লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৫ জুন ১৯৮০
গল্প/কবিতা: ২১টি

সমন্বিত স্কোর

৫.২৩

বিচারক স্কোরঃ ৩.৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৭৩ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবাংলার রূপ (এপ্রিল ২০১৪)

পোড়া মাটি
বাংলার রূপ

সংখ্যা

মোট ভোট ৫২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.২৩

সাদিয়া সুলতানা

comment ৪২  favorite ১  import_contacts ২,০৪৫
এক

ময়মনের চুল বাঁধার কায়দাটা বেশ। দুই হাতের অভিজ্ঞ সঞ্চালনে চুলে পাটি বেণীর নিখুঁত সাজ সম্পন্ন করে ময়মন। প্রতিদিন বিকালে নারিকেল তেল দিয়ে কষে বেণী বাঁধে। হাতের পরিপাটি যত্ন পেয়ে সেই বেণী অস্থির পানি সাপের মত পিঠ বেয়ে নেমে কোমর ছুঁয়ে যায়। অনেকদিন পর এই মুগ্ধ বেণীদৃশ্য দেখেও লতিফ মুন্সীর মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। নিস্প্রাণ চোখে সে ময়মনের দিকে তাকিয়ে থাকে। বেণী করা শেষ হলে চিরুনি থেকে চুল ছাড়িয়ে দলা বাঁধা চুলে এক দলা থুতু দিয়ে উঠোনের দিকে ছুড়ে দেয় ময়মন। লতিফ মুন্সী এই কাজ তার মাকেও করতে দেখেছে। মাও থুতু ছাড়া চুল ফেলতো না। মা বলতো থুতু দিলে চুল নিয়ে কেউ জাদু টোনা করতে পারে না। নবীজির চুল নিয়েও জাদু টোনা হয়েছিল। তাই থুতুতে কোনো অমঙ্গল দূর হবে সেই বিশ্বাস ময়মনের মতো লতিফ মুন্সীর ভেতরেও গ্রথিত।

ময়মন স্বামীর দিকে তাকায়। স্বামীর উপস্থিতি সে টের পায়নি। তাই দাঁতে জিব কেটে ময়মন স্বামীর দিকে এগিয়ে যায়। তার উপস্থিতিতে লতিফ মুন্সীর অবনত দৃষ্টি সামনে প্রসারিত হলেও স্পষ্টতই বোঝা যায় তাতে কোনো পড়বার মতো ভাষা নেই। স্বামীর নিস্পৃহ চাহনি ময়মনকে অস্থির তোলে। অথচ ময়মন এখন পুরো স্বাভাবিক। প্রতিদিনের মতোই রাঁধে, বাড়ে, এমনকি চুলও বাঁধে। কিন্তু এই মানুষটা কেমন হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। ছেলেটা মরবার পর থেকে সারাদিন কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়ায় আর বিকাল হলেই উঠোনে পা ছড়িয়ে বসে থাকে। ময়মনের বুকের ভেতর হুহু করে। দেড় মাস হয়ে গেল তবু এই লোকের কষ্টের কোনো রূপান্তর ঘটেনি। আজ আরও শীর্ণ ও বয়স্ক দেখাচ্ছে লতিফ মুন্সীকে। ময়মনের দিকে বার কয়েক তাকিয়ে এখন চোখ বন্ধ করে আছে। ময়মন স্বামীর হাত ধরে মিনতির স্বরে বলে,
-কিছু খাইবেন? চিড়া ভিজায় দিমু? কলা দিয়া খাইবেন?
স্বামীকে উত্তরহীন ঠাঁয় বসে থাকতে দেখে ময়মন তার পিঠে হাত রাখে।
-কথা কন না ক্যান। দেই কিছু খাইতে? দুপুরে ভাতও তো খান নাই! ভাত দিমু?

লতিফ মুন্সী তবু ময়মনের কথার উত্তর দেয় না। তার মুখ বিবর্ণ ও অনুভূতিহীন। গায়ের জামাটা ঢলঢল করছে। ময়মনের বুকের ভেতরটা কেমন করে। খানিক আগে নিজের চুল বাঁধার বিলাসিতায় নিজেরই লজ্জা করতে থাকে। মানুষটা কখন এলো টেরই পেল না! আসলে নুরা মরার পর ওরও কি হুশ আছে? নইলে আবার চুলের জটা ভাঙে! কী এক সংকীর্ণতায় ময়মন আর কথা বাড়ায় না। থাকুক মানুষটা নিজের মতো। নুরার স্মৃতি বিস্মৃত হতে আরও সময় চাই মানুষটার। তিন ছেলের মধ্যে এখন দুটি। ওদের ছোট ছেলে নুরা বড় দুই ভাইয়ের মতো ছিল না। খুব নেওটা ছিল বাবা আর মায়ের। ছেলেকে বাঁচানোর কম চেষ্টা করেনি লতিফ মুন্সী। মৃত্যুর হাত থেকে ছেলেকে ছিনিয়ে আনার ব্যর্থতা তবু কিছুতেই ভুলতে পারে না সে। অথচ তারা আর হীরার আগ্রাসন ময়মনকে ঠিকই উঠে দাঁড় করিয়েছে। এতো কিছুর পরও যে ছেলে দু'টির মুখে ভাত তুলতে হয়।

লতিফ মুন্সীর ভিটের চারপাশ ঘিরে নারিকেল গাছে সারি। ফাঁকে ফাঁকে একটা দু'টো সুপারি গাছও দাঁড়িয়ে। মাথার উপর থেকে দুপুরের চড়া রোদ সরে গেছে। বিকালের মিহি আলোর সাথে গাছের ছায়ায় বাতাসে বেশ সতেজ আমেজ। নাম গোত্রহীন দু'একটা পাখির সাথে পরিচিত পাখিদের গুঞ্জনে চারপাশ মুখরিত হয়ে আছে। তবু ওদের উঠোন প্রাণহীন। ছেলে দু'টি বাড়িতে না থাকলে ভুলে থাকতে চাওয়া ব্যথা যেন উসকে ওঠে। চুপচাপ দু'টি মানুষ বসে থাকে। স্বামীর বিষণ্নতায় ময়মন দ্রুত আক্রান্ত হয়ে যায়। পাখিদের অর্থহীন কোলাহল তবু চারপাশ মাতিয়ে রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা করে চলে।

দুই

চৌকির তলা থেকে হারিকেন বের করে ন্যাকড়া দিয়ে মুছে নেয় ময়মন। বহু বছরের পুরনো এই জিনিসটা এখনো বিপদের সঙ্গী। ময়মনদের গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ আছে। লতিফ মুন্সী একটা লাইটের পারমিশন এনেছে। চারজনের সংসারে একটি বাতিতে আনায়েসেই কাজ চলে যায়। এর চেয়ে বেশি লাইটের ব্যবস্থা করে বাড়তি আয়েসের অবস্থা তাদের না। কিন্তু আজ দু'দিন বিদ্যুৎ নেই। গতকাল সকালে ফরিদের এগারো বছরের মেয়ে ওদের এলাকার পল্লী বিদ্যুতের খুঁটির সাথে পা বেঁধে মরে গেছে। টিয়ার লাশ দেখতে ময়মনও গিয়েছিল। ছোট্ট টিয়া পাখির শরীরটা শীতের আমেজে কেমন সতেজ লাগছিল। মেয়েটার মেহেদী রাঙা হাত দু'খানা দেখে ময়মনের বুক হুহু করে উঠছিল। পরশু বিকালে ময়মনই টিয়ার হাতে মেহেদীর নকশা তুলে দিয়েছিল, মেয়েটার খুব সাজবার শখ ছিল। মাঝে মাঝেই দৌড়ে চলে আসতো, চাচী মেন্দি লাগায় দাও।

ময়মনের চোখ ভিজে আসে। শোকের কোনো বিবেচনা বা সময়জ্ঞান নেই। সন্তান হারানোর বেদনায় টিয়ার মাকে সবাই সান্ত্বনা দিলেও ময়মন কিছু বলেনি। কারণ সে ভালো করেই জানে এই বেদনার উৎসমূল কত গভীর। তবু নুরার মৃত্যুর দিনটি ও প্রাণপন ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে। যত ভুলতে চায় ততই সেই দিনের প্রতিটি ক্ষণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। সদর থেকে ফেরার সময় থেকে শুরু করে ছেলেটাকে গোসল করানো অবধি। নাহ্ আর কাঁদতে চায় না সে। মৃত ছেলের কষ্ট বাড়ে যদি! ময়মন হাতের ব্যস্ততায় নিজেকে আড়াল করার চেষ্টায় মেতে ওঠে। তারা আর হীরার বাপ ভাত চাইবে। নাহ্ ও ভুল বলল। লতিফ মুন্সী তো কিছু চাইতে ভুলেই গেছে। সেধে দিলে দু'লোকমা মুখে পুরে, না দিলে নাই।

কী মানুষ কী হয়েছে! আগে স্বামীর সামনে কথা বলতে গেলে দম বন্ধ হয়ে আসতো, শিরদাঁড়া বেয়ে ভয়ের চোরা স্রোত নেয়ে যেতো। আর এখন মানুষটা কেমন চুপ মেরে গেছে। যেন গ্যাস বেলুন উড়বার আয়োজনের আগেই তীক্ষ্ম কিছুর খোঁচায় চুপসে গেছে। ওদের গ্রাম্য ভাষায় বলে 'তবদা' মেরে গেছে। দস্তরখানা বিছিয়ে ভাত বেড়ে স্বামীকে ডাকে ময়মন। তরকারির অবস্থা বেশি ভাল না। আলু ভর্তা আর পাতলা ডাল। তারা আর হীরা খেয়ে আগেই শুয়ে পড়েছে। সারাদিনের হুটোপুটির ফলাফল হলো সন্ধে না হতেই বিকট চিৎকার মা ভাত দে, আমাগো ক্ষুধা পায় না? তারপর দু'গাল খেয়ে নিয়েই ঘুম।


হারিকেনের নাতিদীর্ঘ আলোতে ভাতে উড়ে আসা পোকার উপস্থিতি টের পায় না বসা লতিফ মুন্সী। কিন্তু দাঁতের মধ্যে কী এক পোকার পেষণে মুখ বিকৃত করে মুখ থেকে ভাতের লোকমা বের করে পাশের হাত ধোয়ার মাটির মালশায় ফেলে দেয়। এত বড় একটা ঘটনায়ও স্বামীকে বিচলিত বা হিংস্র হতে না দেখে ময়মনই বিচলিত হয়ে ওঠে। সময়টা এমন না হলে তার পিঠে দু'এক ঘা পড়তো তা নিশ্চিত। ময়মনা রোজ রাতে ভাত বাড়ার সময় মায়ের কাছে শোনা একটা শ্লোক আওড়ায়। ছোটবেলা থেকেই ও মাকে দেখেছে রাতে কুপির আবছায়াতে শ্লোক আওড়াতে,
আউলা পোকা, ডাউলা পোকা, চাউলা পোকা যা
রাইত্তের আন্ধারে খুঁইজা, খুঁইজা খা...

আজকাল ময়মনার এইসব শ্লোক মনে থাকে না। নুরা এইসব ধাঁধা, শ্লোক শুনতে পছন্দ করতো। দিনরাত মায়ের পায়ে পায়ে ঘুরতো। মাঝে মাঝে মায়ের শাড়িতে পা বেঁধে পড়তোও। তখন ছেলের পিঠে ধমাধম দু'ঘা লাগাতো ময়মন। ময়মন ওর শূণ্য আঁচল বুকের কাছে জড়িয়ে নেয়। বুকের ভেতর এখন বড় শূণ্য অনুভব। হাহাকারও নেই। স্বামীর সাথে চোখাচোখি হতেই বোধগম্য ভাষা বিনিময়ে দু'জন নিশ্চুপ বসে থাকে। মৃত ছেলের জন্য কোনো কান্নার আয়োজন নেই দুটি মানুষের। ঘরের একমাত্র আলোটি নিভিয়ে দিয়ে রাতের অন্ধকারে শুধু দু'জন দু'জনের পিছন ফিরে চোখের পানি আড়াল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের দুঃখ লুকানোর সহযাত্রী হয়ে ধোঁয়াটে কুয়াশাও রাতের স্নিগ্ধতা ঢেকে দেয়।

তিন

লতিফ মুন্সি সকাল থেকেই দেলোয়ারের দোকানে বসে আছে। দেলোয়ারের দোকানের নাম, বন্ধু বীজ ভান্ডার ও কৃষি ঘর। দোকানে এখন বেশ জমজমাট বেচা-কেনা চলছে। লতিফ চুপচাপ পরিচিত-অপরিচিত সকলের আসা যাওয়া দেখছে। দেলোয়ার আর তার সহকারী লাভলু খুব ব্যস্ত। দেলোয়ার তবু এক ফাঁকে বন্ধু লতিফ মুন্সীকে ঠিকই চা টোস্ট খাইয়েছে। দাঁড়ানো কাস্টমারকে বিদায় করে দেলোয়ার লতিফের কাছে এসে দাঁড়ায়। বন্ধুর বিষণ্ন মুখটি দেখে তার গভীরতা বুঝবার চেষ্টা করে দেলোয়ার। যদিও লতিফ মুন্সীর বাল্যকালের বন্ধু হওয়ায় বন্ধুর দুঃখের পরিধি তার জানা।

লতিফ মুন্সীর কাছে এসে পিঠে আলতো করে হাত রেখে প্রশ্ন করে দেলোয়ার,
-আর কত বইস্যা থাকবা দোস্ত? জমিন নাই, ভিটাতো আছে। বাপ-দাদার ভিটাটুকুও তো খোয়াইবা এমন বইসা থাকলে। পরের জমিনে কামলা দাও।
অনেকদিন পর লতিফের যেন একটা কাঁদবার জায়গা হয়। বন্ধুর বুকে মুখ গুঁজে হুহু করে কেঁদে ওঠে সে।
-শেষ সম্বল জমিনটুকু বেইচাও তো ছাওয়ালটারে বাঁচাইতে পারলাম না। জামিন থাকতো নয় ছাওয়াল থাকতো! এহন পরের জমিত কামলা খাটমু!
-ব্যাটা মাইনষের কান্দন নাই দোস্ত। গরীবের আল্লাহ রাজরোগ দিছে কী করবা। চেষ্টা তো করছো। এহনও বাড়িতে চারখান খানেওয়ালা। তুমি এক কাজ কর, ছবুর হাজীর কথা মত হের ইট ভাটাতেই কামলা দাওগা।
অপ্রত্যাশিত প্রস্তাবে লতিফ বন্ধুর বুক থেকে ছিটকে বের হয়ে আসে। তার অন্তরঙ্গ বেদনা যেন এবার আগ্নেয় রূপ নেয়।
-এই কথা কইলে তোমার দোকান আর আসুম না। তুমি দেখছো আমার জমিন খান? জমিন আর জমিন আছে? নিজের জমিনের মাটি নিজে পোড়ামু অত সিমার আমি না।

নিজের ভুল যেন বুঝতে পারে দেলোয়ার। ওর দোকান মহাসড়কের পাশেই। এই দোকানের উল্টো দিকেই ছবুর হাজীর ইটভাটা। সেই ইটভাটার কয়েক'শ গজ দূরেই লতিফ মুন্সীর জমিনটুকু। এই অগ্রহায়নেই শেষ সরিষা তুলেছে লতিফ মুন্সী। সোনার খন্ডে সোনাই ফলতো যেন। লতিফের সাত বছরের ছেলে নুরার কী এক অসুখের কারণে টাকার প্রয়োজনে সেই জমিটুকু ছবুর হাজীর কাছে বিক্রি করেছে লতিফ মুন্সী। তবু ছেলেটা বাঁচেনি। ছেলের সাথে সাথে লতিফের জমিটুকুও যেন মরে গেছে। ইটভাটার চারপাশের বিঘা ত্রিশেক জমির মালিক এখন ছবুর হাজী। দেলোয়ার ইটভাটার দিকে তাকায়। ওর দোকান থেকে স্পষ্ট লতিফের জমিনটুকু দেখতে পায় দেলোয়ার। বন্ধুর জমি বলে সেই জমির অবস্থান তার কাছে পরিস্কার হয়, নতুবা ডোবার আকৃতি ধারণ করা জমিটুকুর অতীত মালিকের পরিচয় আর সীমা বোঝা মুশকিলই ছিল। বন্ধুর পোড়া ক্ষতে আঘাত লেগেছে বলে দেলোয়ার দ্রুত আলোচনা অন্যদিকে নেয়,
-তয় অন্য কাম নাই। কাইল থন আমার দোকানেই বহ। দুই দোস্ত একলগে ব্যবসা করি।
বন্ধুর কথার প্রলেপে চোখের পানি মুছতে মুছতে লতিফ মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।

চার

বিকালের কোমল আলোতে ইটভাটার ইটের পাঁজার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা লতিফ মুন্সীর বুকের ভেতর নিংড়ে বেদনা উথলে ওঠে। ধীরে ধীরে তার চোখের কোণ বেয়ে জল পড়তে থাকে। ইট ভাটার চুল্লীর মুখ দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হয়ে পাক খেতে খেতে আকাশে উঠছে। লতিফ মুন্সী টের পায় চুল্লীতে তার ধানী জমির মাটি পোড়ে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে সেই চুল্লীর তাপ লতিফ মুন্সীর গায়ে এসে লাগে আর পুড়তে থাকে তার শরীরের রোমকূপ। নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থেকেও ছটফট করে সে।

যেন ইটভাটায় মাটি পোড়ে না, পোড়ে লতিফ মুন্সীর মাটির শরীর।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement