হঠাৎ করেই হাতটা কেঁপে উঠে তোমাকে ছুঁতে চেয়ে
মাথাটায় একটা ঝাকুনি দিয়ে ধাতস্থ হই,
সেদিন যখন খুব করে হাসছিলে
নিয়ন বাতির আবছা আলোয় তোমাকে কী যে অপরূপ লাগছিলো
সেটা কি বোঝানো যাবে কখনো ?
সেই অপরূপতায় আমিও যেন খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম
কেন যে এত কাছে এসেও তোমাকে বলতে পারলাম না
কোন যন্ত্রনায় নিত্যদিন ছটফট করি…
ভাবাবেগটাকে ইতি উতি করে কিছুতেই মুখ খোলাতে পারলাম না
যেন বলে্ উঠে ‘‘তোমাকে ছাড়া আমার কিছুতেই চলে না’
‘আমার দিন-রাত্রী’র জপমালায় শুধু তুমি আর তুমি’ আব্লা… আব্লা…
তুমিও যে কিপটে কম নও
আমি না বললেও তুমি কি এগিয়ে আসতে পারো না?
নাকি ‘লজ্জা নারীর ভুষণ’ এটাকেই ধরে নিয়েছো তোমার নিয়তির ‘ব্লু বুক’ ?
তুমি কি কষ্ট পাওনা এখন ?
কৃপণ নই আমি, বলতে পারো অথর্ব একটা
যাকে দিয়ে বলাতে পারলে না তিনটে শব্দ ‘আমি তোমাকে… ’
যাতে তুমিও হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলতে পারতে ‘চলো হারিয়ে যাই’।
এখন খুব করে মাশুল দাও তোমার সেই কৃপণতার
শিউলী গুলো ঝরে গেলেও এখন আর কী করার আছে
কী করার আছে
গোধুলীর লালিমার ঢেউ তুলে তোমার অবয়ব এখন যদি অভিমানি অশ্রু ঝরায় ?
তুমি আর আমিতো এখন
বৈঠাহীন ভেসে যাওয়া তরীর এলোমেলো বাঁক
অথবা স্টেশনে দাড়িয়ে থেকে, ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখের আপসোস
অথবা ধরে নিতে পারো, সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার কষ্টে
দুরের বাদ্যে নৃত্যরত একটা হাড়-কিপটে আবেগ …।