লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ২৭টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৫১

বিচারক স্কোরঃ ২.৯১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftরম্য রচনা (জুলাই ২০১৪)

মন্ত্র ছোটা ছোটা
রম্য রচনা

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৫১

ওয়াহিদ মামুন লাভলু

comment ২৮  favorite ০  import_contacts ১,৯২০
এক

বকের হাড় খুব নরম হওয়ায় তাতে কামড় বসালে মুড় মুড় শব্দ করে সুন্দরভাবে ভেঙ্গে যায়। তাই একবার বকের মাংস খাওয়ার সাধ জেগেছিল আমাদের কয়েক বন্ধুর মনে। এই মজাদার খাদ্যের স্বাদ গ্রহণের নিঃশেষাত্মক ও ভক্ষণাত্মক উদ্দেশ্য ও বাসনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এক রাতের বৈঠকে বক মারার দায়িত্ব চাপলো আমির আলী ও আমার উপর। কারণ আমরা দু’জন মাংস রান্না করতে পারতাম না।

পরদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই রওয়ানা হলাম ‘কাজল কুড়া’ বিলের উদ্দেশ্যে। আমাদের গ্রামের দক্ষিণে এক মাইল দূরে বিলটি অবস্থিত। গ্রামের পরে বিশাল এলাকা জুড়ে ফসলের মাঠ। তারপর বিলটি।

হেঁটে মাঠ পেরিয়ে লোহার কাঁচি-কল নিয়ে উপস্থিত হলাম বিলের ধারে। কাঁচি-কল এক প্রকার ফাঁদ। ফাঁদের মধ্যে পুঁটি কিংবা এই ধরণের মাছ আটকিয়ে সামান্য পানি আছে এরূপ স্থানে তা পেতে রাখতে হয়। নিরিবিলি পরিবেশ পেয়ে বক হেঁটে মাছ খেতে থাকে। ফাঁদের মাছটি বক দেখলে তা খাওয়ার জন্য ঠোঁক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট আটকে গিয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে।

আমরা ফাঁদ পেতে কল্পনা করতে লাগলাম যে বেশ কয়েকটা বক নিয়ে গ্রামে ফিরে যাবো। রাতে মাংস ও আমনের চালের ভুনা খিচুরি মজা করে আহার করবো।

হঠাৎ কাঁচি-কলের উপরে একটা ডানা ঝাপটানো ব্যাপার-স্যাপার দেখে হাসি ফুটে উঠলো আমাদের মুখে। এই তো বক ফাঁদে পড়েছে। কিন্তু সংশয় জাগলো যে বক তো এত বড় হওয়ার কথা নয়! কাছে গিয়ে দেখলাম যে ফাঁদে পড়েছে একটা ঈগল পাখি। আবার ফাঁদ পাতলাম। কিন্তু পূণরায় ঈগল পাখি ফাঁদে আটকালো। পাখিটি খুবই দাপট দেখাচ্ছিল। তার দাপটের কারণে অনতিদূরে যে বকগুলি ছিল তা উড়াল দিয়ে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল। আমির আলী রেগে গিয়ে পাখিটির দুই পাখা এক হাত দিয়ে ধরে আরেক হাত দিয়ে ঘাড় ধরে দিল এক মোচড়।

মেজাজ ঠান্ডা করে আবারও ফাঁদ পেতে অপেক্ষায় রইলাম। অনেকক্ষণ পর বকের পরিবর্তে ঈগল পাখিই ফাঁদে পড়লো। তাই দেখে জমির আলী নিজের কপালে চাপড় মেরে বললো, ‘‘হায়রে কপাল রে।’’
আমি হেসে উঠলাম। আমির আলী কাঁদা-পানির ভিতর দিয়ে থপ থপ করে এগিয়ে গিয়ে কাঁচি-কল থেকে পাখিটি ছাড়িয়ে বিরক্ত হয়ে ‘‘ধ্যাৎ’’ বলে কলটি উপরে তুলে জোড়ে ছুঁড়ে মারলো। অনেক দূরে বিলের পানিতে সেটা ডুবে গেল।

তারপর বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করলাম আর নিজেদের ব্যর্থতায় হাসতে লাগলাম।

বেশ কিছুটা পথ হাঁটার পর দেখলাম, আমাদের গ্রামের পশ্চিমের শানিলা গ্রামের মান্নান খোন্দকার সাহেব তার বাড়ির কাছের একজনকে সঙ্গে করে আমাদের মাঠের ‘লায়রা বুড়ার বাগিচায়’ এসেছেন ‘মধুর চাক’ কাটতে। আমাদের মন তখন খারাপ ছিল। তাই আনন্দ ও উত্তেজনার আভাস পেয়ে সেখানে দাঁড়ালাম মধুর চাক কাটা দেখার জন্য।

মাঠের ঐখানে বেশ বড় জায়গা জুড়ে একটা তাল গাছ, কয়েকটা গাব, হিজল ও জাম গাছ ছিল। ‘লায়রা বুড়া’ কে ছিল তা জানি না, তবে বাগিচাটি তার নাম নিয়ে বেঁচে ছিল। বর্ষাকালে যখন পানিতে পুরো মাঠ তলিয়ে যেত তখন এই ‘লায়রা বুড়া’র বাগিচাই ছিল পূর্বের যমুনা নদী থেকে শুরু করে পশ্চিমের ঢাকা-বগুড়া সড়ক পর্যন্ত এলাকার মধ্যে নৌকা চালকদের ‘দিক দর্শন’স্বরূপ, এই বাগিচা দৃষ্টেই তারা এই পাঁথারে নৌ-চালনা করতো। এলাকাটা পাবনা জেলার বেড়া থানায় অবস্থিত। তখন উত্তরবঙ্গ থেকে যাত্রীবাহী কোচ বেড়ার উপর দিয়ে এসে নগরবাড়ি-আরিচা ফেরী পার হয়ে ঢাকা যেত।

সেই বাগিচার হিজল গাছে এক বিরাট ‘মধুর চাক’ ছিল, মান্নান খোন্দকার এসেছেন সেই চাক কাটতে। যথারীতি মন্ত্র পড়ার পর চাকে ধোঁয়া দেওয়ার জন্য কলা গাছের খোল দিয়ে তৈরী ও ভিতরে ভূষি বোঝাই ‘মের’টাতে আগুন দিয়ে ধোঁয়া বানিয়ে সঙ্গের লোকটার হাতে ধরিয়ে দিয়ে খোন্দকার সাহেব তাকে কাচি ও পাতিল দিয়ে গাছে উঠিয়ে দিলেন চাক কাটতে এবং নিজে বেশ একটু নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। আমরাও ওনার থেকে আরও একটু দূরে কৌতুহল নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

খোন্দকার সাহেবকে যে লোকটা ‘চাচা মিয়া’ বলে ডাকতো সে তার চাচা মিয়ার মন্ত্রের সাহসে নির্ভয়ে গাছে উঠে চাকে ধোঁয়া দিতেই অত বড় চাকের সব মৌমাছি একেবারে গুম গুম শব্দ করে উড়ে উঠলো; লোকটা হয়তো সে শব্দে একটু ভয়ও পেল। চাচা মিয়ার তরফ থেকে একটু সাহসের বাণী পাওয়ার আশায় লোকটি চিৎকার করে বললো, ‘‘চাচা মিয়া, মৌমাছি যে একেবারে গুম গুম করছে।’’
চাচা মিয়াও হয়তো বা ভয় পেয়েছেন। কিন্তু মনের সে ভাব গোপন করে তিনিও চিৎকার করেই ভাতিজাকে সাহস দিলেন, ‘‘ভয় নেই ভাতিজা, মৌমাছি ওরকম করেই। তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করো।’’
এ কথা বললেন আর দু-এক পা করে ক্রমশঃ দূরে সরে যাচ্ছেন। আমরাও ওনার সাথে দূরত্ব বজায় রেখে সরে যাচ্ছি।
লোকটি আবার চেঁচিয়ে বললো, ‘‘চাচা মিয়া, মাছি যে দু-একটা কামড় দেয়!’’
চাচা মিয়াও চেঁচিয়ে বললেন, ‘‘ভাতিজা, তাড়াতাড়ি কাজ সারো, আমার মন্ত্র ছোটা ছোটা!’’
বলছেন আর চাচা মিয়া দৌড়াচ্ছেন। অর্থাৎ তার মন্ত্র-এর কার্যকারিতা প্রায় ‘ছুটে যাওয়ার’ মত অবস্থায় এসেছে বা মন্ত্র প্রায় ব্যর্থ হয়ে পড়েছে, তাই মৌমাছি দু-একটা কামড় দিচ্ছে। ভাতিজা যদি তাড়াতাড়ি কাজ না সারে তাহলে মন্ত্র ছুটে যাবে এবং ক্ষিপ্ত মৌমাছি ভাতিজার সঙ্গে সঙ্গে তাকেও ধরতে পারে। এই ভয়ে চাচা মিয়া দৌড়ে পালাচ্ছেন।

আর আমরা তখন পড়ি মরি করে দৌড় দিয়ে খোন্দকার সাহেবের অবস্থান থেকে অনেক দূরে।

রাতে আমার বাবা জানালেন যে শানিলা গ্রামে তিনি একটা বিয়েতে দাওয়াত পেয়েছেন। ওনার হয়ে আমাকে তিনি সেখানে যেতে বললেন।

কয়েক বাড়ি পশ্চিমে আমির আলীদের বাড়ি গিয়ে তাকেও আমার সঙ্গে যেতে অনুরোধ করলাম। তাকে চিন্তিত দেখে একটু হেসে নিয়ে তাকে জানালাম যে ওখানে গেলে কিন্তু মান্নান খোন্দকার সাহেবের সাথে দেখা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ কথা শুনে সে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে সঙ্গে সঙ্গে রাজী হয়ে গেল।

দুই

পরদিন সকালে আমার বাবা উপহার কিনে আনলেন। সেটা নিয়ে আমরা বিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেখলাম যে পুরুষ-মহিলা, যুবক-যুবতী, শিশু, কিশোর বিভিন্ন বয়সের মানুষের সমাগম হয়েছে।

আমীর আলী খুব রোমান্টিক স্বভাবের। সুন্দর তরুণীকে দেখলে ওর রোমান্টিকতা আরও উথলে ওঠে। তার সাথে অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন রসালো আলাপ জমাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

কয়েকজন সুন্দর যুবতী জাঁকজমকপূর্ণ বাহারী পোশাক পরে সেজেগুঁজে এসেছিল। খেয়াল করলাম যে আমির আলী এক মেয়ের দিকে বার বার তাকাচ্ছে এবং সে মেয়েও আমির আলীর দিকে লাজুক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। দেরী না করে আমীর আলীর বাহু ধরে টেনে নিয়ে খাওয়ার টেবিলে ওকে সহ বসে পড়লাম।

এক সময় বাড়ির উঠোনের এক জায়গায় বসে আশেপাশের সবকিছু লক্ষ্য করতে লাগলাম।

পাত্রপক্ষ বিয়ে করতে এসেছে, খাওয়া-দাওয়া সব হয়ে গেছে, মেয়েরা খাচ্ছে-দাচ্ছে, বাড়ির মধ্যে কনেও খাচ্ছে; একটু পরেই বিয়ে পড়ানো হবে। এই অবসরে বরকে ঘিরে বসে সকলেই পান-সিগারেট খাচ্ছে, গল্প-গুজব করছে। কনে পক্ষেরও অনেকেই সেখানে বসেছে, তারাও পান-টান খাচ্ছে এবং বরকে দেখছে আর এই বর তাদের কনের সঙ্গে কেমন মানাবে মনে মনে তা হিসাব করছে।

অকস্মাৎ দেখলাম যে এক পাশে মান্নান খোন্দকার সাহেব এসে বসলেন। তাকে দেখে আমি চমকিত ও আগ্রহান্বিত হয়ে তার কাছাকাছি গিয়ে তার প্রতিটি কথা এবং নড়াচড়ার প্রতি লক্ষ্য করতে লাগলাম।

হঠাৎ তিনি একান্ত গম্ভীর মুখে উঠে দাঁড়িয়ে মাথা ঝুঁকাতে ঝুঁকাতে বলে উঠলেন, ‘‘হুঁ, যা শুনেছিলাম, এখন দেখলাম তা ঠিকই।’’ বলেই তিনি অনেক লোকের ভীড়ে কোথায় হারিয়ে গেলেন।

বেশীর ভাগ লোকই কথাটা খেয়াল না করলেও বরযাত্রীদের মধ্যে একজন লোক ছিল খুব বুদ্ধিমান; সে কথাটা খেয়াল করেছিল। সে তার পাশের লোককে কথাটা বললো। এক কান দু-কান করে কথাটা বরযাত্রীদের সকলের কানেই গেল। তারা ধরে বসলো, ‘‘কনে পক্ষ তাহলে আমাদের সম্বন্ধে কী শুনেছিল, আর এখন কী দেখলো তা আমাদেরকে খুলে বলতে হবে।’’ বরপক্ষ ধরে নিয়েছিল যে কথাটা কনে পক্ষেরই কেউ বলেছে এবং এ দ্বারা বরের এমন কোনো দোষ-ত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যার কথা কনেপক্ষ শুনেছিল অথচ দেখেছিল না কিন্তু এখন দেখলো, যেন বরপক্ষ এতদিন তা গোপন করে রেখেছিল। বরপক্ষের দাবী যে এই সব কথার রহস্য কনেপক্ষকে খুলে বলতে হবে নতুবা তারা বর নিয়ে উঠে চলে যাবে; তারা উঠে যায় আর কি।

ওদিকে কনে পক্ষের কানেও কথাটা গেছে। তারাও সচেতন হয়েছে, তাহলে বরের অবশ্যই এমন কোনো ত্রুটি আছে যার কথা শোনা গিয়েছিল অথচ দেখা যায় নি, বরপক্ষ গোপন করে রেখেছিল-কোনো বুদ্ধিমান লোক সেটা ধরতে পেরেছে। কে কনেপক্ষের সেই শুভাকাংখী তাকে খুঁজে বের করো, তার কাছ থেকেই আগে জানা হোক বরের সম্পর্কে সেই গোপন কথাটি, নইলে আমরাও এই বরের সঙ্গে আমাদের কনের বিয়ে দিব না।

উভয় পক্ষই কোমর বেঁধে খাড়া হলো-বিয়ে ভেঙ্গে যায় যায় অবস্থা। এমন সময় খোন্দকার সাহেব সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। বরপক্ষ তৎক্ষণাৎ তাকে চিনে ফেললো-‘‘এই তো সেই লোক যে কথাটা বলেছিল।’’ কনেপক্ষও এলো, তারাও দেখলো যে এ তো বাড়ির কাছেরই মান্নান খোন্দকার সাহেব। দুই পক্ষই ধরে বসলো, ‘‘আপনার এই কথাটার মানে আপনাকে বলতে হবে, কী আপনি শুনেছিলেন আর কী আপনি দেখলেন।’’

মান্নান খোন্দকার সাহেব বললেন, ‘‘ও এই কথা? শুনুন, আমি শুনেছিলাম যে বর অত্যন্ত সুন্দর চেহারার যুবক ঠিকই কিন্তু বেশী লম্বা নয়; তা দেখলাম যে কথাটা ঠিকই। তাই বলেছিলাম যে আগে যা শুনেছিলাম, এখন দেখলাম যে তা ঠিকই। তা এতে কি অন্যায় কিছু হয়েছে?’’
সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। এ তো তাদের দু-পক্ষেরই দেখা ও জানা কথা! দেখ দেখি কান্ড, কী সামান্য একটা অর্থহীন কথার জন্য বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার মত কত বড় অঘটন ঘটতে যাচ্ছিলো!

এরপর আমির আলীকে আর দেখতে পাচ্ছিলাম না। তাকে এদিক সেদিক খুঁজতে লাগলাম। না পেয়ে পূর্বের জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে রইলাম।

হঠাৎ একটা চিৎকারের মত শব্দ কানে এলো। পরক্ষণেই দেখলাম, আমির আলী দৌড়াচ্ছে আর পিছন পিছন মান্নান খোন্দকার সাহেব ওকে ছাতা হাতে ধাওয়া করেছেন। তিনি মুখে বলছেন, ‘‘ওকে ধরো, ওকে ধরো।’’
কিন্তু লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমির আলী বাড়ির ঢাল বেয়ে উঁচু থেকে রাস্তায় নেমেই পগাড় পার।

আমারও বিপদ হতে পারে ভেবে কেটে পড়ার তাগিদ অনুভব করলাম। তৎক্ষণাৎ প্রায় দৌড়ের মত করে হেঁটে স্থান ত্যাগ করলাম।

আমাদের গ্রামের কাছাকাছি ঈদগাহ মাঠের ওখানে এসে দেখলাম যে আমির আলী বসে আছে।

কি ঘটেছিল তা জানতে চাইলে সে বললো, ‘‘বিয়ে বাড়িতে গিয়ে একজন মেয়ের আকর্ষণীয় থুতনি দেখে আমার হৃদয়টা ভচকিয়ে গিয়েছিল। তাই সেই মেয়ের দিকে আমি কিছুক্ষণ ধরে বার বার তাকালে সেও আমার দিকে তাকাতে লাগলো। সে অবশ্য আমার তুলনায় একটু কম তাকাচ্ছিল। পরে আবার তার সাথে দেখা হলে প্রথমে ইশারায় কথা হলো। কিন্তু এতে দু’জনের অবাধ্য ও বখাটে মন তৃপ্ত না হওয়ায় গোয়াল ঘরের পিছনে ঘুপচি মত একটা জায়গায় গিয়ে আলাপ শুরু করেছিলাম। ওর নাম মালা।’’

আমির আলী আবার বললো, ‘‘হঠাৎ মান্নান খোন্দকার সাহেব আমাদেরকে দেখে ফেলে বললেন, ‘তুই আমার মেয়ের সাথে এখানে কি করছিস রে বজ্জাত?’ এই বলেই তিনি লাফ দিয়ে ও দৌড়ে কাছে এসে ছাতা দিয়ে আমাকে মারতে উদ্যত হলেন।’’
অবাক হয়ে আমি জিজ্ঞাসা করলাম আমির আলীকে, ‘‘মালা তাহলে খোন্দকার সাহেবের মেয়ে?’’
আমির আলী বললো, ‘‘হ্যাঁ। মহিলা কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে সে পড়ে।’’
জানতে চাইলাম, ‘‘তারপর কি হলো?’’
আমির আলী বললো, ‘‘কি আবার হবে? ওনার ভাব দেখেই আমি দৌড় দিলাম।’’
সে আবার বললো, ‘‘জানিস, মালা খুব ভালো মেয়ে। ওর চেহারায় খুব মায়া আছে। কিন্তু আমার তো যোগ্যতা নেই ওর সাথে ঘর বাঁধার। তাই গভীরভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম যে ওর সাথে বন্ধুত্ব করবো।’’
বললাম, ‘‘ঠিক আছে, এখন বাড়ি চল।’’

তিন

কয়েকদিন পর রাতে আমির আলীদের বাড়ি গিয়ে ওর ঘরে উঁকি দিয়ে দেখলাম যে ও একটা বাঁধাই খাতা হাতে নিয়ে আবেগ ভরা কন্ঠে বলছে, ‘‘প্রথম দেখেই মন বলেছিল ওগো বন্ধু করিবো তোমায়!’’

আমাকে দেখে ও খাতাটা লুকানোর চেষ্টা করলো। বললাম, ‘‘কি ওটা দেখি তো।’’
প্রথমে ও দেখালো না। পরে আমার পীড়াপীড়িতে হার মানলো। খাতাটা নিয়ে দেখলাম যে উপরের মোটা পাতার ভিতরের অংশে এক পাশ থেকে স্টাইল করে তোলা ওর একটা পাসপোর্ট সাইজের সাদা-কালো ফটো টেপ দিয়ে লাগানো। আর প্রথম পাতায় লাইনটা লেখা। হাসি চেপে রাখতে পারলাম না। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘‘কাকে নিয়ে কবিতা লিখেছিস?’’
ও বললো হাসতে হাসতে, ‘‘লিখতে আর পারলাম কোথায়? মালাকে নিয়ে এই একটা মাত্র লাইন লিখেছি। এরপর কি লিখবো তা মাথায় আসছে না।’’

এরপর গল্প-গুজব করে ওর ঘরেই ঘুমালাম।

গভীর রাতে কিসের যেন নড়াচড়া আর কিচির মিচির আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেল। আলো জ্বালাতেই দেখলাম, তোষকের নীচে ইঁদুর নড়াচড়া করছে। আলো দেখেই পালিয়ে গেল। তোষক উঁচু করতেই চোখে পড়লো, তোষকের নীচে পলিথিনের ব্যাগে গম বাঁধা রয়েছে। বুঝলাম, গম খাওয়ার জন্যই ইঁদুর এসেছিল।

সকালে গমের কথা আমির আলীকে জিজ্ঞাসা করায় ও শুধু হাসতে লাগলো। পরে যা বললো তার মর্মার্থ হলো, ও পত্রিকায় পড়েছিল যে গমে ভিটামিন ‘ই’ আছে। তাই চেহারা অধিক লাবণ্যময় করার জন্য সে গম কিনে এনেছে মাঝে মাঝে কাঁচা গম চিবিয়ে খাওয়ার জন্য।

আরেকদিন সে বাজার থেকে ব্যাগ ভর্তি করে কচুর শাক কিনে নিয়ে এলো। সে জেনেছিল যে কচুর শাকে আয়রন আছে। তাই শরীরে রক্ত বর্ধনের জন্য সে কচুর শাক কিনে এনেছে। কিন্তু বাড়িতে সে কাউকে লজ্জায় বলতে না পারায় রাতে স্টোভ জ্বালিয়ে নিজেই কচুর শাক ঘাঁটি করলো। বুঝলাম যে মালার প্রতি ভালোলাগা থেকে নিজেকে মালার যোগ্য করে তোলার মানসেই ও হয়তো ওর মত করে এসব কর্ম করে বেড়াচ্ছে।

একদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেই আমির আলীদের বাড়ি গিয়ে দেখলাম যে লুঙ্গিতে কাছা মেরে নিম গাছ বেয়ে উপরে উঠছে সে।

একটা ডাল ভেঙ্গে নিয়ে দ্রুত নীচে নেমে এসেই সে তার থাইয়ের দিকে মনোযোগ দিল। তার কাছে গিয়ে দেখলাম যে দ্রুত নামার সময় অমশৃন গাছের ঘেঁষায় তার থাইয়ের মশৃন চামড়া লাল হয়ে গেছে। সেখানে জ্বালাপোড়া করার কারণে সে হাতে থু থু নিয়ে সেখানটায় মাখলো।
জিজ্ঞাসা করলাম, ‘‘এই ভোরবেলায় গাছে উঠতে গেলি কেন?’’
আমির আলী বললো, ‘‘নিমের ডাল দিয়ে একটা মেছওয়াক বানাবো।’’
তারপর সে মেছওয়াক বানিয়ে তাতে টুথ পাউডার লাগিয়ে দাঁত মাজতে লাগলো। আমি ওদের কাছারী ঘরে ওর বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।

পাশের কুয়া থেকে বালতিতে করে পানি তুলে হাত মুখ ধুয়ে নিলো ও। তারপর ঘরে এসে টেবিলের কাছে গিয়েই থমকে দাঁড়িয়ে গিয়ে বলে উঠলো, ‘‘আরে, আমার ইসুব গুলের ভুষি ভিজিয়ে রাখা গ্লাসটা গেল কোথায়?’’
অবাক হয়ে বললাম, ‘‘মানে!’’
ওর কাছে গেলাম। দেখলাম, মেঝেতে একটা গ্লাস পড়ে আছে। পানি ও ভুষি মেঝেতে ছড়িয়ে পড়েছে। ঠিক তখনই সাদা একটা বিড়াল দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল। আমির আলী নিষ্ফল ক্রোধে ফুঁসতে লাগলো।

ওর নিকট থেকে জানলাম যে কিছুদিন পূর্বে ওর ফুপাতো বোনের ছেলে ওর চেয়ে ১ বছরের ছোট খাদেম ওদের বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। গোয়াল ঘরের পিছনে ছোট ভাই টিক্কা সহ তিনজন গিয়ে গোপনে সিগারেট ধরিয়েছিল, খাদেমের প্ররোচনায়ই আমির আলী প্রাইমারী স্কুলের গণ্ডী পেরুনোর আগেই বিড়ি-সিগারেট টানা শিখেছিল। ওর বড় ভাই আব্দুল বাতেন কিভাবে যেন টের পেয়ে বাড়ির ভিতর থেকে পাশের বাঁশ ঝাড়ে এসে দা দিয়ে কঞ্চি কাটছিল। খাদেম অতি মাত্রায় ধূর্ত স্বভাবের। চতুর্থ শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ একবার স্ট্রাইক করেছিলেন। ও তখন অপেক্ষা না করে পঞ্চম শ্রেণী ডিঙ্গিয়ে একেবারে ষষ্ঠ শ্রেণীতে গিয়ে ভর্তি হয়েছিল। টিক্কা কিছুটা খাদেমের বৈশিষ্ট্য পেয়েছিল। তাই বিপদের আভাস পেয়ে খাদেম ও টিক্কা উল্টোদিকে দৌড় দিয়ে পালিয়ে গেলেও আমির আলীর মাথায় কোনো বুদ্ধি হঠাৎ আসতো না বলে সে বোকার মত দাঁড়িয়েই ছিল। আর তার ভাই এসে তাকে কান ধরে টেনে বাড়ির ভিতরে নিয়ে কাঁচা কঞ্চি দিয়ে কষে বাড়ি মেরে থাইয়ের ওখানে লাল দাগ বানিয়ে দিয়েছিল। এই বাড়ি খেয়েই সে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার! তারপর থেকেই ওর খুব কষা হয়েছে। এইজন্য পেটে খুব গ্যাস হচ্ছে। আশেপাশের মানুষজন খুব বিরক্ত হচ্ছে ওর উপর।

আরেক বন্ধু গাজীউর ওকে পরামর্শ দিয়েছিল ইসুব গুলের ভুষি খাওয়ার জন্য। আমির আলী মাঝে মাঝেই তার বাবাকে ইসুব গুলের ভুষি খেতে দেখত। তাই আগের রাতে বাবার ঘরে গিয়ে উঁচুতে বাঁধা কাঠের তক্তার উপর থেকে ইসুব গুলের ভুষি রাখা কৌটাটা নামাতে গিয়ে হাতের ধাক্কা লেগে পাশের ঘি-এর কাঁচের বৈয়ামটা মেঝেতে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে ঘি ছড়িয়ে পড়েছিল। তার মা বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘‘তুই আবার ওখানে উঠতে গেলি কেন?’’
ও তখন মায়ের সাথে ঘি’র কাছে ঝুঁকে দাঁড়াতেই ওর বাবা ওর কান ধরে টেনে নিয়ে ওকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

ইস, এত ঝামেলা সহ্য করে ও ইসুব গুলের ভুষি এনেছিল কিন্তু বিড়ালটা সব বরবাদ করে দিলো।

পাশের রুমে নড়াচড়ার শব্দ শুনে আমির আলীকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘‘কিসের শব্দ?’’
আমির আলী বললো, ‘‘শিয়ালের।’’
তড়াক করে উঠে গিয়ে দেখলাম যে এক কোনে সত্যিই একটি শিয়াল বাঁধা রয়েছে।

শিয়াল কোত্থেকে এলো তা ওকে জিজ্ঞাসা করায় সে জানালো যে রাতে এক বাড়িতে মুরগি চুরি করতে গিয়েছিল গাজীউর আর সে। আমি ওসব কাজ পছন্দ করি না বলে আমাকে ওরা জানায় নি।

রাতের অন্ধকারে আমির আলী চুপি চুপি মুরগীর খোপের কাছে গিয়ে দেখে যে খোপের মুখটি খোলা। তা দেখে উৎফুল্ল হলেও কিঞ্চিৎ অবাক ভাব নিয়ে খোপের সামনে বসে আমির আলী যেইমাত্র খোপের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দিয়েছিল অমনি একটা শিয়াল খোপের ভিতর থেকে বাইরের দিকে লাফ দিয়ে বের হয়ে ওর বুকে মারলো এক গুঁতো। ও ‘উহ’ বলে পিছন দিকে চিৎ হয়ে পড়ে গেলেও শিয়ালটাকে ধরে ফেলেছিল। তারপর গামছা দিয়ে বেঁধে নিয়ে এসেছিল।

আমরা তখন ইন্টারমিডিয়েটে সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম। সে সময় আমাদের কলেজের মাঠে প্রদর্শনী চলছিল। আমির আলী প্রদর্শনীতে সেটা নিয়ে গেল। ওখানকার সকলের মনেই প্রশ্ন জাগলো যে শিয়াল তো ধরা খুব কঠিন ব্যাপার কিন্তু আমির আলী শিয়ালটিকে ধরলো কিভাবে? নিশ্চয়ই সে শিয়ালের চেয়েও চালাক। সবাই আমির আলীর বুদ্ধীমত্তার কথা জেনে তাজ্জব হয়ে গেল।

চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো তার কৃতিত্বের কথা। আমাদের কলেজের কাছেই মহিলা কলেজ। তাই মালার কানেও কথাটা পৌঁছালো। গর্বে তার বুক ফুলে উঠলো। সে আমির আলীর সাথে দেখা করতে আমাদের কলেজে এলো।

মালাকে দেখে তার কাছে নিজেকে বড় করে তোলার জন্য তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে এক সহপাঠিকে আমির আলী বললো, ‘‘দেখেছিস, কি বিশাল কাজ আমি করেছি? আমি হলাম বাংলার বাঘ।’’
বন্ধুটিও কিঞ্চিৎ হেসে বললো, ‘‘কে বলেছে বাঘ? তুই তো বাংলার শিয়াল।’’
থতমত খেয়ে রাগে ও অপমানে আমির আলীর দাঁত কিড়মিড় করছিল। কারণ কথাটা মালাও শুনেছে। কিন্তু মালা তাতে আমল দিল না, ভালোলাগার মানুষ বলে কথা।

আমির আলী একজন মণীষীর একটা উক্তির কথা ইতিমধ্যে জেনেছিল। উক্তিটিতে ভালোবাসায় ভয় পাওয়াকে তিন বার মরে যাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আমির আলী একবারও মরতে রাজী ছিল না। তাই মালার বাবার ছাতার বাড়ি খাওয়ার ভয়কে উপেক্ষা করে ও মালার সাথে বন্ধুত্ব করার চিন্তা ত্যাগ করে তাকে বিবাহ করার সংকল্প করেছিল।

তাই সেদিন আমির আলীর অনুসন্ধানী ও ধারালো দৃষ্টির কাঁঠালের আঁঠার সাথে মালার এক চোখের ছোট্ট আমন্ত্রণের আঁঠা লেগে যাওয়ায় একটি মুহূর্তও বৃথা নষ্ট না করে দ্রুত তার কাছে গিয়ে তাকে নিয়ে প্রথমে কলেজের বোর্ডিং-এর পিছনে কলাগাছের নীচে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু লাল পিঁপড়ার জ্বালাতনে ওখানে বেশিক্ষণ টিকতে না পেরে মালাকে মিষ্টি কথার দ্বারা রাজী করিয়ে তাকে নিয়ে ম্যাটিনি শো-তে ‘কোপা সামছু’ সিনেমা দেখতে ‘অবুঝ শিশুদের খেলাঘর’ প্রেক্ষাগৃহে ঢুকেছিল। কিন্তু বিধি সেদিন তাদের পক্ষে ছিল না। তাই ছাড়পোকার কামড় খেয়ে বাইরে বের হয়ে আরাম খোঁজার জন্য রিক্সায় উঠে হুড তুলে দিয়েছিল।

একসময় তারা পালিয়ে বিয়ে করেছিল। আমির আলী নব বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে উঠেছিল তার বোনের বাড়ি। এক রাতে মান্নান খোন্দকার সাহেব পুলিশ নিয়ে সেখানে হাজির হলে আমির আলী টিনের ঘরের বেড়া ভেঙ্গে বাইরে বের হয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিল। বিয়ের পূর্বে সে আমার জুতা নিয়ে গিয়েছিল। সে রাতে দৌড়ানোর সময় জুতার এক জায়গায় ফেটে গিয়েছিল।

মালাকে জোর করে ধরে এনে তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে সে আমির আলীকে বিয়ে করলো কেন? তখন সে জবাব দিয়েছিল, ‘‘আমার স্বামী খুব সুন্দর করে মন গলাতে পারে।’’
মালা চিন্তা করেছিল যে তার বাবার ধাওয়া খাওয়ার পরও যে মানুষটি কোমড় ভেঙ্গে মুখ থুবড়ে না পড়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে সেই তার যোগ্য স্বামী।

কয়েক বছর পর ড্রাইভিং শিখে অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে আমির আলী বাংলাদেশ টেলিভিশনে ড্রাইভার পদে একটা চাকরি জুটিয়ে নিয়েছিল।

মালা আমির আলীকে বলেছিল, ‘‘তুমি আমাকে না খাইয়ে রাখলেও টুঁ শব্দটি করবো না, কিন্তু তুমি আমাকে তোমার কাছে রেখো।’’ তাই আমির আলী রামপুরায় একটা বাসা ভাড়া নিয়েছিল। বর্তমানে তারা চার সন্তানের জনক-জননী।

মান্নান খোন্দকার সাহেবের সম্মুখে আমির আলীর যাওয়া ঘটলে মস্তক নত করে অতিশয় ভক্তির সহিত ‘‘আসসালামু আলাইকুম’’ বলে সে জিজ্ঞাসা করে, ‘‘আপনার শরীরটা কেমন, আব্বা?’’ তখন তিনি অভ্যন্তরীণভাবে প্রচন্ড রেগে গিয়ে গোঁ গোঁ শব্দ করে নিম্ন স্বরে সালামের উত্তর দিয়ে কটমট করে তার দিকে তাকান। চেহারায় আতঙ্কের ভাব ফুটিয়ে ভিতরে উথলে ওঠা তুমুল হাসির জোয়ারের ধাক্কাকে থামানোর চেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত করে তখন সে সঙ্গে সঙ্গে চড়ুই পাখির মত ফুড়ুৎ করে ওনার চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে যায়।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement