জমিদারের অধীনে, গোপাল ও তাঁর পরিবার তাদের জমির কিছু অংশ হারিয়ে ফেলেছিল। মলয় তাদেরকে বাধ্য করে দিয়েছিল শ্রম দিতে, যার বিনিময়ে তারা খুব কম পয়সা পেত। মলয়ের শাসনে গ্রামবাসী প্রায় সবাই দাসত্বের মতো জীবন কাটাতে লাগল।
রজনী ছিল এক মেধাবী ছেলে, তবে তার মধ্যে ছিল স্বাধীনতার প্রতি তীব্র আগ্রহ। একদিন, তার মনে একটি চমৎকার পরিকল্পনা আসে। সে সিদ্ধান্ত নেয়, সে আর মলয়ের শাসন মেনে নেবে না। সে বিশ্বাস করত, তার বাবা-মায়ের মতো, সে আর কিছুই নয়—একমাত্র দাস।
রজনী জমিদারের বাড়িতে গিয়ে কিছু সময় কাটানোর পরিকল্পনা করে। মলয়ের অগাধ ক্ষমতা ও ধন-সম্পদ দেখে তার চোখ জ্বলজ্বল করছিল। তবে তিনি দেখতে পান, মলয়ের পেছনে একটি বড় লোহার শেকল ঝুলছে, যা তাকে শাসনের চেয়ে বেশি বন্দি করে রেখেছে।
"তুমি কি জানো, জমিদার মলয় এক ধরনের দাস?" রজনী নিজেকে প্রশ্ন করল। "তুমি কি জানো, তার ক্ষমতা তো শুধুমাত্র অন্যদের শোষণ করতে, কিন্তু সে কখনো স্বাধীন হতে পারেনি। তার মুক্তি কি, শেকলের মতই?"
রজনী তখন বুঝতে পারে যে, শাসন শুধু বাহ্যিক নয়, অন্তরেও প্রভাব ফেলে। শোষণ, দাসত্ব আসলে এক শেকলের মত—যতই বড় হোক, যতই শক্তিশালী হোক, তা মানুষের অন্তরে ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
সে পরের দিন গ্রামের অন্যান্য মানুষদের কাছে গিয়ে তাদের এই সত্যিটা বোঝায়। সবাই শঙ্কিত ছিল, কিন্তু রজনী তাদের সাহস জোগায়। একত্রিত হয়ে তারা মলয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। গ্রামবাসীরা সবাই এক হয়ে শেকল ভেঙে দেয়। শোষণের বিরুদ্ধে রজনী আর তার পিতা গোপাল একে একে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তাদের সাহসিকতা নতুন প্রাণের সঞ্চার করে গ্রামে।
মলয়ের শাসন শেষ হয়, এবং গ্রামবাসীরা স্বাধীনতার আনন্দ অনুভব করে। কিন্তু রজনী কখনও ভুলে না, সত্যিকারের দাসত্ব কেবল শৃঙ্খলেই নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের অভাবেই হতে পারে। আর সেই অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে, একজন মানুষ শুধুমাত্র নিজেকে, তার অন্তরকে মুক্ত করেই প্রকৃত স্বাধীনতা পেতে পারে।
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
সত্যিকারের দাসত্ব কেবল শৃঙ্খলেই নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের অভাবেই হতে পারে। আর সেই অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে, একজন মানুষ শুধুমাত্র নিজেকে, তার অন্তরকে মুক্ত করেই প্রকৃত স্বাধীনতা পেতে পারে।
২২ জুলাই - ২০২৩
গল্প/কবিতা:
২১ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
প্রতি মাসেই পুরস্কার
বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।
লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন
-
প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার
প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
-
দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার
প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
-
তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।
আগামী সংখ্যার বিষয়
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল,২০২৫