লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১২

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftপূর্ণতা (আগস্ট ২০১৩)

ভালোবাসার পূর্ণতা
পূর্ণতা

সংখ্যা

মোট ভোট ১২

আশিক-উজ-জামান

comment ৭  favorite ০  import_contacts ৯৪১
তাকিয়ে দেখ সুজন আজ ঊর্মি এসেছে। দেখ তোর টানে ছুটে এসেছে। তুই তো এটাই চেয়েছিলি। দেখ আজ পূর্ণতা পেল তোর অসমাপ্ত একতরফা ভালোবাসা। চোখ বন্ধ করে আছিস কেন? দেখ আমি মিথ্যে বলছি কিনা।

আজ ঊর্মি এসেছে, কথা বলছে, সুজনের পাশে বসে আছে অথচ সুজন আজ নির্বাক, নিশ্চল।

সুজন আমার খুব কাছের এক বন্ধু, পড়াশোনা করতো বিখ্যাত এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। যে বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোলো সে বছর থেকে তার সাথে ঊর্মির ভালোবাসার জীবনও শুরু হোলো। আমি সজল। সুজনের ভালোবাসার শুরু থেকে আজকের পরিণতি পর্যন্ত সবটুকুই জানতাম আমি। কত সুন্দর নির্মলভাবে কাটছিলো দিনগুলো। ঊর্মি সুজনের জন্য পাগল আর সুজন ঊর্মির জন্য দেওয়ানা। যেন আগের যুগের লাইলি মজনুর বর্তমান রূপ। সুজনের পাশে ঊর্মিকে আজ অনেকদিন পরে দেখে স্মৃতির মানসপটে সেই ছবিগুলো ভেসে উঠছিলো। আজ ঊর্মির চোখে আর কোনো রাগ বা অভিমান নেই। আজ ওর চোখে যেন বর্ষা নেমেছে। সুজন তুই এখনো নিশ্চুপ। কিভাবে এতো পাষাণ হলি। তুই তো এমন ছিলি না। তবে কেন আজ তুই ঊর্মির সাথে এমন করছিস? কী করে পারছিস এমন করতে?

আজ খুব স্পষ্টভাবে মনে পড়ছে ৩রা মার্চ ২০১০ তারিখে তোদের যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলো সেদিনকার কথা। ঊর্মি তোর সাথে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে চলে গেলো, আর তুই বাচ্চা ছেলেদের মত গড়িয়ে গড়িয়ে কেঁদেছিলি। ঊর্মি পর্যন্ত সে কান্নার আওয়াজ পৌছায়নি। সেদিনের তোর সেই কান্নার সাক্ষীও আমি। দেখ কি কপাল আমার আজ তুই নিশ্চুপ অথচ ঊর্মির চোখে পানি, আর এটারও সাক্ষীও আমি। কাছের মানুষ চলে গেলে যে কতটা কষ্ট হয় তার কিছুটা আমি টের পাচ্ছি। বুঝতে পারছি তোর সেই সেদিনের কষ্টটা কী পাহারসম ছিলো।

দোস্ত আজ মনে ভাসছে ঊর্মিকে হারিয়ে ফেলার পর ফিরে পেতে তোর সেই আকুলতা। মনেপরে সুজন কতবার যে ঊর্মির কাছে তোর ভালোবাসার দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম, আর প্রতিবার ও তোকে আর আমাদের অপমান করেছিলো। তারপর ঊর্মিকে ভুলে থাকতে যোগ দিলি রাজনীতিতে। আমরা সবাই মিলে তোকে অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু তুই আমাদের কারো কথাই শুনিশনি। ছাত্র রাজনীতিতে খুব চরম মাত্রায় জড়িয়ে গেলি। ঊর্মির দেয়া কষ্ট কিছুটা তোর লাঘব হোলো। আর আমাদের সার্কেলের সাথে তৈরি হোলো তোর কিছুটা দূরত্ব।


ঊর্মি মেয়েটাকে আমি ঠিকমত বুঝতে পারিনি কখনো। তোর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই অথচ কোনো বড় ধরনের সমস্যায় পড়লে তোর কাছে ও ছুটে আসে। আর তুইও একেবারে সমস্যা সমাধান করে আমাকে ফোন দিয়ে সবকিছু জানাতিস।

আমরা তোর এত কাছের বন্ধু অথচ তুই রাজনীতিতে জড়িয়ে যাবার পর আমাদের সাথে গত দুই বছরে ৩ঘন্টাও সময় কাটাস নি। যখনই তোকে আমরা কল দিয়েছি তখনই তুই হয় কোনো কেন্দ্রীয় নেতার বাসায়, না হয় কোনো রাজনৈতিক মিটিং এ ব্যস্ত। কিন্তু কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি এমনটা হবে।

আজ বিকেলে খবর এলো তুই নিরব, নিস্তব্ধ হয়ে গেছিস। ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বলী হতে হোলো তোকে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলেও শেষ রক্ষা আর হোলো না। দেখ ঊর্মি আজ কাঁদছে অঝোরে। মেয়েটা তোকে সত্যিই ভালোবাসলো কিন্তু তোর ভালোবাসাটাকে হারালো। গতকাল পর্যন্ত তুই ওকে একতরফাভাবে ভালোবাসতিস। বিধাতার কি পরিহাস দেখ আজ ঊর্মি তোকে ভালোবাসলো কিন্তু সেটাও হয়ে গেলো একতরফা। তোর বিশ্বাস আর চাওয়া আজ পূর্ণ। আজ ঊর্মি ফিরে এল, তোর ভালোবাসা পূর্ণ হোলো শুধু তুই চলে গেলি।আর কাছের মানুষ হারানোর যন্ত্রণা আমার কিছুটা হলেও উপলব্ধি হোলো। দেখ ঊর্মি এখনো কাঁদছে। আজ তোর ভালোবাসা পূর্ণ হোলো শূণ্যতার মধ্য দিয়ে। বিদায় বন্ধু, বিদায়। পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে তুই যেখানেই থাকিস যেনো ভালো থাকিস, তোর জন্য এই শুভ কামনা রইলো আর আমাদের ক্ষমা করিস।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement