দক্ষিণা পবনের উত্তাল হাওয়ায় ভেসে আসে আম কাঁঠালের
মিষ্টি সুভাস গাঁয়ের পথে।ঈশান কোনে কালবৈশাখী
ঝড়ে ডেকে আনে কারো সর্বনাশ,চিরচেনা গ্রাম-বাংলায়।

তৃষ্ণায় রাখালের গলা শুকিয়ে চাতক পাখির মত
গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রতীক্ষা করে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির।
আল্লাহ মেঘ দে পানি দে বলে পাড়ায় পাড়ায় কিশোরিদের
নৃত্তের ঝঙ্কারে বিধাতার বুঝি করুনা জাগে মাঝে মাঝে।

বর্ষার বারিধারা কখন ও করে অসহায়। সবুজের সমারোহ
পুরো গ্রাম ছেয়ে যায়। কদম ফুটে সুভাষ ছড়ায়,নদী নালা
খালবিল অথৈ পানির খেলা।পানসি নৌকায় নববধু বাপের বাড়ি
আসে মহা উল্লাসে।নিজের মাঝে বয়ে নিয়ে এক নবসুখের ভেলা।

কাশফুলে আঁকা শাড়ী ললনাদের বিচরন দীঘির পাড়ে।পদ্ম ফুলে
কেশের শোভা বাড়ায় মন কাড়া অধরের মিষ্টি হাসিতে।
কাঁচা পাকা ধানের সুভাষে গাঁয়ের মাঠে, বাড়ির আঙ্গিনায়
নবান্ন উৎসবে মেতে উঠে গ্রামের বধূ আর কিশোরিরা

বেনীতে লাল ফিতা আর হাতের কাঁচের রেশমি চুড়ির ঝঙ্কার
অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ও মুখে মিষ্টি হাসির আভা ,চোখে কাজলের ছটা।
স্বপ্নের বীজ বুনে হৃদয়ে করে ফসলের আবাদ, শস্য , সব্জী আর ফলমূল।


উওরে হাওয়ায় জানান দেয় এল শীত নিয়ে হিম বাতাস
খেজুরের রস ,ভাপা পিঠার মৌ মৌ ঘ্রান পাড়াময়।ফসলের
খলি মাঠে পাড়ার ছেলের দল খেলে ক্রিকেট ফুটবল।

ফুলে ফুলে প্রকৃতি সাজে অপরুপ হয়ে নববধুর বেশে
আমের মুকুল শোভা পায় কোন কিশোরীর নোলক হয়ে।
কোকিল ডাকে গানের সূরে , বাউলের মন দোতরার টানে
গানের পরশ হৃদয়ে ছড়ায় , রাখালের বাঁশির সুর ঢেউ তুলে মনে।