লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ ডিসেম্বর ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ১৬টি

সমন্বিত স্কোর

বিচারক স্কোরঃ ৩.৪৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৫৭ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপূর্ণতা (আগস্ট ২০১৩)

অমানুষ----না-মানুষ
পূর্ণতা

সংখ্যা

মোট ভোট ৩০ প্রাপ্ত পয়েন্ট

রক্ত পলাশ

comment ২৫  favorite ২  import_contacts ২,৭৭৯
শুক্রবারের নিষ্কাম মিশুক বিকেলের আদরটা মনে মাখতে মাখতে হাঁটছিলাম নয়াসড়কের পথে ।চৌরাস্তার মোড়টার কাছে আসতেই ছেলেবেলার একটা চেনা মুখের দেখা পেলাম হঠাৎ । সুদীপ্তদা -সুদীপ্ত সেন টিটু । আমার কাছে তার অনেক পরিচয় - প্রথমত সে আমার মার্বেল খেলার প্রথম শিক্ষক , তার কাছেই শিখেছিলাম টানা অক্ষরে বড় হরফের A,B,C,D----- । সে-ই আমাকে শিখিয়েছিল - বরাক নদীতে জোয়ার এলে কেমন করে গা ভাসিয়ে দিতে হয় তার জলে, কেমন করে এক পশলা উদাসীন বৃষ্টির প্যাকেজ নাটকের পরে মালিক হতে হয় শারদ রংধনুটার।সে-ই আমাকে একদিন বলেছিল - ছোটবেলায় ভাত খাওয়ানোর সময় আমার মা আমাকে যে গল্প গুলো শুনাতো , ওইগুলো সব মিথ্যে , সব ফাও।দাদার হাতে নাটাই না দেখলে আমার নন্দীমাঠের নীল ঘুড়িটা আকাশ ছুঁতে চাইত না। তার হাত ধরেই প্রথম গিয়েছিলাম কানাইপুরের মেলায়,আবার সেই হাতেই জমা দিয়েছিলাম আমার সব মিথ্যে বাহাদুরি ।তার ভরসাতেই মায়ের চোখরাঙানি আর বাবার জালিবেতের ভয় করতাম না ।দাদার সঙ্গ খুঁজে পেলেই আমার হাতঘড়িটা সরল অংকে ভুল করে যেত বারবার।তার চিলেকোঠা ঘরের পাশদেয়ালেই প্রথম পরিচিত হয়েছিলাম সূর্যসেন আর লেনিনের সাথে ।তার কাছেই প্রথম শুনেছিলাম –----

“ যদি মরীচিকা সুখ দুঃখ নিয়ে কভু যুদ্ধ ঘোষণা করে , তবে মিষ্টি হাসির ভান করে পরে লুকিয়ে কাঁদিস তুই ।”

তার সেই কথাগুলো খুব কঠিন ঠেকত তখন।এখন তার অর্থ খুঁজি, কিছু অর্থ বুঝি,কিছু তার বুঝি না ।

আর সবশেষ যে কথাটা সে আমায় বলেছিল , সেটা ক্লাস টেনে পড়ার সময়কার -

“ ছোটভাই , তুই ক্লাস নাইন পাস করে ফেলেছিস !!!! দেখিস প্রেম-টেম শুরু করিস না আবার । জানিস তো, প্রেম করলে ছেলেদের রেজাল্ট খারাপ হয় , মেয়েদের হয় না ।”
সেদিন অলস বিকেলের ফালতু অবসরের আড্ডায় আচমকা দাদার মুখে এই কথাটা শুনে আমি বোকার মত ফ্যালফ্যাল করে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছিলাম অনেকক্ষণ। তখন হয়তো প্রেমের সাথে রেজাল্টের সম্পর্কটা দশম শ্রেণীতে পড়া একজন ছাত্র হিসেবে ( তাও আবার আরও ১০-১২ বছর আগের দুনিয়ায় ) আমার বোধগম্যতায় তেমন জোরালোভাবে নাড়া দেওয়ার মতো শক্তি অর্জন করে নি ।কিন্তু বয়োঃসন্ধির কৈশোরে দাঁড়িয়ে তখন একটা বিষয় আমি ঠিকই অনুধাবন করতে পেরেছিলাম যে,সুদীপ্তদা তার কথার মতোই খোলামেলা,তার হাসির মতোই আপনভোলা, আর নিজের মতো করেই সবার চাইতে আলাদা ।

এরপর দেখতে দেখতে এতগুলো বছর কেটে গেছে – সুদিপ্তদা সময়ের আদরে সপরিবারে হবিগঞ্জে আ্রর আমি লেখাপড়ার মায়ায় সিলেটে ।কোন যোগাযোগ নেই্ ।আমার মোবাইল ফোনের ফোনবুকে ফ্রেন্ডস এন্ড ফেমিলি মেম্বারসদের ভিড়ে সুদিপ্তদা ছিল না । আজকে হঠাৎ রাস্তায় তাকে দেখতে পেয়ে প্রথমে বলার মতো কিছুই খুঁজে পাচ্ছিলাম না আমি ।শহুরে কায়দায় সম্ভাষণ জানানোটা আজকাল রক্তে মিশে গেছে ।তাই বুকের আগে হাতটাই এগিয়ে গেলো ।কিন্তু সুদিপ্তদার সাথে আমার হ্যান্ডশ্যাকের সম্পর্ক ছিল না , সম্পর্কটা ছিল পাঁজরে পাঁজরে ।

আমি সুদিপ্তদাকে ভালো করে দেখছিলাম । বাইরের মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই ।চোখ দুইটা আগের মতোই সরল , শ্যামলা গালের জমিনে ঠিক আগের মতোই এখনও চাপদাড়ির চাষ হয় ।
-দাদা , এখনও ঠিক আগের মতোই আছো , না ?

( প্রশ্নের উত্তরে দাদা কোন ভণিতা না করেই কথা বলতে শুরু করে দিল , যেনো আমাদের প্রতিদিনই দেখা হয় , প্রতিদিনই কথা হয় । )

-তোর কাছে মনে হতে পারে ।কিন্তু নিজের কাছে আমি অনেক বদলে গেছি ।অবশ্য পরিবর্তনটা খুবই পজিটিভ , আগে অমানুষ ছিলাম,আজকে মানুষ হয়েছি।

( আমার কপালে কৌতূহলের ভাঁজ দেখে দাদা পথে হাঁটতে হাঁটতে নিজেই বুঝিয়ে বলতে লাগল )

- দেখ্ শুভ , এমন অনেক দিন কাটিয়েছি, যে দিনগুলোতে মানুষের সংজ্ঞা জানার প্রয়োজন পড়েনি, ভরদুপুরের স্বৈরাচারী সূর্যটা, শিউলি গাছের শালিকটা,উত্তরের বরাক নদীটা,চড়ুই খোঁজা দেড়হাতি গুলতিটা,বীরপুরুষের ছড়াটা থেকে শুরু করে স্কুলের ক্লাসের ফার্স্ট বেঞ্চটা পর্যন্ত আমার বশে ছিল । বোতাম ছেঁড়া শার্ট আর ফিতে ছেঁড়া স্যান্ডেল নিয়েও আমি ছিলাম নাম-ঠিকানাবিহীন একটা রাজ্যের এক বাউন্ডুলে রাজা । ‘ সবার আমি ছাত্র ’ হতে হতেই পেরুলাম হলুদ রংয়ের পাঠশালা, তারপর টিনশেডের স্কুল , পেরিয়েছি ইট-পাথরের কলেজ-আমার নিজের রাজ্যটা ছেড়ে দিয়ে আমি আস্তে আস্তে হয়ে পড়লাম লাগামছাড়া ।জীবনের দৌড়ে হয়তো আমি খুব বেশি সাবজেকটিব ছিলাম , তাই মানুষের মতো মানুষ হওয়ার দৌঁড়ে আমাদের এই নৈব্যর্ত্তিকের চারগুটি খেলায় আমি বারেবারে হেরে গেছি ।ছয়টা বছর প্রাইভেট টিউটরের তকমাটা গায়ে চাপিয়ে নিয়ে সবশেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 2ND ক্লাসের যে হলুদ সার্টিফিকেটটা পেয়েছি,ওইটা খুব হালকা রে।তবু ঐ সার্টিফিকেটটা বোধ হয় কথা বলতে জানে।অনেক সময় পুরোনো ধূলো জমা ফাইলের বোতাম খুলে যখন ওটাকে বের করে আনতাম,ওটা হয়তো আমাকে বিদ্রুপ করে গালি ছুড়ত “শালা অমানুষ” ।জানিস, ফাইলটা কেন জানি না দিনে এতোবার খুলতাম যে বোতামটা একদিন প্রায় ছিঁড়ে ছিঁড়ে অবস্থা।ঐ আধছেঁড়া বোতামটাও হয়তো আমাকে গালি দিত-“শালা অমানুষ” ।সার্টিফিকেটের গায়ে গোটা গোটা কালো অক্ষরে লিখা 2nd ক্লাস লেখাটা দেখে বাবাও প্রথমবার রাগে-দুঃখে গালি দিয়ে বসেছিল-
“ তোকে দিয়ে এর বেশি আর কি আশা করা যায় ? অমানুষ থার্ডক্লাস , যা টিউশনি করে এখন নিজের হোটেলটা চালা।”

জানিস, আগে যতোবার বাড়ি ছেড়ে মেসে ফিরতাম,প্রত্যেকবার যাবার পথে মা আমার ব্যাগের সাইড পকেটে একটা মঙ্গলচণ্ডির আশীর্বাদের খিলি রেখে দিত। আর আমার কড়ে আঙ্গুলটা কামড়ে দিয়ে নিজের আশীর্বাদটা মাথায় তুলে দিত।কিন্তু ঐ 2ND ক্লাসের পর আমার ব্যাগের পকেটে আর কোন মঙ্গলচণ্ডির আশীর্বাদের খিলি খুঁজে পাইনি।বুঝেছি যে মায়ের কাছেও অমানুষ হয়ে গেছি,আর অমানুষের কোন আশীর্বাদের প্রয়োজন হয় না ।বাবার পেনশনটা তলানীতে গিয়ে ঠেকেছিল।এদিকে মায়ের একটা কিডনি ড্যামেজ।আমার একটা এপয়েন্টমেন্ট লেটারের ভীষণ প্রয়োজন ছিল।এদিকে ছোট বোনটা হঠাৎ একদিন শেষ চিরকুট লিখে সীমানা ছাড়িয়ে গেল।

দাদার কাঁপন ধরা গলায় শেষ কথাটা শুনে আমি প্রশ্নাতুর চোখে তাকালাম তার দিকে । সে বিষন্নতামাখা একটা হাসি দিয়ে বলতে লাগল – হ্যাঁ , তোর সীমাদি গত তিনমাস আগে সুইসাইড করেছে ।
কথাটা শোনার পর আমার আর কিছু জানার ইচ্ছে হচ্ছিল না ।তবু দাদা বলেই যাচ্ছিল।তার কথাগুলো কেমন জানি একটা বেসরকারি কবিতার মতো হয়ে যাচ্ছিল ----

যুবতীর আত্যহত্মার প্রশ্নে যৌনতা লেপ্টে থাকে ।
মেয়েটিকে কি ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে
ফাঁসে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ?
কারা করেছে ? কে ?
নাকি কেউ পেট বাঁধিয়ে সটকে পড়েছে বলে
অপমান হতাশায় মেয়েটি নিজেই নিজের হন্তারক হয়েছে ?
মেয়েটির ভগ্নিপতি কি ভজকট বাধিয়েছিল ?
নাকি চাচাতো , মামাতো , তালতো ভাই ?
নাকি বাড়ির ওই সুদর্শন কেয়ারটেকার ?
আমি দেখি , লাশের বাঁ হাতের তালুতে লেখা -
“ মা , তোমরা যার সঙ্গে আমার বিয়ে পাকাপাকি করেছ
তাকে আমার পছন্দ নয় ।”

আমি চোখে ব্যর্থ স্বান্তনার দৃষ্টি নিয়ে তার পিঠে হাত রাখলাম।সে বলে যেতে লাগল ------

- জানিস , জীবনটাকে বাংলা সিনেমার মতো বলে মনে হচ্ছিল ।এর মধ্যেও বোকার মতো আশা খুঁজে যাচ্ছিলাম আমি।সিনেমার মতো যদি একটা ‘ হ্যাপি এন্ডিং ’ পেতাম।অবশেষে একটা ‘ হ্যাপি এন্ডিং ’ পেয়েছি রে, এই গত মাসে।একটা প্রাইভেট ব্যাংকের কাছ থেকে সাদা রঙের কাগুজে এপয়েন্টমেন্ট লেটার কিনেছি,বাবার পেনশনের শেষ দুই লাখ টাকা দিয়ে।এপয়েন্টমেন্ট লেটারটা হাতে পাওয়ার পর নিজেকে মানুষ মানুষ মনে হচ্ছিল।এই যে আজকে বাড়ি থেকে মা-বাবাকে প্রণাম করে এলাম, আসবার পথে বাবাকে পাশের বাড়ির মোহন কাকুর সাথে খোশগল্প করতে শুনলাম-
“ বুঝলে মোহন,আমার মেয়েটা আমায় যে দুঃখটা দিয়ে গেছে, আমার ছেলেটা সেই দুঃখটা কিছুটা হলেও মুছে দিতে পেরেছে।আমার সুদীপ্ত মানুষের মতো মানুষ হয়েছে।”
আজকে মেসবাড়িতে পৌঁছে কাপড়ের ব্যাগের সাইডপকেটে টুথব্রাশ খুঁজছিলাম।হঠাৎ একটা মঙ্গলচণ্ডীর খিলি চোখে পড়ল,বুঝলাম-মা দিয়েছে।নতুন ফাইলের শক্ত বোতামটা খুলে আবার এপয়েন্টমেন্ট লেটারটা হাতে নিলাম।নতুন একটা পথের স্বপ্ন দেখিয়ে ঐ লেটারটা যেন আমায় বলছিল-
“ বলিহারি ভাই, বলিহারি , সবশেষে তুমি মানুষ হলে। ”

( বৃত্ত বুকের হাফরটা নিংড়ে দিয়ে, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাগুলো শেষ করল সুদীপ্ত দা ) ।

-দাদা, আমরা অনেক বড় হয়ে গেছি, না ?

-তোর কথা জানি না।তবে নিজের কথা যদি বলি , তাহলে বলব- বড় হইনি ,বরং বুড়িয়ে গেছি।হাতঘড়ির তিন কাঁটা আর ক্যালেন্ডারের ছয়পাতায় আটকে গেছি আমি,ভীষণ অনিচ্ছেতেই ।এই তো আর ক ’ দিন পরই ব্যালকনিতে বসে বসে অযথাই বুকে নিকোটিন জমাবো আর চশমা চোখে চালশের গান শুনবো----

আজকে যে বেপোরোয়া বিচ্ছু / শান্ত-সুবোধ হবে কাল সে,
চোখের সঙ্গী শুধু চশমা / চল্লিশ পেরোলেই চালশে।
আজকে যে শিষ দিয়ে গান গায় / কোন গান শুনবে হে কাল সে,
চোখ থেকে খুলে নিয়ে চশমা / ভুলে যাবে চোখে আছে চালশে।
আজকে যে প্রেমে পড়ে উন্মাদ / ঘোর সংসারী হবে কাল সে,
শয্যা সঙ্গী শুধু চশমা / চল্লিশ পেরোলেই চালশে।
আজকে যে চুল রাখে বাবরী / লুকোবে চাদির টাক কাল সে,
কি করে লুকোবে তার চশমা / চল্লিশ পেরোলেই চালশে।
আজকে যে মুখে মারে বিশ্ব / চুপচাপ হয়ে যাবে কাল সে,
বাক্যহীনের চোখে চশমা / চল্লিশ পেরোলেই চালশে।
আজকে যে প্রতিবাদী কণ্ঠ / সর্বংসহা হবে কাল সে,
সয়ে যাবে অসহ্য চশমা / চল্লিশ পেরোলেই চালশে।

দাদার খুব পরিচিত সেই ভরাট কন্ঠে , অনেকদিন পর গাওয়ালার প্রিয় গানটা শুনতে শুনতে অন্যমনে খেয়াল উড়িয়ে দিয়েছিলাম আমি ।হঠাৎ দাদা গানটা থামিয়ে দিল , হয়তো আমাকেও তার সাথে সুরটা ধরতে বলছে ।অথবা ,হয়তো দাদা ভাবছে- গানের শেষ স্তবকটা তার জন্যে না , শুধুই আমার জন্যে ।তাই আমিও পথের জলসায় হঠাৎ সুযোগ কুড়িয়ে পেয়ে ভাঙা গলায় গাইতে শুরু করলাম সেই গানের শেষটা-
অথবা যে আজ নি:শব্দ / সশব্দে ফেটে যাবে কাল সে,
ভুলে যাবে চোখে আছে চশমা / ভুলে যাবে চোখে আছে চালশে।
আজকে যে শিষ দিয়ে গান গায় / যেনো গান গেয়ে উঠে কাল সে,
চোখ থেকে খুলে নিয়ে চশমা / মন থেকে মুছে দিয়ে চালশে----।।।

-তা শুভ , আমার কথা তো অনেক শুনলি , এবার তোর কথা বল , তোর খবর শুনি ।

-আজ না দাদা , আরেকদিন ।আমার গল্পটা না হয় অন্য কোন একদিন শুনবে , একটা না-মানুষের গল্প। ঠিক যেমন করে মুখুজ্যে (শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়) বলেছিল , ঠিক তেমনি করে , সেই গল্পটায় আমি আমার চেনা দুঃখ আর চেনা সুখগুলোকে আলাদা করে করে আঁটি বেঁধে রেখেছি , কিন্তু কোনটা কোন খাতে যাবে তা ধরিনি ।সব সুখই তো আর জমা নয় , সব দুঃখই যেমন নয় খরচ--------------।।।।।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement