ছেলেবেলায় প্রথম পেন্সিল হাতে ধরে “এ-বি-সি-ডি”র মাঝে হারিয়ে,
সরে-অ’র অস্তিত্ব খুঁজিনি আমি আপন অনুভূতি, সত্ত্বার মাঝে।
কখনও এডগার অ্যালানের রহস্যময়ী, কখনও বাইরনের প্রেমময়ী কবিতা পড়ে
ভিনদেশী সেজেছি, কখনও বা ডিলান-ডেনভারের সুরের পিছে ছুটে, সাত সাগর পেড়িয়ে। (৪)
শুনিনি নজরুলের বিদ্রোহী লেখনীর মাঝে আমার আপন সত্ত্বার চিৎকার কখনও
খুঁজিনি জীবনানন্দের কবিতায় শিরোনামহীন প্রেমের সত্য অর্থ।
সূত্রহীন আমি শিশিরভেজা মেঠোপথ ছেঁড়ে কংক্রিটের দ্বীপে বসবার স্বপ্নে ভেসে
তৃষ্ণার্ত সত্ত্বাকে এক ফোঁটা জল না দিয়ে এর তৃষ্ণা দিয়েছি আরও বাড়িয়ে। (৮)
বাংলাকে দেখেছি সেদিন থেকে আসতে, প্রথম কাছে,
তোমায় নিয়ে ইংরেজি কবিতা লিখে এতে শান্তি না পাবার কারণ-সমাধান খুঁজে ফিরেছি, যেদিন থেকে।
পেয়েছি যে সমাধান “মা” শব্দ-ডাকের মাঝে খেয়াল করে,
“মা’কে কেন মা বলে ডেকেছি?” – এ কথা বারবার ভেবে। (১২)
যেদিন তোমায় প্রথম বাংলায় বলেছি “ভালবাসি,” কাঁপো কাঁপো গলায়, চোখে চোখ রেখে,
সেদিন থেকে আমি জাতিস্মর, ভালবেসেছি আমার বাংলা মা’কে, নেয়া প্রতিটি নিঃশ্বাসের মাঝে।