নষ্ট মানুষ
তাপসকিরণ রায়


নষ্ট মানুষের সংজ্ঞা জানতে চেয়েছিলাম,
তোমাদের ব্যঙ্গ হাসিতে মানুষটার আদলে জমে ছিল ঘাম,
সমস্ত টুকরো টুকরো সৃজন
পলেস্তারার মত খসে যাচ্ছিল তার দেওয়াল শরীর।
নষ্ট মানুষটা ঘৃণার পথে হেঁটে চলেছে...
বক্র দৃষ্টিতে ক্রমশ ভেঙে পড়া তার অন্তর্মুখ!
এক চরিত্রহীন চেহারায় সে ক্রমশ বদলে যাচ্ছিল।

ঘৃণিত সে মানুষটা ধোঁয়ার মাঝে হেঁটে যাচ্ছে,
তোমাদের জানালা কপাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ,
অন্ধকার তার কাছে স্বাভাবিক ছিল,
ব্যর্থতা ছিল তার নষ্ট মানস।
আজের এ ধৃষ্ট অপরাধী মন তার অন্য জন্মান্তর।

সেও এক বালকবেলা পেরিয়ে এসেছে,
তার পায়ের নিচেও ছিল সবুজ ঘাস,
ফুরফুরে বাতাস তার মনেও ধরাত পলাশী রঙ,
আর এমনি করে বাসন্তিক ভালবাসায়
তার মনের মাঝে জেগে উঠত এক গোলাপি প্রেমিকা।
বারবার সে দলিত হয়েছে গোলাপ কাঁটায়।
তার আঁচড় আঘাতের ক্ষত
একদিন দগদগে হয়ে ফুটে উঠলো তার বুকের মাঝে।
বীতস্পৃহ ভাবনাগুলি মথিত হল,
সবার ঘৃণা তাকে ঠেলে দিল আরও দূরত্বে।
তখন তার পাশে শীতল ছায়া নেই, ভালবাসার হাত নেই।

এখন সে নষ্ট প্রেমিক।
তাকে বসন্ত ছেড়ে গেছে, বর্ষা তাকে আর ভিজাতে পারে নি,
গ্রীষ্ম দাবদাহে তার ক্লিষ্ট শরীর।
ওর গালে কিছু গিঁট জন্মাল,
চেহারা এখন তার ঠিক, ঠিক যেন এক নষ্ট মানুষ !
স্খলন চরিত্রের এক পরত আদল নিয়ে সে হেঁটে চলেছে...
গায়ে তার ঘৃণিত ঘা।
চোখ ফিরিয়ে পাশ কাটিয়ে সরে যাচ্ছে তার পরিচিত মানুষগুলি।